ঢাবি গ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি: জেনে নাও খুঁটিনাটি

April 7, 2022 ...

ভবিষ্যতে ভালো একটা ক্যারিয়ার দাঁড় করানো কিংবা নিজের স্বপ্নের পিছে ছুটে চলা, উদ্দেশ্য যাইহোক না কেনো সে উদ্দেশ্য হাসিল করতে প্রস্তুতি শুরু হয় কলেজে থাকতে থাকতেই। এইচএসসি পরীক্ষার পর ভর্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন হাতে এসে ধরা দেয়। 

সারাদেশের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পড়ুয়া সেই স্বপ্নবাজ মুখগুলোর প্রথম পছন্দ থাকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রথম পছন্দ ঢাবি গ ইউনিট
উচ্চ মাধ্যমিকের পর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরই উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রথম পছন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়;  Image Source: du.ac.bd

এক নজরে দেখে নেয়া যাক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ বা ঢাবি গ ইউনিটের  ভর্তি প্রস্তুতির সব খুঁটিনাটি বিষয়াদি- 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (Faculty of Business Education, University of Dhaka)

বিজনেজ স্টাডিজ অনুষদের ৯টি বিভাগে সর্বমোট ১২৫০টি আসন রয়েছে। এর বিপরীতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২৩ হাজার ৩৪৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন ।

বিভাগ আসনসংখ্যা বিভাগ আসনসংখ্যা
ম্যানেজমেন্ট ১৮০ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস ১১৫
একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ১৮০ ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ১১৫
ফিন্যান্স ১৮০ ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ১১৫
মার্কেটিং ১৮০ অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি এন্ড লীডারশিপ ৩৫
ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স ১৫০

ঢাবি গ ইউনিটে আবেদনের যোগ্যতা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদ [গ ইউনিট] এর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী-

  • ২০২০ এ উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ব্যবসায় শিক্ষা/ এ লেভেল/ বিজনেস ম্যানেজমেন্টে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে।
  • মাধ্যমিক/ সমমান এবং উচ্চমাধ্যমিক/ সমমান পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ প্রাপ্ত জিপিএ দুটির যোগফল কমপক্ষে ৮.০০ হতে হবে (আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.৫)
  • জি.সি.ই ও ‘ও’ লেভেলে অন্তত ৫টি বিষয়ে এবং ‘এ’ লেভেলে অন্তত ২টি বিষয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে।  

ঢাবি গ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার মানবণ্টন

সাধারণত মেধাক্রম তৈরি করা হয় মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে প্রাপ্ত জিপিএ এবং ভর্তিপরীক্ষায় প্রাপ্ত মোট নম্বরের ভিত্তিতে। জিপিএ-র ওপর নম্বরটা পরিস্থিতি কিংবা ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে।

২০২০-২১ এর সার্কুলার অনুযায়ী পরীক্ষার মোট নম্বর ১২০ যার মধ্যে ২০ নম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের জিপিএ-র ওপর (জিপিএ*২) এবং বাকি ১০০ নম্বরের ওপর ছিল ভর্তি পরীক্ষা। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষর জিপিএ-র ওপর নম্বর ছিল ৮০ (এইচএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ*১০+ এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ*৬)। 

এবার আসা যাক মূল পরীক্ষার ব্যাপারে,

২০১৮-১৯ পর্যন্ত পরীক্ষা পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ বহুনির্বাচনি বা MCQ ভিত্তিক। ২০১৯-২০ সাল থেকে বহুনির্বাচনির পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে লিখিত অংশ। চলো দেখে নিই বিস্তারিত (গ ইউনিট ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২০-২১ অনুযায়ী):

পরীক্ষার ধরণ সময় নম্বর বিষয়
বহুনির্বাচনি (MCQ) ৪৫ মিনিট ৬০ বাংলা (আবশ্যিক)
ইংরেজি (আবশ্যিক)
হিসাববিজ্ঞান (আবশ্যিক)
লিখিত ৪৫ মিনিট ৪০ ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ (আবশ্যিক)
মার্কেটিং/ ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং(যে কোনো একটি)

১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের পরীক্ষায় প্রথম ৪৫ মিনিট বহুনির্বাচনি পরীক্ষা:

  • ৫টি বিষয়ের প্রত্যেকটি থেকে ১২টি করে মোট ৬০টি প্রশ্ন থাকবে যার প্রত্যেকটির মান ১
  • A Level শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয় এবং নম্বর বণ্টন:
  1. English: 16
  2. Advanced English: 12
  3. Business Studies: 16
  4. Accounting: 16
  5. Economics: 16

  এখানে বিজনেস স্টাডিজ, একাউন্টিং ও ইকোনমিকস এর মধ্যে যেকোনো দুটি বিষয়ের উত্তর করতে হবে।

  • প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে ০.২৫ নম্বর।

পরবর্তী ৪৫ মিনিট বরাদ্দ লিখিত পরীক্ষার টপিক ও নম্বর বণ্টন:

  • বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ: ৫ নম্বর
  • ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ: ৫ নম্বর
  • বিষয়ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রকাশ (ইংরেজি): ৫ নম্বর
  • Precis Writing: ৫ নম্বর
  • সংক্ষিপ্ত রচনা (বাংলা): ৫ নম্বর
  • সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর: ৫টি বিষয়ের প্রত্যেকটি থেকে একটি করে মোট ৫টি প্রশ্ন থাকবে যার মান ৩। অর্থাৎ এই অংশে ৫*৩=১৫ নম্বর বরাদ্দ থাকবে।

A Level শিক্ষার্থীদের জন্য:

  • Essay Writing: 5
  • Precis Writing: 5
  • Letter Writing: 5
  • Definition of Concepts: 5
  • Short Questions from compulsory Subjects: (5*4)= 20

লিখিত অংশের জন্য কোনো নেগেটিভ মার্কিং থাকবে না। 

ঢাবি গ ইউনিটর মেধাতালিকা

পরীক্ষা এবং জিপিএ-র সম্মিলিত নম্বরের ওপর ভিত্তি করে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে। তবে বহুনির্বাচনি অংশের ইংরেজিতে ন্যূনতম ৫ এবং সব মিলিয়ে ন্যূনতম ২৪ পেতে হবে। লিখিত অংশে ন্যূনতম পেতে হবে ১১। বহুনির্বাচনি ও লিখিত মিলিয়ে ন্যূনতম ৪০ নম্বর থাকতে হবে। এক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয়, বহুনির্বাচনি অংশে উত্তীর্ণ হলেই কেবল লিখিত অংশের মূল্যায়ন করা হবে। 

ঢাবি গ ইউনিটের প্রস্তুতি যেভাবে নেবে

১. বই পড়ো, কন্সেপ্ট ক্লিয়ার রাখো

পাঠ্য বই এর বিকল্প কিছু হতে পারেনা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর ভর্তিযুদ্ধে খারাপ করার একটা বড় কারণ থাকে পাঠ্যবইকে গুরুত্ব না দেয়া। শুরু থেকেই বই এর খুটিনাটি এবং মূল বিষয়বস্তু বুঝে প্রস্তুতি নিলে সেটা বেশি ফলপ্রসূ হয়। অবশ্যই এবং অতি অবশ্যই বেসিক এবং কন্সেপ্ট ক্লিয়ার রাখা জরুরি। 

যেমন: ২০২০-২১ এ ঢাবি গ ইউনিট লিখিত প্রশ্নে, বাংলা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নটি ছিল মূলত অনুধাবনমূলক। আবার, বাংলা-ইংরেজি বা ইংরেজি-বাংলা অনুবাদ, Concept/ Precis Writing টা তখনই ভালো হবে যখন তোমার ইংরেজির বেসিকটা ভালো থাকবে।

পাঠ্যবইয়ের অধ্যায়গুলো ভালো করে পড়তে হবে
পাঠ্যবইকে বেশি গুরুত্ব দাও; Image Source: Entrepreneur

২. প্রশ্ন এনালাইসিস করো

এ কাজটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যায়, হুবহু একই প্রশ্ন না আসলেও প্রশ্নের প্যাটার্নটা অনেক ক্ষেত্রেই অভিন্ন থেকে যায়। তাই বিগত বছরের প্রশ্ন এনালাইসিস করাটা জরুরি। এতে যেমন প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ টপিকও চিহ্নিয় করা যায়। এতে প্রস্তুতি নেয়াটা সহজ হয়।

যেমন: ঢাবি গ ইউনিট ২০২১ এ ব্যবসায় শিক্ষার বিষয়গুলোতে লিখিত প্রশ্নে গাণিতিক প্রশ্নের চেয়ে বর্ণনামূলক প্রশ্নগুলো বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। 

৩. জানতে হবে নিজের দুর্বলতা

বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিজের দুর্বলতার জায়গা চিহ্নিত করতে হবে। সেই বিষয়ে বেশি সময় দিতে হবে এবং অনুশীলন করতে হবে। কে কীভাবে পড়ছে, বেশি পড়ছে না কম পড়ছে এসব তুলনায় না গিয়ে নিজের দিকে ফোকাস করাটা বেশি জরুরি।

সময়ের জ্ঞান
লক্ষ্য রাখতে হবে সময়ের প্রতি; Image Source: Global Education Information- Quora

৪. ঘড়ি ধরে অনুশীলন 

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রস্তুতি ভালো হলেও সময়ের সাথে তাল মিলাতে না পেরে পরীক্ষা খারাপ হয়। যেহেতু পরীক্ষায় বহুনির্বাচনি আর লিখিত দুটোই থাকছে এবং প্রত্যেকটার জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ তাই সময়ের মধ্যে শেষ করার অভ্যাসটা করতে হবে। আর এ জন্য দরকার সময় ধরে অনুশীলন। নেগেটিভ মার্কিং এর বিষয়টিও অনুশীলনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে ভুলো না যেনো। 

৫. নার্ভাস হওয়া যাবে না

পরীক্ষার মধ্যে কিছুটা নার্ভাসনেস কাজ করবে এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু অস্বাভাবিক হল অতিরিক্ত নার্ভাস হয়ে জানা জিনিসও ভুল করে আসা! এরকম মানুষের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। অনেকে ভর্তি পরীক্ষাটাকে ‘দেড় ঘণ্টার খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেন। কথাটা ভুল নয়। ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষা দিতে হবে। যেহেতু প্রতিযোগিতা অনেক বেশি, সামান্য একটু ভুলও তোমাকে নিয়ে যেতে পারে তোমার স্বপ্ন থেকে অনেক অনেক দূরে।

অভ্যাসে আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠে
আত্মবিশ্বাস রাখো নিজের ওপর। এই উচ্ছ্বাসের অংশ হতে পারো তুমিও; Image Source: AskMen

সবশেষে, নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস রাখো এবং নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা তথা তোমার স্বপ্নজয়ের যুদ্ধে অবশ্যই তুমি সফল হবে।

 

আপনার কমেন্ট লিখুন