পড়ালেখার বাইরে যে ১০টি বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে করেছে স্বপ্নের ক্যাম্পাস

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়! নামটি শুনলেই যেন কল্পনায় ভেসে ওঠে এক রঙিন জীবনের হাতছানি! লালচে আভার কার্জন হল, ঐতিহাসিক রাজু ভাস্কর্য, প্রাণোচ্ছল আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু টিএসসি, রাজনীতির সূতিকাগার মধুর ক্যান্টিন, স্বাধীনতা সংগ্রামের বহু উত্থান-পতনের সাক্ষী বটতলা সহ আরো কত শত স্বপ্নিল স্থানের খণ্ডচিত্র এসে জমা হয় মানসপটে! হাসি-আড্ডা-গানে মুখরিত এই প্রাণের ক্যাম্পাসে পদচারণার স্বপ্ন থাকে সবারই।

স্বপ্ন সবারই থাকে, তবে তা বাস্তবায়ন করতে পারে অল্প কয়েকজনই! নিজের স্বপ্ন ছুঁয়ে দেয়ার অদম্য বাসনা থেকেই সব বাঁধা ডিঙিয়ে একসময় জায়গা করে নেয় এই ক্যাম্পাসে, স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন তোমারও কি নেই? নিশ্চয়ই আছে, তাই না? স্বপ্নের এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কতটুকু জানো তুমি? টুকিটাকি কত শত মজার ঘটনা ঘটে চলে এখানকার প্রাত্যহিক জীবনে, কত মজার ইতিহাসের সাক্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয়, তা কি জানো?

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ। গ্রুপে জয়েন করুন!

চলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে একটু ঘুরে আসা যাক!

১. ২০ টাকায় এক সমুদ্র সুখ!

কোনো এক রোদে ঝলসানো দুপুরে তুমি ফুটপাত ধরে হেঁটে চলেছো। খিদের চোটে পেটে একসাথে বাইশটা ছুঁচো ফুটবল খেলছে! একদিকে চারপাশে দামি দামি রেস্তোরাঁয় থরে থরে সাজানো চাইনিজ-থাই-ইন্ডিয়ান-মোগলাই খাবারের রকমারি বাহার, অন্যদিকে তোমার মানিব্যাগে স্রেফ কয়েকটা ময়লা নোট আর সাথে দুটো মাছি মরে পড়ে আছে? তুমি ভেবেই পাচ্ছো না যে এ জীবন রেখে আর কী করবে? একসাথে চল্লিশটা ঘুমের ওষুধ চুরি করতে ফার্মেসির দিকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়ে চলেছো?

থামো থামো! ২০ টাকায় যেখানে ভরপেট খাবার খাওয়া যায়, সেখানে তোমার চিন্তা কিসের!

শুনেই কেমন যেন লাগছে, তাই না? ২০ টাকায় ভরপেট খাবার, কীভাবে সম্ভব?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না এলে আসলেই কারো বিশ্বাস হবে না, মাত্র ২০ টাকাতে পেট ভরে খাওয়া যায়! টি.এস.সি এবং ডাকসু, এই দুই জায়গায় মাত্র ২০ টাকায় পাওয়া যায় ভাত,এক টুকরো মুরগির মাংস, আলু ভর্তা আর ডাল! ও হ্যাঁ, এখানে ভাত আর ডাল কিন্তু ‘আনলিমিটেড’, যত খুশি খাও! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই তাই মজা করে বলে, “বেশি করে ডাল খাও, পানির উপর চাপ কমাও!”

এমন কত ঠাট্টা, রসিকতা, হাসি-কান্নার গল্প জমে আছে টিএসসির এই ২০ টাকার খাবারের সঙ্গে। ২০ টাকায় কেনা এই ‘সুখ’ আসলে অমূল্য।

২. শায়েস্তা খাঁর চা!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মানেই পড়াশোনার পাশাপাশি হাসি-আড্ডা-গানে মুখরিত ক্যাম্পাস। আর এসবের সাথে পাল্লা দিয়ে চলে জম্পেশ খাওয়াদাওয়া! খাবারের নানা রকম ব্যবস্থা নিয়ে সবসময় তৈরি ছোট বড় অসংখ্য দোকান। এর মধ্যে অবশ্যই যে আইটেমটা থাকা চাই তা হচ্ছে ধোঁয়া ওঠা গরম গরম লাল চা!

 এক কাপ গরম পানি, চা-পাতা, চিনি আর এক টুকরো লেবু। যেকোনো দোকানে এই চা প্রতি কাপ ৫ থেকে ১০ টাকা। তবে এই চা এক টাকায়ও পাওয়া যায়!

খেতে চাইলে যেতে হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টি.এস.সি. ক্যাফেটেরিয়ায়। চা এখানে স্বাদের জন্য যতটা না বিখ্যাত, তার চেয়েও বেশি বিখ্যাত দামের জন্য।

টিএসসি ছাড়াও ডাকসু ভবনের নিচতলার ক্যাফেটেরিয়া ও বিজ্ঞান ক্যাফেটেরিয়ায় এই এক টাকার চা পাওয়া যায়।চায়ের উপাদান ছাড়া বাকি সব খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহন করে বলেই এখনো এটি চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।

৩. জীবনের গল্প, গল্পের জীবন

টিএসসি! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততম এলাকা বোধহয় এটিই। স্নিগ্ধ সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত,  টিএসসির যেন বিশ্রাম নেবার ফুরসত নেই। তার  প্রাঙ্গণ সবসময় মুখরিত থাকে গল্প, গান আর আড্ডার ফুলঝুরিতে।

চল স্বপ্ন ছুঁই!

১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)। ক্যাম্পাসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সেতুবন্ধন এখানেই গড়ে ওঠে। এক টাকার লাল চা আর তিন টাকা সিঙ্গারা খেতে খেতে বন্ধুত্বের গল্পগুলো জমে ওঠে শিক্ষার্থীদের। কারো মুখ ভার করে থাকার যেন এখানে অধিকার নেই। আড্ডাবাজি আর আনন্দ বিনোদনে জমজমাট থাকে টিএসসি। দিনভর চলে বন্ধুর জন্মদিন পালন। চর্চা হয় দর্শন, শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতির। চলে যুক্তি-তর্ক আর মুক্তবুদ্ধির চর্চা। সারা বছর ধরে চলতে থাকে বিভিন্ন শিল্পের প্রদর্শনী, চলে বিভিন্ন জার্নালের প্রকাশনী। তাই তো টিএসসির প্রতিটা ইঞ্চি হয়ে ওঠে ভীষণ প্রাণবন্ত, প্রতিটা মুহূর্তই জমে ওঠে জীবনের গল্পে; গল্পে গল্পে রচিত হয় যাপিত জীবনের এক অনন্য কথামালা।

৪. লাল রঙা স্বপ্ন

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্জন হলের প্রবেশপথের উল্টোপাশে চোখ মেলে তাকাতেই স্বাগত জানায় লালরঙা সিংগেল ও ডাবল ডেকার বাসের সারি।মানুষের মতই বাসগুলোর রয়েছে আলাদা পরিচয়; উল্লাস, ক্ষণিকা, বৈশাখী, চৈতালি, তরঙ্গ, হেমন্ত, কিঞ্চিৎ সহ নানা বাহারি নামের নেমপ্লেট ঝোলানো বাসগুলোর গায়ে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই নাম গুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নয়, বরং শিক্ষার্থীদেরই দেয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গর্বের অবিচ্ছেদ্য এক অনুষঙ্গ এই লাল বাহন। আবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে ক্যাম্পাস জীবনের যোগসূত্র তৈরির প্রথম মাধ্যম যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, তেমনি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে ক্যাম্পাসের প্রথম স্মৃতিময় আখ্যানের পুরোটা জুড়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল বাস। চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এই বাস ঘিরে তৈরি হয় শত স্মৃতি, গড়ে ওঠে কত সম্পর্ক, তৈরি হয় নতুন বন্ধুত্ব।
চৌকো বাসগুলোর ভেতরে গড়ে ওঠে বৈচিত্র্যময় ‘বাস-কালচার’। প্রতিটি বাসেই গড়ে তোলা হয় বিভিন্ন মেয়াদের কমিটি। বার্ষিক বনভোজন, নবীনবরণ, ইফতার পার্টি, এমনকি বাসের কোন শিক্ষার্থীর জন্য রক্ত বা অর্থ সাহায্যের প্রয়োজনেও সর্বদা সক্রিয় এসব কমিটি।
সারাদিনের ক্লাস শেষে ক্লান্তি নিয়ে ঘরে ফেরার পথে বছরের পর বছর এই বাসই হয়ে থাকে নতুন স্বপ্নের অনুপ্রেরণা, সাক্ষী হয়ে থাকে কত-শত গল্পের। কোনো সাধারণ মানুষের কাছে এই বাসগুলো হয়তো কেবলই শিক্ষার্থী বহনকারী লালরঙা বাহন, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এই বাস একান্তই আপন, অনুপ্রেরণার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম!

৫. না দিয়া উধাও!

 মধুর ক্যান্টিন! ডাকসুর পাশেই গড়ে ওঠা এ ক্যান্টিন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই মধুর ক্যান্টিনের সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হাতেখড়ির গল্প। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত, সব আন্দোলনের সঙ্গেই মধুর ক্যান্টিনের নাম মিশে আছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মধুসূদন দে প্রতিষ্ঠা করেন মধুর ক্যান্টিন। ক্যান্টিনের পাশেই ডাকসু কার্যক্রম চলতো বলে ছাত্ররাজনীতির সূতিকাগার হয়ে ওঠে মধুর ক্যান্টিন। মধুদার বন্ধুসুলভ আচরণ ও সততার জন্য ছাত্রদের মাঝে তিনি বেশ জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন।

মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রনেতা ও কর্মীদের ভীড় লেগেই থাকতো, আসতেন উঠতি খেলোয়াড়, কবি-সাহিত্যিক-চিত্রশিল্পীরা। কেউ দাম মেটাতেন তৎক্ষণাৎ, কেউ বা বাকির খাতায় লিখে রাখতে বলতেন। মধুদার সেই বাকির খাতার একটা মজার নামও ছিল, ‘না দিয়া উধাও’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, রাশেদ খান মেনন, শামসুর রাহমান, কবি রফিক আজাদসহ অনেক কৃতী ব্যক্তিরই নাম ছিল সে খাতায়!

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণে শহিদ হন মধুদা।

মধুর ক্যান্টিন বর্তমানে দেখাশোনা করেন মধুদার বড় ছেলে অরুণ কুমার দে। আগের মতো সেই জমজমাট অবস্থা না থাকলেও, মধুর ক্যান্টিন এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে তার সুদিনের সাক্ষী হয়ে। মধুর ক্যান্টিনের সন্দেশ, রসগোল্লা আর জিলাপি খেতে কিন্তু মোটেও মন্দ নয়!

৬. নিশাচরদের আড্ডাখানা 

 ঘড়ির কাঁটা রাত বারোটা ছুঁই ছুঁই। সারাদিনের কোলাহলপূর্ণ ঢাকা শহর শান্ত হয়ে আসছে। তবে শহুরে জীবনের চিরায়ত এ নিয়মের উল্টো চিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।

রাতে ঢাবি ক্যাম্পাসের অধিকাংশ চত্বরে জমে ওঠে ছোট ছোট আড্ডা। অনেক রাত পর্যন্ত গান আর আড্ডায় প্রাণবন্ত থাকে ক্যাম্পাস। বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে ক্যাম্পাসে সারারাত ঘুরে বেড়ায়।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের আড্ডাটা বেশি জমে রাতে। অনেকে আবার বাইরে থেকেও ক্যাম্পাসের বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে আসেন। গিটারে ঝংকার ওঠে, মুহূর্তে জমে যায় রাতের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস!

৭. দিবস কাটে, বিবশ হয়ে, তোমার চোখে চেয়ে!

 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব বিভিন্ন দিবস পালিত হয়। ১ জুলাই পালিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এছাড়াও বিভিন্ন হল ভিত্তিক দিবস, যেমন ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলের শোক দিবস, ২০-২৩ আগস্ট সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে কালো দিবস ইত্যাদি পালিত হয়। এসব দিবসের ভাবগাম্ভীর্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

৮. অন্ধকারের বড্ড অভাব!

 বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সেজে ওঠে বর্ণিল সাজে। মরিচ বাতির আলোতে সেজে ওঠে ভবনগুলো; যে আলো চোখ ঝলসে না দিয়ে বৃক্ষের শাখা-পল্লবের সাথে মেতে ওঠে আলো-আঁধারি খেলায়।

এসব দিবসে ছাত্র-শিক্ষক ছাড়াও নানা বয়স ও পেশার মানুষের সমাগম হয় এই ক্যাম্পাসে। পুরো ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে জমজমাট। পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস সহ এরকম দিনগুলোতে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য হলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নটা কোনক্রমেই হাতছাড়া হতে দেয়া উচিত না!

৯. পটে আঁকা ছবি

কার্টেসি: কাওসার চৌধুরী

 ধূলি-ধূসরিত এ ইট-কাঠ-পাথরের জাদুর শহরে যেন এক রাশ শান্তির আবেশ নিয়ে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। এ যেন সত্যিই এক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আধার। আর এর মূলে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য বৃক্ষ, পুকুর আর ফুলের বাগান। রাজধানীর কেন্দ্রে থেকেও ঢাবি ক্যাম্পাসে যে পরিমাণ গাছপালা আছে তা সত্যিই বিস্ময়কর। কার্জন হল, কলাভবন, হাকিম চত্বর, শ্যাডো, বিজনেস স্টাডিজ ভবন, উপাচার্য ভবন ; সবখানেই সবুজের সমারোহ।

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে প্রাণের ক্যাম্পাসে এসে চা খেতে খেতে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলে যে কারো মনে নিশ্চিত প্রশান্তি নেমে আসবে।

১০. মানুষ গড়ার কারখানা

 লাইব্রেরি। পড়াশোনার এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। প্রমথ চৌধুরী বলে গিয়েছিলেন, আমাদের দেশে লাইব্রেরির প্রয়োজনীয়তা হাসপাতালের চেয়েও বেশি।

১৯২১ সালে ঢাকা কলেজের ১৮ হাজার বই নিয়ে এফ সি টার্নারের নিয়ন্ত্রণে যাত্রা শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির। বর্তমানে এর সংখ্যা বই আর জার্নাল মিলিয়ে ৬ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি। দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি আছে ৩০ হাজার। সংরক্ষিত আছে ১৯৫৫ সালের পর থেকে নিত্যকার প্রকাশিত সকল জাতীয় দৈনিক। সাম্প্রতিক জার্নাল, পুরাতন দুষ্প্রাপ্য পাণ্ডুলিপি, হরেক কিসিমের এনসাইক্লোপিডিয়া থরে থরে শোভা পায় তাকে। বাইবেলের কিং জেমস ভার্সন থেকে শুরু করে ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমা, সানজুর “Art of war”- কী নেই এতে! উপরন্তু সংযোজিত হয়েছে আধুনিক সুবিধাদি। সত্যিকার পাঠকের জন্য যেনো সীমাহীন সাম্রাজ্য এটি, যেখানে চেঙ্গিস খানের মতো দাবড়ে বেড়ানো যায়, যখন যেদিকে খুশি!

বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ এ লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করার স্বপ্নটা নিশ্চয়ই তুমি হাতছাড়া করতে চাও না? আশৈশব লালিত এ স্বপ্ন যে ছুঁয়ে দেখতেই হবে!

মনে রেখো, স্বপ্নটা কিন্তু সত্যি করতেই হবে, নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে!


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

 

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Tazrian Alam Ayaz
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?