ফেসবুক কথন: কীভাবে করবেন ফেসবুকের সঠিক ব্যবহার?

January 20, 2023 ...

ফেসবুক ব্যবহার করে না, বাঙ্গালি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সংখ্যাটা দিনকে দিন এত অস্বাভাবিক হারে কমে আসছে যে কিছুদিন পর হয়তো আঙ্গুলের কর গুনে বলে দেয়া যাবে ফেইসবুকে এখনো কোন তরুণ আসক্ত হয় নি! ফেসবুক অনেকদিন ধরেই আর নিছক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়, একে এখন বলা চলে ভার্চুয়াল একটা জগত, নীল সে জগতে বাস করছে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ।

এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে কেবলমাত্র বিনোদনের কাজে না লাগিয়ে একটু চেষ্টা করলেই কিন্তু আমরা ফেসবুককে বানিয়ে ফেলতে পারি কার্যকর একটা জায়গা, যেখান থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে চাইলেই! আজ বলবো এরকম কিছু উদ্যোগের কথা।

ফেসবুকের সঠিক ব্যবহার

  1. ফেসবুক সাংবাদিকতা
  2. রক্তদান হোক আরো সহজ!
  3. সামাজিক ইস্যুতে ফেসবুক
  4. ফেসবুক শপকে কাজে লাগান!
  5. গ্রুপ চ্যাটকে বানিয়ে ফেলুন শেখার মাধ্যম!

ফেসবুক সাংবাদিকতা

ফেসবুকের সাংবাদিক হবার সবথেকে ভালো বিষয়টা হচ্ছে যে আপনাকে সাংবাদিকতায় কোন ডিগ্রি নিতে হয় না। আপনার স্ট্যাটাস-বারই হচ্ছে আপনার সংবাদ, ফেইসবুকের নিউজ ফীড হলো সেই সংবাদপত্র। চারপাশে কিন্তু প্রচুর অসঙ্গতি দেখেন আপনি। দেখারই কথা। হয়তো এগুলো দেখে হতাশ হয়ে চলে যান আপনি। কিন্তু চাইলেই আপনি এর প্রতিবাদ করতে পারেন, চাইতেই পারেন একটা সুন্দর পৃথিবীর। যেটা করতে হবে, সেটা হলো এই ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে শুরু করে দিন প্রতিবাদ!

আপনার এলাকায় ডাস্টবিন নেই, সেটা লিখে শেয়ার করেন সবাইকে, সবার প্রতিবাদে একসময় ডাস্টবিন আসবেই! ইভ টিজারদের বড় উৎপাত? ছবি আর ভিডিও করে শেয়ার করে দিন, পুলিশকে জানান। ইভ টিজিং বন্ধ হতে বাধ্য হবে! ফেসবুকের সংবাদকে এভাবে কাজে লাগালে জীবন হবে আরো সুন্দর।

রক্তদান হোক আরো সহজ!

প্রায়ই রক্ত দেবার জন্যে বিভিন্ন রক্তদাতা সংগঠন থেকে পোস্ট আসে। এই পোস্টগুলোয় কেউ সাড়া দিতে দিতে হয়তো রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়! আপনি যদি নিজের ফেসবুকের ছোট্ট যে বায়ো অংশটা আছে, সেখানে আপনার পরিচয়ের পাশাপাশি নিজের রক্তের গ্রুপটাও দিয়ে দিন, তাহলে কিন্তু সবার জন্যেই অনেক সহজ হবে পুরো বিষয়টা!

ভেবে দেখুন, আপনার একটা বায়োতে ছোট্ট করে ব্লাড গ্রুপ লেখার কারণে হয়তো আপনি রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাতে পারছেন!

সামাজিক ইস্যুতে ফেসবুক

ফেসবুককে এখন বলা যায় মানুষের মত প্রকাশের সবথেকে কার্যকরী উপায়গুলোর একটা। ফেইসবুকে যেভাবে আপনি সমাজের নানা বিষয় নিয়ে বলতে পারেন, সামনাসামনিও হয়তো তেমনটা হয় না। আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে কিন্তু গণসচেতনতা গড়ে তুলতেই পারেন আপনি।

ফেসবুক মার্কেটিং
ফেসবুক মার্কেটিং
Source: pixabay.com

ফেসবুক শপকে কাজে লাগান!

খেয়াল করেছেন হয়তো, ফেসবুকে শপ নামে একটা চমৎকার অপশন রয়েছে। এই শপকে ব্যবহার করে কিন্তু অনলাইনে শপিং করতে পারেন আপনি। কিছু বিক্রি করতে চাইলে ফেসবুকও কিন্তু দারুণ একটা মাধ্যম! ধরুন আপনার একটা জার্সির দোকান আছে। আপনি যদি ফেইসবুকে এই জার্সিগুলোকে শপে রাখো, তাহলে নির্দ্বিধায় আপনার দোকানের বিক্রি বাড়বে, জনপ্রিয়তাও বেড়ে যাবে! ফেইসবুক মার্কেটিং শিখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন

গ্রুপ চ্যাটকে বানিয়ে ফেলুন শেখার মাধ্যম!

আমরা সবাই কোন না কোন ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ চ্যাটে আছি। হোক সেটা বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাট, হোক সেটা ডিপার্টমেন্টের কোন ক্লাবের গ্রুপ চ্যাট, কিংবা ছোটবেলার বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাট। সেখানে আমরা সারাদিনই বিভিন্ন বিচিত্র বিষয় নিয়ে বকবক করতেই থাকি। এই গ্রুপ চ্যাটটাকে কিন্তু কোনকিছু শেখার জন্যে দারুণ কাজে লাগানো যায়!

ধরুন আপনি ইংরেজি শিখতে চাও। এই গ্রুপ চ্যাটে যদি বন্ধুদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে থাকেন, তাহলে তাঁদের যেমন ইংরেজির প্র্যাকটিস হবে, আপনিও কিন্তু এই বিদেশী ভাষাটায় পারদর্শী হয়ে উঠবেন! এছাড়া আরেকটা উপকার আছে এখানে। ধরুন, আপনার ইংরেজি দুর্বল। এমনিতে এই ভাষা প্র্যাকটিস করতে তাই লজ্জা লাগবে আপনাদের। কিন্তু বন্ধুদের মধ্যেই যদি কথা বলেন, তাহলে আর লজ্জা কিসের?

ফেসবুকে কী কী করা অনুচিত?

  1. নিজের প্রোফাইলের নামটাও নিজেরই থাকুক
  2. প্রোফাইল পিকচারে নিজের ছবি রাখুন
  3. অপরিচিত কাউকে ফেসবুকে অ্যাড নয়
  4. ফেসবুকে গোপনীয়তা বজায় রাখুন
  5. টাকা চেয়ে আসা মেসেজে বিভ্রান্ত হবেন না
  6. সব পোস্ট পাবলিক নয়
  7. ভাষা সংযত রাখুন
  8. পোস্ট করুন ভেবে-চিন্তে
  9. যাচ্ছেতাই কমেন্ট নয়
  10. শেয়ারে সতর্ক হোন

নিজের প্রোফাইলের নামটাও নিজেরই থাকুক

আমরা আমাদের পরীক্ষার সার্টিফিকেটে আমাদের পুরো নামটাই দেই, তাই না? ফেসবুককে যেহেতু আমাদের ভার্চুয়াল প্রোফাইল বলা হচ্ছে, তাই ফেইসবুকেও আমাদের পুরো নামটা দেয়া উচিত। আপনার নাম সত্যিই যদি অদ্ভুত বালক, এঞ্জেল কণা বা ড্রিম বয় রিফাত না হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো বাদ দিয়েই আপনার ফেসবুক আইডির নাম দিতে হবে আসল নাম দিয়ে। নইলে কোনো একদিন ফেসবুক সিদ্ধ্বান্ত নেবে, এমন নামের কারো থাকার সম্ভাবনা নেই, তাই গায়েব হয়ে যাবে আপনার ফেইসবুক প্রোফাইল।

তাই, ছদ্মনামে প্রোফাইল ব্যবহার করা অনুচিত। কেউ কেউ আবার সেলিব্রিটিদের নাম ব্যবহার করে; যেটা একেবারেই উচিত নয়।

প্রোফাইল পিকচারে নিজের ছবি রাখুন

আপনি যদি আপনার প্রোফাইল পিকচারে সালমান খান বা একটা গোলাপ ফুলের ছবি দিন, তখন মানুষ স্বভাবতই মনে করবে যে আপনি তো সালমান খান নন, আর গোলাপ ফুল তো আর ফেসবুক আইডি খুলতে পারে না, তাই আপনার নিশ্চয়ই কোন কু-মতলব আছে! এরকম অহেতুক সন্দেহ থেকে বাঁচতে নিজের প্রোফাইল পিকচারে নিজেরই একটা ছবি দিয়ে ফেলুন, যদি না অন্য কোন সমস্যা না থেকে থাকে।

তাই, অন্য কারো ছবি প্রোফাইল পিকচার হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। অনেকে ফুল, প্রাকৃতিক দৃশ্য, পশু পাখি, পুতুল কিংবা কার্টুনের ছবিও দিয়ে রাখে, যা না করাই উচিত।

অপরিচিত কাউকে ফেসবুকে অ্যাড নয়

অপরিচিত কাউকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠানো কিংবা অপরিচিত কারো রিকুয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করা থেকে বিরত থাকুন।

ফেসবুকে গোপনীয়তা বজায় রাখুন

নিজের একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য কখনই ফেসবুকে দেওয়া উচিত নয়। নিজের ফোন নাম্বার, ইমেল অ্যাড্রেস, জন্ম তারিখ এর মতো তথ্য ফেসবুকে না দেওয়াই ভালো।

টাকা চেয়ে আসা মেসেজে বিভ্রান্ত হবেন না

ফেসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে নিশ্চয়ই অনেকবার দেখেছেন টাকা চাওয়ার মেসেজ। অপরিচিত কারোর দেওয়া তথ্য বা মেসেজের ওপর ভরসা করে কাউকে টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া বোকামি। এ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা মঙ্গল।

সব পোস্ট পাবলিক নয়

পোস্ট করার আগে পোস্টের প্রাইভেসি চেক নেওয়া উচিত। সব ধরণের পোস্টের প্রাইভেসি পাবলিক থাকা নিরাপদ নয়। নিজের পারিবারিক ছবি, কিংবা তথ্য ফেসবুকে পাবলিক করে পোস্ট করাটা অবান্তর।

ভাষা সংযত রাখুন

আজেবাজে ভাষা, গালিগালাজ, কুরুচিকর মন্তব্য করাটা এখনকার ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ফেসবুকে পোস্ট, কমেন্ট, মেসেজ করার আগে চিন্তা-ভাবনা করে নেওয়া উচিত। করার আগে এটা মাথায় রাখা উচিত আমাদের কথাবার্তা ও কার্যকলাপই আমাদের ব্যক্তিত্বের নির্দেশক।

পোস্ট করুন ভেবে-চিন্তে

ফেইসবুকে অনেকেই অনেক কিছু নিয়ে পোস্ট করে, সেগুলোর কোনো কোনোটা এতই অজনপ্রিয় হয় যে পোস্টদাতার ফেসবুক জীবন বিষিয়ে ওঠে! এই ব্যাপারটার একটা সমাধান আছে। মনে করুন, আপনি একটা চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে। এখন চৌরাস্তার মাঝে কিন্তু আপনি কাউকে গালিগালাজ করতে পারেন না, নিজের ব্যক্তিগত তথ্য বলে বেড়াতে পারেন না। কারণ সেখানে পরিচিত অপরিচিত অনেকেই আপনাকে দেখছে!

ফেসবুকের নিউজ ফিডকে বলা যায় ভার্চুয়াল জগতের চৌরাস্তা। তাই এরপর থেকে যখন ফেসবুকে কোনোকিছু নিয়ে পোস্ট করবেন বা লাইভে যাবেন, একটা ব্যাপার মাথায় রাখবেন যে, চৌরাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে কি এই কথাগুলো বলতে পারতেন আপনি? যদি পারেন, তাহলে করে ফেলুন পোস্ট। না পারলে দয়া করে করবেন না, কারণ সেটিই হতে পারে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটার মৃত্যুর কারণ!

যাচ্ছেতাই কমেন্ট নয়

এটাকে বলা যায় সবচেয়ে দরকারি লেসন। আমরা ছোটবেলায় বাবা-মার কাছ থেকে সবাই এই শিক্ষাটা পেয়েছি যে, অপরিচিত মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হয়, আদব লেহাজের সাথে চলতে হয়। বাস্তব জগতের এই ভদ্রতাটা কিন্তু ভার্চুয়াল জগতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অথচ ফেসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে এ বিষয়টা বেমালুম ভুলে যাই।

কেউ একজন কিছু একটা পোস্ট করলো, তাতে আক্রমণাত্মক কমেন্ট, গালাগালি করা কিংবা হুমকি দেয়া কিন্তু একেবারেই ঠিক না! আপনি হয়তো ভাবছেন এ তো সামান্য ফেসবুক, এখানে একটু মারামারি করলে এমন আর কী হবে। কিন্তু এটা ফেসবুক বলেই আপনাকে খুব সহজে ট্র্যাক করা যাবে, ধরে ফেলা যাবে।

তাই কমেন্ট করার সময় একটু ভেবেচিন্তে করলেই দেখবেন আপনার ভার্চুয়াল লাইফ কত সুন্দর হয়ে গিয়েছে!

শেয়ারে সতর্ক হোন

কথায় বলে, গুজব তথা মিথ্যে খবর বাতাসের আগে ছড়ায়। ফেসবুক কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে সেই বাতাসের গতিও অনেকখানি বেড়ে গেছে। কোনো কিছু ফেসবুক বা ইউটিউবে দেখামাত্রই আমরা বিন্দুমাত্র চিন্তা-ভাবনা না করেই বিশ্বাস করে বসি। তারপর সেগুলোকে ছড়িয়ে দেওয়ায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখি। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব খবর বা তথ্যের সত্যতা থাকে না। তাই এ বিষয়গুলো বিশ্বাস করা বিশেষত শেয়ার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

ফেসবুককে বানিয়ে ফেলুন কার্যকর একটা জায়গা

  1. ফেসবুকেই হোক গ্রুপ স্টাডি
  2. একটি শেয়ারেই হবে স্বপ্নপূরণ
  3. সিভির প্রতিফলন ফেসবুকেও রাখুন
  4. প্রোফাইলে ফুটে উঠুক নিজের ব্যক্তিত্ব

ফেসবুকেই হোক গ্রুপ স্টাডি

বর্তমানে প্রায় সকলেই ফেসবুক ব্যবহার করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় সব ব্যাচেরই নিজেদের জন্যে একটা ফেসবুক গ্রুপ আছে। সেখানে তারা ডিপার্টমেন্টের নানা খবর, নোটিশ নিয়ে পোস্ট করে। আমার ছোটভাইকে সেদিন দেখলাম এই গ্রুপ আর ফেসবুক লাইভকে ব্যবহার করে চমৎকার একটা কাজ করছে। পরীক্ষার আগের রাতে সে তাদের ফেইসবুক গ্রুপে লাইভে গিয়েছে এবং সেখানে সে পরীক্ষা নিয়ে তার বন্ধুদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে! পড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে, কোন চ্যাপ্টারের কোথায় কী পড়তে হবে সব বলে দিচ্ছে সে।

আমার নিজের ফার্স্ট ইয়ারের কথা মনে হয়। আমরা তখন পরীক্ষার আগে আগে যে বন্ধুটা সবচেয়ে ভালো পড়া পারে, তাকে ঘিরে বসে পড়া বুঝে নিতাম। এই সমস্যার কি সুন্দর ডিজিটাল সলিউশান হয়ে গেল এভাবে! আপনাদের মধ্যে যে ভালো পড়া বোঝেন, সেটা যে বিষয়েই হোক, তা নিয়ে যদি আপনারা এভাবে আপনাদের গ্রুপে লাইভে যান, কী দারুণ হবে না ব্যাপারটা? এতে যে বন্ধুটা পড়াশোনায় দুর্বল তার যেমন উপকার হবে, তেমনি ভালো ছাত্রদেরও ঝালাই করে নেয়া হবে তাদের পড়াগুলো!

ফেসবুক
Source: pixabay.com

একটি শেয়ারেই হবে স্বপ্নপূরণ

এই আইডিয়াটা আমি পাই একটা ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে। আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ, আরিফ আর হোসাইন এর একটা স্ট্যাটাস থেকে!

একটা স্কুল বানানো হচ্ছিল। কিন্তু অর্থের অভাবে কাজটা আর এগোচ্ছিল না। আরিফ ভাইয়া একটা স্ট্যাটাস দিলেন। খুব সহজ কাজ। স্কুলটার জন্যে সবাইকে অনুরোধ করলেন একটা করে শেয়ার কিনতে। ৩০০ টাকার একটা শেয়ার। কিছুদিনের মধ্যেই প্রচুর মানুষ এই শেয়ার কিনে জোগাড় করে ফেললেন স্কুলের টাকাটা! একবার ভাবুন তো? আপনার শেয়ারের কারণে কত শিশুর মুখে হাসি ফুটছে? মনটাই ভালো হয়ে যায় না ভাবলে? এইভাবে একটা শেয়ার কেনার ভালো কাজের মাধ্যমে বিশাল একটা ভালো কাজের অংশ হয়ে গেলেন আপনিও! আর ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে এখানেও ঘটে গেল ছোটখাট একটা বিপ্লব!

সিভির প্রতিফলন ফেইসবুকেও রাখুন

চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো সিভি চেক করার পরপরই এখন সবার আগে চেক করেন প্রার্থীর ফেসবুক প্রোফাইল। তাই, সিভিতে নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা হিসেবে যা যা উল্লেখ করেছেন সেটার প্রতিফলন রাখুন আপনার ওয়ালেও।

প্রোফাইলে ফুটে উঠুক নিজের ব্যক্তিত্ব

আপনি যা যা করতে ভালোবাসেন, যেসব বিষয়ে আপনার আগ্রহ, যা যা করতে পারদর্শী সেই বিষয়গুলো যাতে আপনার প্রোফাইল ঘাঁটলেই বোঝা যায়। আপনার ব্যক্তিত্ব পুরোপুরিভাবে ফুটিয়ে তুলুন নিজের প্রোফাইলে।

মনে রাখবেন, ফেসবুকে যাচ্ছেতাই কমেন্ট/ পোস্ট করে শখানেক রিঅ্যাকশন পেলেই আপনি হিট নন। ফেসবুকের এই করণীয় এবং বর্জনীয় আদবকেতাগুলোকে অনুসরণ করতে পারলেই কেবল নিজেকে ফেসবুকে হিট বলে দাবী করতে পারবেন।

ফেসবুক গুজব থেকে দূরে থাকবে কীভাবে?

হিমু এবং আলী খুব ভালো বন্ধু। ক্লাস ওয়ান থেকে থেকে তারা একই স্কুলে পড়েছে। কিন্তু ক্লাস নাইনে থাকতে হঠাৎ একদিন তাদের বন্ধুত্ব ভেঙ্গে গেল। দুজনের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। একজন আরেকজনকে দেখলে উল্টো দিকে হাঁটা দেয়। কিন্তু এর কারণ কী?

সেই কারণটা আর কিছুই নয়, ফেসবুক! একদিন আলী ফেসবুক ব্রাউজ করতে করতে দেখল যে হিমু ফ্ল্যাট আর্থ সোসাইটি বাংলাদেশের ভিডিও শেয়ার করেছে।

আলী সেখানে গিয়ে কমেন্ট করল, “শুধু গাধারাই এ ধরণের ভিডিও শেয়ার করে।”

হিমু রিপ্লাই দিল, “পৃথিবী অবশ্যই চ্যাপ্টা! যারা তা স্বীকার করে না, তারা আহাম্মক!”

আলী তারপর অনেকগুলো লিঙ্ক দিল প্রমাণস্বরূপ যে পৃথিবী আসলে চ্যাপ্টা না। তখন হিমুর ফ্রেন্ডলিস্টের আরেকজন এসে পৃথিবী চ্যাপ্টা তার প্রমাণস্বরূপ আজেবাজে কিছু লিঙ্ক দিল।

হিমু তারপর লিখল, “দেখেছিস? পৃথিবী আসলেও চ্যাপ্টা!”

আলী লিখল, “বলদের মত কথা বলিস না তো! এই লিঙ্কগুলোর একটার তথ্যও তো সত্যি নয়!”

এরপর আলী ঘুমিয়ে পড়ল। পরদিন সকালবেলা উঠে দেখল যে হিমু তাকে ফেসবুকে ব্লক করে রেখেছে! শুধু তাই নয়, হিমু সেদিন রাতেই একটা বেশ স্ট্যাটাস দিয়েছে, সেখানে লিখেছে, “আলী এক মস্ত বড় আহাম্মক। এতদিন ওর সাথে বন্ধুত্ব রাখাটাই আমার ভুল ছিল! যারা বলে পৃথিবী গোল, তারা সবাই আহাম্মক! আহাম্মকেরা আমার ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে বেরিয়ে যাও!”, সেই স্ট্যাটাসে আবার শতশত লাইক, কমেন্ট, শেয়ার পেল। সবাই বলল যে হিমুই ঠিক, আলী আসলেই আহাম্মক! হিমুও এগুলো দেখে বেশ আত্নতৃপ্তি বোধ করল। এরপর থেকেই তাদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ।

ওপরের ঘটনাটা আমাদের বর্তমান সমাজের এক নিদারুণ বাস্তবতাকেই তুলে ধরে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো যখন প্রথম এল, তখন ধারণা করা হল যে এর মাধ্যমে অনেক গঠনমূলক আলোচনা হবে। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিষয়ের ক্ষেত্রে সহজেই মানুষের মাঝে মত বিনিময় সম্ভবপর হবে। সারা বিশ্বেই বিভিন্ন আন্দোলনের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেও।

তবে সময়ের সাথে সাথে দেখা যাচ্ছে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের আরও অসহিষ্ণু করে তুলছে। আমরা ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলছি, সহজেই রাগান্বিত হয়ে পড়ছি এবং অমূলক মতামত প্রদান করছি।

এক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ যত বেশি উগ্র মতামত প্রদান করে, সেই পোস্ট বা ছবি বা ভিডিও তত বেশি ভাইরাল হয়। গবেষণাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি বিষয়ে টুইটের উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এর মাঝে যে সকল টুইটে “moral-emotional” শব্দ, (যেমন: Hate) ছিল, সে সকল টুইটের রিটুইট হবার সম্ভাবনা অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ১৯% এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ২৯% বেড়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গঠনমূলক আলোচনার সুযোগ কমে যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যার মতামত যত বেশি উগ্র, তার কথার দাম তত বেশি।

এর ফলে উগ্র মতবাদ, ভুয়া খবর, গুজব ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ওয়েবসাইটগুলো এ ধরণের কন্টেন্টের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থাও নিচ্ছে না। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, এ ধরণের কন্টেন্টের দায়ভার মাধ্যমগুলির ওপর বর্তায়ও না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিটি ডিসেন্সি এক্টের ধারা ২৩০ অনুযায়ী কোন ওয়েবসাইট সেই ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারীর প্রদত্ত কোন পোস্টের জন্য দায়বদ্ধ নয়। এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটগুলো শুধুই প্ল্যাটফর্ম, পাবলিশার নয়। এই আইনটি করা হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে, তখনও ইন্টারনেটের ব্যাপ্তি এত বিশাল ছিল না।

কিন্তু পিউ রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ৬৮% মানুষের জন্য খবরের অন্যতম মূল উৎস হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। যদিও এর মাঝে ৫৭% মানুষ মনে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খবর অমূলক। কিন্তু বাকি ৪২% এর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের খবরকে সঠিক মনে করাও একটি বিশাল সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপ্তি বহুগুণে বেড়ে গেছে। এই ওয়েবসাইটগুলো এখন খবরের অন্যতম উৎস। তাই, তাদের ওয়েবসাইটে কী ধরণের কন্টেন্ট যাচ্ছে, সে ব্যাপারে তাদের অবশ্যই ওয়াকিবহাল হতে হবে।

অবশ্য কমিউনিটি ডিসেন্সি এক্টে বলা আছে ওয়েবসাইটগুলো যদি কোন কন্টেন্টকে আপত্তিজনক মনে করে, তবে তারা সেগুলো সরিয়ে ফেলতে পারে। সেই কাজটি বেশ কঠিন। কারণ, কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে স্বভাবতই মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়টি উঠে আসবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকারের একটি।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে ইতোমধ্যেই উগ্র জাতীয়তাবাদ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, দাঙ্গা, এমনকি জাতিগত নিধনও সাধিত হয়েছে। বাংলাদেশে রামুতে বৌদ্ধ বিহারে হামলার আগে ফেসবুক থেকেই গুজব ছড়ানো হয়েছিল। শ্রীলঙ্কাতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বন্ধ করতে সরকার কিছুদিনের জন্য ফেইসবুক বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল। জাতিসংঘের মায়ানমার বিষয়ক তদন্তকারী ইয়াংঘি লি বলেছিলেন যে ফেসবুক ব্যবহার করে মায়ানমারের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়েছিল ও আক্রমণ করেছিল উগ্রপন্থী বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদীরা।

ওয়েবসাইটগুলোতে সম্পাদনার কাজ যথাযথভাবে না হবার মূলত দুইটি কারণ রয়েছে। কারণগুলো হল:

মানুষকে অধিক সময় ওয়েবসাইটে রাখা:

এই ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদমের ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলি আমাদেরকে আমাদের পছন্দের ভিত্তিতেই পোস্ট দেখায়। সেক্ষেত্রে যদি কেউ বিশ্বাস করে পৃথিবী চ্যাপ্টা এবং এই সংক্রান্ত পেজে লাইক দেয় ও সেই বিষয়ে স্ট্যাটাস দেয়, তাহলে তার হোম পেজে সেই সংক্রান্ত স্ট্যাটাস, ছবি, ভিডিও বেশি আসবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এ ধরণের কাজ করার মূল কারণ হল, মানুষ তার পছন্দসই পোস্ট দেখলে বেশি সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করবেন, ফলশ্রুতিতে বিজ্ঞাপনও বেশি দেখবে এবং কোম্পানিগুলোর আয় বাড়বে। এজন্য তারা এ ধরণের এলগরিদম ব্যবহার করে থাকে। সেজন্য অনেক সময় বিতর্কিত কন্টেন্টের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

অপর্যাপ্ত কন্টেন্ট মডারেশন:

বর্তমানে ফেসবুকে ৭৫০০ এর বেশি কন্টেন্ট মডারেটর আছে। তাদের কাজ হচ্ছে খুন, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরণের হাজার হাজার ছবি, ভিডিও, পোস্ট ইত্যাদি দেখে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিতে থাকা উচিৎ কি না, সেই বিষয়টি নির্ধারণ করা। মডারেটররা এই ছবিগুলো দেখে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। ফেইসবুকের এক সাবেক কন্টেন্ট মডারেটর এজন্য ফেসবুকের নামে কেস করে দিয়েছে। তার দাবি, ফেসবুক তার কর্মচারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়ার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। তাছাড়া, বর্তমানে যারা এই কাজে নিয়োজিত, তাঁদের পক্ষে এই কাজ যথাযথভাবে করা কঠিন। কারণ, তাদের প্রতি ঘন্টায় হাজার হাজার পোস্ট রিভিউ করতে হয়। এমতাবস্থায় যথাযথভাবে কন্টেন্ট মডারেশন করা সম্ভব নয়।

এই সমস্যাগুলোর সমাধানে বর্তমানে দুটো পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন:

কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি এক্ট সংশোধন করা:

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা যে সকল পোস্ট, ছবি, ভিডিও শেয়ার করে থাকে, সেগুলোর ব্যাপারে ওয়েবসাইটগুলোকে দায়বদ্ধ করতে হলে কমিউনিকেশন্স ডিসেন্সি এক্ট সংশোধনের কোন বিকল্প নেই। এই আইনটি সংশোধন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলিকে পাবলিশার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তখন, ওয়েবসাইটগুলোতে মিথ্যা খবর কেউ পোস্ট করলে সেটি সরানোর দায়ভার সাইটগুলোর ওপর বর্তাবে।

কন্টেন্ট মডারেশন যথাযথভাবে করা:

ফেসবুক সিইও মার্ক জাকারবারগ প্রবল সমালোচনার মুখে বলেছেন যে ফেসবুক সামনে আরও কন্টেন্ট মডারেটর নিয়োগ দেবে এবং এক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার বাড়াবে। এই পদক্ষেপগুলো দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন। যথাযথভাবে কন্টেন্ট মডারেশন করা সম্ভব হলে গুজব, মিথ্যা সংবাদ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হানাহানি প্রভৃতি রোধ করা সম্ভব হবে।

এই পদক্ষেপগুলো নেয়া হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সমস্যা অনেকাংশেই কমে আসবে। তবে ব্যবহারকারী হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। আমাদের সকলেরই উচিৎ কোন খবর বিশ্বাস করার আগে নিজের বিবেক-বুদ্ধি কাজে লাগানো। কোনক্রমেই উত্তেজিত হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কোন ঘটনা কারো ঘটানো উচিৎ নয়।

এবার ফেইসবুকে সময় নষ্ট হবে আরো কম

আজকের ডিজিটাল যুগের ডিজিটালাইজেশনের অংশ হবার প্রথম শর্তই হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোর অংশ হওয়া। কিন্তু আমাদের এই প্রজন্মের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, আমরা ফেসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে এত বেশি সময় নষ্ট করি যার ফলে পিছিয়ে পড়ে আমাদের বাস্তব জীবন। অনেকে হয়ত মাঝে মাঝে “ধুর! কাল থেকে আর ফেসবুক ব্যবহার করব না।” এই ধরণের সংকল্প করলেও, সেই ‘কাল’টা আর আসে না। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে ফেসবুকের মত বৃহদাকারের সামাজিক যোগাযোগের সাইট থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা হয়তবা সম্ভব নয়। একারণেই এখন আপনাকে কিছু বুদ্ধি দিব যাতে করে আপনি ফেইসবুক ব্যবহারের সময়টাকে ফেসবুকে থেকেই আলাদা করে কাজে লাগাতে পারেন।

ফেসবুক ব্যবহার

  • বিভিন্ন ধরণের শিক্ষামূলক গ্রুপ/পেইজে জয়েন করে

ফেসবুকে এখন অনেক ধরণের শিক্ষামূলক গ্রুপ কিংবা পেইজ রয়েছে, যেমন ধরুন 10 Minute School LIVE!। এছাড়াও আপনি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা যেই শ্রেণীই অধ্যায়নরত থাকেননা কেন, প্রত্যেক শ্রেণীর জন্যই প্রচুর গ্রুপ রয়েছে যেখানে সারাদিন বিভিন্ন বিষয়ের সমস্যা সমাধান, নৈর্বেত্তিক পরীক্ষা ইত্যাদি চলতেই থাকে। তাই এসব গ্রুপে জয়েন করা থাকলে আপনার ‘নিউজফিড’-এ সারাদিন এখানকার পোস্টগুলো আসতে থাকবে এবং আপনি ফেসবুকিং করতে করতেই শিখে যাবেন অনেক কিছু, পেয়ে যাবেন অনেক রকম সমস্যার সমাধান।

  • নিজের শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে গ্রুপ খুলে

একটা শ্রেণীতে বিভিন্ন ধরণের মেধার অধিকারী শিক্ষার্থী থাকে, আমরা যতটুকু সময় প্রতিষ্ঠানে কাটাই, তাতে সবার সাথে যোগাযোগ করাটা আমাদের জন্যে যেমন সহজ হয় না তেমন সহজ হয় না শিক্ষকদের জন্যও। এ কারণেই, নিজেদের শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য ফেসবুকে যদি আলাদা করে একটা গ্রুপ খোলা যায়, তবে সেখানে বিভিন্ন নোট, সাজেশন ইত্যাদি একজনের থেকে সবাই পেতে পারে। আবার একটু মেধাবী যারা, তারা ঐ গ্রুপের মাধ্যমে কম মেধাবী শিক্ষার্থীটাকে বিভিন্ন পড়া বুঝিয়ে দিতে পারে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন নোটিশও সেই গ্রুপের মাধ্যমে সবাই জানতে পারে।

  • অন্যান্য ভাষাভাষীদের সাথে বন্ধুত্ব করে

ফেসবুকে স্বদেশী মানুষদের সাথে সাথে ভিনদেশী, বিশেষ করে ইংরেজী ভাষাভাষীদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। এতে করে আপনার তাদের সাথে কথা বলতে গেলে ইংরেজী ভাষার চর্চা হবার পাশাপাশি টুকটাক অন্যান্য ভাষাও শেখা হবে। হ্যাঁ আমি জানি যে, এই পয়েন্টটা পড়ে আপনার একটু হাসি পাচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, যেকোনো ভাষা আয়ত্তে আনার জন্য ‘ইনফর্মাল পদ্ধতি’ই কিন্তু সেরা! আর এই টুকটাক ভাষা শেখা কিন্তু অনেক জায়গায় আপনার অনেক উপকারে আসবে।

  • বাংলার পাশাপাশি ইংরেজীতে স্ট্যাটাস দিয়ে এবং চ্যাট করে

আপনার স্ট্যাটাসটা আপনি বাংলার পরিবর্তে ইংরেজীতে দিলে এবং চ্যাট করতে গিয়ে ইংরেজী ভাষা ব্যবহার করলে কিন্তু আপনার ইংরেজী অনেকটা শুধরে যাবে। এর পাশাপাশি, ফেসবুকে কিছু ‘গ্রামার নাৎসি’ রয়েছে যাদের কাজই হচ্ছে আপনার ইংরেজী স্ট্যাটাসের ভুল ধরা। আপাতদৃষ্টিতে এদের যতই বিরক্তিকর লাগুকনা কেন, পরোক্ষভাবে এরাও কিন্তু আপনার স্কিল ডেভেলপমেন্টের কাজটা করে যাচ্ছে। এবং ইংরেজী ব্যবহারের সময় অবশ্যই শর্টফর্ম পরিত্যাগ করে যথাসম্ভব ফর্মাল হবার চেষ্টা করবেন। নাহলে কিন্তু আমার এক বান্ধবীর মত, পরীক্ষার খাতায় ‘Going to’ এর জায়গায় ‘Gonna’ লিখে দিয়ে আসবেন এবং শিক্ষক সুন্দর করে কেটে দিয়ে পাশে লিখে দিবে, “এসব কি?!”

এই ছিল ফেসবুককে আপনি কীভাবে স্কিল ডেভেলপমেন্টের কাজে ব্যবহার করতে পারেন তার পদ্ধতি। এরপরও যদি আপনার মনে হয় যে, “নাহ! ফেসবুক অনেক সময় নষ্ট করছে, এবার একে ছেড়ে দেয়া উচিৎ” তবে আমি বলব যে, বিংশ শতাব্দীতে এসে ফেসবুক ব্যবহার ছেড়ে দেয়া মানে হচ্ছে সুবিশাল এক নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। তাই, এর ব্যবহার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে বরং কমিয়ে আনুন।

আর যেহেতু এর ব্যবহার চাইলেই কমানো যায়না তাই আপনাকে এখন কিছু পদ্ধতি বলব যা আপনাকে ফেসবুক থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে:

  • পিসি কিংবা সেলফোনের ওয়ালপেপারে নিজের ‘গোল’ এর ছবি রাখুন

মনে করুন, আপনার লক্ষ্য হচ্ছে ঢাবির এফবিএসে ভর্তি হওয়া। তাহলে আপনি ওয়ালপেপারে এফবিএসের সুন্দর একটা ছবি দিয়ে রাখুন। এতে করে আপনি যতবার সেলফোন/পিসি অন করবেন ততবার আপনার সেই লক্ষ্য অর্জনের কথা মনে পড়ে যাবে এবং আপনি নিজে থেকেই ফেসবুক ব্যবহার করা কমিয়ে দিবেন।

  • ফোনের চার্জ ৫০% এর নিচে রাখুন

ফোনে যদি চার্জই না থাকে তাহলে অনেক সময় নিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করবেন কীভাবে? তাই ফোনে ঠিক ততটুকু পরিমাণ চার্জ দিন যতটুকু দিলে আপনি শুধুমাত্র আপনার জরুরী কাজগুলোই করতে পারবেন।

  • সবুকে অতিরিক্ত এবং অযথা পোস্ট দেয়া থেকে বিরত থাকুন

আপনি ফেসবুকে যত বেশি পোস্ট দিবেন, আপনার নোটিফিকেশনও তত বেশি আসবে। এভাবে আপনার সময়টাও বেশি অপচয় হবে। তাই সময় বাঁচাতে হলে পোস্টের পরিমাণ সীমিত রাখুন।

  • বিভিন্ন ধরণের গেইম খেলা বন্ধ করুন

ফেসবুক গেইম গুলো একরকমের নেশার সৃষ্টি করে। একবার গেইম খেলা শুরু করলে, সেগুলোর টানেই আপনাকে বারবার ফেসবুকে লগ-ইন করতে হবে। তাই সময় অপচয় না করতে চাইলে এসব গেইম খেলা থেকে বিরত থাকুন।

  • অতিরিক্ত গ্রুপগুলো থেকে লিভ করুন

একেবারেই প্রয়োজনীয় গ্রুপগুলো বাদে বাকি গ্রুপ গুলোতে না থাকাই ভাল কেননা হরেক রকমের গ্রপ থেকে হরেক রকমের পোস্টে যখন আপনার নিউজফিড ভাসবে, তখন আপনি না চাইলেও ফেসবুক ব্যবহার করে আপনার অনেকটা সময় ব্যয় হয়ে যাবে।

সবশেষে বলব যে, যেকোনো অভ্যাস বদলানোর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিষটা হচ্ছে আপনার ইচ্ছাশক্তি। যতদিন না আপনি নিজে থেকে দৃঢ়ভাবে ঠিক করে নিচ্ছেন যে কাল থেকে ফেসবুকে অযথা সময় অপচয় বন্ধ করব না, ততদিন আপনাকে কেউ সাহায্য করতে পারবে না।

ফেসবুক ব্যবহার
Source: pixabay.com

শেষ কথা

ফেসবুক ব্যবহার এখন আর কেবল বিনোদনের অংশ নয়। যেহেতু এটি একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সেহেতু সমাজের মত এখানেও কিছু অলিখিত সামাজিক নিয়মকানুন আছে। যেগুলো মেনে চললে একটি হেলদি ফেসবুক লাইফ সকলেই উপভোগ করতে পারবে। সেজন্যই মূলত এই লেখাটি। আশা করছি সবাই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েই ফেসবুক ব্যবহার করবেন।


আমাদের কোর্সগুলোতে ভর্তি হতে ক্লিক করুন:

  1. Microsoft Word Course (by Sadman Sadik)
  2. Microsoft Excel Premium Course (by Abtahi Iptesam)
  3. Microsoft PowerPoint Course (by Sadman Sadik)
  4. Microsoft Office 3 in 1 Bundle
  5. ঘরে বসে Spoken English Course (byMunzereen Shahid)

  1. Facebook Marketing Course (byAyman Sadiq and Sadman Sadik)
  2. Digital Marketing Bundle Course
  3. SEO Course for Beginners (by Md Faruk Khan)
  4. Communication Masterclass Course (by Tahsan Khan)
  5. Data Entry দিয়ে Freelancing Course (by Joyeta Banerjee)

১০ মিনিট স্কুলের ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারেন এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com


আপনার কমেন্ট লিখুন