জীনতত্ত্বঃ তোমার সাথে তোমার বাবা মায়ের এত মিল কেন?

March 18, 2019 ...


জেনেটিক্স বা জীনতত্ত্ব সম্ভবত জীববিজ্ঞানের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পাঠ। একই সাথে এটি কিছুটা বিভ্রান্তিকর, কারণ কখনও কখনও এমন বিষয় নিয়ে কল্পনা করাও কঠিন যা খালি চোখে আমরা দেখতে পারি না। তোমাদের জন্য এখানে জিনিসগুলি খুব সহজ এবং সরল করার চেষ্টা করব আর লিখাটি পড়া শেষে তোমরা নিজেরায় বলতে পারবে কেন তোমাদের সাথে তোমাদের বাবা মায়ের এর মিল।

জেনেটিক্স বা জীনতত্ত্ব কি?

জেনেটিক্স হল বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে জীবিত জিনিসগুলির বৈশিষ্ট্যগুলি কীভাবে এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে সঞ্চালিত হয় এবং কীভাবে তাদের কোষের মধ্যে নানা ধরনের বৈচিত্র বা পরিবর্তন হয় তা নিয়ে গবেষণা করা হয়।

সহজভাবে বলতে গেলে জেনেটিক্স বা জীনতত্ত্ব, কীভাবে জীবন্ত জিনিসগুলি চোখের রঙ, নাক আকৃতি, উচ্চতা এবং এমনকি তাদের পিতামাতার আচরণের বৈশিষ্ট্যগুলি অর্জন করে তা নিয়ে গবেষণা বা আলোচনা করে। জেনেটিক্স শুধু যে মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। এটি গাছপালা এবং অন্যান্য জীবন্ত কোষের জন্যও গুরুত্বপূর্ন।

Bn QanxHZpg12D2 XNlERbVzyCFqJOB80GaNT4dWypd9auT9eB7zD16ubB7AcsldGYfu95W7BoldZvRgaLHBW4FZOEFLdgSE5V2qo14hkEJOrh9CgfYm9SSDQhb7Jrw3aSLinv M

জিন

নিজের একবার দিকে তাকাও। তোমার মত কেউ আছে? না। তুমি অনন্য শারীরিক, মানসিক এবং আবেগ সম্পন্ন একটি ব্যক্তি। তোমার মত কেউ কখনও হয়নি, এবং হবেও না। কিন্তু তুমি তোমার বড় ভাইয বা তোমার মায়ের সাথে অনেক কিছুর মিল নিজের মধ্যে দেখতে পারো। যেমন, একই চুলের রঙ বা চোখের রঙ, বা একই ভাবে হাসা। তোমার ভাই বা মায়ের সাথে এই সাদৃশ্য বা মিলগুলো আমাদের শরীরে উপস্থিত কিছু জিনিস নির্ধারন করে যাদেরকে আমরা জিন বলে থাকি।

জিন আমাদের শরীরের নির্দেশক ম্যানুয়াল হিসেবে কাজ করে। জিন এক প্রকার অণু যা আমাদের ডিএনএতে লুকানো তথ্য ব্যাখ্যা করে, এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের দেহের নানা প্রকার কাজ, বৈশিষ্ট্য তত্ত্বাবধান করে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, আমাদের দেহের প্রতিটি কোষে ২৫,০০০ জিন রয়েছে, সমস্ত জিন একসঙ্গে কাজ করে।

জিন গুলি ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ) -এর একটি ছোট অংশ। এটি একটি রাসায়নিক উপাদান যার মধ্যে জীবন্ত কোষগুলির জন্য প্রোটিন তৈরির জন্য জেনেটিক কোড রয়েছে। প্রোটিন জীবিত জিনিস জন্য বিল্ডিং ব্লক হিসেবে কাজ করে। আমাদের শরীর, হাড়, রক্ত এবং পেশী প্রায় সবকিছুই প্রোটিন দ্বারা গঠিত। আর এই প্রোটিন উৎপাদন এবং তত্ত্বাবধানে জিনগুলি কাজ করে। শুধুমাত্র শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে জিনগুলো দেখা যেতে পারে, এবং এগুলো দেখতে অনেকটা সুতার মতো।

l8pHRjxHkXlA9OKMZQz3qBgQ1Pis4EG9xmFuxQWQds1GnYi5dSUkHsNlfQUH1B5MEqy3ArxQpcah94G WwG4 W0tpgdSOxFgOEr51XZFsQYywWT Uv4SDbPb3R3uaZV7K9EgzgRj

Genetic Inheritance বা জেনেটিক উত্তরাধিকার কি?

কিছু উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জনের অর্থ পূর্ববর্তী ধারকের কাছ থেকে কিছু অর্জন বা গ্রহণ করা। জেনেটিক উত্তরাধিকার অর্থ, তুমি তোমার পিতা মাতার কাছ থেকে কিছু বৈশিষ্ট্য, আচরণ নিজের মধ্যে পেয়েছ তাদের সন্তানের হিসেবে। আমাদের পিতামাতার জিনগুলি নির্ধারণ করে আমরা কেমন দেখতে হব। কখনও কখনও, একই ব্যক্তির থেকে বিভিন্ন প্রকার বা ধরনের জিন পাওয়া যায়। এদের অ্যালিল (Allele) বলা হয়। একটু সহজ করতে একটা উদাহরণ দেখা যাকঃ

চল স্বপ্ন ছুঁই!

ধর তোমার চোখের রং নীল। এটা সম্ভব কারন, খুব সম্ভবত তোমার মা অথবা বাবার নীল রঙের চোখ ছিল। এমনকি যদি তাদের চোখ নীল রঙের নাও হয়ে থাকে, তাও তাদের কোষের জিনগুলিতে নীল চোখের বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তারা তোমার কাছে প্রেরণ করেছে। জিন আমাদের চোখের রঙ নির্ধারণ। চোখের জিনগুলির সাধারণত দুইটি এলিল আছেঃ বাদামী চোখগুলির জন্য একটি অ্যালিল এবং নীল চোখগুলির জন্য আরেকটি অ্যালিল। আমাদের সকলের আমাদের চোখের রঙ নির্ধারণ করে এমন এক জোড়া এলিল আছে।

একজন ব্যক্তি যিনি দুটি একই ধরনের এলিল বহন করে তিনি হল homozygous এবং যিনি দুইটি পৃথক এলিল বহন করে তিনি হল heterozygous। এখানে নীচের চোখের রঙ কিছু সম্ভাবনা আছেঃ

  • দুটি নীল অ্যালিল রয়েছে এমন একটি ব্যক্তি নীল রঙয়ের চোখ থাকবে।
  • দুই বাদামী অ্যালিল রয়েছে এমন একজন ব্যক্তির বাদামী রঙয়ের চোখ থাকবে।
  • এক নীল অ্যালিল এবং এক বাদামী অ্যালিল রয়েছে এমন একজন ব্যক্তি থাকবে…বাদামী চোখ!

তোমরা হয়ত অবাক হচ্ছ বাদামী হবে জেনে, কিন্তু তোমাদের মনে রাখতে হবে বাদামী অ্যালিলগুলি dominant এলিল হয়। এলিলগুলো dominant বা recessive  হতে পারে। মা এবং বাবার বাদামী চোখ থাকার পরও কখনো কখনো সন্তানের নীল চোখ থাকতে পারে।এটি সম্ভব হতে পারে, যখন সন্তান পিতা মাতার নীল recessive এলিল গুলোর উত্তরাধিকারী হয়। নিচের ডায়াগ্রামটি দেখলে তোমরা আরো স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারবে।

y2EnMzCcWmK3xsGI3a9qPbgWb4Ixe1X4ywbJMOeivwezofxrCWXL1h9imWDhDxEAqkhI7zux89ynHCekCxzlBrdAJwfOizEXMdg

এই এলিল গুলোই মূলত আমাদের সাথে আমাদের পিতামাতার পার্থক্য বা সাদৃশ্য হওয়ার জন্য দায়ী। এই এলিল গুলোই আমরা আমাদের পিতা মাতার কাছে থেকে পেয়ে থাকি যার ফলে আমাদের মধ্যে আমাদের পিতা মাতার অনেক বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। যেমনঃ

  • আমাদের চেহারা
  • নাক/চোখ/কানের আকৃতিতে
  • গায়ের রঙ
  • চুল/চোখের রঙ
  • উচ্চতা

এগুলো ছাড়াও আরো অনেকক্ষেত্রে মিল বা সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এই জিন গুলো যেগুলো আমরা আমাদের বাবা মায়ের কাছে থেকে পেয়ে থাকি এগুলোর কিছু খারাপ দিকও রয়েছে। যেমন নানা ধরনের ক্ষতিকর জিন যেগুলো বিভিন্ন রোগ বা অসুখের জন্য দায়ী সেগুলোও কিন্তু আমাদের মধ্যে প্রবাহিত হয়। তবে এদের পরিমান অনেক কম। তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

জেনেটিক্স নিয়ে জানার অনেক কিছু রয়েছে। আধুনিক জীববিজ্ঞান অনেকদিক দিয়ে জেনেটিক্সের উপর নির্ভরশীল তাই যাদের এই বিষয়ে আগ্রহ বেশি তারা নিচের লিংক গুলো থেকে ঘুরে আসতে পারো।

Source:

https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AC

https://www.ashg.org/education/everyone_6.shtml

https://www.quora.com/Is-the-DNA-of-a-father-more-similar-to-that-of-his-son-than-between-two-of-his-sons

https://www.ashg.org/education/everyone_6.shtml


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন