ভর্তিযুদ্ধ জয়ের নীল নকশা : কিছু অজনপ্রিয় টিপস

May 21, 2022 ...

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যুদ্ধ! ও বাবা! যেমন নাম তেমন কাজ। দুইটাই অনেক গম্ভীর। কাজের সাথে নামটার মধ্যেও যেন গাম্ভীর্য থাকে তাই হয়তোবা অ্যাডমিশন টেস্টকে এমন নাম দেওয়া হয়।  

আমরা যদি আমাদের শিক্ষা জীবনকে তিন ভাগে ভাগ করি তবে স্কুল ও কলেজের পর বিশ্ববিদ্যালয় হলো এই শিক্ষাজীবনের অন্তিম ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কথায় আছে, শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। সুতরাং শিক্ষাজীবনের শেষ ভালো করতে হলে অবশ্যই তোমাকে ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে। আর বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তির জন্য কী পরিমান লড়াই করতে হয় তা তো তোমরা খুব ভালো করেই জানো। কারণ, এখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যাপারটার নামই হয়ে গেছে ‘ভর্তিযুদ্ধ’। তাই এ যুদ্ধের জন্যেও দরকার কিছু অস্ত্র ও কৌশল। যা তোমাকে যুদ্ধে প্রতিকূলতার মাঝে সামনে এগিয়ে গিয়ে জয় এনে দিতে সাহায্য করবে। আর এজন্য দরকার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর পূর্ব প্রস্তুতি।

তোমরা যারা এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছো তারা কিন্তু এখন থেকেই নিতে পারো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। এতে করে তোমার নিজের পড়ার প্রতি মনোযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি কমবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার সময় বিশাল পরিমান সিলেবাসের বোঝা। সুতরাং যারা এইচএসসি পরবর্তী সময়ে সারাদিন পড়ে পড়ে পাগল হয়ে যাবার ভয়ে এখন থেকেই তটস্থ তারা কিন্তু খুব সহজেই কিছু টিপস মাথায় রেখে সামনে এগোতে পারো।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কিন্তু অন্য সবার মত তোমার আর এত টেনশন থাকবেনা। তখন শুধু নিজের প্রস্তুতিকে ঝালাই করে নিলেই তুমি ভর্তিযুদ্ধের জন্য হয়ে যাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এক যোদ্ধা। তো কথা না বাড়িয়ে চলো শুরু করা যাক আমাদের আজকের টিপস।

কলেজ জীবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি 

লক্ষ্যকে করো স্থির

সবার প্রথম কাজই এটি। তুমি সায়েন্স, কমার্স বা আর্টস যে বিভাগের শিক্ষার্থীই হওনা কেন, তোমার প্রথম কাজ হলো নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে লক্ষ্য স্থির করা। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর সময় অনেক শিক্ষার্থীকেই দেখা যায়, তাদের আসলে কী পড়া উচিত তা নিয়ে তারা কনফিউজড থাকে। আর এজন্য স্পেসিফিক ভাবে প্রস্তুতি নেয়াটাও মুশকিল হয়ে পড়ে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি ক্ষুণ্ন হয় এবং প্রচুর সময় নষ্ট হয়। এ সমস্যা এড়াতে তোমার উচিত আগে থেকেই ক্যারিয়ারের লক্ষ্য স্থির করে ফেলা। 

তুমি যদি প্রশ্ন করো কিভাবে নিজের ক্যারিয়ার বা জীবনের লক্ষ্য স্থির করবে তার উত্তর কিন্তু বেশ সোজা। তুমি নিজেকে জিজ্ঞেস করো তুমি কী নিয়ে পড়লে অথবা তোমার জীবনে কোন দিক ব্যবহার করে এগোলে তুমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। সেটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন বিষয়কেই বেছে নাও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার লক্ষ্য হিসেবে। মনে রাখবে, সবার সাথে তাল মিলিয়ে বা শুধু পাশের বাসার আন্টির সাথে জেদ করে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবার কথা ভেবে ফেলো না কিন্তু! কারণ এটা যদি তোমার মনের মত বিষয় না হয় তবে কিন্তু সেটা তোমাকেই ভোগাবে।

প্ল্যান করে ফেলো

নিজের লক্ষ্যকে যদি একটা গন্তব্য ধরো তবে সেই গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য কিন্তু বিশাল মাপের একটা প্ল্যান করা প্রয়োজন। প্ল্যানটা বিশাল মাপের না হলেও সেটা কিন্তু কার্যকরী হতে হবে। গন্তব্যে পৌঁছে যাবার জার্নিটা কেমন হবে তা কিন্তু তুমি জানোনা। আর তাই আগে থেকেই সম্ভাব্য সমস্যা বা বাধার কথা ভেবে তুমি যদি একটা প্ল্যান করে ফেলো তবে কিন্তু তোমারই লাভ। তাই ঘরের টেবিলে বসে পড়া থেকে শুরু করে একদম বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি পর্যন্ত তোমার কর্মকান্ড কেমন হবে বা কেমন হওয়া উচিত তার উপর করে ফেলো অসাধারণ একটি প্ল্যানের খসড়া।

এইচএসসি সবার আগে

অনেকে আবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি এর প্রতি এত আগ্রহী হয়ে পড়ে যে, সামনের পরীক্ষা এইচএসসি সেটার কথা ভুলে যায়। যদিও এডমিশন খুব বেশী জরুরী কিন্তু তোমার ভুলে গেলে চলবেনা যে, তুমি যদি দুর্ভাগ্যবশত উচ্চ মাধ্যমিকে অকৃতকার্য হয়ে যাও তবে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর এতসব প্রস্তুতি কোন কাজেই আসবেনা। অর্থাৎ এক কথায় উচ্চ মাধ্যমিকের ছাড়পত্র পরীক্ষা এইচএসসি হলো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর প্রায় একমাত্র টিকেট।

তাছাড়া তোমার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর মধ্যে মান বন্টনে কিন্তু তোমার উচ্চ মাধ্যমিকের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর মূল নম্বরের সাথে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল থেকে প্রায় ৬০ নম্বর জায়গা পূরণ করা সম্ভব। তুমি উচ্চ মাধ্যমিক থেকেই যদি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও তবে অবশ্যই এটা একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এজন্য নিজের বর্তমান অবস্থা ভুলে গেলে কিন্তু চলবেনা।    

লক্ষ্যকে বাড়তি সময় দাও

তুমি যদি উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী হয়ে থাকো তবে তোমার প্রতিনিয়তই প্রত্যেকটি বিষয়কে প্রায় সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হয়। কারণ, এইচএসসির ফলাফলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে সকল বিষয়ে ভালো করার বিকল্প নেই। আর এজন্য কোন বিষয়কেই আসলে ছোট করে দেখা উচিত নয়। তাছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এইচএসসির রেজাল্টের পরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যায়, যে বিষয়টাকে তুমি সহজ বা অন্যগুলোর তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ ভেবেছিলে সেই বিষয়টিতেই তোমার ফলাফল খারাপ হয়েছে। অথবা উচ্চতর গণিত, রসায়ন  কিংবা ইংরেজির মত কঠিন সব বিষয়গুলোতে তুমি ঠিকই ভালো করেছো কিন্তু বাংলা কিংবা সমাজবিজ্ঞান বিষয়কে তুমি সহজ ভেবে তেমন গুরুত্ব দাওনি। তাই নাম্বার ভালো পাওনি।

এ তো গেলো সোজা হিসেব। কিন্তু যেহেতু তুমি উচ্চ মাধ্যমিকে থাকা অবস্থাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চাও তাদের জন্য সকল বিষয়ে গুরুত্ব দেবার পাশাপাশি তোমার লক্ষ্য যেখানে স্থির সেখানে তোমার দিতে হবে অতিরিক্ত সময়। কেননা তোমার পরবর্তী জীবন এই লক্ষ্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে। ধরা যাক তুমি ভবিষ্যতে একজন চিকিৎক হতে চাও। আর তাই তোমার লক্ষ্য এখন উচ্চ মাধ্যমিকের পর যে কোন মূল্যে মেডিকেলে ভর্তি হওয়া। 

যেহেতু মেডিকেলে ভর্তি হওয়াটা তোমার লক্ষ্য সুতরাং সেখানে ভর্তি হতে হলে ভর্তি পরীক্ষায় যেসব বিষয়ের উপর প্রশ্ন থাকে সেসব বিষয়কে তোমার এখন থেকেই বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। তুমি তোমার চেনা কোন মেডিকেলে পড়ুয়া ভাইয়া/আপু কিংবা খুব সহজেই গুগল মামার সাহায্যে তোমার কাঙ্ক্ষিত তথ্য নিয়ে কিন্তু সে বিষয়ের উপর অতিরিক্ত গুরুত্বারোপ করতে পারো।

ফাঁদগুলোকে এড়িয়ে চলো

‘পাশ না করলে মূল্য ফেরত’ অথবা ‘চান্স পাওয়ার পর টাকা’ এই কথাগুলো ঢাকায় থেকেছে আর কখনোই দেখেনি এমন শিক্ষার্থী পাওয়া দুস্কর। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি এর মৌসুম শুরু হবার আগেই ফার্মগেট কিংবা মতিঝিল সহ রাজধানীর বিশেষ বিশেষ এলাকায় এসব পোস্টার ছেয়ে যায় বলা চলে। বিভিন্ন লোভনীয় সব কথাবার্তা আর একদম চান্স পাওয়ার ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে ছাপানো পোস্টার বা কোচিং এর বিজ্ঞাপন গুলো যে একটাও তোমার কাজে আসবেনা তা মনের মধ্যে ভালো করে গেঁথে রাখা দরকার। কেননা পড়াটা তোমার নিজের মাঝে। বাকিটা শিক্ষক ধরিয়ে দেন। সেখানে চান্স না পেলে মূল্য ফেরত কিংবা শতাধিক পাশের নিশ্চয়তা বলে আসলে কিছু নেই। 

শুধু কী কোচিং! বিভিন্ন গাইড, ভর্তি পরীক্ষা সহায়ক বই, অমুক সিরিজ, তমুক ক্যাপসুল নামে হাজারো বই তোমাকে প্রলোভন দেখিয়ে কেনার জন্য বাধ্য করবে। কলেজে পড়া অবস্থায় দ্বিতীয় বর্ষেই দেখবে বিভিন্ন কোচিং থেকে টানাটানি কিংবা বড় ভাইদের দিয়ে বিভিন্ন রকমের কথা দিয়ে তোমাদের ভোলানোর চেষ্টা করা হবে। একদম ঝেড়ে ফেলো এসব চিন্তা। বেশি সমস্যা হলে ঘরে বসে যে কোন সময় ঢুকে পড়ো টেন মিনিট স্কুলের ওয়েবসাইটে। সেখানে বসেই তুমি সহজে ঢুকে যেতে পারো ‘Admission’ লেখা বাটনে। কী নেই সেখানে? বিষয় ভিত্তিক ভিডিও টিউটোরিয়াল, পূর্বের লাইভ ক্লাস, স্মার্টবুক, কুইজ, পূর্ববর্তী বছরগুলোর ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন উত্তর সহ…… আরো কত কী! তবে আজকেই ভালোটার শুরু হোক টেন মিনিট স্কুলের হাত ধরেই।

এবার হও সিরিয়াস

অনেক তো ঘোরাঘোরি হলো। অনেক আড্ডাবাজি হয়েছে এবার না হয় সময় এসেছে সিরিয়াস হবার। কেননা তুমি কলেজ জীবনের অন্তিম মুহূর্তে।  তোমার উচিত এখন থেকেই পড়াশনোয় সিরিয়াস হওয়া। আমরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই খেয়াল করলেই দেখবো আমরা শুধুমাত্র ফেসবুক কিংবা ইউটিউবে ঢুঁ মেরে ঘন্টার পর ঘন্টা মূল্যবান সময় নষ্ট করছি। অথবা যখন পড়ার দরকার ছিলো তখন বন্ধু কিংবা অন্য কারো সাথে অপ্রয়োজনীয় আড্ডা বা চ্যাটিং এর মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছি।

এটাকে আসলে সময় কাটানো বলা যাবেনা, এটাকে বলা উচিত সময় নষ্ট। হ্যাঁ, কারণ তুমি নিজেই চিন্তা করে দেখো এই সময়গুলোতে যদি ফেসবুকে বা ইউটিউবে ঢুঁ না মারতে কিংবা বন্ধুদের সাথে অপ্রয়োজনীইয় আড্ডা মেরেসময় নষ্ট না করতে তবে কিন্তু এটুকু সময় বেশ ভালোভাবে পড়াশোনায় কাজে লাগানো যেত। এভাবে প্রতিদিন যদি দুই ঘন্টা করে আড্ডা আর ফেসবুক বাদ দিয়ে পড়ার কাজে লাগাও তবে মাস শেষে সেটি দাঁড়াচ্ছে ৬০ ঘন্টা। অর্থাৎ সেটি প্রায় আস্ত দুই দিনের বেশি সময়! একবার ভাবো আমরা তো কত টাকা সঞ্চয় করে কত কিছু কিনি।

কখনো কি ভেবেছো সময় ও সঞ্চয় করা সম্ভব! সময় সবচেয়ে বেশি মুল্যবান এ পৃথিবীতে। আজ থেকে সময় সঞ্চয় করে পড়াশোনায় হয়ে যাও সিরিয়াস। এখন হয়তো তুমি বলতে পারো টেবিলে বসলে পড়ায় সিরিয়াস হতে হলে কী কী করণীয়! আরে এটা তো খুব সোজা। পড়াশনোয় সিরিয়াস হবার জন্য কিন্তু তুমি বেশ কিছু সহজ জিনিস মাথায় রাখতে পারো। যেমন ধরো, পড়ার নির্দিষ্ট টাইম মেনে চলতে পারো। অন্য সময় যাই করো না কেন পড়ার সময় পড়াটা রাখতে হবেই হবে। এছাড়াও ধরো পড়াতে সিরিয়াস ভাবে মন দিতে পড়ার সময় হাতার নাগাল থেকে নিজের স্মার্ট ফোন দূরে রাখো। যেন ইচ্ছে হলেই সেটি ধরতে না পারো। এতে পড়ায় তোমার মনোনিবেশ করতে সুবিধে হবে।

মন কে ঘোরাও নিজের লক্ষ্যে

মন কে নিজেই বোঝাও। এখন তোমার লক্ষ্যে পৌঁছানর সময়। সবার মত আড্ডাবাজি আর খেলাধুলো করে সময় কাটালে চলবে না। কারণ এই পথটা অনেক বড়। নিজেই নিজেকে জিজ্ঞেস করো, এই পথে এখন থেকেই দৌড় শুরু না করলে তুমি সময় মত গন্তব্যে পৌঁছুতে পারবে তো! ঢাবিতে পড়ুয়া আমার এক ভাইয়া আমাকে বলেছিলে, মোটিভেশন বলতে পৃথিবীতে কিছু নেই। কারণ মানুষের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা সে নিজেই। সুতরাং, তুমিও হয়ে যাও নিজেই নিজের অনুপ্রেরণা দাতা। এতে করে তোমার নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।

হাল ছেড়োনা! হাল ছেড়োনা!

উপরে যেসব বিষয়ের কথা বলা হয়েছে তা কলেজ জীবনে মেনে চলা একটু কঠিনই বটে তা বলতে দ্বিধা নেই। কিন্তু ব্যাপার হলো হতাশ হওয়া যাবেনা। দুদিন ঠিকভাবে এরকম ভাবে নিয়ম মাফিক চললেও তিন দিনের দিন দেখবে আর ভালো লাগছেনা। একদিন নিয়ম থেকে সরে যেতে ইচ্ছে করছে। তোমার কাছে মনে হবে মাত্র এক দিনই তো! অথবা মাত্র একবারই তো! কিন্তু এই ‘একবারই’ তোমার ধারাবাহিকতার কাল হয়ে দাঁড়াবে। তখন আবারো ইচ্ছে করবে একটু ঘুমুতে অথবা একটু ফেসবুকিং করতে।

এজন্যই দু বার বলছি, হাল ছেড়োনা, হাল ছেড়োনা। যত কিছুই হোক তুমি তো ভবিষ্যতের ভর্তি যুদ্ধের একজন যোদ্ধা, তাইনা? তাই যোদ্ধার মত যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই থাকতে হবে অনড়। এবার তোমার উপর যেই বাধাই আসুক না কেন, যত বড় হতাশাই তোমাকে ঘিরে ধরুক না কেন তুমি তোমার লক্ষ্যে খুঁটি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে সটান হয়ে।

বানাও তোমার মেন্টর

তোমরা কি আয়মান সাদিক ভাইয়ার ঐ ভিডিওটা দেখেছো? যেখানে আয়মান ভাইয়া ও সাদমান ভাইয়া বলেছিলেন তারা আসলে দুজন দুজনের মেন্টর। তোমার জীবনের যে কোন ক্ষেত্রে মেন্টর নির্বাচন করা খুবই জরুরী। কারণ হলো একজন রোল মডেল যদি তোমার সামনে না থাকে তবে তোমার কাছে নতুন যে কোন কিছু তৈরী করা একদম অসম্ভবই বটে! এ যেমন ধরো আমি তোমাদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি এর বিষয়ে টিপস লিখছি এটার জন্য কিন্তু আমার অনেক গুলো আর্টিকেল ও ব্লগ পড়তে হয়েছে। আমি টিপস জাতীয় যে কোন লেখা লিখতে হলে সবার আগে উঁকি দেই টেন মিনিট স্কুলের ব্লগের ওয়েবসাইটে। 

টেন মিনিট স্কুলের ব্লগ সাইটটি মানুষ হলে নিঃসন্দেহে আমি তাকে টিপস মেন্টর হিসেবে মেনে নিতাম। তো যাই হোক তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যে লক্ষ্যে এগুচ্ছো সেক্ষত্রে যারা সফল এমন কাউকে নিজের মেন্টর বানিয়ে তার পরামর্শে তোমার পড়ালেখা বা অন্য কাজে আগানোটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আর এজন্য তোমার একটু খুঁজে দেখতে হবে সফল ব্যক্তিদের। আর একজন পছন্দমত মানুষকে মেন্টর বানিয়ে তুমি উঠে আসতে পারো তোমার এই যুদ্ধের এক ধাপ উপরে। 

মুখস্তকে জানাও বিদায়

অনেক হলো মুখস্থ। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি নাম শোনার সাথে সাথে তোমার প্রথম কাজ হলো মুখস্থ শব্দটাকেই তোমার মনের ডিকশনারি থেকে মুছে ফেলা। কেননা মাধ্যমিক কিংবা উচ্চ মাধ্যমিকে কোন ভাবে একটা না একটা বিষয় মুখস্থ করে তুমি হয়তো পরীক্ষায় লিখে দিয়ে নাম্বার পেয়ে গেছো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি থেকে শুরু করে একদম শেষদিন পর্যন্ত বুঝে বুঝে পড়া ছাড়া বিকল্প নেই। তাই কলেজে কোন টপিক বা প্রশ্ন মুখস্থ করলেও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জন্য সেটি এক্ষুনি বুঝে নেয়াটা একান্ত কর্তব্যের মাঝে পড়ে যাও। মুখস্থ কে যত তাড়াতাড়ি টাটা বায় বায় বলছো ততই তোমার মঙ্গল। আর সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে মুলত শিক্ষা থেকে মুখস্থ শব্দটা কে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য। সুতরাং মুখস্থে কে করো বিদায়, বুঝে পড়া কে বলো Hi!

সহজ ভাবে এসব টিপস মেনে চললে তুমি কলজে থাকতেই ঝালিয়ে নিতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি। 

এবার আসা যাক ভর্তি পরীক্ষার সময়ের ব্যাপারে। এই সময়টা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বুঝেশুনে পা ফেলতে হয়। আমার কাছে এই সময়কে স্নায়ুযুদ্ধের সময় লাগে। যে যতক্ষণ পর্যন্ত নার্ভ ঠিক রাখতে পারবে সেই তত বেশি সফল। তবে আমরা অনেকেই তীরে এসে তরী ডুবিয়ে ফেলি। ৩/৪ মাসের পরিশ্রম একদিনেই শেষ! বলো তো আমরা কিভাবে সেটা করি? পরীক্ষার হলে! হ্যাঁ, ঠিক তাই।  

আমাদের তিন চারমাস ধরে যুদ্ধের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা করে কি লাভ যদি আমরা যুদ্ধের দিনই সেগুলো কাজে লাগাতে না পারি? তাই শুধু প্রস্তুতি নিলেই হবে না, তা সঠিক সময়ে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলেই তো যুদ্ধের জয়ী হতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা

আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা (University admission test) এর পড়ালেখা করতে করতে অন্য কিছুকে তেমন মাথায় রাখি না। তবে এমন কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলো মাথায় রেখে কাজ করলে চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বাড়ে। আবার এইগুলোর কথা ভুলে গিয়ে কেবল পড়ালেখা করে গেলে কিন্তু ঐ অবহেলা করা জিনিস বা ব্যাপার গুলোই অনেক ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

আমার ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষা এর সময় আমি কিছু ভুল করেছিলাম। যদিও সৃষ্টিকর্তার রহমতে আমি এখন ভালো জায়গাতেই পড়ছি। যা চেয়েছি তা পেয়েছি। একটা আলহামদুলিল্লাহ স্ট্যাটাস ও দিয়েছিলাম! 

আমি ভুল করেছি বলেই আমি চাই না তুমি সেই ভুল করো। কারণ, ভাগ্য তোমার সহায় না হতে পারে। আমি মনে করি ভর্তি পরীক্ষা এর আগেরদিন এবং ভর্তি পরীক্ষার দিন হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তখন থেকেই আসলে মূল স্নায়ুযুদ্ধটা শুরু হয়। এই দুইদিন তুমি যত ঠান্ডা মাথায় কাজ করবে, ভাববে ততই তুমি এগিয়ে যাবে তোমার কাঙ্ক্ষিত জয়ের দিকে। আজকে তোমাদের সাথে তাই কিছু কথা বলতে যাচ্ছি যেগুলো পড়ালেখার বাইরের জিনিস হলেও আমি মনে করি মেনে চলা অত্যাবশ্যক। কিছু সাজেশন দিচ্ছি আরকি। ঐ যে বলেনা University admission test tips and tricks? ধরে নাও তেমনই কিছু।  

ভর্তি পরীক্ষা এর আগের দিন :

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা যুদ্ধের আগের দিন! সব প্রস্তুতি শেষ করে এবার রণক্ষেত্রে নামবার পালা! তাই ভর্তি পরীক্ষা এর আগের দিনটি হওয়া চাই নির্ঝঞ্ঝাট। কোনোরকম ঝামেলায় জড়ানো যাবে না, কোনো ঝামেলা লাগানোও যাবেনা। ভর্তি পরীক্ষা এর আগের দিনে যা যা করা উচিত, যা যা উচিত নয় তা বলছি । 

১) পরিমাণমত স্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া করা : 

আমাদের অনেক এতই পড়ালেখা করি যে নাওয়া খাওয়াই ভুলে যাই। পড়তে পড়তে খাওয়ার কথা মনে রাখি না। আমি আবার উল্টো। ক্ষুধার্ত পেটে একদমই পড়তে পারি না। যাই হোক, ভর্তি পরীক্ষার আগের দিন যাতে পেটকে খাওয়া থেকে বঞ্চিত না করো সেইদিকে বিশেষ খেয়াল রাখবে। নাহলে, ভর্তি পরীক্ষা এর দিন এই খাওয়া দাওয়ার অভাবে শরীরে লেখার কোনো শক্তিই আসবেনা। প্রেশার লো হয়ে গেলে তো আরো খারাপ অবস্থাতে পড়তে হবে! তাই ভর্তি পরীক্ষা এর আগেরদিন পরিমাণমতো খাওয়া অবশ্য করণীয়।

আবার ভর্তি পরীক্ষা এর ১/২ দিন আগে এলাহী ভোজ না করাই ভালো। আমি বলেছিলাম না আমি কিছু কিছু ভুল করেছিলাম ভর্তি পরীক্ষা এর সময়ে? এটা তার মধ্যে প্রধান ছিল! আমি করেছিলাম কি, ভর্তি পরীক্ষা এর ঠিক দুইদিন আগে গিয়েছি দাওয়াত খেতে! একদম শাহী খাবার দাবার ছিল। আমি তো খাবারের ব্যাপারে একদমই সংকোচ করি না। তাই খেয়েছিও অনেক কবজি ডুবিয়ে।

ফলাফল কী হলো জানো? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা এর আগের দিন তিনবার বমি হয়েছে! এবং এতই দুর্বল হয়ে গিয়েছিলাম যে একবার মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেলাম! পরে স্যালাইন হাতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যেতে হয়েছিল। বমি হওয়ার কারণ, আমার ফুড পয়জনিং হয়েছিল। পরে সেই ফুড পয়জনিং থেকেই আমার পেটে অসুখ হয়ে যায়! তখন ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা। তাহলে বুঝো আমার অবস্থা! শুনতে এখন কিছুটা হাস্যকর শুনালেও আমার যে কী করুণ অবস্থা হয়েছিল সেটা আমিই কেবল জানি।

ভর্তি

তাই বলছি, যারা আমার মতো শাহী খাবার খুব পছন্দ করো তা কিছুটা সামলিয়ে রেখো নিজেদের। এসময় তাই পুষ্টিকর, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া উচিত। রিচ ফুড, ফাস্ট ফুড এসব যত পারো বাদ দিও।

তো বুঝতেই পারছো, পরীক্ষার আগের দিনের খাওয়া দাওয়া ও কতো গুরুত্বপূর্ণ! কারণ এর থেকেই তো শক্তি আসে। শক্তি না থাকলে লড়বে কিভাবে? ৩/৪ মাসের সব পরিশ্রমই তো বৃথা যাবে।

২) ভর্তি পরীক্ষা অ্যাডমিট কার্ডের প্রিন্ট রেডি রাখা:

আমি লিখছি আর ভাবছি আমি এত এত ভুল কিভাবে করেছিলাম! আমার একটা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর আগের রাতের কাহিনী বলি। রাতের ৮টা বাজে। আমি কোচিং এর জন্য ঢাকায় ছিলাম ১ মাস ফুফুর বাসায়। আব্বু আম্মু সেদিন আসলো চিটাগং থেকে। রাতের ৮টা বাজে যখন আম্মু জানতে পারে আমার অ্যাডমিট প্রিন্ট করা হয়নি এখনো, কি গগনবিদারী চিৎকারটাই না দিয়েছিল। পরে অবশ্য তখনই গিয়ে করিয়ে এনেছি। 

তোমরা যারা আম্মুদের এমন গগনবিদারী চিৎকার থেকে বাঁচতে চাও ভালোই ভালোই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর অন্তত দুইদিন আগে প্রিন্ট করে রেখে দেবে যাতে করে পরীক্ষার আগের রাতে পড়া বাদ দিয়ে বের হতে না হয়। 

৩) নতুন টপিক না ধরা:

এটা হয়তো অনেকবারই শুনেছো! পরীক্ষার আগের রাতে নতুন টপিক ধরলে সেটা আয়ত্তে তো আসেই না বরং সময়ের অপচয় হয়। কারণ, হুট করে একটা জিনিস পড়া শুরু করলে সেটা বুঝতে এবং পুরোপুরি দখলে আনতে কিছুটা হলেও সময় লাগে যেটা পরীক্ষার ঠিক আগের রাতের পাওয়া যায় না।

৪) পর্যাপ্ত ঘুম এবং কম পড়া: 

আমার মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর আগের রাতে কম পড়াটাই শ্রেয়। বেশি পড়লে মাথায় লোড বেশি হয়ে যাবে এবং সবকিছু উল্টাপাল্টাও হয়ে যেতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর আগের রাতে মাথাকে এত প্রেশার না দেওয়াই ভালো। কারণ, পরেরদিন আরো মাথাকে সচল থাকতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষা

সারারাত জাগা যাবেনা। সারারাত জেগে পড়লে সেই পড়াটা পড়ে লাভ তো হবেই না দেখা যাবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর সময় ঝিমুনি আসছে! আচ্ছা, একবার ভাবো, তোমার ৩/৪ মাসের কষ্টের পর তুমি ভর্তি পরীক্ষা এর হলে ১/২ ঘণ্টা ঝিমুতে ঝিমুতেই কাটিয়ে দিলে! ভাবতেই তো গা শিউরে উঠছে। এত মাসের পরিশ্রম ঝিমুনির জন্য বৃথা হয়ে গেলো!

তাই বেশি পড়ালেখা না করে সেদিন বরং তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়াই শ্রেয়। 

৫) শান্ত থাকা : 

ভর্তি পরীক্ষা এর আগের দিন যত পারো ঝামেলা এড়িয়ে যাবে। কোনো ঝগড়াঝাঁটি তো নয়ই বরং কোনো অতি  উত্তেজনাকর খবর ও যাতে না আসে সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। ওহ, আরেকটি কাহিনী মনে পড়লো। আমার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর আগের রাতে আমি পড়ছি, তখন আমার ফ্রেন্ড একটা আমাকে মেসেজ দিলো যে, আজকে তার আয়মান সাদিক ভাইয়ার সাথে দেখা হয়েছে। তার কোন কাজিন নাকি আইবিএ তে পড়ে উনি তার বাসায় এসেছিলেন। আমি তখন আয়মান ভাইয়াকে দেখা তো দূরের কথা, টেন মিনিট স্কুলে লেখালেখিও করতাম না। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর আগের রাতে এমন উত্তেজনাকর মেসেজ দেখলে আর পড়তে ইচ্ছা হয়!

সবচেয়ে ভালো হয়, সেদিনের জন্য মোবাইল অফ করে রাখলে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর দিন :

এবার যুদ্ধের দিন! এইদিনে কি করবে না করবে তা নিয়ে হয়তো ইতোমধ্যেই অনেকেই অনেক কিছু বলেছে তোমাদের। আমি তাই বেশি কিছু বলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এর আগে তোমাদের তেমন বিরক্ত করবো না। কিছু জিনিস বলব যেগুলা আশা করছি তোমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা তে দ্রুততার সাথে আন্সার করতে সাহায্য করবে!

৬) ভর্তি পরীক্ষা তে জ্ঞানভিত্তিক প্রশ্ন আগে দাগাও :

আমি একবার এক মডেল টেস্ট দিতে গিয়ে বীরত্বের সাথে ম্যাথ আনসার করা শুরু করেছিলাম প্রথমে। আমি তো একের পর এক ম্যাথ সল্ভ করেই যাচ্ছি করেই যাচ্ছি মন দিয়ে। সময়ের দিকে আমার আর কোনো খেয়াল নেই। হুট করে দেখি! হায় হায় আমি তো এখনো ম্যাথ পার্টেই আছি, আর ঐদিকে সময় প্রায় ফুরিয়ে আসলো বলে! সেবার বেশি দাগাতে পারিনি। ভাগ্য ভালো আমার আমি মডেল টেস্টে এমন ভুল করেছি! আসল ভর্তি পরীক্ষা তে করলে কি হতো! 

Related image

তেমনি যেসব অংশ একটু মাথা খেটে বের করতে হয় বা এনালিটিকাল অংশ সেসব পরে আন্সার করাই যুক্তিযুক্ত। নাহলে দেখা যাবে ঐ পার্ট করতে করতে বাকিগুলো আন্সার করাই যাবে না। কারণ ধরো ম্যাথ একটা করে আন্সার দাগানোতে যে সময় লাগে সেই সময়ে তুমি অন্তত ৩টা বাংলার প্রশ্ন পড়ে উত্তর দাগিয়ে দিতে পারো। তাহলে ভেবে দেখো, ১টা ম্যাথ প্রশ্ন ছেড়ে আসা ভালো নাকি ৩টা বাংলা প্রশ্ন। বলতে গেলে যেগুলো চটপট করে আন্সার করা যায় সেগুলোই আগে ধরা উচিত।

আবার ইংরেজি অংশে কম্প্রিহেনশন অংশটিও পরে ধরা উচিত। কারণ, পুরো প্যাসেজ পড়তে পড়তে আবার সেই অনুসারে প্রশ্ন দাগাতে দাগাতে তুমি অন্য ৩/৪ টা প্রশ্নের উত্তর দাগাতে পারবে।

৭) ভর্তি পরীক্ষা তে নিশ্চিত না হলে উত্তর না দাগানো :

আমি আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ডি ইউনিটের টেস্টে ১০০টা প্রশ্নের মধ্যে আন্সার করেছিলাম মাত্র ৭৪টা। যাকেই জিজ্ঞেস করি, সেই আমার থেকে বেশি আন্সার করেছে। আমি তো ভয়ে অর্ধেক! হায় হায়! আমি এত কম আন্সার করলাম কেন? তার মানে কি আমি টিকব না? 

পরে তো টিকেছি। অর্থনীতিতে পড়ছি এখন। এর মানে কি দাঁড়ায় জানো? বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা তে ১০০% নিশ্চিত না হলে উত্তর না দাগানোই ভালো। আমি অনেক প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সন্দিহান ছিলাম তাই দাগাই নি। কারণ নেগেটিভ মার্কিং আছে তো। আমি আসলে কোনো রিস্ক নিতে চাচ্ছিলাম না।

তাই বলছি রিস্ক না নিয়ে যতটুকু জানো ততটুকুই দাগাও। অনেকে ৮০/৯০ এর উত্তর দিয়ে ১৫/২০ টা ভুল হলে ভালো নাকি ৭০ এর আন্সার করে ২/৩ টা ভুল হওয়া ভালো সেটা তোমরা ভেবে দেখো।

মূলত, আমার মতো এত এত ভুল করা মানুষ খুব বেশি সাজেশন দিতে পারছে না তোমাদের। তবে আশা করি, এইগুলো একটু কষ্ট করে মেনে চললে ভালো রেজাল্ট পাবে। আরেকটা বোনাস সাজেশন হলো ঘাবড়ে না যাওয়া। ভর্তি পরীক্ষা এর দিন হাজার হাজার মানুষ দেখবে, অনেককেই দেখবে বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজিয়ে পড়েই যাচ্ছে তো যাচ্ছে! একদম ভয় পেয়ো না। আস্থা রাখো নিজের প্রতি। কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবেই। 

আপনার কমেন্ট লিখুন