স্কিল ডেভেলপমেন্ট, সহশিক্ষা

ভলান্টিয়ার হতে চাও?

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

ভলান্টিয়ার এর কাজ  আমাদের সমাজের জন্য, মানুষের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। তুমি সমাজের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সমাজ থেকে সুযোগ  সুবিধা পাও, তেমনি সমাজও তোমাকে সমাজের উন্নতির জন্য কাজ করার সুযোগ করে দেয় এই স্বেচ্ছাসেবী কাজগুলোর মাধ্যমে। যদি ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করতে চাও তাহলে স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি- যেকোন বয়স থেকে শুরু করতে পারো। প্রথমে যে বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে তা হলো, কোন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের জন্য তুমি কাজ করতে চাও। তারপর ঐ প্রতিষ্ঠানের নিয়মাদি অনুযায়ী এপ্লিকেশন করতে হবে, সিলেক্ট হলে তবেই সংক্ষিপ্ত ইন্টারভিউ-এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে ঐ প্রতিষ্ঠানের ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজের সুযোগ।

তোমাদের ছোট একটা গল্প বলবো। ছোটবেলা থেকেই আমার সমাজ, দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা। মানুষকে সাহায্য করতে ভালো লাগে আমার, ভালো লাগে তাদের বিপদে এগিয়ে যেতে।  চটপটে আমার বন্ধু বানাতে ভালো লাগতো সব সময়, ভালবাসি নতুন নতুন মানুষের সাথে মিশতে, নতুন নতুন কাজ শিখতে।

তো একদিন স্কুলে দেখলাম স্কাউট নিচ্ছে। খুব আগ্রহ ভরে পুরো ব্যাপারটা দেখলাম।  তারপর স্কাউট সম্পর্কে আমার স্যারদের কাছে শুনলাম। ব্যস, খুব পছন্দ হয়ে গেল স্কাউটের পুরো ব্যাপারটা। বন্ধুদের সাথে নাম দিলাম। তারপর শুরু হয়ে গেল অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া আমার স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা।

এরপর একে একে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছি গার্লস গাইড, জাগো ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টে।  পরবর্তীতে স্কুল, কলেজ পেরিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হলাম। এখানেও অব্যাহত থাকলো ভলান্টিয়ার সেবা। বরং পরিধি আরও বাড়লো। কাজ ও দায়িত্বও বাড়লো। শুরু করলাম “কিউরিস”, “হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ”, “অল ফর ওয়ান”, “পরিবর্তন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন”-এর ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা।

কখনো দুর্গম এলাকা ও বস্তিতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের ফ্রী চেকআপ করেছি, ঔষধ বিতরণ করেছি।  কখনো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছি। কখনো পিরিয়ড ও নানা শারিরীক সমস্যা নিয়ে বস্তিতে বসবাসরত মা ও শিশুদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি। কখনো বিনামূল্যে পিরিয়ডকালীন প্যাড সরবরাহ করেছি। কখনো বা দুর্যোগ কবলিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে ছুটে গিয়েছি।

আবার ঈদের সময় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে কাপড়, খাবার বিতরণ করে তাদের ঈদের খুশিতে শামিল করার চেষ্টা করেছি। কয়েকটি কাজের কথা উল্লেখ করলাম। ২০১৬ সালে আমি নিজেই প্রতিষ্ঠা করি একটি অনলাইন ব্লাড ব্যাংক “সেভ লাইফ, ডোনেট ব্লাড “। উদ্দেশ্য অসহায় রোগীর জন্য যখন হাসপাতালে রক্তের দরকার হয় ঐসময় রক্তের যোগান দিবো আমরা, ডোনার খুঁজে দিবো আমরা।

সেই স্কুল থেকে শুরু করে এখন মেডিকেলে পড়া পর্যন্ত কাজ করেছি অসংখ্য ভলান্টিয়ার প্রতিষ্ঠানে। আমার এই গল্পটা শেয়ার করলাম কেন জানো? বুঝাতে যে কীভাবে কাজগুলো করা হয় এবং সমাজের জন্য কিছু করতে হলে চিন্তা করা লাগেনা। শুধু নিজে যা ভালো পারো বুঝে নাও, তারপর নেমে পড়ো কাজে কোন একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের ভলান্টিয়ার হিসেবে।

আজ তোমাদের সাথে শেয়ার করবো বেশ কিছু ব্যাপার যা Voluntary work-এর ব্যাপারে তোমাদের ধারনা আরও স্পষ্ট করে দেবে:

 

ক) ভলান্টিয়ার প্রতিষ্ঠান নির্বাচন :

 

১) যে মাধ্যমে সেবা দিতে চাও তা খুঁজে বের করো –

আমরা সমাজের নানা ক্ষেত্রে উপকার করতে চাই, অবদান রাখতে চাই। এজন্য খুৃঁজে বের করতে হবে কোন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, যারা এমন ধরনের কাজ করে যা তুমি সমাজের জন্য করতে চাও। যেমন: তুমি প্রাণী ভালবাসো। সেক্ষেত্রে তুমি কোন Animal shelter-এ কাজ করতে পারো। যদি দেশ ও সমাজের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নত করতে চাও তাহলে কাজ করতে পারো কোন সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের স্কুলে। যেখানে তুমি শিক্ষক হিসেবে পড়াবে, হাজার হাজার শিশুর শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

 

২) নিজের সাথে যায় এমন কাজ নির্বাচন :

চাইলেই যে কোন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে কাজ করা যায়।  কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, আমরা ঐসব প্রতিষ্ঠানেরই ভলান্টিয়ার হতে চেষ্টা করবো যেখানকার কাজ আমাদের স্যুট করবে।  যেমন : যদি তুমি পোষা প্রাণী ভয় পাও, তাহলে Animal shelter-এর কাজ তোমার জন্য না।

 

৩) ওয়েবসাইটের ব্যবহার :

প্রায় কম বেশি সব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে যেখানে তাদের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এখন পর্যন্ত যাবতীয় কাজ, কর্মসূচি, প্রজেক্ট, যে সেবা তারা সমাজে দিচ্ছে, প্রত্যেক কর্মী ও তাদের বিবরণী, ছবি-সব উল্লেখ থাকে।  তাই তুমি যখনই কোন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট দেখতে যাবে, ঐ প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে ধারনা পাবে। বুঝতে সুবিধা হবে প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের কাজ করে এবং তুমি এ কাজ করতে আগ্রহী কিনা।

 

৪) কথা বলো বন্ধুদের সাথে :

তোমার আশেপাশে কোন না কোন বন্ধু  থাকবে, যার স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকবে। তার কাছ থেকে ঐ প্রতিষ্ঠান ও তাদের কাজ সম্পর্কে জানো। তারপর ভালো লাগলে ঐ বন্ধুর সাথে ঐ প্রতিষ্ঠানে জয়েন করো। একসাথে কাজ করলে বন্ধুদের মাঝে বোঝাপড়াটাও ভালো হবে।

 

10MS, Asad, Inspirational Story

৫) শেখো, জানো ও কাজ করো :

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ভলান্টিয়ারদের জন্য বিভিন্ন ট্রেনিং, কর্মশালা ইত্যাদি আয়োজন করে।  তাই সবসময় এমন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করো যে জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার পাবে। যেমন : ভবিষ্যতে তুমি স্বাস্থ্যখাতে বিজ্ঞানী হতে চাও।  তুমি কাজ করতে পারো ICDDRB, UNICEF ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের ভলান্টিয়ার হিসেবে। কাজ শিখবে, জানবে ও পরবর্তীতে পেশাগত জীবনেও এসব জায়গা থেকে পাওয়া ট্রেনিং ও কাজের অভিজ্ঞতা অনেকাংশে কাজে দেবে।

 

খ) নিজেকে জানো ও সে অনুযায়ী তৈরি হও :

 

১) নিজের ভালো দিকগুলো নির্ণয় করা :

আমরা সবাই কোন না কোন কাজে দক্ষ। কেউ লেখালেখি করতে, কেউ বা দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষকে সাহায্য করতে।  খুঁজে বের করতে নিজের সুপ্ত প্রতিভা। প্রতিটা মানুষ স্পেশাল এবং সবার কোন না কোন বিশেষ দক্ষতা আছে। ভলান্টিয়ার কাজ হলো নিজের সেই দক্ষতাকে সমাজের কাজে ব্যবহার করা।

“এতে যেমন একদিকে নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে তেমনি পেশাগত জীবনে কাজের এই দক্ষতা একজন স্বেচ্ছাসেবীকে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে এক ধাপ এগিয়ে দেয়।”

খুঁজে বের করো নিজে কোন কাজে ভালো, তারপর যেসব প্রতিষ্ঠান ঐ ধরনের সেবা দেয়, তাদের ভলান্টিয়ার হয়ে যাও। ব্যস শুরু হয়ে গেল একজন ভলান্টিয়ার হিসেবে যাত্রা। যেমন : তুমি যদি লেখালেখিতে ভালো হয়, তুমি কাজ করতে পারো বিভিন্ন অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে। বিনা পারিশ্রমিকে লিখে দিবে তাদের গ্রুপ, পেজ ও ক্যাম্পেইন-এর জন্য। এটাও ভলান্টিয়ার কাজের অন্তর্ভুক্ত।

 

২) সময় নির্বাচন করো বুঝে শুনে :

পড়াশোনা ও যাবতীয় কাজ শেষ করে তুমি ফ্রী সময় পাও কতক্ষণ, তা খুঁজে বের করো। তারপর ঐ সময়টা নির্বাচন করতে হবে ভলান্টিয়ারের কাজের জন্য। যেমন : তুমি প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে সাতদিনে ২৪ ঘণ্টা ফ্রী সময় পাও। শুধু ঐ সময়টা কোন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানকে দাও ভলান্টিয়ার হিসেবে। তাই তোমার সময়ের সাথে মিলবে ও কাজে সামঞ্জস্য থাকবে এমন প্রতিষ্ঠান কাজের জন্য নির্বাচন করো।

 

৩) অনলাইন ও অফলাইন ভলান্টিয়ার :

কিছু মানুষের জায়গায় জায়গায় গিয়ে কাজ করার সময় ও সুযোগ থাকে। তুৃমি যদি সেরকম কেউ হও, তাহলে খুবই ভালো। যদি তুমি পড়াশোনা অথবা অন্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাও তাহলে তোমার জন্য আছে অনলাইন ভলান্টিয়ারিং। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান তাদের অনলাইন লেখালেখি, পোস্ট ডিজাইন ইত্যাদি নানা কাজে প্রচুর  লোক নিয়োগ দেয়। হয়ে যেতে পারো এরকম একজন অনলাইন ভলান্টিয়ার। এই যে তোমাদের জন্য ব্লগ লিখছি এটাও অনলাইন ভলান্টিয়ারিং।

 
 
 

গ) বিদেশে ভলান্টিয়ার / আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার :

 

মাঝে মাঝে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান নিজের দেশ ছাড়াও বাইরের দেশ থেকে ভলান্টিয়ার নেয়।  তুমি চাইলে নিজের বন্ধের সময়টা এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের কাজ করতে পারো। বিদেশে কাজ করার মাধ্যমে যেমন বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পাবে তেমনি তোমার কাজ কোন একটি বিশেষ গোষ্ঠী, সমাজ ও দেশের জন্য তোমার কাজ করার, উপকার করার সুযোগ করে দেয়। উদাহরণস্বরূপ : কোন হেল্থ ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবার কাজ, কোন সিনিয়র বিজ্ঞানী/প্রফেসরের প্রতিষ্ঠানে ভলান্টিয়ারের কাজ। অথবা কোন অনুন্নত সমাজে সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ও তাদের স্কুলে শিক্ষকের কাজ করা- এসবই হতে পারে যে কোন দেশের কোন কমিউনিটিকে দেয়া তোমার সেবা।

  • আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার হতে হলে চোখ রাখতে হবে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে। খোঁজখবর রাখতে হবে কখন তারা আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার নেবে কোন প্রজেক্টের জন্য।  
  • তারপর ঐ সময় কাল অনুযায়ী অনলাইনে এপ্লিকেশন করতে হবে।
  • নিজের পাসপোর্ট, ন্যাশনাল আইডি ও যাবতীয় কাগজপত্র তৈরি রাখতে হবে।
  • এপ্লিকেশন করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, ঐ প্রতিষ্ঠান বিদেশ থাকাকালীন তোমার যাবতীয় খরচ বহন করবে কিনা। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এই বিষয়গুলো উল্লেখ করে দেয়। কোন কারণে উল্লেখ না থাকলে ইমেইলের মাধ্যমে জরুরি তথ্য জেনে নাও।
  • আর কোনভাবে যদি কোন প্রতিষ্ঠান অর্থ সরবরাহ না করে তাহলে থাকা, খাওয়া ও বিদেশ যাওয়া বাবদ যাবতীয় টাকা তোমাকে দিতে হবে, এটা মাথায় রেখে এপ্লাই করো ।  

তোমাদের সুবিধার জন্য কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করছি যারা আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ দেয় তাদের বিভিন্ন প্রজেক্টে –

– Global Service Corps

– United Nation’s Volunteer

– Global Volunteer network

– Red Cross

– UNICEF

– WHO (World Health Organization)

– Save the Children

– Volunteer International

– World Volunteer Club

 

ঘ) ভলান্টিয়ার কাজ করার সুবিধা :

 

১) ভলান্টিয়ার কাজ একজন মানুষের নিজের উপর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।  নানা চ্যালেঞ্জিং কাজ হাসিমুখে করতে শিখে যায় একজন ভলান্টিয়ার।

২).যারা সমাজের জন্য, মানুষের জন্য, দেশের জন্য কিছু করতে চায় তারাই মূলত স্বেচ্ছাসেবী কাজগুলো করতে আসে। তোমার ছোট একটা কাজ হয়তো তোমার জন্য কিছু না। কিন্তু এভাবে অনেক ভলান্টিয়ারের ছোট কাজ মিলে পরিবর্তন নিয়ে আসে পুরো সমাজে।

৩) একজন স্বেচ্ছাসেবী তার কাজের জন্য প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মানুষের সাথে মেশে, কাজ করে।  এতে যেমন একদিকে নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে তেমনি পেশাগত জীবনে কাজের এই দক্ষতা একজন স্বেচ্ছাসেবীকে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে এক ধাপ এগিয়ে দেয়।

৪) প্রতিনিয়ত নতুন কাজ শেখা, নতুন চ্যালেঞ্জ। একজন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিনিয়ত শিখে ও আরও দক্ষ হয়ে ওঠে নিজ কাজে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রায় সময় ট্রেনিং, ওয়ার্কশপের আয়োজন করে তাদের ভলান্টিয়ারদের জন্য।

৫) নতুন নতুন বন্ধু বানানো, নতুন মানুষের সাথে মিশা। এসব কিছুর জন্য ভলান্টিয়ারের কাজ একটি ভালো মাধ্যম।

৬) যখন কেউ চাকরীর ইন্টারভিউতে যায় অথবা পড়াশোনার জন্য বিদেশে এপ্লাই করে, তার ভলান্টারি কাজ এক্ষেত্রে তাকে এগিয়ে দেয় আরও ১০ জনের চেয়ে। তুমি ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছ, তার মানে তুমি কিছু হলেও কাজ শিখেছ, কিছুটা হলেও দক্ষতা তোমার আছে যা তোমার ভালো ইমপ্রেশন বানাতে সহায়ক পেশাগত জীবনে।

 

ঙ)  বাংলাদেশে ভলান্টিয়ার কাজ এর সুযোগ :

 

বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ।  কয়েকটি তোমাদের সুবিধার জন্য উল্লেখ করলাম:

-জাগো ফাউন্ডেশন

-ব্র্যাক

-বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি

-গার্লস গাইড

– রোভার স্কাউট

– সন্ধানী

– বাংলাদেশ ইউনিসেফ

– সেভ দ্যা চিলড্রেন

– হিউম্যান এইড ফাউন্ডেশন

– কিউরিস

-ICDDRB

-হার্ট টু হার্ট ফর হিউম্যানিটি বাংলাদেশ

– পরিবর্তন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন

-মজার স্কুল

– বাঁধন ( BUET)  

– কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন

– WSIF ( Women support initiative forum)  

– কান পেতে রই

-প্রচেষ্টা ফুড ব্যাংক

এছাড়া নিজ নিজ শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানে, এলাকাতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান যারা নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছে সমাজ পরিবর্তনের স্বার্থে। চাইলে ফর্ম ফিল আপ করে, টাকা জমা দিয়ে হয়ে যেতে পারো কোন একটি প্রতিষ্ঠানের ভলান্টিয়ার।

 

চ) ভলান্টিয়ার প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবিধা :

 

আর ১০টি প্রতিষ্ঠানের মতো স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোও একটি কোম্পানি যেখানে বাকি সব প্রতিষ্ঠানের মতো একজন ব্যক্তির মালিকানা অথবা এক এর অধিক শেয়ার হোল্ডার থাকে। বোর্ড অফ ডিরেক্টর-এর কমিটি থাকে ও বেতনভোগী কর্মী থাকে। যদি তুমি চ্যালেন্জ ভালবাসো, নিজের সমাজের জন্য কিছু করতে চাও ও সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে চাও তাহলে ভলান্টিয়ারের কাজ করতে করতে পরবর্তীতে পেশাগত জীবনে ঐ প্রতিষ্ঠানের পার্মানেন্ট কর্মী হতে পারো।

এক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রী / স্নাতক, তবে অনেক ক্ষেত্রে স্নাতোকত্তর/মাস্টার্স ডিগ্রী যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়। ব্যাচেলর শেষ হওয়ার পর ইন্টার্ন করতে পারো কোন একটি প্রতিষ্ঠানে। পরবর্তীতে সময় সুযোগমতো জয়েন করার সুযোগ থাকে।

এক্ষেত্রে আশাজনক ব্যাপার হলো, কোন প্রতিষ্ঠানে যদি তোমার ভলান্টিয়ার / ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকে, চাকরির ইন্টারভিউতে তুমি বাকি চাকরিপ্রার্থীদের থেকে এগিয়ে থাকবে।

প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ফান্ড রেইজার, মার্কেটিং ম্যানেজার, কান্ট্রি ডিরেক্টর, কনসালটেন্ট, ফিজিশিয়ান, রিসার্চার  ইত্যাদি নানা পোস্টে লোক নিয়োগ করে। স্যালারিও বেশ ভালো, পাশে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সুযোগ তো আছেই। তবে শেষ কথা হলো, তুমি সমাজের জন্য, নিজের দেশের জন্য কাজ করছো- এর চেয়ে সম্মান ও ভালবাসার আর কী হতে পারে?  

 

তো জানা হয়ে গেলো তো আজ, ভলান্টারি কাজের সব কিছু। আর যেন কাউকে বলতে না শুনি, “আমি দেশের জন্য কিছু করতে চাই, কীভাবে করবো?”  নিজে শুরু করে দাও নিজের পক্ষ থেকে। হয়তো আমাকে আর তোমাকে দেখে কাল এগিয়ে আসবে আরও ১০ জন।

দেশকে আমরা সবাই ভালবাসি, দেশের জন্য একটু কাজ তো করাই যায়।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী


১০ মিনিট স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত লাইভ ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]