পাওয়ারপয়েন্টের মজার টিপস যা না জানলেই নয়!

February 1, 2022 ...
ইউনিভার্সিটির প্রেজেন্টেশন কিংবা কর্পোরেট জগতের আইডিয়া পিচিং সেগমেন্ট- আপনার অতি সাধারণ আইডিয়াগুলোও অসাধারণ করে তোলে মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট।

মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টের কথা ক্লাস সিক্স থেকে স্কুলের আইসিটি বইয়ে জেনে আসলেও, আমাদের বেশিরভাগেরই এইটা ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসে। এটা এমন একটা সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে কোনো বক্তব্য, ব্রিফিং, বিজ্ঞাপন, ডাটা, গ্রাফ, চার্টের উপর অ্যানিমেশন, ট্রানজিশন বা ইফেক্ট এপ্লাই করে প্রেজেন্টেশন তৈরি করা যায়।

মোদ্দা কথা, পাওয়ারপয়েন্টের মাধ্যমে আমরা কোনো বক্তব্য, ক্লাস টাস্ক বা বিজ্ঞাপনকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ডিজাইন করে উপস্থাপন করতে পারি।

পাওয়ারপয়েন্টে স্লাইড তৈরি:

powerpoint slide creation

পাওয়ারপয়েন্টের Home অপশনে যেয়ে New slide পপ-আপ মেন্যুতে ক্লিক করুন। সেখানে বিভিন্ন রকমের লেআউটসহ একটি লিস্ট ওপেন হবে। সেই লিস্ট থেকে আপনার পছন্দের লেআউটে ক্লিক করে এক বা একাধিক স্লাইড তৈরি করতে পারবেন।

একসময় আপনার মনে হলো শেষের স্লাইডটা মাঝের দিকে রাখলে ভালো দেখাতো।  কিন্তু কী করে সেটা উপরের দিকে আনবেন তা আপনি জানেন না। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই, যেই স্লাইডটা সরাতে চাইছেন সেটাকে মাউস দিয়ে ড্র্যাগ করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যান। আবার View Menu-তে যেয়ে Slide Sorter View থেকেও স্লাইড বিন্যস্ত করতে পারবেন।

পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন তৈরি:

স্লাইড তো বানিয়ে ফেললেন, তবে সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের একাধিক স্লাইড আপনার প্রেজেন্টেশনকে পানসে বানিয়ে ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে স্লাইডগুলোকে একটু দৃষ্টিনন্দন করার জন্য ডিজাইন করতে পারেন। যে স্লাইডটির উপর ডিজাইন করতে চান সেটা সিলেক্ট করুন। তারপর রিবনের Design ট্যাব থেকে Theme গ্রুপের উপর ক্লিক করলেই স্লাইডের থিম পরিবর্তন হয়ে যাবে।

থিম পছন্দ হচ্ছে কিন্তু রঙ পছন্দ হচ্ছে না? সেটারও সমাধান আছে। Theme থেকে Color অপশনে ক্লিক করলে একটা কালার চার্ট সামনে আসবে। সেখান থেকে মনমতো রঙ নির্বাচন করলে আপনার স্লাইডের থিম বা ডিজাইন একই থাকবে, শুধু রঙ পাল্টে যাবে।

আর ফন্ট চেঞ্জ করার অপশন তো থাকছেই। স্লাইডের বিভিন্ন লেখায় একই রং ও ফন্ট ব্যবহার করার দিকে খেয়াল রাখুন। শিরোনামগুলো বড় ফন্টে আর অন্যান্য তথ্যের লেখাগুলো মাঝারি সাইজের ফন্টে লিখুন।  

Free PowerPoint Templates:

Behance

Slides Carnival 

FPPT

Free PowerPoint Fonts:

Fonts.com

Dafonts.com

Urban Fonts

মজার কিছু টিপস:

তবে পাওয়ারপয়েন্টের বেসিক ফিচারগুলো দিয়ে একচেটিয়া স্লাইড বানিয়ে গেলে আপনার প্রেজেন্টেশন বড্ড একঘেয়ে হয়ে যাবে। এই সফটওয়্যারটি কিন্তু স্লাইড বানানো ছাড়াও আরো অনেক কিছুতে পারদর্শী!

অ্যানিমেশন:

অ্যানিমেশনের অর্থ কিন্তু শুধুই কার্টুন বা স্পেশাল ইফেক্টস না। পাওয়ারপয়েন্টে অ্যানিমেশন তৈরির মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই কোন বিষয়কে চিত্রের মাধ্যমে গতিশীল ও জীবন্ত করে তুলতে পারবেন।

Animation bar in Powerpoint

Animation মেনুতে ক্লিক করলে Appear, Fade, Fly In এমন বেশকিছু অপশন দেখতে পারবেন। আপনার প্রেজেন্টেশনের সাথে মানানসই এমন ফিচার সিলেক্ট করে সেটার উপর প্রয়োগ করে দেখুন কেমন মানায়।

ট্রানজিশন: 

How to Add Transition in Powerpoint
How to Add Transition in Powerpoint

ট্রানজিশন হলো একটা স্লাইড শেষ হয়ে অন্য স্লাইড শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী ইফেক্ট। ট্রানজিশন প্যানেল থেকেই পছন্দমতো ইফেক্ট নির্বাচন করতে পারবেন৷ তবে একেক স্লাইডে একেক ধরনের ট্রানজিশন ইফেক্ট ব্যবহার না করাই ভালো।

মোশন পাথ:

Motion path creation in powerpoint
মোশন পাথ তৈরি; ছবি: মাইক্রোসফট

ধরুন একটা গাড়ির ছবি দিয়ে অ্যানিমেশন তৈরি করবেন। ছবি এড করার পর গাড়িটাকে আর সরাতে পারছেন না। তাহলে উপায়? উপায়টা খুবই সহজ, এর জন্য আপনাকে পাওয়ারপয়েন্টের মোশন পাথ ইফেক্ট ব্যবহার করতে হবে।

motion path effect option in powerpoint
পাওয়ারপয়েন্টে থাকা কিছু মোশন পাথ এফেক্ট; ছবি: কম্পিউটারহোপ

পাওয়ারপয়েন্টের সবচেয়ে ফ্লেক্সিবল অ্যানিমেশনগুলোর একটা হলো মোশন পাথ। অব্জেক্টকে নির্দিষ্ট পথ দিয়ে নিয়ে যাওয়াই মূলত এর কাজ। মোশন পাথের মাধ্যমে সহজেই একটা শেইপ, টেক্সট বক্স অথবা ইমেজকে স্লাইডের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন। অ্যানিমেশন ট্যাবের Animation সেকশনে গেলেই একদম নিচে Motion Path অপশনটা রয়েছে। একইভাবে Add Animation সেকশনেও Motion Path অপশন পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে আপনার দরকার অনুযায়ী মোশন পাথ বেছে নিতে পারবেন।

Add Animations এ ক্লিক করলে বেসিক মোশন পাথ যেমন: Entrance, Exit, Emphasis, Lines, Arcs, Turns, Shapes, Loops, 4 Point Star, Tear Drop সহ কাস্টমাইজড মোশন পাথও তৈরি করে নিতে পারবেন।

লাইভ সাবটাইটেল:

live subtitle in powerpoint

কথা শোনার চাইতে দেখতে আমরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। Slideshow ট্যাব থেকে Always use subtitles এ যেয়ে নিজের মাইক্রোফোন ও ভাষা সিলেক্ট করে Presenter view-তে ক্লিক করে প্রেজেন্টেশন দিলে আপনার কথাটাই নিচে সাবটাইটেল হয়ে আসবে।

থ্রিডি ইমেজ:

3D image in powerpoint
পাওয়ারপয়েন্টে ৩ডি অ্যানিমেশন

প্রথমেই Insert থেকে Illustration অপশনে চলে যান। সেখান থেকে 3D Models ওপেন করে ড্রপ ডাউন মেনু থেকে Online Source এ ক্লিক করুন। চাইলে নিজের ফাইলে সেভ করে রাখা থ্রিডি ছবি দিয়েও কাজ করতে পারবেন। পছন্দমতো থ্রিডি ইমেজ স্লাইডে এনে এর উপর অ্যানিমেশন ইফেক্ট দিয়ে ছবি একদিক থেকে অন্যদিকে নিতে পারবেন, আবার রোটেটও করতে পারবেন।

শেইপ:

পাওয়ারপয়েন্ট কিন্তু এক প্রকার শেইপের খেলা। সাধারণ কিছু শেইপ দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারেন অসাধারণ ডিজাইন, টেমপ্লেট বা আইকন।

এছাড়াও মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টে আপনি আগে থেকে তৈরি করে রাখা অনেক ধরনের প্রি-ক্রিয়েটেড শেইপ থেকেও আপনার পছন্দের শেইপটি স্লাইডে যুক্ত করে নিতে পারবেন। আবার আপনি চাইলে দুই বা ততোধিক শেইপকে একসাথে নিয়ে আপনার নিজেরও কোনো শেইপ বানাতে পারবেন!

এজন্য যে যে শেইপ দিয়ে নতুন একটা শেইপ তৈরি করবেন সেগুলো স্লাইডে আনুন। তারপর সকল অবজেক্টকে সিলেক্ট করে Format ট্যাবের Drawing Tools এ চলে যান। সেখান থেকে Merger Shapes মেন্যুটি আপনার মনমতো ব্যবহার করুন। এই টুলটি কিন্তু কেবল শেইপের সাথে নয়, টেক্সটের উপরেও কাজ করবে।

ব্যাকগ্রাউন্ড মুছে ফেলা:

how to remove background in powerpoint
ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভের মতো কাজও খুব সহজেই করা যায় পাওয়ারপয়েন্টে

প্রেজেন্টেশনের জন্য স্লাইডে অনেকধরনের ছবি যুক্ত করতে হয়। তার মধ্যে অনেক ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড নিষ্প্রয়োজন। বরং সেসব ছবি ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই প্রেজেন্টেশনের সাথে আকর্ষণীয় মনে হয়।

সাধারণত এই ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করার কাজগুলোর জন্য আমরা ফটোশপের সাহায্য নিয়ে থাকি। তবে আপনি চাইলে সহজেই মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টেও কোনো ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মুছে দিতে পারবেন।

যেই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করতে চান, তা আগে স্লাইডে ইম্পোর্ট করুন। তারপর ছবিটি সিলেক্ট করে Format ট্যাবের Picture Tools এ যান এবং সেখান থেকে Remove Background অপশনে ক্লিক করুন। এবার আপনার সিলেক্টকৃত ছবির পিছনে গোলাপি রঙয়ের একটি রেঞ্জ আসবে। এই রেঞ্জের মধ্যে যা যা থাকবে, পাওয়ারপয়েন্ট তা সব মুছে দিবে। এই রেঞ্জ আপনি নিজেও সিলেক্ট করে নিতে পারবেন।

Kiosk Mode:

kiosk mode in powerpoint

মনে করুন আপনি বিলবোর্ডের জন্য একটা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বানাচ্ছেন। কিন্তু ম্যানুয়ালি বারবার একই স্লাইড দেখানো সম্ভব না। সেজন্য আমাদের ব্যবহার করতে হবে Kiosk Mode। এই মোড ব্যবহার করলে আপনার প্রেজেন্টেশনের একাধিকবার পুনরাবৃত্তি হতে থাকবে। অর্থাৎ কোনো প্রেজেন্টেশন শেষ না হয়ে আবার প্রথম থেকে শুরু হবে। বিলবোর্ড ছাড়াও এই ধরনের প্রেজেন্টেশন মোড বড় বড় মার্কেট কিংবা কোনো দোকানের সামনে পেয়ে থাকবেন। এই Kiosk মোড আপনার প্রেজেন্টেশনে ব্যবহার করতে চাইলে প্রথমে Slide Show ট্যাবে ক্লিক করুন। একটি ডায়ালগ বক্স আপনার সামনে আসবে, সেখান থেকে Browsed at Kiosk এ ক্লিক করে Kiosk সেটআপ করে নিন। আর Kiosk মোড বন্ধ করতে Esc কি-তে চাপ দিলেই হবে।

ট্রিভিয়া বা কুইজ তৈরি:

স্লাইডের শুরুতেই গেমের নাম লিখে শেইপ বক্স থেকে চতুর্ভুজ এনে সেখানে ‘Start’ টাইপ করুন। চাইলে Format Background এ ক্লিক করে পছন্দমতো ব্যাকগ্রাউন্ডও সিলেক্ট করে নিতে পারেন।

এরপর চতুর্ভুজের Start এ ক্লিক করে হাইপার লিংকের মাধ্যমে আগের স্লাইডের সাথে পরবর্তী স্লাইড যুক্ত করুন। এভাবে প্রতিটা স্লাইডই হাইপার লিংকের মাধ্যমে যুক্ত করুন। শুধু Start এর পরিবর্তে পরের স্লাইডের বক্সে কুইজের প্রশ্ন থাকবে।

কুইজের প্রশ্নগুলোর উপর অ্যানিমেশন ইফেক্ট ব্যবহার করতে পারেন। যার মাধ্যমে ভুল উত্তরগুলোর নিচে ভুল এবং সঠিক উত্তরের নিচে ঠিক লেখা থাকবে।

আনসেভড ফাইল উদ্ধার:

অনেকসময় দেখা যায়, কাজ করতে যেয়ে অন্যমনস্কতার কারণে আমাদের এত কষ্টে তৈরি করা প্রেজেন্টেশন ফাইলটা ডিলিট হয়ে গিয়েছে। ফটোশপ কিংবা মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে ডিলিট হয়ে যাওয়া বা সেভ না করা ফাইল রিকোভার করা একটু কঠিন হলেও, পাওয়ারপয়েন্টে এই কাজটা খুবই সহজ।  

পাওয়ারপয়েন্টে যেয়ে ফাইল ওপেন করুন। সেখানের ডান পাশের অংশে আপনার সেভ করা সবগুলো ফাইল পাবেন। স্ক্রল করে একটু নিচের দিকে নামতেই দেখবেন ‘Recover Unsaved Presentations’ নামের একটা অপশন আছে। ব্যস, এক ক্লিকেই আবার সব ফিরে পাবেন!

পাওয়ারপয়েন্টের সুবিধা ও কাজ:

শুধু প্রেজেন্টেশন বানানোই না, পাওয়ারপয়েন্টের সাহায্যে অনেক সময়সাপেক্ষ কাজও আপনি চটজলদি করে ফেলতে পারবেন। সেসব কাজের মধ্যে রয়েছে: ভিডিও বানানো, ফটো এডিটিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং, সিভি, অ্যানিমেশন, ইনফোগ্রাফিক, চেকলিস্ট, বিজনেস কার্ড, জার্নাল, লোগো, ক্যালেন্ডার, ফ্লায়ার, বইয়ের কভার, যেকোনো ধরনের কার্ড, পোস্টার, লিফলেট তৈরি ইত্যাদি।

প্রজেক্টরে স্লাইড দেখানোর সময় অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় যে প্রজেক্টরের মাপমতো আমাদের স্লাইডটা বানানো হয়নি। পাওয়ারপয়েন্টে সেই ঝামেলাটা নেই, কারণ এখানে সাধারণ প্রজেক্টরের মাপমতো 35 mm সাইজের স্লাইড সহজে ব্যবহার করা যায়। এছাড়াও প্রেজেন্টেশন আকর্ষণীয় করতে এতে ডিজিটাল ভিডিও এবং অডিও সাউন্ড যোগ করা যায়।

পাওয়ারপয়েন্ট স্কিল থাকা কেন জরুরি:

আপনি যেকোনো চাকরির জন্য আবেদন করতে গেলে সেখানে দেখবেন কম্পিউটার ব্যবহার করতে জানা এবং মাইক্রোসফট অফিস, বিশেষ করে মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্টের ব্যবহার জানা আবশ্যক। কারণ প্রত্যেকটি অফিশিয়াল কাজেই আপনার এই দক্ষতাগুলোর প্রয়োজন হবে।

এটা শেখার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার দরকার না হলেও, আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটার চালানো জানতে হবে। এছাড়াও আজকাল অনেক অনলাইন ওয়েবসাইটে এইসব দক্ষতার উপর ফ্রি ক্লাস করানো হয়। ইউটিউবেও আপনি এই সংক্রান্ত অসংখ্য ভিডিও পাবেন। আর আমাদের ১০ মিনিট স্কুলের ওয়েবসাইটে কিন্তু সাদমান সাদিক ভাইয়ার মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট নিয়ে “Microsoft Powerpoint Beginner to Advanced” কোর্সও আছে!

আর ১০ মিনিট স্কুলের ইউটিউব চ্যানেলে ভাইয়ার বেশকিছু সহজ টিউটোরিয়ালও আছে।

Playlist:

https://www.youtube.com/playlist?list=PLFBrPBu1Ty_czm1HLQag8FNLPSKKf3yqp

https://www.youtube.com/playlist?list=PL1pf33qWCkmjWmVjv7f7krdV2x0C1axpq

আপনার কমেন্ট লিখুন