বিশ্বসেরা দশ কিশোর ক্লাসিক

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

বই পড়তে আমরা সবাই ভালোবাসি। বইপ্রেমীদের জন্য বিশ্বসেরা ক্লাসিক বইগুলোর আবেদন অন্যরকম। তুমি যদি বইপাগল হয়ে থাকো তবে এই বইগুলো একদমই মিস করা যাবে না। বিশ্বসেরা এই ক্লাসিক বইগুলো অনেক ভাষায় অনুদিত হয়েছে৷ কয়েকটি অসাধারণ কিশোর ক্লাসিক সম্পর্কে জেনে আসি:

১. অ্যাডভেঞ্চার অব টম সয়্যার:

বই পড়ে কিন্তু মার্ক টোয়েনকে চেনে না এমন মানুষ কম আছে। অ্যাডভেঞ্চার গল্প প্রিয় প্রতিটি মানুষের প্রিয় লেখক মার্ক টোয়েন। ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব টম সয়্যার’। প্রকাশের পর তুমুল জনপ্রিয় এই বই সব দেশের কিশোরদের প্রিয় বইয়ের তালিকায় উঠে আসে। এরপর ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন’। এই বইটিও অসম্ভব জনপ্রিয়তা পায়।

কেন এই বই সর্বকালের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ কিশোর ক্লাসিক? তাহলে একটু কাহিনীটা জেনে আসা যাক। গল্পটা শুরু হয় টম নামের এক দুষ্টু বালককে নিয়ে। তার জ্বালায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। সে থাকে তার পলি খালার সাথে। তার সৎ ভাই সিডের সাথে তার সাপে নেউলে সম্পর্ক। তার দুষ্টুমির সব খবর সিডের মাধ্যমে পলি খালার কাছে চলে যায়। তবে টমের দুষ্টুমি চলতেই থাকে।

এদিকে তার বন্ধু হাকলবেরি ফিন এক ভবঘুরে ছেলে। টমের সকল অ্যাডভেঞ্চারের সঙ্গী সে। তাদের এই নানাবিধ অ্যাডভেঞ্চারের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে থাকে গল্পের কাহিনী। একরাতে ভেলা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে তারা মিসিসিপি নদীতে। সেখানে এক দ্বীপে একটা গুহার সন্ধান পায় তারা। এখন সেই গুহায় গুপ্তধন খুঁজতে গিয়ে কি তারা বিপদের মুখে পা দিতে চলেছে? জানতে হলে এখনই পড়া শুরু করে দাও বইটি।

২. অ্যাডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন:

১৮৮৪ সালে প্রকাশিত মার্ক টোয়েনের ‘অ্যাডভেঞ্চার অব হাকলবেরি ফিন’-এর হাকলবেরি ফিনকে আমরা প্রথম দেখি লেখকের রচিত ‘টম সয়্যার’-এ। মদ্যপ পিতার খপ্পর থেকে পালাচ্ছে ১৪ বছর বয়সের হাক, তার সঙ্গে নিগ্রো দাস জিম। আমেরিকার দক্ষিণে, মিসিসিপি-আলাবামা অঞ্চলে সে সময় দাসব্যবস্থার ব্যাপক প্রচলন। সেই দক্ষিণ ছেড়ে জিম পালাচ্ছে মুক্তির আশায়।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

আমেরিকার উত্তরে অনেক রাজ্যে তত দিনে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হয়েছে। সেখানে কোথাও আশ্রয় মিললে সে মুক্তি পাবে, তার পরিবারের সদস্যদের মুক্তি আদায়ও তার পক্ষে হয়তো সম্ভব হবে। পলায়নরত দাসদের ধরার জন্য তখন চারদিকে সাদা মানুষ ওত পেতে বসে আছে। কেউ ধরা পড়লেই তার শাস্তি গাছের ডালে ঝুলিয়ে ফাঁসি। বয়সের বিস্তর ফারাক সত্ত্বেও জিমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে হাক ফিন, তাকে আশ্রয় দেয় নিজের নৌকায়।

দাসপ্রথা খুব খারাপ কিছু, এ কথা হাকের মনে আগে কখনো জাগেনি। দাসপ্রথার বিলোপ হোক, এ কথাও সে আগে কখনো ভাবেনি। কিন্তু যতই জিমের সঙ্গে তার পরিচয় ঘন হয়, তার ভেতর সে একজন চমৎকার মানুষের খোঁজ পায়। নিগ্রো বলে ঘৃণ্য কিছু নয়, জিম তারই মতো একজন মানুষ, যে তার মতোই মুক্ত জীবনের স্বাদ পেতে চায়। জিমকে সে পালাতে সাহায্য করে। তাদের এই মুক্তির অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনী নিয়ে ক্লাসিক এই বইটি রচিত।

৩. আঙ্কেল টমস কেবিন:

১৮৫২ সালে প্রকাশিত হ্যারিয়েট বিচার স্টো-এর লেখা ‘আঙ্কেল টমস কেবিন’ সেই সময়ের দাস প্রথা নিয়ে লেখা। ১৯ শতকে সর্বাধিক বিক্রির শীর্ষে ছিল এই বই। ধারণা করা হয় বাইবেলের পর এই বই বিক্রির হার সবচেয়ে বেড়ে গিয়েছিল। প্রকাশের প্রথম বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বইটির ৩০০,০০০ কপি বিক্রি হয়। আর গ্রেট ব্রিটেনে এক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়। ১৮৫৫ সালে প্রকাশের ৩ বছরের মাথায় এটি সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস হয়ে ওঠে। আমেরিকার গৃহযুদ্ধে এই বই ভূমিকা রাখে।

এক নিগ্রো ক্রীতদাসের অটোবায়োগ্রাফি পড়ে এই বই লেখার অনুপ্রেরণা পান হ্যারিয়েট। কাহিনী জেনে আসা যাক। কেন্টাকির এক ফার্মের মালিক আর্থার শেলবি অর্থাভাবে পড়েন। তিনি ও তার স্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন তাদের বিশ্বস্ত ক্রীতদাস টম, আরেকজন মহিলা ক্রীতদাস এলিজা ও তার ছেলে হ্যারিকে বিক্রি করবে। তারা মনিব হিসেবে খুবই ভালো ছিলেন। কিন্ত আর কোন উপায় ছিল না। এদিকে এলিজা ব্যাপারটা বুঝতে পেরে তার ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যায় টমের সহায়তায়।

শেলবি দম্পতির ছেলে জর্জ তার প্রিয় আঙ্কেল টমের এই অবস্থা দেখে কষ্ট পায়। নানা ঘটনাক্রমে টমকে কিনে নেয় আগাস্টিন ক্লেয়ার। তার মেয়ে ইভার সাথে টমের বন্ধুত্ব হয়ে যায়৷ তার প্রিয় আঙ্কেল টমের সাথে দিনকাল ভালোই কাটতে থাকে। কিন্ত এক কঠিন অসুখ হয় ইভার। আরো নানা ঘটনায় টম অন্য মালিকের কাছে যায়। এবারের মালিক ছিল অত্যাচারী। ওদিকে প্রথম মালিকের ছেলে জর্জ তার প্রিয় আঙ্কেল টমের মুক্তির জন্য চেষ্টা করতে থাকে৷ কিন্ত ততদিনে কি খুব বেশি দেরি হয়ে গেলো? জর্জ কি পারবে আঙ্কেল টমকে উদ্ধার করতে? সমাজের এই জঘন্য ক্রীতদাস প্রথাকে ভাঙতে?

৪. ট্রেজার আইল্যান্ড:

১৮৮৩ সালে প্রকাশিত হয় রবার্ট লুই স্টিভেনসনের ক্লাসিক একটি বই ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’। জিম হকিন্স নামে এক রোমাঞ্চপ্রিয় কিশোর বাস করে সমুদ্র তীরের এক শহরে। জিমের মা সেখানে একটি সরাইখানা পরিচালনা করে এবং জিম তাকে সাহায্য করে। ওদের সরাইখানা অ্যাডমিরাল বেনবোয় এসে উঠল বেয়াড়া, কর্কশ স্বভাবের এক নাবিক। কাদের ভয়ে যেন আতঙ্কিত হয়ে রয়েছে লোকটা সারাক্ষণ। জিমকে বলল, এক-পা খোঁড়া কোন নাবিক দেখলে যেন চট করে খবর দেয় তাঁকে। কিন্তু কিছুতেই কোন লাভ হল না, বেশিদিন লুকিয়ে থাকতে পারল না বেচারা, ঠিকই খুঁজে বের করল ওকে দুর্ধর্ষ একদল জলদস্যু।

এরপর থেকে আশ্চর্য সব ঘটনা ঘটতে শুরু করল জিমের জীবনে। লোকটি হঠাৎ মারা গেলে তার একটি সিন্দুক থেকে একটি মানচিত্র পাওয়া যায়। যেখানে আঁকা রয়েছে রত্নদ্বীপে যাওয়ার সমুদ্রপথ। শেষে জাহাজে চেপে চলল সে রত্নদ্বীপে। জিম, ডাক্তার লিভজি, মিঃ ট্রলনি আর রেডরুথ এবং আরো কয়েক জন হিসপানিওলা নামক একটি জাহাজে করে সমুদ্রযাত্রা শুরু করে, গুপ্তধনের খোঁজে।

তাদের সাথে বাবুর্চির কাজে যোগ দেয় এক পা নেই লং জন সিলভার। তার আসল পরিচয় তখনও কেউ জানে না। তার একটি পোষা টিয়ে পাখি ছিল। পাখিটিকে সে ক্যাপ্টেন ফ্লিন্ট বলে ডাকতো। ঘটনাচক্রে আপেলের পিপের ভেতর বসে জিম শুনে ফেলে জন সিলভারের চক্রান্তর কথা। জন সিলভার আসলে জলদস্যু ক্যাপ্টেন ফ্লিন্টের সহযোগি ছিল। জিমের কাঁধে এসে পড়ে বিশাল এক দায়িত্ব। নিজে বাচঁতে হবে এবং বাচাঁতে হবে অনেককে। জিম কি পেরেছিল বাচাঁতে? গুপ্তধন পাওয়ার পর কী হয়েছিল? জানতে হলে পড়তে হবে ট্রেজার আইল্যান্ড নামের এই ক্লাসিক উপন্যাসটি।

৫. ব্ল্যাক বিউটি:

১৮৭৭ সালে প্রকাশিত ‘ব্ল্যাক বিউটি’ আনা সোয়েলের প্রথম এবং শেষ বই। বইয়ের কাহিনী জানার আগে আমরা একটু আনার জীবন কাহিনী জেনে আসি। শৈশবে প্রাণোচ্ছল ছিলেন আনা। তারা ততটা স্বচ্ছল ছিলেন না। তার বাবার চাকরিস্থল ছিল বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে বাবাকে রেলস্টেশনে পৌঁছে দিতেন আনা। এ সময়ই ঘোড়াদের সাথে আত্নিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। তবে একদিন ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যায় আনার। এরপর ধীরে ধীরে পঙ্গু হয়ে যান তিনি। বিছানায় শুয়ে তিনি এই গল্পটি বলেন। তার মা সেটি লিখতেন। এভাবে অনেক বছর পর গল্পটি শেষ হয়।

বইটি যখন প্রকাশিত হয় তখন তার বয়স সাতান্ন। এর কয়েকমাস পর তিনি মারা যান। গৃহপালিত পশুকে নিয়ে এরকম বই লেখা হয়নি কখনো। আজও কিশোরদের অন্যতম প্রিয় বই ‘ব্ল্যাক বিউটি’। ব্ল্যাক বিউটি হল কালো রঙের একটা ছোট্ট ঘোড়ার বাচ্চা। মনিবের সযত্ন পরিচর্যায় বেড়ে উঠছে দিনে দিনে। কিন্তু কপালে তার সুখ সইল না। একটু বড় হয়ে উঠতেই লাগিয়ে দেয়া হলো গাড়ি টানার কাজে। কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হলো ভারী কলার, পিঠে জিন, চোখে ঠুলি। কেড়ে নেয়া হলো তার স্বাধীনতা। তবু আপন বৈশিষ্ট্যে ব্ল্যাক বিউটি ঠিকই আর সবার থেকে স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে। এই ব্ল্যাক বিউটিকে নিয়েই বইয়ের কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে।

৬. সুইস ফ্যামিলি রবিনসন:

জোহান ওয়েজের ‘সুইস ফ্যামিলি রবিনসন’ একটা অসাধারণ ফ্যামিলি অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনী। দারুণ রোমাঞ্চকর এক উপন্যাস। উপন্যাসের শুরুটা হয় এভাবে যে, টানা ছ’দিন ঝড়ের কবলে থেকে সপ্তম দিনে ডুবো পাথরে ধাক্কা খেয়ে চূর্ণ বিচূর্ণ হল জাহাজ। সব কটা নৌকা নিয়ে চলে গেছে নাবিকরা। ভগ্ন জাহাজে আটকে আছে রবিনসন দম্পতি এবং তাদের চার সন্তান। ভাগ্য ওদের ভালো যে জাহাজ ডুবে না গিয়ে আটকে আছে ডুবো পাহাড়ে। বাঁচার তাগিদে কাঠের পিপে থেকে নৌকা তৈরি করে তাতে চেপে বসে ওরা।

আবিষ্কার করো পাওয়ারপয়েন্ট এর খুঁটিনাটি!
পাওয়ার পয়েন্টকে এখন আমাদের জীবনের অনেকটা অবিচ্ছেদ্য একটা অংশ বলা যায়। ক্লাসের প্রেজেন্টেশান বানানো কী বন্ধুর জন্মদিনের ব্যানার, সবক্ষেত্রেই এর ব্যাপক ব্যবহার।  

একসময় সাগর বুকে খুঁজে পায় একটা দ্বীপ। জেগে ওঠে বেঁচে থাকার আশা। দ্বীপে আশ্রয় নেয় ওরা। ধীরেধীরে ভগ্ন জাহাজ থেকে মালামাল এনে সাজিয়ে তোলে দ্বীপটা। আবাদ করে নানা ধরনের ফসল। আর জাহাজ থেকে আনা গরু, ছাগল, শুয়োর, হাস, মুরগি থেকে তৈরি হয় বিশাল খামার। একসময় পরিত্যক্ত দ্বীপটা হয়ে ওঠে স্বপ্নের রাজ্য। দ্বীপের বিভিন্ন স্থানের নামকরণ করা হয়- সেফটি বে, টেন্ট হাউস, ফ্যালকন’স নেস্ট, জ্যাকল রিভার ইত্যাদি নামে। যেন দ্বীপটা একটা দেশ। নানা ধরনের আনন্দ, রোমাঞ্চ, শংকা এবং অভিযানে দেখতে দেখতে কেটে যায় দশটি বছর!

এতদিনে কোন সভ্য কিংবা অসভ্য কোন মানুষ চোখে পড়েনি ওদের। ওরা সবাই সিদ্ধান্ত নেয় সুযোগ আসলেও এ দ্বীপ ছেড়ে কখনো যাবেনা। এখানেই পরম সুখে আছে সবাই। সত্যিই কি ওরা থেকে গিয়েছিল সেই অজানা দ্বীপে? জানতে হলে ক্লাসিক এই বইটি পড়া শুরু করতে হবে। আর একবার শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত অন্য কাজে মনই বসবে না।

৭. রবিনসন ক্রুসো:

১৭১৯ সালে প্রকাশিত হয় ড্যানিয়েল ডিফোর বিস্ময়কর চিরন্তন কিশোর ক্লাসিক অ্যাডভেঞ্চার রবিনসন ক্রুসো। রবিনসন ক্রুসো তার জীবনকাহিনী বলতে থাকে, কীভাবে ২৭ বছর একটি নির্জন দ্বীপে আটকা পড়ে থাকেন তিনি। বাবা মার ইচ্ছা ছিল ক্রুসো আইন নিয়ে পড়বেন। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি সমুদ্রযাত্রা করেন। জাহাজে জলদস্যু আক্রমণ করে৷ ক্রুসোকে দাসে পরিণত করে। দুই বছর পরে ক্রুসো একটি নৌকা করে জুরি নামের এক বালককে নিয়ে সেখান থেকে পালান। তারপর তিনি একটি জায়গায় থাকতে শুরু করেন।

কয়েক বছর পরে ক্রুসো আফ্রিকা থেকে দাস আনার জন্য একটি অভিযানে যান কিন্তু পথিমধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের জাহাজ বিধ্বস্ত হয় এবং তিনি সমুদ্র থেকে ৪০ মাইল দূরে একটি দ্বীপে আশ্রয় নেন। তিনি ঐ দ্বীপে পেঙ্গুইন এবং সীল দেখেন। তিনি ছাড়া বাকি আর তিনটি প্রাণী ঐ দ্বীপে তার সাথে জীবিত রয়েছে- একটি হচ্ছে ক্যাপ্টেনের কুকুর এবং অন্য দুইটি বিড়াল। ক্রুসো তার হতাশাকে জয় করে ভাঙ্গা জাহাজ থেকে অস্ত্র, যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য দরকারি জিনিস নিয়ে আসেন।

তিনি একটি গুহার কাছে বেড়া দিয়ে তার বাসস্থান তৈরি করেন। কাঠের ক্রসের উপর চিহ্ন দিয়ে তিনি ক্যালেন্ডার তৈরি করেন। যেসব যন্ত্রপাতি তিনি জাহাজ থেকে উদ্ধার করেছিলেন সেগুলো এবং কিছু তিনি নিজে লোহা-কাঠ দিয়ে তৈরি করেছিলেন। সেগুলো দিয়ে তিনি শিকার শুরু করেন, বার্লি এবং ধান উৎপাদন করেন, আঙ্গুর থেকে কিসমিস, মাটির জিনিস পত্র তৈরির কৌশল রপ্ত করেন এবং ছাগল পালন করেন।

তিনি একটি তোতা পাখিও পুষেন। শেষের ক’বছর ফ্রাইডেকে পান সাথী হিসেবে। সে এক রোমহর্ষক ঘটনা। নরখাদক বর্বরদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করার আশ্চর্য সেই কাহিনী। আরো আশ্চর্য ঘটনা হল দ্বীপ থেকে সভ্য জগতে ফিরে আসার ঘটনা। তারপর নতুন আরেক অভিযান। সে অভিযানে ভয়ঙ্কর অরণ্য। অপ্রতিরোধ্য নেকড়ে। আর ভয়াল ও ভয়ার্ত তাদের ডাক। তাদের থেকে নিজেকে আত্মরক্ষার প্রাণানন্তকর চেষ্টা। আর এসবের সাথে রয়েছে পাতায় পাতায় এ্যাডভেঞ্চার ও রোমাঞ্চ। রবিনসন ক্রুসো সর্বকালের জনপ্রিয় কিশোর ক্লাসিক।

৮. ড. জেকিল ও মি. হাইড:

রবার্ট লুই স্টিভেনশনের বিখ্যাত ক্লাসিক বই ‘ড. জেকিল ও মি. হাইড’ প্রকাশিত হয় ১৮৮৬ সালে। ভিন্ন ধাঁচের একটি চমৎকার রোমাঞ্চকর কাহিনী হিসবে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই বই। ডাক্তার জেকিল নিজের ব্যবহারের জন্য একটি ঔষধ আবিষ্কার করতে সক্ষম হন যেটি ব্যবহার করলে তিনি বিপরীত চরিত্রের একজন মানুষে পরিণত হয়ে যাবেন অর্থাৎ তার মনের যেসব খারাপ দোষ রয়েছে সেগুলো মুখ্য হয়ে উঠবে এবং তিনি সেভাবেই ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করবেন। আবার আর একটি ঔষধ প্রয়োগ করে তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আসতে পারবেন।

এভাবেই ডাক্তার তার মধ্যকার ভালো এবং মন্দ এই দুটো স্বভাবকে নিয়ে একই দেহের ভিতর দুটি মানুষকে লালন পালন করতে শুরু করলেন। খারাপ মানুষটির নাম দিলেন মিস্টার হাইড। এরকমভাবে তিনি দিনের বেলায় ডক্টর জেকিল এবং রাতে মিস্টার হাইড হয়ে জীবনযাপন করতে থাকেন। এক সময় এমন পরিস্থিতি হলো যে, তিনি না চাইলেও মিস্টার হাইডে রূপান্তরিত হতে লাগলেন। দেখা গেলো যে তার দ্বিতীয় ঔষধ যা প্রয়োগ করে তিনি মিস্টার হাইড থেকে ডক্টর জেকিল হতেন তা আর কাজ করছে না। ফলে তার মনুষ্যত্বের বদলে পশুত্ব স্থায়ী হতে লাগল। এ অবস্থায় কি তিনি কোন বিপদ ঘটাতে চলেছেন? তিনি কি পারবেন আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে?

৯. রবিনহুড:

১৮৮৩ সালে হাওয়ার্ড পাইলের ‘রবিনহুড’ প্রকাশিত হয়। রবিনহুড ছিলেন গল্প ও কবিতার এক কিংবদন্তি ডাকাত। কিন্তু ডাকাতের সঙ্গে আছে এর মৌলিক পার্থক্য। ডাকাতদের সাধারণত মানুষ ঘৃণা করে, কিন্তু রবিনহুড সবার কাছে নায়ক। ভাবছো, এ আবার কেমন কথা? রবিনহুড ডাকাতি করতেন ধনী ও লোভী মানুষদের ঘরে। এরপর সেগুলো কখনোই নিজে ভোগ করতেন না। বিলিয়ে দিতেন গরীব অসহায় মানুষদের মাঝে।

রবিনহুড বাস করতেন শেরউড জঙ্গলে। The Legend of Sherwood রবিনহুড, নামটি শুনলেই সবুজ কাপড় পরিহিত এক চৌকস দস্যু ও তীরন্দাজের ছবি মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। রবিনহুডের সহকারী লিটল জন। কাউকে হত্যা করতেন না। তবে কেউ যদি তাদের বাধাদান বা আক্রমণ করত, তখন তারা আক্রমণকারীদের প্রতিহত করতেন। রবিনহুড ছিলেন অসাধারণ তীরন্দাজ। তার ধনুকের তীর বন্দুকের গুলির চেয়েও লক্ষ্যভেদী ছিল। তিনি চোখ বেঁধেও লক্ষ্যভেদ করতে পারতেন তীর দিয়ে। তার পৃষ্ঠদেশে ঝোলানো থলিতে ১০০টি করে তীর থাকত। যে কোনো রকমের যুদ্ধকৌশলে তিনি ছিলেন পারদর্শী। মানুষের কাছে সর্বকালের হিরো রবিনহুড। তাইতো বইটি সেরা ক্লাসিক বইয়ের তালিকায় রয়েছে!

১০. ডেভিড কপারফিল্ড:

১৮৫০ সালে প্রকাশিত হয় চার্লস ডিকেন্সের ‘ডেভিড কপারফিল্ড’। জন্মের আগেই পিতৃহারা ডেভিড কপারফিল্ড। মায়ের স্নেহ-মমতায় বড় হচ্ছিল সে একটু একটু করে। কিন্তু বিপদ ঘনিয়ে এলো তখনই, যখন তার মা তাকে কিছু না জানিয়েই আবার বিয়ে করে বসলেন। সৎ-বাবা আর ফুপুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠল ডেভিডের জীবন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শাস্তি তাকে পাঠিয়ে দেয়া হলো বোর্ডিং স্কুলে। তবু সে হার মানে না। তাকে যে জয়ী হতেই হবে জীবন যুদ্ধের এ লড়াইয়ে!

‘So many books, so little time’-এটা আমরা কে না জানি। আর এটাও জানি ‘better late than never’। তাহলে আর দেরি কেন? বিশ্বসেরা এই কিশোর ক্লাসিক বইগুলো পড়া শুরু করে দাও এক্ষুনি।

সূত্রঃ

১। www.goodreads.com
২। www.rokomari.com


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Subah Alam
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?