একাডেমিকস্‌, পড়াশোনার টিপস, ভর্তি পরীক্ষা

মেডিকেল অ্যাডমিশন টেস্ট : মেধাবীদের পরামর্শ

মেডিকেল কলেজে পড়া , চিকিৎসক  হওয়া অনেকের কাছেই স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের হাত ধরে ৫ অক্টোবর হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিতে যাচ্ছে মেডিকেল অ্যাডমিশন টেস্টে। সরকারী ৩১ টি মেডিকেল কলেজ ও বেসরকারী মেডিকেল কলেজ সহ ডেন্টাল কলেজগুলোতে চান্স পাওয়া ও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তব করার উদ্দেশ্যে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তাই তোমাদের জন্য এ ব্লগে আমরা নিয়ে এসেছি বিশেষ কিছু। কথা বলেছি এমন কিছু চিকিৎসকের সাথে যারা শুধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেননি, বরং নিজেদের সময়কার অ্যাডমিশন টেস্টে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। হাজার হাজার প্রতিভাবান মেধাবীকে পেছনে ফেলে অ্যাডমিশন টেস্টে প্লেস করা চাট্টিখানি কথা না৷ চলো তাদের থেকেই জেনে নেয়া যাক এই মেধাবী  চিকিৎসকদের থেকে তাদের অ্যাডমিশন টেস্টের সময়কার কথা। কিভাবে পড়াশোনা করেছেন ও কিভাবে পড়লে অ্যাডমিশন টেস্টে ভালো ফলাফল করা সম্ভব সে ব্যাপারেও বিস্তারিত জানিয়েছেন তারা। এই মেধাবী চিকিৎসকরা হলেন –

১) ডাঃ মোঃ রায়হান আলী মোল্লা

২) ডাঃ ফারিহা বিনতে হোসেন

৩) ডাঃ ফেরদৌস আহমেদ

আশা করি তাদের পরামর্শ ও মূল্যবান বক্তব্য কিছুটা হলেও কাজে আসবে তোমাদের।  

ডাঃ মোঃ রায়হান আলী মোল্লা ঃ

২০০৫-০৬ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় ১ম হয়েছিলেন ডাঃ রায়হান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ব্যাচ কে-৬৩ এর এই মেধাবী মেডিকেল পাশ করেছেন ২০১১ সালের জুলাই-এ।  বর্তমানে বারডেম জেনারেল হাসপাতালে অর্থোপেডিক্স বিভাগে রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। নিজের ইচ্ছাতেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ডাঃ রায়হান জানান, ”  অনেক বেশি পড়াশুনা করলেই ভালো রেজাল্ট হবে—এমন কোন কথা নেই। পড়াশুনার পাশাপাশি আরো কিছু বৈশিষ্ট্য নিজের ভিতর ধারণ করতে হবে, যার প্রথমটি আমি মনে করি আত্মবিশ্বাস। আমাকে দিয়ে ভাল ফলাফল সম্ভব—এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। আত্মবিশ্বাস যত শক্তিশালী হবে,আমরা যা পড়বো তা ততো আমাদের ব্রেনে পাকাপোক্ত হবে। আত্মবিশ্বাস শুধু পড়াশুনাতেই না, সব কাজেই জরুরি। যারা অনেক বেশি পড়েন, কিন্তু আশানুরুপ ফলাফল পাননা, তাদের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটাতে ঘাটতি থাকে আমি মনে করি।”

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

মেডিকেল পড়তে ইচ্ছু্ক ছাত্রছত্রীদের জন্য ডাঃ রায়হান এর মতে, পরবর্তী পদক্ষেপ হলো সময়োপযোগী পরিকল্পনা। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ছাড়া কোন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা দুরূহ। হাতে কেমন সময় আছে,  তার উপর আপনার পরিকল্পনা নির্ভর করবে। পরিকল্পনাটা এমন হবে যেন পুরো সিলেবাসটা পরীক্ষার অন্তত ২ সপ্তাহ আগে শেষ হয়। রিভিশনের জন্যে তো কিছু সময় রাখতেই হবে। শেষ এই ২ সপ্তাহে আগে যা যা পড়েছেন তার সব পড়ে ফেলতে হবে।

এবার আসুন কিভাবে পড়বেন? একেকজনের পড়ার স্টাইল এক একরকম। এই মেধাবী উল্লেখ করেন, শুরুতেই বিগত বছরের প্রশ্নগুলোতে চোখ বুলাতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো চিহ্নিত করতে হবে। তারপর বই বের করার পর্ব। কোন চ্যাপ্টার পড়ার আগেই আমাদের জানা হয়ে যায়, কোন টপিকগুলো বেেশি আসে পরীক্ষায়।

এই টপিকগুলো থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসলে যেন ভুল না হয়। একটা চ্যাপ্টারের সবকিছু পড়তে হয় না। আপনি সব মনে রাখতেও পারবেন না। সুতরাং বুদ্ধিও লাগবে। সব মনে রাখতে গেলে আপনি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ভুলে যাবেন। পুরো চ্যাপ্টার একবার পড়ে আপনাকে বের করতে হবে পরবর্তীতে আপনি কোন অংশটুকু পড়বেন না।এখানে আপনি আপনার মেন্টর, শিক্ষক বা বন্ধুদের সহায়তা নিতে পারেন।

প্রতিদিন কয়ঘণ্টা পড়তেন এই প্রশ্নের জবাবে ডাঃ রায়হান বলেন,

নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। আসলে ওই সময় পড়া ছাড়া আর কোন কাজ ছিল না। সময় পেলেই বই নিয়ে বসে থাকতাম। আমি হোস্টেলে থাকতাম রাজশাহীতে, কোচিং করতাম। শেষ ২ মাস আমার চলাফেরার গণ্ডি ছিল হোস্টেল, কোচিং আর হোটেল। ৫ মিনিট হাঁটা দূরত্বে ছিল পদ্মা নদীর পাড়। বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, একটু রিফ্রেশমেন্টের জন্যেও আমি ওখানে যাইনি কোচিংএর গুরুত্ব বিশেষ এখানে। এতোবড় সিলবাস একা বাসায় বসে পড়ে শেষ করতে পারবেন না। এখানে কোচিং এর সহায়তা নিতেই পারেন। কোচিং একটা রুটিনমাফিক চলে। আপনি এই রুটিনটা ফলো করতে পারেন। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, কোচিং কখনোই আপনাকে সব পড়িয়ে দেবে না। আপনাকে পথ দেখিয়ে দেবে, হাঁটতে হবে নিজেকেই ।

ভর্তি পরীক্ষার সেই ১ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাথা ঠান্ডা রেখে উত্তর করতে হবে। মাথা ঠান্ডা রাখতে হলে আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম দিতে হবে। রাত জেগে পড়ার অভ্যাস সবারই থাকে।  দয়া করে পরীক্ষার আগের রাতে এটা করবেন না। রাত ১১ টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ুন। কমপক্ষে ৬/৭ ঘন্টা ঘুমাবেন। সকালে উঠে পরীক্ষার আগ পর্যন্ত কী পড়বেন, কোন বই পড়বেন আগের দিনই ঠিক করে রাখুন। নাহলে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়বেন। ড্রেস, অ্যাডমিট কার্ড, বলপেন সব আগেই রেডি রাখবেন। আমি আমার পরীক্ষার দিনের এটুকু সময় শুধু সাধারণ জ্ঞান পড়েছি। প্রশ্নপত্র পাবার পর তাড়াহুড়ো না করে মনোযোগ দিয়ে রোল নং, কোড, রেজিস্ট্রেশন নং ইত্যাদি তথ্যগুলি পূরণ করুন। এরপর প্রশ্ন পড়া শুরু করুন। মনোযোগ দিয়ে একটা প্রশ্ন একবার পড়বেন, এই একবার পড়ে উত্তর পারলে বৃত্ত ভরাট করুন, সামান্যতম দ্বিধা থাকলে পরের প্রশ্নে চলে যান। দ্বিধাযুক্ত প্রশ্নে গোল চিহ্ন দিয়ে যান যেন পরে সহজেই খুঁজে পান। এরকম পরপর ৪/৫ টা প্রশ্নের উত্তর না পারলেও ঘাবড়াবেন না। পরবর্তী ৯৫/৯৬ টা প্রশ্নের সবগুলোই আপনি কমন পেতে পারেন। সুতরাং কোন অবস্থাতেই ঘাবড়ানো যাবে না। যে প্রশ্নের উত্তর একদমই জানেননা, আন্দাজে বৃত্ত ভরাট করবেন না। এতে ভুল হবার সম্ভাবনাই বেশি। নেগেটিভ মার্কিং এর কথা মাথায় রাখতে হবে।
 

পাওয়ারপয়েন্ট এর ব্যাবহার এখন হবে সহজতর!
পাওয়ার পয়েন্টকে এখন আমাদের জীবনের অনেকটা অবিচ্ছদ্য একটা অংশ বলা যায়। ক্লাসের প্রেজেন্টেশান বানানো কি বন্ধুর জন্মদিনের ব্যানার। সবক্ষেত্রেই এর ব্যাপক ব্যাবহার।

 

পরীক্ষার আর কয়েকদিন বাকি। এই শেষ সময়ের কাজ হলো, গত কয়েকমাসে যা পড়েছেন তা রিভিশন দেয়া। নতুন করে কিছু পড়তে চাইলে নিষেধ করবো না। তবে আগের পড়াটাকে পাকাপোক্ত করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আারেকটা কথা, পরীক্ষার আগের দিন চেষ্টা করবেন সব রিভিশন দিতে, অর্থাৎ ফিজিক্স, কেমিষ্ট্রি, বায়োলজি। প্রত্যেক পৃষ্ঠায় ১০ সেকেণ্ড সময় হলেও দেবেন। এতে পরীক্ষার দিন আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে। আত্মবিশ্বাসই আপনাকে অনেকদূর নিয়ে যাবে। বিশ্বাস করতে হবে যে, আমাকে দিয়ে ভালো ফলাফল সম্ভব।

শুভ কামনা জানিয়েছেন তিনি সবাইকে যারা চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করছেন৷  

ডাঃ ফারিহা বিনতে হোসেন:

এই মেধাবী চিকিৎসক সেশন ২০০৫-২০০৬ এর মেডিকেল অ্যাডমিশন টেস্টে সারা বাংলাদেশের হাজার হাজার  ছাত্র ছাত্রীকে পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন৷ তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে -৬৩ ব্যাচের ছাত্রী ও ২০১১ সালে এমবিবিএসপাশ করে নামের আাগে ডাক্তার উপাধি অর্জন করেন। শুধু একজন চিকিৎসক হিসেবেই নয়, জনস্বাস্থ্য কর্মী ( Global health researcher) হিসেবে বর্তমানে UK তে কর্তব্যরত আছেন। ডিগ্রী কমপ্লিট করে নামের আগে এমপিএইচ (এপিডেমিওলজি ), এমএসসি (গ্লোবাল হেলথ) ও লাগিয়ে নিয়েছেন এই মেধাবী চিকিৎসক৷ চিকিৎসক হওয়া ডাঃ ফারিহার আম্মু আব্বু দুজনেরই স্বপ্ন ছিল, বিশেষ করে আম্মুর।

কিভাবে পড়াশোনা করেছেন এই ভালো ফলাফলের জন্য জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, ” মেডিকেল  কলেজ এ চান্স পাওয়া খুব কঠিন তাই প্রথম থেকেই খুব মনোযোগের সাথে পড়াশুনা করেছি। আমার মনেহয় সবসময় মেইন বই এর দিকে বেশি জোর দেয়া উচিত। মেইন বই পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর নোট পড়লে ভালো মনে থাকে। প্রতিদিন কোচিং ক্লাস এ যাওয়া এবং প্রতিদিনকার পড়া প্রতিদিন শেষ করলে অ্যাডমিশন টেস্ট এর আগে অনেকবার রিভিশন দেয়া যায়, তখন কনফিডেন্স বেড়ে যায়। খুব খারাপ না লাগলে কোচিং ক্লাস মিস না দেয়া, কারণ ক্লাস এ শুধু বসে থাকলেও কিছু না কিছু শেখা যায়।

দৈনিক ৮/১০ ঘণ্টা পড়তাম। টেস্ট এর আগে আগে অবশ্য টাইম আরো বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। অনেকে বলেন যে বেশি রাত করে পড়া ভালো না। আমি মনে করি কেউ যদি রাতে বেশি পড়াশুনা করতে পছন্দ করে , তাহলে অসুবিধা নেই। কারণ সবাই সকাল বেলার পাখি না। আমি রাত জেগে পড়তাম, সকালে উঠে কোচিং ক্লাস এ চলে যেতাম।

আমি কোচিং করেছিলাম। অবশ্যই কোচিং থেকে উপকার পেয়েছি। চার জন ডাক্তার ভাইয়া ছিলেন উনারা অনেক যত্ন সহকারে আমাদের পড়িয়েছিলেন। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছিলো ভাইয়ারা আমাদের টেক্সট বুক মাস্ট টু নো, নিড টু নো আর গুড টু নো এভাবে দাগিয়ে দিতেন। কারণ বই এর সবকিছু পড়া বা মনে রাখা সম্ভব হয়ে উঠে না।

অ্যাডমিশন টেস্টের ঐ এক ঘণ্টা সময়টা খুব সাবধানে অতিক্রম করতে হবে। মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে সেটা নিয়ে ঘাবড়ানো যাবে না। পরের প্রশ্নে চলে যেতে হবে। শেষে সময় পেলে কঠিন প্রশ্নগুলি নিয়ে ভাবতে হবে।

খুব সুন্দর একটা রুটিন ফলো করলে অ্যাডমিশন টেস্ট এ ভালো করা যাবে। দিন রাত যে পড়তে হবে তা না, রিক্রিয়েশনের টাইম ও থাকতে হবে। মেইন বই বেশি করে পড়লে, আগের বছরের অ্যাডমিশন টেস্টের কোয়েশ্চেন সলভ করলে ইনশাআল্লাহ ভালো ফলাফল করা যাবে। আর এর সাথে যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি দরকার তা হলো আত্মবিশ্বাস।

ডাঃ ফারিহার মতো আত্মবিশ্বাসী হলে আর কঠোর পরিশ্রম করলে হয়তো তোমাদের মাঝ থেকে ভবিষ্যতে বেরিয়ে আসবে এমন অনেক মেধাবী ফারিহা।  যাদের নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারবো এই ডাঃ ফারিহার মতো।

ডাঃ ফেরদৌস আহমেদ:

২০০৯-২০১০ সেশনের মেডিকেল অ্যাডমিশন টেস্ট পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন ডাঃ ফেরদৌস আহমেদ। ঢাকা মেডিকেলের কে- ৬৭ ব্যাচের এই মেধাবী ২০১৫ সালে এমবিবিএস  পাশ করেন ও ইন্টার্নশিপ শেষ করে যোগদান করেন স্কয়ার হাসপাতালে RMO ( resident medical officer) হিসেবে। মজার ব্যাপার হলো ক্যাডেট কলেজ থেকে পাশ করা এই মেধাবী এয়ার ফোর্সে চান্স পেয়েছিলেন পাইলট হওয়ার জন্য। কিন্তু নিজের চিকিৎসক হওয়ার, মানুষের সেবা করার তীব্র ইচ্ছার টানে তিনি চলে আসেন মেডিকেল পড়তে, চিকিৎসক হতে।  

এত মেধাবীর মাঝে কিভাবে এই ভালো ফলাফল করেছিলেন এই প্রশ্নের উত্তরে ডাঃ ফেরদৌস জানান,  “মেডিকেল অ্যাডমিশন টেস্টের জন্য পড়াশোনা হতে হবে Consistant, প্রতিদিন মনে করতে হবে পরদিন আমার পরীক্ষা, এমন মনোভাব নিয়ে আগাতে হবে। যদি এইচ এসসির প্রথম থেকেই জীববিজ্ঞান বিষয়টা খুব জোরালোভাবে পড়া যায় ও নিয়মিত নৈর্ব্যক্তিক প্র্যাকটিস করা যায় তবে তা অ্য্যাডমিশন টেস্টের পড়া অনেকাংশে কমিয়ে দেবে৷ নিয়মিত কতক্ষণ পড়াশোনা করতে হবে তার কোন নিয়ম নেই৷ তবে যতটকু পড়লে প্রতিদিনের পড়া আয়ত্ব হয় তা মাথায় রাখতে হবে।

জোর দিতে হবে জীববিজ্ঞানের উপর৷ কেমিষ্ট্রি ও ফিজিক্সটাও মেইন বই খুঁটিনাটি দাগিয়ে পড়তে হবে। মেইন বই পড়ার কোনই বিকল্প নেই৷  এতে একদিকে যেমন কনফিডেন্স বাড়ে তেমনি খুব দক্ষভাবে আয়ত্ব করতে পারবেন। ইংরেজী গ্রামারের কিছু টপিক এর উপর জোর দিলে ভালো। যেমন:  Right form of verbs, narration, phrase, idioms etc.   

মেডিকেল অ্যাডমিশন প্রিপারেশনে কোচিং এর গুরুত্ব অনেক। কারণ কোচিং এ একটা সিস্টেমের মধ্যে পড়াশোনা হয়।  তাছাড়া নিয়মিত কোচিং এর মডেল টেস্ট ভালোভাবে দিলে একদিকে পড়া ভালোভাবে হবে, কনফিডেন্স বাড়বে তেমনি নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে পরীক্ষা দেয়ার ফলে মেইন এডমিশন টেস্টে আপনি খুব দ্রুত কমপ্লিট করতে পারবেন৷

ডাঃ ফেরদৌস বিশেষভাবে জোর দেন পরীক্ষার ঐ একটা ঘণ্টার উপর। প্রথমে প্রশ্ন পত্র হাতে পেলে একবারে পড়তে হবে ও দাগাতে হবে। One go through from 1-100 question.  এভাবে ২০-২৫ মিনিট লাগবে। পারা জিনিস এর মাঝে দাগিয়ে ফেলবেন। এবার শুরু করুন চিন্তা ভাবনার পালা। আস্তে আস্তে দাগিয়ে ফেলবেন বাকিগুলো। নেগেটিভ মার্কিং এর ব্যাপারটা মাথায় রাখতে হবে।কখনোই শিওর না হয়ে দাগানো যাবেনা। ১০০ পাওয়ার দরকার নেই৷ কারণ যে প্রথম হয় সেও ৭০-৮০ পায় অধিকাংশ সময়ে। তাই পরীক্ষায় মাথা ঠান্ডা রাখুন। কম দাগাতে হবে কিন্তু সঠিক দাগাতে হবে। এটাই মাথায় রাখতে হবে।

অধ্যবসায়, কনফিডেন্স, নিয়মিত পড়া ও কঠোর পরিশ্রম আপনার ডাক্তার হওয়ার রাস্তাকে সহজ করবে। শুভ কামনা জানিয়েছেন এই মেধাবী ভবিষ্যত চিকিৎসকদের।

তো জানা হয়ে গেল কিছু মেধাবীদের কথা ও তাদের পরিশ্রম, সফলতার কথা। তো  ঐ সাদা এপ্রন পড়ে যদি মানবতার চিকিৎসক হতে চাও, এখনি পড়তে বসে যাও।। হয়তো তোমাদের মধ্য থেকে আমরা খুঁজে পাবো ডাঃ রায়হান, ডাঃ ফারিহা ও ডাঃ ফেরদৌস দের মতো এমন মেধাবীদের। শুভকামনা সবাইকে। মানবতার পথে যাত্রা সফল হোক।


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]