IELTS Speaking ও Listening টেস্টে এ ভালো করতে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?

April 6, 2022 ...

IELTS Speaking প্রস্তুতি

IELTS Speaking পার্টটি নিয়ে আমাদের সবারই একটা ভীতি কাজ করে। যে, আমি সঠিক ভাবে কথা বলতে পারবো কি না, কী হবে যদি আটকিয়ে যাই অবশ্য ভীতি কাজ করাটাও স্বাভাবিক, কারণ স্পিকিং টেস্টে খুব কম সময়ে কথা বলার প্রয়োজন হয় এবং একটা ছোট ভুল করলে সেটা ঠিক করা সম্ভব নয়।

এখন এই ভুলগুলো যেন না হয়, তার জন্য আমাদের কী করা উচিত? কীভাবে প্রিপারেশন নেওয়া উচিত? আসুন, আজ সেটা নিয়েই আলোচনা করি।

১. IELTS Speaking টেস্টের প্রধান তিনটি অংশ:

ক. আপনার নিজের সম্পর্কে এবং আপনার ইন্টারেস্ট নিয়ে কথা
খ. কোনো একটা বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা
গ. দ্বিতীয় অংশে আলোচিত বিষয়ের কিছু ইস্যু নিয়ে কথোপকথন

IELTS Speaking

২. জেনে নিন IELTS Speaking ইন্টারভিউতে আপনাকে কেমন প্রশ্ন করা হতে পারে:

IELTS স্পিকিং পার্টটি সম্পূর্ণ করার জন্য আপনাকে দেওয়া হবে ১১ থেকে ১৪ মিনিট। তাই, প্রতিটা মিনিট, সেকেন্ডের গুরুত্ব খুব বেশি।

স্পিকিং টেস্টটিতে মূলত যিনি ইন্টারভিউ নেবেন তার সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। আপনাকে যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দেওয়া হবে, সেটা নিয়ে ভালো করে গুছিয়ে শুদ্ধভাবে কথা বলতে হবে। এছাড়াও আপনি যা বলেছেন, সেটি সঠিক বলে আপনার কেন মনে হলো তাও আপনাকে সুন্দর করে বর্ণনা করতে হবে।

৩. ইন্টারভিউতে আপনার দক্ষতা যাচাই করা হবে ৪টি স্তরে:

Fluency and Coherence:

আপনি না থেমে বা কতটুকু সহজে সঠিক ভাবে কথা বলতে পারেন।

Lexical Resource:

সহজ কথায় আপনার ভোকাবুলারি কতটুকু সমৃদ্ধ এবং আপনি তা কীভাবে ব্যবহার করছেন।

Grammatical Range and Accuracy:

গ্রামারের দিক থেকে আপনার কথা বলার ধরন।

Pronunciation:

আপনার উচ্চারণ ও সেটা সহজে বোধগম্য কি না।

৪. প্র্যাক্টিস করুন বেশি করে! – Practice makes perfect.

উপরের এই উক্তিটি কতবার শুনেছেন? নিশ্চয়ই অনেক বার শুনেছেন। শুনতে ভালো না লাগলেও এটি কিন্তু একদম সত্য। প্রতিদিন আপনাকে অনুশীলন করতে হবে। যতটুকু সময় ফ্রি পাচ্ছেন, তখনই করতে হবে। সমীকরণ কিন্তু একদম সহজ। যতো বেশি করে ইংরেজিতে কথা বলবেন তত বেশি আপনি IELTS স্পিকিং-এ ভালো করতে পারবেন। তাই আপনাকে আয়নার সামনেই হোক, বা বন্ধুদের সাথেই হোক না কেন, সময় পেলেই কথা বলার প্র্যাক্টিস করতে হবে।

গ্রুপ কনভারসেশনে যোগ দিন, ইংলিশ এক্সপার্টদের হেল্প নিন, কোর্স করুন বা ব্যবহার করুন অ্যাপ। যেভাবেই হোক, IELTS স্পিকিং টেস্টের প্রস্তুতি হিসেবে কথা বলার প্র্যাক্টিস করতে থাকুন।

IELTS Speaking ও Listening টেস্ট এ ভালো করতে কিভাবে প্রস্তুতি নিবে?
Image Source: Dream Stime

IELTS Listening প্রস্তুতি

IELTS-এর listening পার্ট বেশ ইউনিক, এমনকি আমার মনে হয়, আমরা যে পরিমাণে Speaking, Writing এবং Reading নিয়ে কথা বলি বা প্র্যাক্টিস করি, সেই পরিমাণে আমরা listening-এ ফোকাস করি না। ফলস্বরূপ কী হয় জানেন? Listening পার্টটায় প্রিপারেশন কম হয় এবং ভালো না করার একটা সম্ভবনা থাকে। তবে মজার কথা কি জানেন? অন্যান্য পার্টের মতই Listening সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, এবং কঠিন!

তাহলে চলুন, আজ আমরা IELTS Listening-এ কীভাবে ভালো করা যায়, তা জেনে নেই।

১. জেনে নিন প্রশ্নের ধরণ:

IELTS Academic এবং IELTS General Training পরীক্ষায় listening এর পার্ট ঠিক একই পদ্ধতিতে করা হয়। ৪০টি প্রশ্ন থাকবে এবং এটি ৪টি সেকশনে ভাগ করা হয়ে থাকে।

সেকশন ১: দুই জন কথা বলবেন। কোথাও টিকেট বুক করা, বা কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া নিয়ে টেলিফোন conversation হয়ে থাকে। এখান থেকে আপনাকে নাম, তারিখ, সময়, এইসব তথ্য মনে রাখতে হতে পারে।

সেকশন ২: একজন বক্তা কথা বলবেন। এতে প্রায়শই একজন গাইড কথা বলেন কোনো রুম, রিসোর্ট বা অন্য কোনো জায়গা নিয়ে।

সেকশন ৩: তিন থেকে চার জন বক্তা কথা বলবেন। দুই জন স্টুডেন্ট তাদের শিক্ষকের সাথে কথা বলছে এমন পরিস্থিতি দেওয়া হতে পারে।

সেকশন ৪: একাডেমিক লেকচার নিয়ে একজন কথা বলবেন।

টেস্টের সেকশনগুলো ধারাবাহিকভাবে কঠিন হতে থাকে। ৩০ মিনিট সময় থাকবে রেকর্ডিংগুলো শুনে প্রশ্নে লেখার জন্য আর বাকি ১০ মিনিট থাকবে উত্তরগুলো উত্তরপত্রে তোলার জন্য। British English বা American English অনুযায়ী বানানগুলো লিখতে হবে।

IELTS Listening

২. রেকর্ডিং শুনুন বেশি করে:

IELTS Listening এ ভালো করার জন্য যতো বেশি সম্ভব মডেল রেকর্ডিং শুনে শুনে প্র্যাক্টিস করতে হবে। এতে আপনি ব্রিটিশ/অস্ট্রেলিয়ান accent সহজেই ধরতে পারবেন, ছোটো ছোটো বিভিন্ন ইনফরমেশন কম সময়ে বুঝতে পারবেন এবং বেশিক্ষণ মনে রাখতে পারবেন, যা Listening পার্টের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রেকর্ডিং মাত্র একবার প্লে করা হবে। তাই প্র্যাক্টিস করার সময়ও মাত্র একবার শুনেই উত্তর করে প্র্যাক্টিস করতে হবে। তবে, প্রথম বার প্র্যাক্টিস করার সময় বেশ কয়েকবার শুনে কথাগুলো আয়ত্ত করে নেওয়া যেতে পারে।

আর হ্যাঁ, পরীক্ষায় multiple choice, sentence completion, classification, matching, short answer questions এই ধরনের প্রশ্নের জন্য তৈরি থাকুন।

৩. Multi-tasking!

আপনাকে এক সাথে কয়েকটা কাজ করতে হবে। যেমন, প্রশ্ন পড়ে রেকর্ডিং শুনতে শুনতে উত্তরও লিখে ফেলতে হবে। শুনে কঠিন মনে হচ্ছে কিন্তু রেগুলার প্র্যাক্টিসের মাধ্যমে এটা আয়ত্ত করা সম্ভব।

৪. এবং…

শব্দ সীমার প্রতি লক্ষ্য রাখুন। মাথায় রাখুন যে শব্দ সীমা ভুলেও অতিক্রম করে ফেললে কিন্তু আপনার পয়েন্ট কাটা যাবে। তাই “not more than three words” বা “this should be between 250 and 150 words” এই লেখাগুলো ভালো করে পড়ে নিন।

কোনো প্রশ্নের উত্তর যদি সঠিকভাবে মনে পড়ছে না বলে মনে হয়, তাহলে যা সঠিক বলে আপনার মনে হচ্ছে সেটিই লিখে ফেলুন, বলা তো যায় না সেটা সঠিক হতেও পারে! উত্তর খালি রাখার চেয়ে এটি করা ভালো।

এছাড়াও বানানের প্রতি খেয়াল রাখুন। সময় যেহেতু খুব কম, ভাই দ্রুত করতে গিয়ে ভুল হয়ে যেতে পারে, কিন্তু ভুল হলেও আপনার স্কোর কাটা যাবে। এই জিনিসগুলোও বেশি করে প্র্যাক্টিস করলে ঠিক হয়ে যাবে!


মুনজেরিন শহীদের কোর্সগুলোতে ভর্তি হতে ক্লিক করুন:

আপনার কমেন্ট লিখুন