বিজ্ঞানের ভয়, করে ফেলো জয়!

সাবেত শাবিপ্রবির একজন ছাত্র। পড়ালেখা, খেলাধুলা আর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রকম কার্যক্রম নিয়েই যার জীবন। ছুটির দিনগুলোতে ভালোবাসে প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে যেতে। শুধু পড়ালেখার মাঝেই আটকায় না রেখে এই ছোট্ট জীবনে সবকিছুই উপভোগ করার জন্যই যার পথচলা।

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

আচ্ছা আমরা কেন আমাদের শিক্ষা জীবনে বিজ্ঞান বিভাগকে বেছে নিলাম? শুধুই শখের বশে!! আমরা কি জানি বিজ্ঞান কী? আমরা কেন পড়ছি এই বিজ্ঞান! ছোটকালে বাবা-মা মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছেন আমাদেরকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, ব্যস হয়ে গেলাম বিজ্ঞান বিভাগের একজন ছাত্র। ভয়ে ভয়ে ওই লক্ষে অগ্রসর হতে লাগলাম। একসময় দেখা যাচ্ছে গুটিকয়েক ছাত্র বাদে সব ঝরে পড়ে যায়। অথচ দেখা যাচ্ছে এই বিজ্ঞান কী এটাই আমাদের জানা নেই!

science-icon-web-695x705

বিজ্ঞান কী?

“Science my lad, is made up of mistakes, but they are mistakes which it is useful to make, because they lead little by little to the truth.”- Jules Verne.

এক কথায় বিজ্ঞান হল যে কোন জ্ঞানের পদ্ধতিগত বিশ্লেষণ। বিজ্ঞানের মূল কাজ হচ্ছে প্রকৃতির নিয়মগুলো ক্রমাগত শুদ্ধতর রূপে জানা ও তার প্রয়োগে পরিবেশকে নিয়ন্ত্রণ করা৷ ক্রমাগত নতুন উদ্ভাবন, আবিষ্কার, সংযোজন, সংশোধন ও রূপান্তরের ভেতর দিয়ে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের জ্ঞান বিকাশ লাভ করছে৷ বিজ্ঞানের অগ্রগতির মূলে কাজ করছে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ, পরিমাপণ, তত্ত্বনির্মাণ, বিশ্লেষণ, গাণিতিক যুক্তিপ্রয়োগ এবং সমগ্র তথ্য ও তত্ত্বের মধ্যে সমন্বয়সাধন।

বিজ্ঞান নিয়ে আমাদের ধারণা

আমাদের মাঝে এই ভয়টাই কাজ করতে থাকে যে বিজ্ঞান হল মহাসাগর, আর আমরা সাঁতার না জানা নাবিক, যেন আমাদেরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হচ্ছে অথৈ সাগরে। বীর ডুবুরীরা যদি সিন্ধু সেঁচে মুক্তো আনতে পারে তাহলে আমাদের এত ভয় কেন! সব রহস্য কেন আমরা পারব না উদ্ঘাটন করতে!! আচ্ছা আমাদের মনের মাঝে কেন এই ভয়!

৯০% ছাত্রের মাঝেই পড়ালেখার ক্ষেত্রে কোন একটা বিশেষ বিষয় নিয়ে দারুণ ভয় কাজ করে, এটাই স্বাভাবিক। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের কোন একটা বিষয় নিয়ে দারুণ ভয় কাজ করে, যার জন্য দেখা যাচ্ছে সময়ের স্রোতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

জয় করাই হোক তোমাদের লক্ষ্য!

আমরা ধরেই নিচ্ছি এই বিভাগে থেকে সবাই তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। আমাদের ক্যারিয়ারটাই না নষ্ট হয়ে যায়! খামোখা বিজ্ঞান পড়ে কী হবে? প্রকৌশলী হয়ে সৃজনশীলতার সুযোগ নেই, সুযোগ আছে শুধু যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের। চিকিৎসক হয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে হতে নাতির মেডিকেলে পড়ার বয়স হয়ে যায়। আর বিজ্ঞান বলতে ওই মেডিকেল আর ইঞ্জিনিয়ারিং, পদার্থ-রসায়ন-প্রাণিবিদ্যা কোন ছাড়! ওসবে ক্যারিয়ার আছে নাকি? দেশে বিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণার বড্ড অভাব- এটি একখানা পুরনো কথা। অর্থ নেই দেখে গবেষণা নেই, গবেষণা নেই দেখে আবিষ্কার নেই, আবিষ্কার নেই দেখে অর্থ নেই। এ এক ভয়ানক দুষ্ট চক্র!

বিজ্ঞান কি আসলেই তাই!

ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে বিজ্ঞান বিভাগের উপর কিছু নাই। তুমি বিজ্ঞান বিভাগের যেই বিষয়টা নিয়েই পড় না কেন,ওইটা ঠিকই তোমার ক্যারিয়ার বানিয়ে দিবে, শুধু দরকার তোমার ওই বিষয়টার উপর ভালোবাসা আর আত্মোৎসর্গ। লাদাখের কোলে সেই স্কুলটা নিশ্চয়ই মনে আছে! ‘থ্রি ইডিয়েটস’ ছবিতে কচি-কাঁচাদের হাতে হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রযুক্তি, বিজ্ঞানের টোটকা কাজে লাগিয়েই মুশকিল আসান হচ্ছে রোজকার জীবনে। বিজ্ঞানের অন্দরের মজাকে চেটেপুটে নিচ্ছে কচি-কাঁচাগুলো, খেলার ছলে। বাস্তবেও উন্নত দেশগুলোতে খেলার ছলেই বিজ্ঞানকে শেখার মধ্য দিয়ে হয়ে উঠছে এক একজন বিল গেটস, মার্ক জাকারবার্গ।

science-explosion-source-openclipart

করতে হবে ভয়কে জয় !

বিজ্ঞানের ভয়কে দূর করার জন্য আমাদেরকে অনেক বেশি প্র্যাক্টিকাল হতে হবে। এখন প্রযুক্তি আমাদেরকে খুলে দিয়েছে সকল সম্ভাবনার দুয়ার। আমরা যে কোন কিছুই খুব সহজে অনলাইন থেকে জেনে নিতে পারি। তাহলে আমরা কেন এর সদ্ব্যবহার করবো না!!! বিজ্ঞানকে জয় করার সব দরজাই যখন আমার সামনে খোলা, আমরা কেন দরজাগুলো ব্যবহার করবো না!! আমরা কেন হয়ে উঠতে পারবো না এক একজন বিল গেটস, মার্ক জাকারবার্গ? এমন তো না যে আমাদের দেশ থেকে কেউ বিখ্যাত হয়ে উঠেননি।

জগদীশ চন্দ্র বসু, এফ আর খান থেকে আমাদের বর্তমান প্রজন্মের জাফর ইকবালকে আমরা সবাই চিনি। যখন বারাক ওবামার মুখে এফ আর খানের নাম শুনি তখন সত্যিই গর্বে বুক ভরে যায়। আমাদের মাঝে যদি এভাবে আরো অনেক ট্যালেন্ট বের হয়ে আসতে থাকে ধারাবাহিকভাবে তাহলে বলে দিতেই পারি দেশ ডিজিটাল হতে আর বেশি দেরি নেই। দেশকে উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশে পরিণত করতে সবচেয়ে বেশি অবদান তোমরা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্ররাই রাখতে পারো। তবে আর ভয় কেনো? জয় করাই হোক তোমাদের লক্ষ্য। তোমরাই হয়ে উঠো এক একজন  বিজ্ঞানী, বড় বড় প্রকৌশলী, নামকরা ডাক্তার যাদের নাম জপে বেড়াবে সারা বিশ্ব। বিজ্ঞানকে জয় করার মাঝেই তোমাদের সার্থকতা, তোমাদের জয় মানেই পুরো বাঙালি জাতির জয়।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

 

শেয়ার কর! ?

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.