খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার ৮টি কারণ

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

আমির খানের ‘3 Idiots’ মুভি দেখেনি এমন কি কেউ আছে? যদি উত্তর হয় না, তাহলে নিশ্চয় জানো, পরিবার বা সমাজের খাতিরে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না। নিজের যোগ্যতা,ইন্টারেস্ট অনুযায়ী নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিৎ। সোজাসাপ্টা ভাবে বললে, “Follow your dreams, follow your passion.”

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

নিজের ইন্টারেস্টের গন্ডি যদি আকাশছোঁয়া হয়, যদি হতে চাও শিক্ষক, গবেষক, উকিল বা আর্টিস্ট, অথবা শুধুই স্বপ্নবাজ তাহলে খুলনা বিশ্ববাদ্যালয় তোমার মতই অন্য রকম স্বপ্নবাজদের জন্য আদর্শ।

কেন আদর্শ?

১. রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস :

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একমাত্র খুবির ক্যাম্পাস হলো সকল প্রকার রাজনীতি মুক্ত। এখানে দলে দলে রেষারেষি তো নেইই বরং “খুবি এক পরিবার” এ নীতি বাক্য প্রতিষ্ঠান এ পদার্পণের পরপরই তোমার অন্ত: করে দেয়া হয়। কি অসাধারণ না?

২. সঠিক সময়ে ডিগ্রি পাওয়ার নিশ্চয়তা :

খুবির ক্লাস রুটিন, সিলেবাস, পরীক্ষার সময়সূচি বছরের প্রথমেই নির্ধারণ করে দেয়া হয়। একাডেমিক ক্যালেন্ডার খুবির সংবিধান যার কোনরকম হেরফের হয় না।

সুতরাং ৪ বছরে ডিগ্রি শেষ করার এমন সুযোগ কেন ছাড়তে চাইবে?

৩. অনার্স লেভেলে থিসিসের সুযোগ :

অনার্স লেভেলে জার্নাল প্রকাশ করতে চাও? তবে আগেভাগেই বলি খুবির প্রতিটি ডিসিপ্লিন এ শেষ বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের দেয় থিসিস করার সুযোগ। শুধু তাই না, ল্যাব এবং ক্লাসরুমে হাতে কলমে শেখার অবাধ সুযোগ পায় খুবির শিক্ষার্থীরা।

খুবির ৪টি ক্লাস বিল্ডিং এর ১টি, (সেট স্কুল এবং বিজনেস অ্যাডমিন্সট্রেশন ক্লাস বিল্ডিং) ছবিঃ সিফাত সান

৪. স্বপ্নবাজদের পীঠস্থান:

খুবিতে ব্যবসায় প্রসাশন , আর্কিটেকচার , হিউমান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট , সি.এস.ই, ই.সি.ই, ফার্মেসি এর মত বহুল আকাঙ্ক্ষিত এবং পরিচিত বিষয় যেমন আছে তেমনি প্রিন্ট মেকিং, আইন, ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি, এগ্রো টেকনোলজি, হিস্টোরি এন্ড সিভিলাইজেশন এর মত অন্য ধরণের বিষয় ও আছে পড়ার জন্য।

 
টুইন বেবির রহস্য!
টুইন বেবির নাম জানলেও এটি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা আছে ক'জনের? টুইন বেবি আর তার ডিএনএ এর সাতসতেরো জানতে দেখে নাও এই ভিডিওটি!  

৫. স্বপ্ন যদি হয় বিসিএস:

এই সেকশনটি তাদের জন্য যারা বিসিএস নিয়ে ভাবছো। নির্দ্বিধায় খুবিকে লিস্টের উপরে রেখো। বিসিএস এর জোরদার পড়া চলে প্রতিদিন হলের প্রতিটি রুমে!

Rag Day 2016 ছবিঃ শিঞ্জন

৬. অসাধারণ ফ্যাকাল্টি:

গুরু শিষ্য সম্পর্কের গন্ডি ভেঙ্গে খুবির শিক্ষক, শিক্ষার্থীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও শ্রদ্ধাজনক সম্পর্ক যেন জীবনের অন্য রকম অভিজ্ঞতা।

৭. উৎসবের ক্যাম্পাস খুবি:

ভাবছো খুবি’তে কি শুধুই পড়াশোনা হয়!  হাহাহা! না, খুবি শিক্ষার্থীরা সারা বছর পড়াশোনার সাথে পাল্লা দিয়ে কালচারাল প্রোগ্রামও করে থাকে।

​দিপাবলির রাতে শিক্ষক ছাত্রদের অংশগ্রহণে চলে ফানুস উৎসব।

১২ মাসে ১৩ পার্বণ বলে কথাটা যেন খুবির জন্য যথার্থ বাক্য। ডিসিপ্লিন ভেদে কালচারাল নাইট এর সাথে সাথে পিঠা উৎসব, র‍্যাগ ডে ফেস্ট, কালার ফেস্ট, চৈত্র সংক্রান্তি (ঘুড়ি ওড়ানো উৎসব), বৈশাখি মেলা, দিবস উপলক্ষ্য করে প্রোগ্রাম, খুবি’র কালচারাল সংগঠনের সলো প্রোগ্রামে খুবি ক্যাম্পাস জমজমাট হয়ে থাকে।

ক্যাফে আনপ্লাগড ২০১৭,পড়াশোনার প্যারার মাঝে গানের আসর! ছবিঃ শাহিরুল কবির সামি

৮. শান্তির খাওয়া:

জিরো পয়েন্টের বিখ্যাত ভুরিভোজ একবার খেলে বারবার ফিরে আসবে এর লোভেই। বনলতা সেন যেমন জীবনানন্দ দাশ’কে দিয়েছিল দু দন্ড শান্তি, সারাদিন প্রেজেন্টেশন শেষে, ক্লাস টেস্ট, সেমিস্টার ফাইনাল ব্রেকে জিরো পয়েন্টের মাংস, ডাল, সাদা ভাত, ভর্তা দেয় সেই রকম শান্তি!

যদি চাও নিজেরা পিকনিক করবে তাহলে গল্লামারীর “গরীবের বাজার” আছে বাজেটের সময় সাপোর্ট দিতে!

খুবি ক্যাম্পাসটা ছোট তবে ভীষণ সুন্দর, সবুজে সাজানো ক্যাম্পাস।

খুবিতে যেকোন ডিসিপ্লিন এ ভর্তি হতে চাইলে নিজের পছন্দের স্কুল বা ইন্সটিটিউট এর সাবজেক্টগুলো সম্পর্কে বেসিক ভাল করাই মনোযোগ দাও। আগের বছরের কোশ্চেন দেখলে বুঝতে পারবে, খুবির প্রত্যেক বছর কোশ্চেন প্যাটার্ন চেঞ্জ করে। সুতরাং মেইন বই সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকলে খুবির এডমিশন টেস্ট এ চান্স পাওয়া কোন কঠিন ব্যাপারই নয়।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Maulee Ansari
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?