সোশ্যাল মিডিয়া এর সদ্ব্যবহার: জেনে নাও কয়েকটি কার্যকরী আইডিয়া!

January 29, 2023 ...

সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্র করে গত কয়েক বছরে অনেক কিছু শিখেছি, জেনেছি, স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছি। আর পেয়েছি ফেসবুক, টুইটার সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া কাজে লাগানোর দারুণ কিছু আইডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়া একটা বড়সড় হাতিয়ার, যার মাধ্যমে ভালো কিম্বা খারাপ, দুই দিকেই পরিবর্তন আনা সম্ভব। শুধুই যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে না দেখে, এটাকে ব্যবহার করে ঘটিয়ে দেয়া যায় অসাধারণ কিছু পরিবর্তন!

সোশ্যাল মিডিয়া বলতে কি বুঝায়, এটা মোটামুটি আমরা সবাই জানি। সামাজিক মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়া হলো এক ধরণের কম্পিউটার-ভিত্তিক প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ডিজিটালভাবে ধারণা, চিন্তাভাবনা ও তথ্য ভাগ করে নেওয়া যায়।  যেহেতু এই সামাজিক মাধ্যমগুলো হলো ইন্টারনেট-ভিত্তিক, তাই এইগুলো ব্যবহারকারীদের তাদের ব্যক্তিগত নথি, তথ্য, ভিডিও ও ছবির মতো সামগ্রীকে দ্রুত ইলেকট্রনিক যোগাযোগের সুবিধা দিয়ে থাকে।  

এই লেখায় আমরা জেনে নেবো সোশ্যাল মিডিয়া কাকে বলে, এর আদ্যোপান্ত, আর সোশ্যাল মিডিয়া নতুনভাবে ব্যবহার করার চমৎকার কিছু আইডিয়া।    

সোশ্যাল মিডিয়া এর ইতিহাস:

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো বেশ জনপ্রিয়।বর্তমানে এই প্লাটফর্মগুলোর একটা বিপ্লব চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যাত্রা অনেক আগে থেকে শুরু হলেও মূলত ২০১০ সালে এটি ঠিকঠাক আত্মপ্রকাশ করে।

যেকোনো প্রযুক্তিই শত শত বছরের বিভিন্ন কনসেপ্ট থেকেই আবিষ্কার হয়েছে। তেমনি করে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলোর আবিষ্কারের ক্ষেত্রে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ইন্টারনেট আবিষ্কারের পর সোশ্যাল মিডিয়ার মূল ধারণা মানুষের মধ্যে আসে। আগে মানুষ চিঠিপত্রের মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদান করতো। তবে এক্ষেত্রে তথ্য আদান-প্রদান করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেত। মূলত চিঠিপত্র আদান প্রদানের এই  ধ্যানধারণা থেকেই আজকের এই আধুনিক সোশ্যাল মিডিয়ার আবির্ভাব।

সোশ্যাল মিডিয়ার মূল বৈশিষ্টই হলো সহজতর যোগাযোগ ব্যবস্থা ।

শুরুটা ই-মেইল দিয়ে

বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার আবির্ভাবের শুরুটাই হয়েছিল ই-মেইল আদান-প্রদানের মাধ্যমে। Ray Tomlinson নামের একজন অ্যামেরিকান কম্পিউটার প্রোগ্রামার ১৯৭১ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক ই-মেইল পাঠান। Ray Tomlinson এর পর Eric Thomas নামে আরেকজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার ই-মেইল আদান-প্রদানের জন্য একটি সফটওয়্যার ডেভেলপ করেন, যার নাম দেন Listserv। এই সফটওয়্যারটির বিশেষত্ব ছিল এরকম যার মাধ্যমে একটি ই-মেইল পাঠালেই নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারকারীর কাছে অটোম্যাটিক ভাবে সেই ই-মেইল মেসেজে চলে যেত।

এবার চ্যাটিং এর আবির্ভাব

ই-মেইল আবিষ্কারের পরেই মূলত চ্যাটিং এর উদ্ভাবন হয়। Jarkko Oikarinen নামের একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার ১৯৮৮ সালে প্রথম  Internet Relay Chat নামে একটি চ্যাটিং সফটওয়্যার উদ্ভাবন করেন। ইন্টারনেট রিলে চ্যাট সফটওয়্যারের  বিশেষত্ব হল যার মাধ্যমে এর ব্যবহারকারীরা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রিয়েল টাইম মেসেজ করতে পারে। ইন্টারনেট রিলে চ্যাটের মাধ্যমেই মূলত আজকের এই আধুনিক  চ্যাটিং বৈশিষ্টের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

এবার সোশ্যাল মিডিয়া সাইটের যাত্রা শুরু

১৯৮৮ সালের প্রায় ৭ বছর পর ১৯৯৬ সালে প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া সাইটের যাত্রা শুরু হয়। প্রথম সোশ্যাল মিডিয়া সাইটের নাম হচ্ছে Sixdegrees.com। Andrew Weinreich নামের একজন অ্যামেরিকান এই ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছিলেন। ওয়েবসাইটটির ২টি বৈশিষ্ট্য ছিলো: ১)  প্রোফাইল তৈরি, ২)  ফ্রেন্ড লিস্ট  ।

এরপর ২০০২ সালে আসে Friendster নামের আর একটি সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটটি ঐ সময়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। ব্যবহারকারীদের  কাছে জনপ্রিয়তার কারনে গুগল Friendster কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তারা তখন গুগলের  ঐ প্রস্তাবটি গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে সাইটটি বিক্রি হয়ে যায়, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ।

পেশাদারদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া 

২০০৩ সালে লিংকড ইনপ্রতিষ্ঠিত হয়। পেশাদার ব্যক্তিবর্গের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম হিসেবে জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায়  লিংকড ইন প্রথম ভার্চুয়াল জগতে আসে। মানুষজনও জানতে থাকে যে সোশ্যাল মিডিয়া কাকে বলে। অনলাইন নির্ভর সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মকে পেশাদারি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে রুপ দিতেই মূলত এর যাত্রা শুরু হয়। বিশ্বজুড়ে ২০০ টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ৭৫৬ মিলিয়ন সদস্য বিশিষ্ট বিশ্বের বৃহত্তম পেশাদার নেটওয়ার্ক এখন লিংকড ইন।

মিডিয়া বলতে কি বুঝায়
Photo: Freepik

সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম হিসেবে ফেসবুকের যাত্রা শুরু

লিংকড ইনের প্রায় এক বছর পর জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে Facebook  সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম  হিসেবে ভার্চুয়াল জগতে আসে। ফেসবুক বর্তমানে বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম। যদি ৮-১০ বছরের একটি বাচ্চাকেও জিজ্ঞেস করা হয় যে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা কে, এক কথায় উত্তর দিবে যে মার্ক জাকারবার্গ । কিন্তু মার্ক জাকারবার্গ একাই ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা নন, বরং তিনি তার চার বন্ধু মিলে ফেসবুক বানিয়েছিলেন।

ফেসবুকের ব্যবহার প্রথম শুরু হয়েছিল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে আশেপাশের বিভিন্ন কলেজ বা ইউনিভার্সিটিগুলোতে ফেসবুকের ব্যবহার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম  হিসেবে ফেসবুক চালু হলেও পৃথিবীব্যাপী ২০০৬ সালে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ফেসবুক বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় সামাজিক নেটওয়ার্ক। 

জনপ্রিয় কিছু সোশ্যাল মিডিয়া:

ফেসবুক, লিংকডইন এর পরে ধীরে ধীরে আবির্ভাব হয় সোশ্যাল মিডিয়া সাইট  টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদির। এই মাধ্যমগুলো দ্রুতই ফেসবুকের পাশাপাশি জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। বর্তমান পৃথিবীর অসংখ্য সোশ্যাল মিডিয়া সাইটের মাঝে জনপ্রিয় দশটির নাম এখানে উল্লেখ করছি। 

  1. ফেসবুক
  2. হোয়াটসঅ্যাপ
  3. টুইটার
  4. ইন্সটাগ্রাম
  5. টেলিগ্রাম
  6. স্ন্যাপচ্যাট
  7. পিন্টারেস্ট
  8. রেডডিট
  9. লিংকড ইন
  10.  টিকটক

সোশ্যাল মিডিয়া এর সুবিধা:

যেমনটা উপরে বললাম, সোশ্যাল মিডিয়া একটা গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এটি ব্যবহার করে খুব সহজেই একসাথে অনেক মানুষকে প্রভাবিত করা যায়, সমৃদ্ধ হওয়া যায়, আর মানুষের উপকারও করা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার যেসব সুবিধা না বললেই নয়, সেগুলো এখানে উল্লেখ করছি।

  • দেশে এবং বিদেশে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নতুন বন্ধু তৈরি করা যায়। ফলে এখন পুরো পৃথিবীজুড়েই বন্ধু থাকাটা অস্বাভাবিক না। 
  • সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পুরোনো বন্ধু, দূরের আত্মীয়ের সাথে সংযুক্ত থাকা যায়।
  • এক দেশ থেকে অন্য দেশ, এক সংস্কৃতি থেকে অন্য সংস্কৃতির মানুষের পরিচিতি ঘটে।
  • সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আমরা আমাদের চিন্তাভাবনা সহজেই অনেকের সাথে শেয়ার করতে পারি।
  • চিন্তাভাবনার মতোই আমরা দৈনন্দীন জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে আমাদের ডকুমেন্ট অন্যদের কাছে পাঠাতে পারি যেমন টেক্সট, ফটো, ভিডিও ইত্যাদি।।
  • সোশ্যাল মিডিয়াকে যে কেউ তার ব্যবসার প্রচারমাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
  • সোশ্যাল মিডিয়া যে কারো জন্য একটি চমৎকার শিক্ষামাধ্যম হতে পারে।
  • সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করার বিভিন্ন উপায় আছে।
  • সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অনেক উপায়েই অন্যদের সাহায্য করা যায়৷
  • সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যে কোনো বিষয়ে সহজে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়া যায়।

সোশ্যাল মিডিয়ার অসুবিধা:

প্রতিটা জিনিসেরই দুটো দিক যেমন থাকে, সোশ্যাল মিডিয়ারও তেমন আছে ভালো আর খারাপ দিক। ভালো দিক ব্যবহার করে যেমন পৃথিবীকে সুন্দরভাবে বদলে দেয়া যায়, তেমনি খারাপ দিকে মন দিলে সোশ্যাল মিডিয়া হতে পারে একজন মানুষ, এমনকি একটা সমাজের অধপতনের কারণ। 

  • সোশ্যাল মিডিয়াতে কারো সঠিক পরিচয়ের নিশ্চয়তা না থাকায় যে কেউ অন্য কারো নাম, পরিচয় ধারণ করতে পারে 
  • সোশ্যাল মিডিয়ার অত্যধিক ব্যবহার মোবাইল ফোনে আসক্তি, এমনকি স্বাস্থ্যহানির কারণ হতে পারে।
  • সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে মানুষ অনেক সময় ভুল তথ্য বিশ্বাস করে বসে। 
  • অনেকের একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হতে পারে। 
  • সোশ্যাল মিডিয়ার জগৎ সত্যিকার পৃথিবী থেকে অনেক ভিন্ন, যা আমাদের অনায়াসেই বাস্তব জগত থেকে আলাদা করে দিতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এড়াতে হবে যা:

নিজের চাকরি নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নয় সামির। কেননা, তার বস তার কোনো কাজেই খুশি হয় না। উল্টো সবসময় তার কাজের খুঁত ধরতে থাকে। কতদিন এভাবে মুখ বুজে সহ্য করা যায়? একদিন রেগেমেগে ফেসবুকে নিজের বসকে নিয়ে ইয়ায়া বড় একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দিলো সামির। মিনিটখানেকের মধ্যে লাইক-কমেন্ট-রি-অ্যাক্টে ভরে গেল তার স্ট্যাটাস।

এর ঘণ্টাখানেক পরেই নিজের মেইল চেক করতে যেয়ে সামির যা দেখলো, তার সেই বিশাল বড় স্ট্যাটাসের বিপরীতে বস তাকে পাঁচ লাইনের ছোট্ট একটা মেইল পাঠিয়েছেন৷ বস সাহেবের মূলকথা হচ্ছে, “তোমার যেহেতু চাকরি নিয়ে এত সমস্যা, তুমি তাহলে কাল থেকে আর অফিসে এসো না।”

সোশ্যাল মিডিয়া
Photo: Freepik

কিছু বুঝলে তাহলে? একটা ছোট্ট স্ট্যাটাস সামিরের এত বড় একটা সমস্যা তৈরি করে ফেলেছে। ফেসবুক এমনই এক মারাত্মক জিনিস, যা তোমার জন্য ভালোও হতে পারে, আবার খারাপও হতে পারে। ঠিক উপরের লেখায় আমরা যেমনটা দেখলাম।

ফেসবুককে সাধারণত সড়কের চৌরাস্তার সাথে তুলনা করা হয়৷ একটা রাস্তার চৌরাস্তায় যা হচ্ছে, সেটা তুমি যেকোনো সাইডের রাস্তার মাথায় এসে দাঁড়িয়ে দেখতে পারবে। ফেসবুকসহ বাকি সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো ঠিকই তেমনিই। তোমাকে জানতে হবে, সোশ্যাল মিডিয়া বলতে কি বুঝায়। তুমি যেই জিনিসটা এসব সাইটে শেয়ার করবে, খুব দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়তে থাকবে। তাই, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু শেয়ার করার সময় আগে জানতে হবে আমরা কী শেয়ার করবো আর কী শেয়ার করবো না৷ চলো তাহলে সেইসব ট্রিকগুলো জেনে নেওয়া যাক।

১. পার্সোনাল লোকেশন:
এই ভুলটা আমরা সবাই কম-বেশি করে থাকি। বাসায় তোলা কোনো ছবির check in দিতে যেয়ে বাসার পুরো ঠিকানাটাই তুলে দিই। আর তোমার এই লোকেশন ট্র‍্যাক করে কিন্তু অনেকেই তোমার ক্ষতি করতে পারে।

জিওট্যাগড ইমেজ দ্বারা আমি এখন কোথায় আছি, সেটা সহজেই বোঝা যায়। এর ফলে যে কেউ তোমার লোকেশন সহজেই খুঁজে পাবে। এর সুবিধা নিয়ে কেউ তোমার ক্ষতি করারও চেষ্টা করতে পারে।

২. শো অফ করা:

আমি অমুক জায়গায় পড়ি দেখে আমি অনেক ভাব নেবো, কিংবা আমার কাছে অনেক দামি দামি জিনিস আছে, সেগুলো আমি সবাইকে দেখাবো – তোমরা যারা এগুলো নিয়ে লোক দেখানো কাজ করো, বিশ্বাস করো আমার কথা, তোমাকে নিয়ে আড়ালে আবডালে সবাই হাসতে থাকে! কারণ তুমি এগুলো করে লোক হাসানোর কাজই করে থাকো। তোমার যদি আসলেই কিছু থাকে, তাহলে সেটা বলে-কয়ে সবাইকে দেখাতে হবে না। সবাই এমনিই দেখে নেবে।

৩. বিনা অনুমতিতে কারো ছবি বা ভিডিও পোস্ট করা:

এখন বন্ধুদের জন্মদিন আসলেই আমরা খুঁজে খুঁজে তাদের সবচেয়ে হাস্যকর ছবিটি আপ্লোড দিই। এগুলোকে আবার ‘ক্যান্ডিড’ও বলা হয়। কিন্তু এই ক্যান্ডিড ছবিগুলোই কিন্তু অনেকসময় বন্ধুত্বে ফাটল ধরাতে পারে। আমাদের হয়তো মনে হবে বন্ধুর এমন ছবি পোস্ট করলে কিছু হবে না, কিন্তু কিছু তো হতেও পারে। হয়তো আমরা তার এমন কোনো ছবি দিয়ে দিয়েছি, যা দেখার ফলে তার সম্মানহানি হবে। তাই কারো ছবি আপ্লোড দিয়ে দেওয়ার আগে অবশ্যই সেই ব্যক্তির কাছ থেকে তার অনুমতি নিতে হবে।

৪. নিজের ক্রেডিট কার্ডের ছবি:

এমন বেশকিছু স্পর্শকাতর জিনিস রয়েছে, যেগুলো সবার সামনে আসলে আমাদের বেশ বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। যেমন: ক্রেডিট কার্ড। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে আমরা অর্থ লেনদেন করে থাকি। এখন কেউ যদি আমাদের ক্রেডিট কার্ডের পিন কোড জেনে যায়, তাহলে যেকোনো মুহূর্তে আমাদের অর্থসহ সব তথ্য সে হাতিয়ে নিতে পারে। তাই কোনোভাবেই নিজের ক্রেডিট কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাইটগুলোয় আপ্লোড করবো না।

৫. ব্যক্তিগত মনোমালিন্যের বিষয়গুলো তুলে ধরা:

মাঝেমাঝে আমরা , “ আজকে আমার ফ্রেন্ডদের চেনা হয়ে গেল” কিংবা “এতদিন দুধ কলা দিয়ে বন্ধু নামের কালসাপ পুষেছি” – এই ধরণের স্ট্যাটাস দিয়ে থাকি৷ কিন্তু এই ধরণের স্ট্যাটাস মোটেও দেওয়া উচিত নয়। কেননা এতে বন্ধুত্বের ক্ষতি হয়, যাকে ডেডিকেট করেছো সে কষ্ট পায় এবং তাকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য তৈরি হয়। তাই নিজেকে সংযত করো, নিজের ব্যক্তিগত ঝামেলা সোশ্যাল সাইটে তুলে ধরো না।

৬. অনুপযুক্ত ছবি পোস্ট করা:

ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম হলো এমন ধরণের সোশ্যাল সাইট, যেখানে একবার একটা কিছু পোস্ট করলে তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই আমরা অবশ্যই সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কোনো ছবি পোস্ট করবো না, যেগুলো দেখলে কেউ বিব্রতবোধ করতে পারে৷ কিন্তু তুমি কিভাবে বুঝবে যে কোন ছবি পোস্ট করবে আর কোন ছবি পোস্ট করবে না?

তুমি নিজেই একটা ব্যাপার চিন্তা করে দেখো, যে ছবি তুমি তোমার বন্ধুদের দেখাতে পারবে, সেই ছবি কি দাদির বয়সী গুরুজনকে দেখাতে পারবে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সেটা পোস্ট করার মত ছবি। আর যদি না হয়, তাহলে সেই ছবি শেয়ার না করাটাই ভাল।

সোশ্যাল মিডিয়া
Photo: Freepik

৭. নিজের ব্যাংক একাউন্টের তথ্য:

ক্রেডিট কার্ডের মতন এটাও খুব সেনসিটিভ বিষয়। নিজের ব্যাংক একাউন্টের কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে, টাকা-পয়সা যেকোনো সময় বেহাত হয়ে যেতে পারে।

৮. কর্মক্ষেত্রের উর্ধবতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য:

রাগের বশে আমরা কতজনকে কতকিছুই না বলে ফেলি। কিন্তু এই বলে ফেলার ক্ষেত্রে মুখে লাগাম দিতে হবে। একদম শুরুতে যা বললাম, বস যদি একবার সেই স্ট্যাটাস দেখে, তাহলে কিন্তু অবস্থা পুরো খারাপ হয়ে যাবে!

৯. এমন বিষয় নিয়ে মজা করা, যা সবার জন্য উপযুক্ত নয়:

আমরা আসলে নিজেদের যা বয়স, তার থেকেও বড় সাজার ভান করি ‘কুল ডুড’ হওয়ার জন্য। কিন্তু তোমার এই ‘কুল ডুড’ হওয়ার চেষ্টা দেখে আড়ালে কত মানুষ যে হাসে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই! বর্তমানে যেটা নিয়ে ট্রেন্ড চলছে, তাহলো ‘মিম এবং ট্রল’। মিম ও ট্রল মূলত মানুষকে হাসানোর জন্য বানানো হয়৷ কিন্তু মাঝে মাঝে এইসব জিনিসে এত বেশি এডাল্ট কন্টেন্ট থাকে, যা আমাদের বন্ধুতালিকায় থাকা অনেকেরই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।social media tips SDM 2

১০. এখানে আছো, ওখানে নেই:

-“সরি বস আজকে আসতে পারবো না, আমার খুব জ্বর।”
– “ঠিক আছে, রেস্ট নাও।”
এই এক্সকিউজটা কিন্তু আমরা সবাই ব্যবহার করি(!) কিন্তু তুমি কি একটা ব্যাপার ভেবে দেখেছো ? তুমি হয়তো অফিস থেকে জ্বরের কথা বলে ছুটি নিলে, আসলে তোমার ফেসবুকে কিংবা অন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেল তুমি এক কন্সার্টে গেছো! এটা যদি তোমার বস দেখে ফেলেন, তাহলে কি তোমাকে আস্ত রাখবেন?

১১. পাসওয়ার্ড:

যদিও পাসওয়ার্ড সবাইকে বলে দেওয়ার মত ভুল এখন আর কেউ করে না, কিন্তু তবুও অনেকেই অনেক সময় কথার মাঝে নিজের পাসওয়ার্ডের হিন্ট দিয়ে দেয়। সেটাও করা উচিত নয়। কেননা নিজের আইডিতে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও থাকতে পারে, যা বেহাত বা লিক হয়ে গেলে আমরা সমস্যায় পড়তে পারি।

১২. নিজের ফিন্যান্সিয়াল ইনফরমেশন শেয়ার করা:

তুমি কত টাকা মাসে আয় করো, কত টাকা দিয়ে তুমি একটা কাজ করো এগুলো পাব্লিকলি মানুষকে জানানোর দরকার নেই। এসব জিনিস ইনবক্সে আলাপ করাই শ্রেয়।

১৩. এমন কিছু দেওয়া যা নিজের পার্সোনাল ব্র‍্যান্ডিং নষ্ট করে:

আমরা হয়তো ঠাট্টাচ্ছলে একটা কিছু শেয়ার করলাম সোশ্যাল মিডিয়ায়, কিন্তু পরে দেখা গেল আমি আসলে নিজে যেমন বা মানুষ আমাকে যেভাব চেনে, শেয়ার দেওয়া জিনিসটা আমার ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই না। তাই আমরা এমন কিছু শেয়ার করবো না, যার কারণে পার্সোনাল ব্র‍্যান্ডিং নষ্ট হবে।1

১৪. পার্সোনাল চ্যাটের স্ক্রিনশট:

আমরা একজন মানুষের সাথে ইনবক্সে কথা বলি কারণ কেউ যাতে আমার সাথে তার কথোপকথন জানতে না পারে। কিন্তু যদি সেই কথোপকথনের স্ক্রিনশটটাই আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপ্লোড দিয়ে দিই, তাহলে কেমন লাগে? যার সাথে কথা বলছিলাম, সে কিন্তু ভালোই বিপাকে পড়তে পারে৷ অনেকসময় আমরা বন্ধুদের সাথে এমন অনেক কথা বলি, যা বাইরের কাউকে দেখালে বুঝবে না, কিংবা ভালো চোখে দেখবে না। তাই ফ্রেন্ডদের মাঝে যেই চ্যাট হয়, সেগুলোর (দরকারি তথ্য ছাড়া) স্ক্রিনশট না দেওয়াটাই উচিত।

১৫. যেখানে-সেখানে সেলফি তোলা এবং আপ্লোড দেওয়া:

আমাদের মধ্যে যারা সেলফি ম্যানিয়াক, তারা যেখানেই সুযোগ পায়, সেখানেই সেলফি তোলে আর আপ্লোড দেয়। কিন্তু সেলফি তোলার সময় খেয়াল রাখতে হবে আমরা সেটা কোথায় তুলছি এবং আমাদের ছবি তোলার ফলে কেউ বিরক্ত হচ্ছে নাকি।

সোশ্যাল মিডিয়া এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একবার কিছু শেয়ার করে ফেললে তা আর ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, “ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।” এইসব নিষেধগুলো মেনে চললেই তোমার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো হয়ে উঠবে একদম প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টের মতন!

ফেসবুকের সদ্ব্যবহারের তিনটি কার্যকরী আইডিয়া:

সোশ্যাল মিডিয়া বলতে কি বুঝায়? সোশ্যাল মিডিয়া বলতে অনেকেই আজকাল যা বোঝে, তা হলো ফেসবুক। আসলে ফেসবুক হচ্ছে সবথেকে বেশি ব্যবহৃত আর জনপ্রিয় একটি সোশ্যাল মিডিয়া। এই ফেসবুককে আমরা বেশ কিছু কাজে লাগাতে পারি, যার মাধ্যমে পুরো পৃথিবী আরেকটু সুন্দর হয়ে উঠবে। নিচে এমনই তিনটি আইডিয়া তোমাদের সাথে শেয়ার করছি। 

আইডিয়া ১: রক্ত সংগ্রহ হোক আরো সহজ!

এই আইডিয়াটা ব্লাড গ্রুপ নিয়ে। আমাদের আশেপাশে এমন অনেক অর্গানাইজেশন আছে যারা এই রক্ত সংগ্রহের জন্যে, মুমূর্ষু রোগীদের একটুখানি বাঁচার সুযোগ করে দেবার জন্যে দিন রাত খেটে চলেছে। এমনই একটা অর্গানাইজেশনের একজন আমাকে একটা আইডিয়া দেয়। খুব সহজ কিন্তু দারুণ কার্যকরী একটা আইডিয়া।

আমাদের সবারই কিন্তু একটা সোশ্যাল আইডি কার্ড আছে। তার নাম সোশ্যাল মিডিয়া, যাকে ফেসবুক বললে ভুল হবে না। এই ফেসবুকে প্রোফাইল অংশটায় ছোট্ট একটা BIO অংশ আছে। এইখানে আমরা নিজের পরিচয় দেয়ার পাশাপাশি যদি নিজের ব্লাড গ্রুপটাও দিয়ে দেই, তাহলে এই রক্ত সন্ধানীদের জন্যে অনেক সুবিধা হয়ে যায়, তাই না? এতে আরো দ্রুত রক্ত সংগ্রহ করা যাবে, হয়তো বাঁচানো সম্ভব হবে আরো কিছু প্রাণ!

আইডিয়া ২: ফেসবুকেই হোক গ্রুপ স্টাডি!

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় সব ব্যাচেরই নিজেদের জন্যে একটা সোশাল মিডিয়া গ্রুপ আছে। সেখানে তারা ডিপার্টমেন্টের নানা খবর, নোটিশ নিয়ে পোস্ট করে। আমার ছোটভাইকে সেদিন দেখলাম এই গ্রুপ আর ফেসবুক লাইভকে ব্যবহার করে চমৎকার একটা কাজ করছে। পরীক্ষার আগের রাতে সে তাদের ফেসবুক গ্রুপে লাইভে গিয়েছে, এবং সেখানে সে পরীক্ষা নিয়ে তার বন্ধুদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে! পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে, কোন চ্যাপ্টারের কোথায় কী পড়তে হবে সব বলে দিচ্ছে সে।

আমার নিজের ফার্স্ট ইয়ারের কথা মনে হয়। আমরা তখন পরীক্ষার আগে আগে যে বন্ধুটা সবচেয়ে ভালো পড়া পারে, তাকে ঘিরে বসে পড়া বুঝে নিতাম। এই সমস্যার কি সুন্দর ডিজিটাল সলিউশান হয়ে গেল এভাবে! তোমাদের মধ্যে যে ভালো পড়া পারো, সেটা যে বিষয়েই হোক, তা নিয়ে যদি তোমরা এভাবে তোমাদের গ্রুপে লাইভে যাও, কী দারুণ হবে না ব্যাপারটা? এতে যে বন্ধুটা পড়াশোনায় দুর্বল তার যেমন উপকার হবে, তেমনি ভালো ছাত্রদেরও ঝালাই করে নেয়া হবে তাদের পড়াগুলো!

আইডিয়া ৩: একটি শেয়ারেই হবে স্বপ্নপূরণ!

এই আইডিয়াটা আমি পাই একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে। আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ, আরিফ আর হোসাইন এর একটা স্ট্যাটাস থেকে! একটা স্কুল বানানো হচ্ছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে কাজটা আর এগোচ্ছিল না। আরিফ ভাইয়া করলেন কী, তিনি একটা স্ট্যাটাস দিলেন। খুব সহজ কাজ। স্কুলটার জন্যে সবাইকে বললেন একটা করে শেয়ার কিনতে।

৩০০ টাকায় একটা শেয়ার। কিছুদিনের মধ্যেই প্রচুর মানুষ এই শেয়ার কিনে জোগাড় করে ফেললেন স্কুলের টাকাটা! একবার ভাবুন তো? আপনার শেয়ারের কারণে কত শিশুর মুখে হাসি ফুটছে? মনটাই ভালো হয়ে যায় না ভাবলে? এইভাবে একটা শেয়ার কেনার ভালো কাজের মাধ্যমে বিশাল একটা ভালো কাজের অংশ হয়ে গেলেন আপনিও! আর ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে এখানেও ঘটে গেল ছোটখাট একটা বিপ্লব!

আবার ফেসবুকে অনেকেই অনেক কিছু নিয়ে পোস্ট করে, সেগুলোর কোন কোনটা এতই অজনপ্রিয় হয় যে পোস্টদাতার ফেসবুক জীবন বিষিয়ে ওঠে! এই ব্যাপারটার একটা সমাধান আছে। মনে করো, তুমি একটা চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে। এখন চৌরাস্তার মাঝে কিন্তু তুমি কাউকে গালিগালাজ করতে পারবেনা, নিজের ব্যক্তিগত তথ্য বলে বেড়াতে পারবেনা। কারণ সেখানে পরিচিত অপরিচিত অনেকেই তোমকে দেখছে!

ফেসবুক অনেকটা এই চৌরাস্তার মতোই। তাই এরপর থেকে যখন ফেসবুকে কোনকিছু নিয়ে পোস্ট করবে বা লাইভে যাবে, একটা ব্যাপার মাথায় রাখবে যে, চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে কি এই কথাগুলো বলতে পারতে? যদি পারো, তাহলে করে ফেলো পোস্ট। না পারলে দয়া করে করবে না, কারণ সেটিই হতে পারে তোমার বিশাল এক বিপদের কারণ!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন