একাডেমিকস্‌, এসএসসি

ইংরেজি-বাংলার বাধা পেরিয়ে, Golden A+ নাও ছিনিয়ে!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে যদি বোর্ড প্রদত্ত রেজাল্টের কথা ধরি তাহলে সর্বোচ্চ রেজাল্টকে বলা হবে জিপিএ-৫। আবার তোমার সার্টিফিকেটে, ভর্তি পরীক্ষার সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই জিপিএ-৫ রেজাল্টই সর্বোচ্চ বলে ধরা হয়। কিন্তু আমাদের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সমাজে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষায় সব থেকে ভালো ফলাফল জিপিএ-৫ বলে ধরা হয় না।

যদি কোনো শিক্ষার্থী সকল বিষয়ে আলাদা আলাদা ভাবে ৮০শতাংশ নম্বর পায় তাহলে তার জিপিএ-৫ কে আলাদা ভাবে গোল্ডেন এ+ বলা হয়ে থাকে। যদিও এই শব্দটা কোনো সার্টিফিকেট বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে কোথাও ব্যবহার করা হয় না তবুও গোল্ডেন এ+ টার্মটা মানুষের মাঝে অনেক জনপ্রিয়। কি কারণে জনপ্রিয় তা আসলে বলা যাচ্ছে না কিন্তু ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের কাছে এই রেজাল্ট আলাদা একধরণের পরিতৃপ্তি রূপে কাজ করে।

গোল্ডেন এ+ এর জন্যে সকল বিষয়ে আলাদা আলাদা ভাবে ৮০শতাংশ নম্বরের প্রয়োজন যা কোনো ভাবেই মুখের কথা নয়। বাংলা এবং ইংরেজি পারতপক্ষে সহজ একটি বিষয় মনে হলেও এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই দুই সাবজেক্টই অনেকের জন্যে কাল হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের গোল্ডেন এ+ মিস হয়ে যায় সামান্য কিছু নম্বরের জন্যেই। এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা-ইংরেজির ফাঁড়া কাটাতে কিভাবে আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করবে তা চলো তা একনজরে দেখে আসি।

১) গ্রামার পার্টে ১০০ভাগ নম্বর আনার চেষ্টা রাখো

এই জিনিসটা হয়তো তোমরা সবাই জানো যে সকল বিষয়ের দুইটা আলাদা পত্র রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে দুই বিষয় একসাথে যোগ করে ১৬০ পেলেই একসাথে ওই সাবজেক্টে জিপিএ-৫ আসে। তাই যদি প্রথম পত্র একটু খারাপ হয়েই যায় দ্বিতীয় পত্র দিয়ে সেই নম্বর পুষিয়ে নেয়ার একটা সুযোগ কিন্তু তোমার হাতে থাকছেই। বাংলার ক্ষেত্রে প্রথম পত্রে সৃজনশীল লিখে অনেক নম্বর নিয়ে আসা অনেক কঠিন বিষয় তার সাথে তুমি শিওরলি কতো পেতে পারো তা আগে থেকেই বলা যায় না।

আবার অনেক সময় প্রথম পত্রে অবজেক্টিভ অংশটা অনিচ্ছাকৃত ভাবেই খারাপ হয়ে যেতেই পারে। সেক্ষেত্রে তোমার হাতে বড় অপশন হলো বাংলা দ্বিতীয় পরীক্ষা। ব্যকরণে ভালো মতন প্রিপারেশন নিয়ে বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্নগুলোতে জোর দিয়ে ভালো পরীক্ষা দেয়া সম্ভব।

ইংরেজির ক্ষেত্রে নাম্বারের একটা বড় অংশ আসে গ্রামার থেকে। তুমি যদি ভালো ভাবে প্রিপারেশন নেও তোমার পক্ষে গ্রামার অংশে ১০০ভাগ নম্বর তোলা  সম্ভব। গ্রামার অংশের সব থেকে মজার বিষয় হলো তুমি এখানে অংকের মতন নম্বর পাবে। এখানে শিক্ষক ইচ্ছা করলেই কোনো নম্বর কেটে রাখতে পারবেন না। তাই তুমি গ্রামার অংশকে যত ভালো আয়ত্বে আনতে পারবে তোমার কাঙ্খিত লক্ষের দিকে তুমি ততোই এগিয়ে যাবে।

২) অবজেক্টিভ এর ব্যপারে সতর্কতা বাড়াও

সাতটা সৃজনশীলের যুগে অনেকের অবজেক্টিভের প্রিপারেশন অনেক সময় প্রিপারেশন তুলনামূলক কম হয়ে যায় বেশকিছু কারণে। প্রথমত, সাবজেক্টিভ এর প্রিপারেশন এর প্রতি এতো মনোযোগ থাকে যে অবজেক্টিভ পড়ের মতন সময়ই শেষে ম্যানেজ করা যায় না। দ্বিতীয়, আমরা চিন্তা করি সাবজেক্টিভ প্রিপারেশন নিলে অবজেক্টিভের অংশও কভার করে ফেলা যাবে। আসলে এগুলোর কোনোটিই ঠিক না.

সাবজেক্টিভ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বেশ কিছু সময় অবজেক্টিভ সাবজেক্টিভের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। লেখক পরিচিতি, পাঠ পরিচিতি, গদ্য-পদ্যের আদ্যোপান্ত সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা না নিয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে তুমি অবজেক্টিভ প্রশ্নে কোনোভাবেই ভালো করে উঠতে পারবে না। বিশেষ করে বহুপদী সমাপ্তি সূচক কিছু প্রশ্নের উত্তর করা তোমার জন্যে কষ্টের হয়ে যাবে। তাই বাংলায় ৮০শতাংশ নম্বর নিশ্চিত করতে চাইলে, বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্নে আসা সকল নৈর্ব্যক্তিক এবং বোর্ড বই পড়ে অবজেক্টিভ অংশে ভাল করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।

৩) ২য় পত্রে রাইটিং অংশের উপর জোর দাও

রাইটিং অংশ পড়ার ক্ষেত্রে আমাদের মাঝে ভয়ংকর রকমের অবহেলা কাজ করে। “রচনা পড়ার কি দরকার বানিয়েই লিখে ফেলবো, প্যারাগ্রাফ লেখা কোনো ব্যপারই না!” এই ধরণের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায় প্রতিনিয়ত। আর এসব চিন্তার কারণের প্রিপারেশন এর সময় পিছিয়ে পড়ে রাইটিং অংশ।

  • বাংলায় বানিয়ে রচনা লেখা কিংবা চিঠি আবেদনপত্র গুছিয়ে লেখা তুলনামূলক সহজ তা মানতেই হবে। তাই বলে না পড়েই পরীক্ষা দিতে হবে এমনটারও কোনো মানে নেই। বিভিন্ন রকম প্রতিবেদন, আবেদন পত্র, চিঠি, ই-মেইল, এসএমএস ইত্যাদি টপিক লেখার জন্যে নিয়মকানুন বা ফরম্যাট দেখে যাওয়া অনেক জরুরি। অনেক সময় ফরম্যাটে গণ্ডগোল থাকলে শিক্ষকেরা অনেক নম্বর কেঁটে রাখে। তাই অন্তত নিয়মকানুন আর ফরম্যাট সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা চাই।
    • রচনা লেখার বেলায় স্বাধীনতা অবশ্যই রয়েছে কিন্তু শুধু মাত্র ঢালাও ভাবে লিখে গেলে শিক্ষক কখনোই তোমাকে ভালো নম্বর দিবেন না। রচনাকে আকর্ষণীয় ভাবে উপস্থাপনের জন্য রচনার সাথে মিলে যায় এমন প্রাসঙ্গিক বাংলা কিংবা ইংরেজি উক্তি, কবিতার লাইন লেখাও গুরূত্বপূর্ণ। অনেক রচনায় আবার বিভিন্ন পরিসংখ্যান উপস্থাপন করতে হয়। ধরো “পোশাক শিল্প’’ সম্পর্কে রচনা লিখতে হচ্ছে সেক্ষেত্রে বিভিন্ন অর্থবছরে পোশাকশিল্পের অবদান, অন্যান্য শিল্পের সাথে পোশাক শিল্পের অবদানের তুলনা ইত্যাদি নানান পরিসংখ্যান তোমার রচনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

 

        • বাংলায় লেখার তুলনায় ইংরেজিতে প্যারাগ্রাফ, অ্যাপ্লিকেশন, কম্পোজিশন লেখা তুলনামূলক কঠিনই। কারণ এখানে হাতখুলে বানিয়ে লেখা অনেকটাই কষ্টকর। অনেক লেখাই বাংলায় মাথায় আসে ট্রান্সলেট করে লেখার জন্যে অনেক চিন্তা করতে হয়! নানান সমস্যা থাকলেও ছাত্রছাত্রীরা কেনো যেন বানিয়ে লেখাটাই বেশি পছন্দ করে। এতে করে অনেক গ্রামারে প্রচুর ভুল দেখা যায়। তাই বানিয়ে লেখার মন মানসিকতা নিয়ে পরীক্ষা দিতে না আসাই ভালো। যদি একান্তই প্রয়োজন পড়ে তাহলে অবশ্যই বই থেকে কয়েক বার রিডিং পড়ে ধারণা অন্তত রাখা জরুরি।  
        •  
          উদ্যোগ নাও উদ্যোক্তা হবার!
           
 

 

৪) পরীক্ষার খাতা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখো

পরীক্ষার খাতা যতটা সম্ভব কাটাকাটি না করে, ফাঁকা ফাঁকা করে সুন্দর ভাবে গুছিয়ে লিখো। বোর্ড পরীক্ষার খাতা অনেক ক্ষেত্রেই সময় নিয়ে পড়ে পড়ে দেখার সুযোগ শিক্ষকের হয়ে ওঠে না। চরম বাস্তবতা এই যে,অল্প সময়ে অধিক খাতা দেখার প্রেশার থাকায় অনেক সময়ই কাটাকাটিতে ভরা হিজিবিজি লেখা খাতা শিক্ষকেরা কম নম্বর দিয়ে এড়িয়ে চলে যান।

সেক্ষেত্রে তোমার অপরিষ্কার খাতাই অনেক নম্বর হারানোর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই কালোর সাথে নীল কালি ব্যবহার করে পয়েন্ট, হেডিং, গুরুত্বপূর্ণ লাইন লিখে গ্যাপ দিয়ে সুন্দরভাবে গুছিয়ে লিখলেই সব রকমের রিস্ক থেকে দূরে থাকা যায়।

৫) কষ্ট করে হলেও ৭টা সৃজনশীলই লিখে শেষ করো

আমি জানি এই বিষয়টা অনেক কষ্টের। সাতটা সৃজনশীল লেখা অবশ্যই সহজ কোনো বিষয় না। কিন্তু গোল্ডেন এ+ এর স্বপ্ন দেখতে হলে কষ্ট একটু করতেই হবে। তাই না?

বাসায় মাঝে মাঝে সৃজনশীল লেখার চর্চা করো। নিজের লেখার গতিকে বাড়িয়ে কম সময়ে গুছিয়ে লেখার অভ্যাস তৈরি করতে থাকো। যত যাই হোক চার থেকে পাঁচ নম্বর কোনো ভাবেই ছেড়ে আসা যাবে না। একটু পরিশ্রম করলেই দেখবে সাতটা সৃজনশীল লিখে ফেলতে পারবে।

৬) বাংলা পড়ার ক্ষেত্রে অবহেলা প্রদর্শন থামাও

এইচএসসি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্যে বাংলা রীতিমত বিভীষিকার নাম। যারা সাইন্সে পড়ে তাদের অবস্থা আরও করুণ। এসএসসিতে অনেক সময় থাকায় আসতে ধীরে সব কিছু শেষ করা যায় কিন্তু এইচএসসির সময় সেই সুযোগটা আর নেই। ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, বায়োলজি, ম্যাথ সবগুলো বিষয়ের দুইটি করে পত্র পড়ে আবার বাংলা পড়ার কথা কারও মাথায়ই আসে না। এমন অনেক সময়ই হয় যে পরীক্ষার আগে দুই-তিন দিন বাংলা পড়ে পরীক্ষা দেয়া লাগছে। অনেকের অবহেলার মাত্রা এতটাই বেশি যে পরীক্ষার আগে বই কোথায় রেখেছিলো তাই খুঁজে বের করতে পারে না! এমন করলে চলবে না।

যদি তুমি ভালো ফলাফল আশা করো তাহলে পরিশ্রম তো করতেই হবে। অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি বাংলা পড়তে হবে নিয়মিত। আর হ্যাঁ! এসএসসি পরীক্ষায় আরও একটি কঠিন বিষয় যেখানে নম্বর তোলা অনেক কষ্টকর। তাহলো বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়। এই বিষয়কে মোটেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

সবশেষে এটুকুই বলবো, “গোল্ডেন এ+ না পেলে আমি শেষ!” এই ধরণের মন মানসিকতা পোষণ করাও কিন্তু বুদ্ধিমানের কাজ নয়। গোল্ডেন এ+ একধরণের  “Personal Satisfaction” মাত্র। তুমি গোল্ডেন এ+ প্রাপ্ত স্টুডেন্ট হলে তোমার জন্যে শুভকামনা কিন্তু কিছু নম্বরের জন্যে মিস হয়ে গেলে তোমাকে তিরষ্কার করা হবে এমন কখনোই না। জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে তুমি  সুযোগ পাবে। সে সুযোগগুলোকে ভালোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করো। ভালো ভাবে পড়ালেখা করে শেখার প্রতি গুরুত্ব দেও তাহলে প্রথমে একটু ব্যার্থতার মুখোমুখি হলেও দিনশেষে সফলতা তোমার কাছে আসবেই।


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]