যেই ৫টি App ব্যবহার না করলেই নয়!

April 11, 2017 ...

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

কাজী নজরুল ইসলাম বলে গিয়েছিলেন

বিশ্বজগৎ দেখবো আমি, আপন হাতের মুঠোয় পুরে।

জাতীয় কবির সেই কথাটি এখন মুঠোফোনের কল্যাণে সত্যি সত্যি বাস্তবে পরিণত হয়েছে! আজকাল ছেলেবুড়ো সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন, প্রতিদিন সেই স্মার্টফোনে ব্যবহারের জন্য হাজার হাজার অসাধারণ সব অ্যাপস তৈরি হচ্ছে শিল্পীসত্তার বিকাশ, বিচিত্র সব বিষয়ে জানা, বুদ্ধির ব্যায়াম, খেলাধুলা সহ জীবনের অসংখ্য আয়োজনে জড়িয়ে গেছে এই অ্যাপস গুলো

দুঃখের বিষয়, বেশিরভাগ মানুষ তাদের স্মার্টফোন ক্ল্যাশ অফ ক্ল্যানস টাইপ গেম খেলা আর জায়গায় বেজায়গায় সেলফি তোলা ছাড়া তেমন কোন কাজে লাগায় না তুমি পকেটে ছোট্ট এই যন্ত্রটি নিয়ে ঘুরছো সারাদিন, এই জিনিসটি দিয়ে কতো বিচিত্র সব কাজ করা যায় এমনকি একেবারে ছোটখাটো একটি বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলা যায় সেটি কি তোমার মাথায় এসেছে কখনো? চলো, আজ জেনে নেওয়া যাক পাঁচটি অসাধারণ অ্যাপস এর ব্যাপারে! 

এই অ্যাপস গুলো আমার জীবন বদলে দিয়েছে, আমি বাজি ধরে বলতে পারি তোমার জীবনেও খুব চমকপ্রদ জিনিস ঘটে যেতে পারে এই অ্যাপস গুলো ব্যবহারের মাধ্যমে!

পাঁচটি অসাধারণ দরকারি অ্যাপসঃ 

. Cyberlink Powerdirector 

স্মার্টফোন খুব চমৎকার একটি জিনিস, স্বল্পমূল্যের কারণে মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে জিনিসটি, এবং সেটি দিয়ে ভিডিও করার মত সহজ কাজ আর হয় না পথে যেতে যেতে দেখলে একটি মজার কাণ্ড ঘটছে তুমি সাথে সাথে পকেট থেকে মোবাইল বের করে সেটি রেকর্ড করে ফেললে!

বাংলাদেশে এখন কোটিখানেক মানুষের হাতে স্মার্টফোন, তারা এটি দিয়ে যখন সৃষ্টিশীল কিছু তৈরি করা শুরু করবে তখন যে কত বড় একটি বিপ্লব ঘটে যাবে সেটি ভেবে আমার অনেক আনন্দ হয়! শুধু ভিডিও করলেই হবে না, সেটির সুন্দর সম্পাদনা প্রয়োজন ভিডিও এডিটিং এর জন্য কম্পিউটারে উন্নত প্রযুক্তির সব সফটওয়্যার আছে, স্মার্টফোনে সম্পাদনার বিষয়টি এখনো তার ধারেকাছে যেতে পারেনিসাধারণ মানুষ কিভাবে তাদের  ভিডিওগুলি সহজে মোবাইলে সম্পাদনা করবে সেটি নিয়ে আমার গভীর আক্ষেপ ছিল, Cyberlink Powerdirector এর সন্ধান পাওয়ার পর সেই দুঃখটি একদম উধাও হয়ে গেছে!

ভিডিও সম্পাদনার অনেকগুলো কাজ খুব সুচারুভাবে করা যায় এই অ্যাপটিতে। একবার একটি প্রতিযোগিতায় গিয়ে দেখি অন্য প্রতিযোগী ডিএসএলআর, ট্রলি, বুমস্টিকসহ হুলস্থুল আয়োজন নিয়ে শুটিং এ নেমেছে, সম্পাদনার জন্য ব্যবহার করছে খুব উঁচুদরের সব এডিটর, ব্যাপার-স্যাপার দেখে আমরা বেশ দমে গেলাম, আমাদের  শুটিং, স্মার্টফোনেই এডিটিং!

মজার ব্যাপার হলো প্রতিযোগিতার ফলাফল দিয়েছে এবং দেখা গিয়েছে সেই প্রতিযোগীকে কিভাবে কিভাবে পিছনে ফেলে দিয়েছি আমরা, বিচারকরা আমাদের কাজটি বেশি পছন্দ করেছেন! ইচ্ছা থাকলে মুঠোফোনেই চমৎকার কিছু তৈরি করে ফেলা সম্ভব এই ব্যাপারটি আবিষ্কার করে আমাদের আনন্দ আর ধরে না! তুমিও আজকে মুঠোফোনেই শুরু করে দিতে পারো কোন শর্ট ফিল্ম, নাটক বা ডকুমেন্টারি তৈরির কাজ; Cyberlink Powerdirector যখন আছে, আটকাবে তোমায় কে? 

PowerDirector

২. Sketch

কম্পিউটারে মাইক্রোসফট পেইন্টে আমাদের অনেকেরই ছোটবেলায় ছবি আঁকার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মাউসে নাড়াচাড়া করা মুশকিল, বেঁকে যায় বারবার, তাই লম্বা লম্বা দাগ টেনে টেনে ঘরবাড়ি ছাড়া তেমন কিছু আঁকা হয়নি বেশিরভাগের! স্মার্টফোনে আঙ্গুলের ছোঁয়ায় ছবি আঁকার ব্যাপারটি অনেক সহজ এবং সেটি করার জন্য অসাধারণ সব অ্যাপস রয়েছে। একদম পেশাদার ডিজাইনারদের কাজ করার জন্যও অ্যাপস আছে কিছু, সেগুলো অনেক জটিল, তাই আমি সেগুলো নিয়ে কথা বলবো না।

Sketch নামের অ্যাপটি খুব সহজ এবং আমার ভীষণ পছন্দের। মাইক্রোসফট পেইন্টের মোটামুটি সবগুলো অপশানই এখানে রয়েছে, সাথে আরো কিছু মজার সব টুলস রয়েছে। কার্টুন আঁকার জন্য এই অ্যাপটি একদম ফাটাফাটি, আমার চোখের সামনে পিচ্চি ভাগ্নে ধুন্ধুমার সব কার্টুন এঁকে ফেলে, তার দেখাদেখি আমিও ছবি আঁকা শুরু করে দিয়েছি। এই হচ্ছে আমাদের অঙ্কন প্রতিভার কিছু নিদর্শন!

drawing using sketch

নামে স্কেচ হলেও এটি মূলত কার্টুন আঁকার জন্য বানানো, তোমরা যারা সত্যি সত্যি স্কেচ বা ডিজাইন করতে চাও তাদের জন্যও অনেকগুলো চমৎকার অ্যাপস রয়েছে, প্লে স্টোরে একটু খুঁজে দেখলেই অবাক হয়ে যাবে। শুধু ছবি আঁকার জন্য এত এত আয়োজন! ছবি আঁকার মত মজার বিষয় আর হয়না, আমাদের বাসায় কোন ক্ষুদে অতিথি আসলে আমার স্মার্টফোনে তার হাতে একটি ছবি আঁকিয়ে নিতে ভুলি না!  

কটি ছবিতে যত গল্প সেটি হাজার শব্দেও ফুটিয়ে তোলা সম্ভব না, তাই ছবি আঁকার অভ্যাসটি আমাদের সবার থাকা খুব প্রয়োজন। রং-তুলির ব্যবস্থা নেই তো কী হয়েছে, হাতের মুঠোফোনেই একটানে এঁকে ফেলতে পারো চমৎকার সব ছবি, তবে আর অপেক্ষা কেন?

৩. Walk Band

Walk Band নামটি ইন্টারেস্টিং তাতে কোন সন্দেহ নেই; মিউজিক তৈরির জন্য অ্যাপটির বিশেষ সুনাম রয়েছে। একবার একটি কাজে কিছু সুর তৈরির প্রয়োজন ছিল তাই ঘাঁটাঘাঁটি করে এই অ্যাপটির খোঁজ পেলাম, ডাউনলোড করে সেটি ওপেন করে আমার একদম মুখে পানি চলে আসলো! একটি অ্যাপের ভেতর একসাথে পিয়ানো, গিটার, ড্রাম কিট, ড্রাম মেশিন, বেজ, মাল্টি ট্র্যাক সিন্থেসাইজার ইত্যাদি সব মিলিয়ে হুলস্থুল কারবার!

মিউজিক তৈরির ব্যাপারটি আদৌ সহজ নয়, সেটির জন্য প্রয়োজন অনেক অনেক পরিশ্রম আর সৃজনশীলতা, এই জিনিসগুলি আমার মধ্যে কোনকালে ছিল না তাই খুব বেশিদূর আগাতে পারিনি তাও মাঝেমধ্যে অনেক খেটেখুটে একটি-দুটি সুর তুলে ফেলতে পারলে গর্বে বুক ফুলে যায়!

সবাই অবশ্য আমার মতো অকর্মা নয়, আমি একজন মানুষকে চিনি যে প্রতিদিন বাসে আসা যাওয়ার সময়টুকুতে এই অ্যাপটি ব্যবহার করে অনেকরকম মিউজিক তৈরি করে ফেলছে, তার অনেক বড় মিউজিশিয়ান হওয়ার ইচ্ছা, এই অ্যাপটি ব্যবহার করে সে সেই স্বপ্নের পথে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে! ছোট্ট এই অ্যাপটি যে কতটা শক্তিশালী, কত অসাধারণ সুর তৈরি করে ফেলা যায় এটি দিয়ে সেটি সম্পর্কে একটু ধারণা নিতে দেখে নিতে পারো এই ভিডিওটি:

https://www.youtube.com/watch?v=ekUllWnIIMQ

৪. Office Suite

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কাজে সবসময়ই অনেকরকম স্লাইড বানাতে হয়, রিপোর্ট তৈরি করতে হয়, এক্সেল শিট বানাতে হয়। আমি একটি অকর্মার ধাড়ি, কোনরকম দক্ষতাই নেই এসব ব্যাপারে। একটি রিপোর্ট টাইপ করতে গেলে কি-বোর্ড ভেঙ্গে ফেলি এমন অবস্থা! আমার অসম্ভব সৌভাগ্য আমার কিছু চমৎকার বন্ধু রয়েছে, তারা প্রায়ই দয়াপরবশ হয়ে আমার কাজগুলো করে দিয়ে সমূহ বিপদ থেকে বহুবার উদ্ধার করেছে আমাকে, তাদের প্রতি আমার আজন্ম কৃতজ্ঞতা কিন্তু সেটি অন্য প্রসঙ্গ।

সবসময় সবার সহযোগিতা পাওয়া যায়না এবং সেটি আশা করাও নিশ্চয়ই কোন কাজের কথা নয়! কাল একটি রিপোর্ট জমা দিতে হবে এবং আমার কোন ল্যাপটপ কম্পিউটার কিছু নেই, কপাল থেকে ঘাম ছুটছে এমন সময় অনেক খোঁজাখুঁজি  করে এই অ্যাপটির সন্ধান পেলাম। এই একটি অ্যাপস এ একইসাথে Microsoft Word, Micrososft Excel, Microsoft Powerpoint সবগুলোর কাজ একসাথে করা যায়- ব্যাপারটি আবিষ্কার করে আমার যেন প্রাণ ফিরলো!

সেদিন এই অ্যাপটি না থাকলে আমার খুব বড় সমস্যা হয়ে যেত, শুধু সেদিন নয় আরো বহুবার এই অ্যাপটি অনেকরকম সমস্যায় আমার অসম্ভব উপকারে এসেছে। এই যে তুমি লেখাটি পড়ছো এটি কিন্তু সম্পূর্ণ Office Suite এ টাইপ করা! ছোট্ট একটি অ্যাপস, কত সুদূরপ্রসারী তার ক্ষমতা ভেবে দেখেছো!

৫. Draw Cartoons 2

কার্টুন বানানোর ব্যাপারে বরাবরই আমার ভীষণ আগ্রহ, Sketch অ্যাপস-টি দিয়ে চমৎকার কার্টুন আঁকা যায় কিন্তু এনিমেশন বানানো যায় না, এই বিষয়টি নিয়ে আমার মনে একধরণের খচখচানি ছিল। তাই Draw Cartoons 2 অ্যাপটি আবিষ্কার করে আমি একদম অভিভূত হয়ে গেলাম। এই অ্যাপটি দিয়ে কত সহজে এনিমেশন তৈরি করে ফেলা যায় তা না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবে না!

এমনিতে এনিমেশন তৈরি করা অমানুষিক পরিশ্রমের কাজ, আমার একজন গুণী বন্ধু আছে যে এনিমেশন নিয়ে কাজ করে, সেদিন তিন মিনিটের একটি কার্টুন দেখালো তার বানানো, ব্যাপারটি এত সুন্দর হয়েছে যে চোখ ফেরানো যায়না কিন্তু এই ছোট্ট কার্টুনটি তৈরি করতে তার প্রায় তিন মাস সময় লেগে গিয়েছে! Draw Cartoons 2 অ্যাপস টি দিয়ে অনেক সহজে এনিমেশনের কাজটি করে ফেলা যায়, ছোটখাটো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেগুলি এমন বড় কিছু নয়।

সবসময় টিভি তে কার্টুন দেখে এসেছো, এবার ঘরে বসে পকেটের মোবাইলটি ব্যবহার করে নিজেই কার্টুন বানিয়ে ফেলতে পারবে, ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তা করলে আমার আনন্দে ঘুম আসে না!

Draw Cartoons 2 ব্যবহার করে এনিমেশন তৈরির একটি ছোট্ট নমুনা দেখো ভিডিওটিতে:

https://www.youtube.com/watch?v=yB_uQ49ZVwE

এখানে যে অ্যাপগুলি নিয়ে কথা হলো সেগুলি ব্যবহার করে পৃথিবীজুড়ে  সৃজনশীল মানুষেরা শিল্প-সাহিত্যে প্রতিদিন একরকম বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলছে। এই যে তুমি লেখাটি পড়ছো ঠিক এই মুহূর্তেই পৃথিবীর কোন প্রান্তে মুঠোফোনে কেউ একটি শর্ট ফিল্ম বানাচ্ছে, কেউ চমৎকার একটি উপন্যাস লিখে ফেলছে, ছবি এঁকে মাতিয়ে দিচ্ছে কোন শিল্পী- এই পুরো ব্যাপারটিই ঘটছে মুঠোফোনে, এই অ্যাপস গুলো ব্যবহার করে!

নিজের সৃজনশীল প্রতিভাগুলো জাগিয়ে তোলার এখনই সময়, আজই একটা কিছু শুরু করে দাও কে জানে একটা ফাটাফাটি ব্যাপার ঘটে যেতে পারে, তোমার প্রতিভা দেখে তুমি নিজেই অবাক হয়ে যাবে! তবে আর অপেক্ষা কেন?


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন