নতুন বছর, নতুন শুরু

Nishat is a confused soul. That she loves writing is the only thing she is sure about. Currently studying Applied Mathematics in University of Dhaka.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

তোমরা অনেকে নিশ্চয়ই ইন্টারনেটে সেই meme-টি দেখেছ? 

“হাত তুলুন যদি আপনিও বছরের ছয়টি মাস সাফল্যের সঙ্গে নষ্ট করে থাকেন!”

অনেকে সেখানে গিয়ে কমেন্টও করেছ। কিন্তু, একবার ভেবে দেখো তো, ছয় মাস নষ্ট করাটা নিয়ে কি তুমি খুশি? শুধু ছয় মাস নয়, আমরা অনেকেই ভাবি, পুরো বছরটাই চলে গেল, অথচ কাজের কাজ কিছুই হলো না!

দেখতে দেখতে চলে গেলো ২০১৭ সাল, কিন্তু তুমি কি তোমার পুরো বছরটি নিয়ে সন্তুষ্ট? না হয়ে থাকলে, কেন নও? খুশি হতে চাইলে কী করা উচিত ছিল? কী করা উচিত হয় নি? এমন প্রশ্নগুলোর উত্তর আমরা সবাই মিলে জানার চেষ্টা করব আজ।

প্রথমেই বলি, যা চলে গেছে তা আর ফিরে আসবে না। ফিরে আসবে না চলে যাওয়া বছরটাও। তাই সামনের করণীয়গুলো নিয়ে ভাবাটাই জ্ঞানীর কাজ হবে। করণীয় ঠিক করতে হলে আগে জানতে হবে কেন চলে যাওয়া বছরটি তোমার মনমত হয়নি। এক টুকরো সাদা কাগজ নিয়ে বসে পড়ো এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখে ফেলো:

    • ২০১৭ তে তোমার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন কী ছিল?

 

    • বছরটিতে তোমার সবচেয়ে ভালো স্মৃতি কোনটি?

 

    • এ বছর তোমার সবচেয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা কী ছিল?

 

    • পুরো বছরে তোমার পড়া সবচেয়ে ভাল বই এবং তোমার দেখা সবচেয়ে ভাল মুভি কোনটি?

 

    • ২০১৭ তে তোমার সবেচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?

 

    • নতুন কী স্কিল শিখলে এ বছরটিতে?

 

    • পুরো বছরে কোথায় কোথায় বেড়াতে গিয়েছ?

 

    • ২০১৭ তে তোমার উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতাগুলো কী?

 

    • পুরো বছরে তোমার কোন কাজটির জন্যে নিজেকে বাহবা দিতে ইচ্ছে হয়?

 

  • বছরের বেশির ভাগ দিনে তোমার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল?

এই দশটি প্রশ্নের উত্তর কাগজে লিখে ফেললেই দেখবে তুমি তোমার পুরো বছরের উপর খুব ভালো একটা ধারণা পেয়ে যাচ্ছ। তোমার সাফল্য-ব্যর্থতা এবং এগুলোর পেছনের কারণগুলো নিয়ে একটু ভাবলেই তুমি নিজের শক্তি এবং দূর্বলতার জায়গাগুলো ধরে ফেলতে পারবে। এবার সেগুলোকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবার পালা। কীভাবে? চলো দেখে নেই।

গুছিয়ে পরিকল্পনা করো:

Alan Lakein এর একটি বিখ্যাত উক্তি হল,

“’Failing to plan is planning to fail” 

অর্থাৎ তুমি পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হচ্ছ মানে তুমি আসলে ব্যর্থ হবার পরিকল্পনা করছো। তাই প্রথমেই পরিকল্পনা অর্থাৎ প্ল্যানিংটা জরুরি।

ভেবে নাও, ২০১৮ শেষে তুমি নিজেকে কোন অবস্থানে দেখতে চাও, সেজন্য তোমার করণীয় কী? পরিকল্পনা অবশ্যই টু দ্য পয়েন্ট হতে হবে।

যেমন, তুমি চাচ্ছ শারীরিকভাবে ফিট হতে। তুমি ভাবলে, তুমি নিয়মিত ব্যায়াম করবে। কিন্তু ৩-৪ দিন পরেই দেখলে আর করা হচ্ছে না। তাই পরিকল্পনাটা হতে হবে এরকম, “আমি রোজ সকালে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করব। প্রতিদিন ব্যায়াম করার পর আমি ক্যালেণ্ডারে সেদিনের তারিখটা লাল কালিতে কেটে দেব। যদি সপ্তাহে দু’দিনের বেশি ব্যায়াম বাদ যায় তাহলে আমি উইকএণ্ডে কাচ্চি বিরিয়ানী খেতে যেতে পারব না”।

জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করো:

কোন বন্ধু অথবা পরিবারের কোন সদস্যের সাথে তোমার লক্ষ্যগুলো নিয়ে আলাপ করো। সপ্তাহ শেষে তোমার পুরো সপ্তাহের অগ্রগতি, সমস্যা কিংবা অর্জনগুলো নিয়ে তাকে আপডেট দাও। দেখবে, তাকে আপডেট দেয়ার জন্যে হলেও তুমি তোমার পরিকল্পনায় লেগে থাকতে পারছো! আর যাই হোক, প্রিয়জনের কাছে সুপারহিরো হতে কে না চায়?

হ্যাবিট ট্র্যাকার বানাও:

৩-৪ দিন করার পরে তুমি তোমার অনেক প্ল্যানে স্থির থাকতে পারো না। কেন? কারণ, Motivations get you moving and habits get you there! অবশ্যই কাজটি তোমার অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। ভেবে দেখ তুমি নতুন বছরে কী কী অভ্যাস গড়ে তুলতে চাও, কী কী বদ-অভ্যাস বাদ দিতে চাও। এবার একটা ট্র্যাকার বানিয়ে ফেলো।

ধরো তুমি চাচ্ছো, রোজ ৫ মিনিট মেডিটেশনের অভ্যাস করবে। তাহলে প্রতিদিন মেডিটেশন শেষে মেডিটেশনের ঘরে একটা টিক দিয়ে দাও। দেখবে, টিক দেয়ার জন্যে হলেও কাজটা করছো তুমি। ছবির হ্যাবিট ট্র্যাকারটা একটা উদাহরণ, তুমি তোমার নিজের মত বানিয়ে নিতে পারো!

ছবিঃ tinyrayofsunshine.com ব্লগ

বুলেট জার্নাল ব্যবহার করো:

জার্নাল হলো সোজা বাংলায় যাকে আমরা ডায়েরি বলি। তবে ডায়েরির সাথে বুলেট জার্নালের একটু পার্থক্য আছে। ডায়েরিতে আমরা লিখি সারাদিন কী কী হলো বা মনের কথাগুলো। অন্যদিকে বুলেট জার্নালে থাকে কর্ম-পরিকল্পনা, টু-ডু লিস্ট, জীবন সম্পর্কে ভিশন বা লক্ষ্যগুলো।

বুলেট জার্নালে ইনফোগ্রাফি কিংবা লিস্টের আকারে তুমি তোমার প্রতিদিনের কাজগুলোকে খুব গুছিয়ে ট্র্যাক করতে পারবে। সপ্তাহ বা মাস শেষে নিজেই নিজের অগ্রগতি দেখতে পাবে। ইউটিউব বা গুগলে একটু খোঁজ করলেই তুমি পেয়ে যাবে বুলেট জার্নালিং এর দারুণ সব আইডিয়া!

অন্তত একটা স্কিল শেখার চেষ্টা করো:

পুরো পৃথিবীটা কী দারুণ গতিতে প্রতিদিন এগিয়ে যাচ্ছে, তাই না? তাহলে তুমি কেন থেমে থাকবে? অযথা সময় নষ্ট না করে কাজের কোন স্কিল শিখে নাও। গ্রীষ্মের ছুটিতে সাঁতার শিখে নেয়ার প্ল্যান করো। অথবা নিজেকে প্রমিস করো, ২০১৮ সাল শেষে তুমি হবে একজন এক্সপার্ট গ্রাফিক ডিজাইনার!

শিখে নিতে পারো মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট কিংবা এক্সেলের কাজ। বছর শেষ হওয়ার পর দেখবে তুমি কত কী শিখে ফেলেছো!

তৈরি করো নিজের উইশলিস্ট:

শুধু কি স্কিলের দিক দিয়েই সমৃদ্ধ হবে? মনের খোরাক জোগাতে হবে না? এখনই কাগজ কলম নিয়ে লিখে ফেলো, তোমার মনের খুব সাধারণ ইচ্ছেগুলো ইচ্ছেগুলো।

আমার একটা ইচ্ছের কথা বলি। বই পড়া আমার প্রিয় অভ্যাস। আমার ইচ্ছে আমি একদিন কোন একটা লাইব্রেরীর বইয়ের পৃষ্ঠার ফাঁকে একটা চিরকুটে লিখে রেখে আসব, বইটা পড়ে আমার কেমন অনুভূতি হয়েছিল।

২০১৮-র প্রত্যেকটা দিনে তুমি বাক্সে একটা করে চিরকুট রাখবে।

একদিন হয়ত অন্য কেউ বইটা পড়তে গিয়ে চিরকুটটা পেয়ে অবাক হবে! খুব অদ্ভুত ইচ্ছে, তাইনা? তোমার অদ্ভুত অথচ সাধারণ ইচ্ছেগুলো লিখে ফেলো এক জায়গায়। তারপর ধীরে ধীরে সেগুলো পূরণ করার চেষ্টা করো।

বানিয়ে নাও একটা মন-ভালো বাক্স:

মা’র কাছ থেকে খালি একটা জেলির বয়াম চেয়ে নাও। অন্য কোন বয়াম বা বাক্স হলেও চলবে। এবার ২০১৮-র প্রত্যেকটা দিনে তুমি বাক্সে একটা করে চিরকুট রাখবে। চিরকুটে লিখবে, আজকে সারাদিনের কোন ঘটনাটির জন্যে তুমি কৃতজ্ঞ? অথবা কোন ঘটনায় তুমি মিষ্টি করে হেসেছো? বছর শেষে দেখবে ৩৬৫টা মন ভালো করার টোটকা জমা হয়েছে তোমার। দারুণ না?

লক্ষ্যগুলোকে চোখের সামনে রাখো:

তোমার লক্ষ্যগুলোকে কাগজে লিখে পোস্টারের মত তৈরি করো। এবার সেগুলোকে দেয়ালে সেঁটে দাও। সকাল-বিকাল সবসময় তুমি যখনই পোস্টারগুলো দেখবে, তোমার নিজের লক্ষ্যগুলোকে মনে পড়বে। আলসেমি দূর হবে নিমিষেই!

আমাদের আশা, ২০১৭’র চেয়ে ২০১৮ একটি সফল বছর হবে। আমরা সবাই আগের চেয়ে বেশি পড়বো, বেশি শিখবো, বেশি জানবো, বেশি সমৃদ্ধ হবো এবং বেশি বিনয়ী হব। কী? পুরোটা পড়ে মনে হচ্ছে না, এখনই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ি? এখনই শুরু করে দাও। কারণ,

If not now, when?

তোমাদের সবার জন্যে শুভকামনা! নতুন বছর শুভ হোক সবার।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.