লাইফ হ্যাকস, জীবনযাত্রা

স্কুল পেরিয়ে কলেজে : ফার্স্ট ইয়ারে যে কাজ গুলো না করলেই নয়


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

হাতে খড়ির পর ১০ বছরের স্কুল জীবন শেষে যখন কলেজে ওঠা হয় তখন অনেকের চোখ জ্বলজ্বল করে নতুন নতুন স্বপ্নে। আবার একই সাথে অনেকের চোখে কাঁদোকাঁদো ভাব দেখা যায়, কারণ তারা এত এত বইয়ের মাঝে কি করে উঠবে কুলকিনারা খুঁজে পায়না! অনেকের হঠাৎ করে নতুন অবস্থাতে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়ে যায় খুব। এসব সমস্যার সমাধান করে উঠে বসতে বসতেই ফার্স্ট ইয়ারের অর্ধেক শেষ হয়ে যায়।

মহা মুশকিল!

এত ঝামেলার মাঝে দিশেহারা না হয়ে কি করে ফার্স্ট ইয়ারকে আরও প্রোডাক্টিভ ভাবে ব্যবহার করবে চলো তা দেখে নেয়া যাক।

Set a goal!

স্কুল শেষে যেমন কলেজে উঠলে তেমন কলেজ শেষে নিজেকে কোথায় দেখতে চাও সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলো শুরুতেই। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অথবা কোন বিষয়ে পড়ালেখা করতে চাও সেটা ফার্স্ট ইয়ারেই পরিষ্কার করে রাখলে সে অনুযায়ী সামনে এগিয়া যাওয়া সহজ হবে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

ধরে নাও, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক-ইউনিটে পড়ার লক্ষ্য তোমার আছে। তাহলে কোন কোন বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হবে আর প্রশ্নের প্যাটার্ন কেমন হবে সে বিষয়ে একটু খোঁজ নিয়ে রাখো। তাহলে সে অনুযায়ী সারাবছর ধরে ভালো মত পড়ালেখা চালানো যাবে। আবার যদি তুমি ফার্মাসিতে পড়তে ইচ্ছুক হও তাহলে ভর্তি পরীক্ষাতে বায়োলজি অ্যান্সার করা বাধ্যতামূলক এই তথ্যটা জেনে রাখা জরুরি। তাহলে কলেজ লাইফ থেকেই বায়োলজিকে গুরুত্ব দিয়ে পড়তে পারবে।

এমনই তোমার যে কোন লক্ষ্যকে নির্ধারণ করে তার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে রাখো। তাহলে দেখবে তুমি সবার থেকে এক ধাপ এগিয়ে আছো সব সময়!

পড়ালেখা হোক শুরু থেকেই!

কলেজে উঠে সবারই একটু প্রথম প্রথম “চিল” করে নিতে ইচ্ছে করে। অর্থাৎ “নতুন নতুন একটু দেখি কেমন যাচ্ছে পড়া শোনা, একটা পরীক্ষা যাক, সামনে থেকে ভালোমত দেখবো” এই ধরণের চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে প্রতিনিয়ত।

কখনোই এমন করাটা উচিত না। প্রথম দিন থেকেই পড়ালেখাকে গুরুত্ব দিয়ে অন্য কাজ গুলো করা উচিত। ছোট বড় সব পরীক্ষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে না পড়লে পরবর্তীতে সমস্যায় পড়তে হয়। পড়ালেখা করার বেলায় কলেজ জীবনে অন্তত কোন ছাড় দিও না।


ক্লাবে জয়েন করো!

কলেজের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ক্লাব গুলো সম্পর্কে খোঁজ নেয়া শুরু করো। ফটোগ্রাফি ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, আর্টস ক্লাব, সাইন্স ক্লাব, বিজনেস ক্লাব ইত্যাদি নানান ধরণের ক্লাবের কর্মশালা অথবা মিটিং গুলোতে নিজেকে উপস্থাপন করো। তোমার স্কিল সবার সাথে শেয়ার করো আর অন্যদের কাছ থেকে নানান বিষয়ে শিখতে থাকো।

 
জেনে নাও জীবন চালানোর সহজ পদ্ধতি!
 
 

পড়ালেখার পাশাপাশি নানা ধরণের এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিসে অংশগ্রহণ করলে অনেক মানুষের সাথে পরিচিত হতে পারবে তুমি। এতে করে তোমার কমিউনিকেশন স্কিল বাড়তে থাকবে। আর তুমিও নতুন নতুন বন্ধু খুঁজে পাবে যাদের কাছ থেকে শেখা যায় অনেক কিছু। আর যদি তোমার কাজ ভালো হয় এবং ক্লাবের বড় কোন দায়িত্বে যেমন প্রেসিডেন্ট কিংবা ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তোমাকে নেয়া হয় তাহলে তো কথাই নেই! পরবর্তীতে তোমার এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে জীবনের নানান ক্ষেত্রে।

ল্যাব মিস দিও না!

সাইন্সের ছাত্র দের জন্যে প্র‍্যাক্টিকাল অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। নবম-দশম শ্রেণির ব্যবহারিক অংশের সাথে ইন্টারমিডিয়েট লেভেলের ব্যবহারিকের একটা বড় পার্থক্য রয়েছে। এখানে প্রায় প্রতিটা বিষয়ের দুইটি করে পত্রেই একটা বড় পরিমানে নম্বর আসে ব্যবহারিক থেকে। তাই যখন কলেজে প্র‍্যাক্টিকাল ক্লাস করানো হয় তোমাদের কাছে অনুরোধ, কখনো সে ক্লাসগুলো মিস দিওনা!

সাধারণ ক্লাসে যখন তুমি অনুপস্থিত থাকবে তখন সেই ক্লাসের পড়া বন্ধুদের কাছ থেকে তুলে নিয়ে বুঝে নেয়া যায়। কিন্তু যখন ল্যাব মিস দিবে সেটা তুলে নিলেও বোঝা যায়না কখনোই। জীব বিজ্ঞানের গাছের মূল-কান্ড কিংবা তেলাপোকা কাঁটা, রসায়নে টাইট্রেশন কিংবা লবণ শনাক্তকরণ এমন সব সাবজেক্টেই অনেক টপিক আছে যেগুলো হাতে কলমে কাজ না করে বন্ধুর খাতা দেখে লিখে নিয়ে বোঝা যায়না। এসব ক্ষেত্রে যন্ত্র ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা সব থেকে বেশি জরুরি। আর তুমি যদি এসব গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক এর দিনে কলেজ মিস করো তাহলে তোমাকে বড় ধরণের সমস্যাতে পড়তে হবে বোর্ড পরীক্ষার সময়। কলেজ খুব কম সময়ই ক্লাস গুলো রিপিট করে থাকে। তাই যদি বড় ধরণের সমস্যা না থাকে তাহলে ব্যবহারিক ক্লাস মিস দিওনা কোন দিনই।

বুঝে বুঝে পড়ো!

কলেজ জীবন শেষেই পাড়ি জমাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে। স্বপ্নের কলেজের পর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে হলে জয় করতে হবে ভর্তিযুদ্ধ। আর তা জন্যই কলেজ জীবন থেকেই বুঝে বুঝে সব বিষয় পড়ার কোন বিকল্প নেই।

শুধু মাত্র কলেজের পরীক্ষায় পাশ নম্বর তোলার ধান্ধায় বুঁদ হয়ে থাকো যারা, তারা হয়তো নির্দিষ্ট টপিক মুখস্থ করে পার পেয়ে যাবে। তবে ভর্তি পরীক্ষাকে কখনোই এভাবে পার করা যাবে না। সকল বিষয় সম্পর্কে ভালো প্রস্তুতি আর সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের জন্যে প্রস্তুতি নিতে থাকো কলেজ জীবনের শুরু থেকেই। যখন যা পড়বে মুখস্থ না করে বুঝে পড়ো। যেন কলেজের পরীক্ষাও ভালো হয় আর অ্যাডমিশন এর সময় হিমশিম খেতে না হয়।

দিনের পড়া দিনে শেষ করো

“ইন্টারমিডিয়েট লেভেলে সময় অনেক কম, সিলেবাস অনেক বড়” এই কথাটা কলেজে ওঠার পর নিশ্চয়ই অনেক জনের কাছে শুনেছো। শুনে মোটেও বিরক্ত হয়ো না, কারণ এই কথাটা শতভাগ সত্য। কলেজ জীবনে যদি তুমি সময়কে সঠিক ভাবে ব্যবহার না করতে পারো তাহলে দিন শেষে সিলেবাস শেষ করতে যেয়ে রীতিমত চোখে শর্ষে ফুল দেখা লাগতে পারে। এত বড় সিলেবাস দেখে আমি কখনোই তোমাদের ভয় পেতে বলছি না। বলছি সময় ব্যবহারে সতর্ক হতে।

প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করার মধ্য দিয়ে কলেজের পরীক্ষা সহ এইচএসসি পরীক্ষাতে সাফল্য পাওয়া সম্ভব। কিন্তু পড়া জমিয়ে রেখে পরীক্ষার আগে শেষ করতে গেলে তোমাকে ভয়ংকর চাপের মুখোমুখি হতে হবে। সেই চাপ মোকাবেলা করে তুমি পাশ করার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা পার করতে পারলেও বাদ দিয়ে চলে যেতে হবে অনেক কিছু। সেই বাদ রাখা পড়া এইচএসসির আগে শেষ করতে পারা তোমার জন্যে বড় রকমের চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে। তাই সব থেকে ভালো কৌশল প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করে পরীক্ষার আগে রিভিশন দিয়ে যাওয়া।

গণিতকে এড়িয়ে যেও না!

স্কুল জীবনে যদি তোমার গণিতে দুর্বলতা থেকে থাকে তাহলে এখনই সময় সেই দুর্বলতাকে জয় করার। নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে গণিতকে জয় করার চেষ্টা শুরু করে দাও এখনই।

গণিতের প্রথম পত্রে ক্যালকুলাসকে অনেকে ভয় হিসেবে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে শুধু অন্তরীকরণ করে বাদ দিয়ে দেয় যোগজীকরণ। এটা একটা ভয়ংকর সিদ্ধান্ত! কোন ভাবেই এমন চিন্তা করো না যে একটা শিখে বা একটা করে তুমি পার পেয়ে যাবে। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষায় যেখানে গণিত নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, সেখানে ক্যালকুলাস থেকে অবশ্যই একটা বড় সংখ্যক নম্বর বরাদ্দ থাকে। তাই ক্যালকুলাস কেনো কোন অধ্যায়ই বাদ দিয়ে পড়ো না। শিখে রাখো সব অধ্যায়। আস্তে আস্তে শেষ করে নিলে পরবর্তীতে লাভবান হবে তুমিই।

ভালো সঙ্গ নির্বাচন করো

নতুন কলেজে উঠে অনেক নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হবে তোমার। অনেক হয়তো তোমার পরিচিত স্কুলের ক্লাসমেট। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই হবে তোমার কাছে সম্পূর্ণ নতুন। আর সে সব নতুনদের থেকে নতুন বন্ধু বানানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থেকো সব সময়। কারণ কলেজ জীবনে নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধু নির্বাচন করার সময় যদি তুমি অসৎ সঙ্গে জড়িয়ে পড়ো তাহলে ভয়ংকর বিপদে পড়তে হবে তোমাকে।


সঙ্গ নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুরুতে সবার মন মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করো। তোমার পরিচিত স্কুল জীবনের ক্লাসমেট থাকলে তাকে নিয়ে নিজের একটা সার্কেল তৈরি করে নিতে পারবে খুব সহজেই।

স্কুল আর কলেজের মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য সময়ে আর সিলেবাসে। তাই আর বসে না থেকে ফার্স্ট ইয়ারকে কাজে লাগানো শুরু করে দাও আজকে থেকেই!


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]