গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞান: জেনে নাও ভালো করার কৌশল!

April 21, 2019 ...
পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।


গণিত অনেকের কাছেই অন্যতম ভীতির এক নাম। এর সাথে যখন পদার্থবিজ্ঞান যুক্ত হয় তখন সেই ভীতি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞান এবং গণিতের মধ্যে খুবই ভালো একটা সম্পর্ক রয়েছে। কারন উভয় বিষয়ে গাণিতিক যুক্তির মাধ্যমে যেকোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কাজটি করে থাকে। তাই গণিত বা পদার্থবিজ্ঞান এর সমন্বয় আরো বেশি চমকপ্রদ।

dGfdVfl Q1mHF UiIq2cIotkv33JLm30iWvWTKb jKdeVIL qx24fqN9Z8 VOKUybLZB QHLP9 bzzWkcDztXib41qiZ2K5F1xcXPEQS7C6BTgwIR0G1Kx60CmMzLH WH 5BITp1

 

গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞান কী?

পদার্থবিজ্ঞানে অনেক ধরণের সমস্যার সমাধান আমরা করে থাকি। যেমন ভর বেগ, গতি, শক্তি, বল ইত্যাদি। এই সকল সমস্যার সমাধানে আমরা যখন পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন সূত্রের পাশাপাশি গাণিতিক যুক্তি ব্যবহার করি তখন সমস্যাগুলো গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্তর্গত হয়। বিজ্ঞান শাখায় পড়াশোনা করি এমন সকলেই আমরা এই ধরণের সমস্যাগুলোর সাথে পরিচিত। তাই খুব সহজেই কিভাবে গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞানে ভালো করা যায় সেই বিষয়গুলো নিয়েই এই লিখাটি, তাহলে দেরি না করে চলো শুরু করা যাক…

2r2bAawRhDtRAX Dadspq kN7uCQ8nyeupx6HOF 5ZPrkDQhW9w rejKe6JSXuj0DSiHRJTU9 cfPJTPnWXPMHXnqnMNVKSKsISvSCujV3R Q6nG5S6M0WgvOTf2zU1BOZXSOv7

১. পদার্থবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হল সূত্র আর গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞানে ভালো করার জন্য সূত্রের কোন বিকল্প নেই। তাই মূল সূত্রগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। সূত্রগুলো মনে রাখতে হবে কিন্ত না বুঝে মুখস্ত করা যাবে না।

২. গাণিতিক পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের সমীকরণ এসে থাকে। কোন সমীকরণ খুবই সরল আবার কোন সমীকরণ জটিল। তবে সকল সমীকরণের উৎস একটি সাধারণ সমীকরণ। এই সাধারণ সমীকরণ সমাধানের কৌশলগুলো আয়ত্তে রাখতে হবে।

 

৩. কোন রাশির একক ও মাত্রা কী এই ব্যাপারটা জানতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় আমরা গাণিতিক সমস্যাগুলো সমাধান করে ফেলি কিন্তু আসলে সেই সমাধান করা রাশির একক ভুল লিখার কারণে পুরো নম্বর পেতে ব্যর্থ হই তাই মনে করে নির্ধারিত রাশির জন্য নির্ধারিত একক লিখতে হবে।

mhT5NkmNVgrYZIhMwysKn7iZI5NA E7Sq9AfoVFaycwgIwPVgV uyO2Jccdl2DXsv8pmhGIbCjOJeRb4AmKsVaO5syhuZJ grNQ QG x0ItB Rsx GZ PX9Mec1BObBrjMZU448

৪. উচ্চতর পদার্থবিজ্ঞানে ডেরিভেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেসিক ডেরিভেটিভগুলো সম্পর্কে যদি পরিষ্কার ধারণা না থাকে তাহলে এই ধরণের সমস্যা সমাধানে কিছুটা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাই চেষ্টা এই বিষয়ে বেসিক ভালো করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

৫. নতুন অধ্যায় শুরু করার পরে ভালো করে সেই অধ্যায়ের বর্ণনামূলক অংশ বা থিওরী অংশটুকু পড়তে হবে। এতে মূল বিষয়গুলো আরো বেশি পরিষ্কার হবে এবং গাণিতিক সমস্যা কী ধরণের হতে পারে সেই সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে।

৬. যেসকল সমস্যা সমাধানের জন্য চিত্র আঁকা প্রয়োজন সেই সকল সমস্যার ক্ষেত্রে চিত্র আঁকতে হবে। যেমন ভেক্টর। চিত্র আঁকলে চিত্র থেকে অনেক তথ্য সহজেই নির্ণয় করা যায়। যা চিত্র না এঁকে বের করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

 

VvCEQikiZkT9BHhjdwBQyRpVUtcQKVsd3JgFDnN5ayGdpFNDhpfadO3rlxaT

৭. মূল বইয়ের পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন মজার মজার সমস্যা আছে এমন বইয়ের সমস্যা সমাধান করতে হবে। যেমন: পদার্থবিজ্ঞানের মজার কথা প্রথম ও দ্বিতীয় খন্ড। এই বইগুলো বেসিক ভালো করার পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞানের বিস্তর জগৎ সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকে।  

hPxz SQKqGguTL5nGl2fSiMGXDaEPkINr2rTAdQG6ZU5J fThzyHj6TcMjG5BzOa9xVtKs SMPS6k5uGS6 0bUYO8F4GnknQBeTtL6hU5F7ftzneiWrR5CHN1KbThNiRBG8wo90z

৮. প্রচুর চেষ্টা করতে থাকতে হবে। কোন সমস্যা সমাধান করতে না পারলে পরেরটা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। হাল ছাড়া যাবে না। প্রয়োজনে শিক্ষক বা বন্ধুদের সাহায্য নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো একসাথে বসে Group Study করা।

পদার্থবিজ্ঞান বিজ্ঞানের সবচেয়ে সুন্দর শাখাগুলোর মধ্যে একটা। পদার্থবিজ্ঞানে ভালো জ্ঞান থাকলে এবং ভালো করলে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যেমন: (BUET, DU, RUET, KUET) প্রথম সারির বিষয়গুলোতে চান্স পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকাটা জরুরি।

লিখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন