ফারাও: দ্য লর্ডস অফ টু ল্যান্ডস

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

’এক যে ছিলো রাজা, আর এক যে রানী’ ……. রূপকথার গল্পগুলো এমনি করেই শুরু হয়। রূপকথার গল্প হয়তো সত্যি না হতে পারে, তবে রাজা রানীর ঘটনা কিন্তু একদম সত্য!

প্রাচীন পৃথিবীতে সত্যি সত্যিই রাজা-রানী ছিলো, প্রাসাদ ছিলো, সৈন্যবাহিনী ছিলো। তবে একেক সভ্যতায় রাজাকে আলাদা আলাদা নামে ডাকা হতো।

প্রাচীন মিশরের রাজাদের বলা হতো ফারাও। পৃথিবীর অন্যান্য রাজাদের তুলনায় ফারাওরা ইতিহাস বিখ্যাত হয়েছেন তাদের কীর্তির জন্য। ফারাওরা যে শুধু রাজা ছিলেন তা নয়, তাঁরা ছিলেন মিশরের ঈশ্বরও!


ফারাও

ফারাও শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে। প্রাচীন মিশরে পের-ও শব্দটির অর্থ ছিলো রাজার বাড়ি। খ্রিষ্টপূর্ব ১৪৫০ অব্দে এই শব্দটি দিয়ে রাজাকে বােঝানাে হতো।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে! The 10-Minute Blog!

খ্রিষ্টপূর্ব ৩০ অব্দে রােমানদের মিশর বিজয়ের আগ পর্যন্ত প্রাচীন মিশরের সকল রাজারাই ফারাও হিসেবে পরিচিত ছিলেন । মিশর বা ইজিপ্টের দুইটি ভাগ ছিলো, আপার ইজিপ্ট ও লােয়ার ইজিপ্ট। দুইভাগেরই সকল ভূমির মালিক ছিলেন ফারাও। প্রজা ও দেবতা মাঝখানে ছিল তাদের অবস্থান ।

আপার ইজিপ্ট ও লোয়ার ইজিপ্ট এক হওয়ার পরে ইজিপ্টের প্রথম রাজা ছিলেন মেনেস। কিন্তু তাঁর সম্পর্কে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন খুব বেশি পাওয়া যায়নি। এ কারণেই অধিকাংশ ঐতিহাসিক মনে করেন, মেনেস হয়তাে বা নারমার (Narmer) অথবা আহ (Aha) নামে পরিচিত ছিলেন।

ফারাওদের বিভিন্ন স্থাপনা এখনও টিকে আছে। তবে অনেক ফারাও-ই বিলাসিতা, সন্তান জন্মদান ও ক্ষমতা চর্চায় অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছেন ।


মেনেস

আবার প্রাচীন ইজিপ্টে অনেক শাসককেই মেনেস বলা হতাে । ইজিপ্ট এক হওয়ার পর থেকে প্রথম শাসক থেকে শুরু করে ফারাও ক্লিওপেট্রার পর্যন্ত বিভিন্ন রাজবংশ প্রায় তিন হাজার বছর মিশর শাসন করেছে। এই তিন হাজার বছরে একত্রিশ শাসক রাজবংশের পুরুষ অথবা নারী যিনিই মিশরের শাসক ছিলেন, তাঁকেই রাজা বলা হতাে।

মিথ অনুযায়ী হােরাস ছিলেন মিশরের দেবতা। ঈশ্বরের সাথে যােগাযােগ রক্ষার পাশাপাশি ফারাওদের অনেক বড় বড় দায়িত্ব পালন করতে হতাে। ফারাও ছিলেন ইজিপ্টের সবচেয়ে বড় নেতা- ধর্মীয়, প্রশাসন, যুদ্ধসহ সকল ক্ষেত্রের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী । মিশরের সকল ভূমির মালিক এবং রাজ্যের প্রশাসন ও মন্দিরের সর্বোচ্চ ব্যাক্তিও হলেও রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল তাঁদের প্রধান কাজ।

পূজা-অর্চনা ও উৎসর্গ করে মিশরকে নীল নদের বন্যা থেকে রক্ষা করাও ছিল ফারাওয়ের দায়িত্ব। বন্যায় যাতে ফসল নষ্ট না হয় এবং যথেষ্ট পরিমাণ শস্য উৎপন্ন হয়, সকল প্রজার খাদ্যের ব্যবস্থা করাও তাঁর দায়িত্ব ছিলো।

অভিষেক ও উৎসব-বৃত্তান্ত

বিভিন্ন রাজবংশের ফারাওদের অভিষেক ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন রীতিতে পালন করা হতাে। তবে অধিকাংশ ফারাও-এর অভিষেক  তাঁর পিতা ও পূর্বপুরুষদের কবর পরিদর্শন ও প্রার্থনার মাধ্যমে শুরু হতাে। ফারাও যে সময়ই মারা যাক না কেন পরবর্তী বছরের নতুন দিনে শুরু হত এই উৎসব। |

অনেক সময় ফারাও মারা যাওয়ার পর পরই নতুন ফারাও-এর অভিষেক অনুষ্ঠিত হতাে। আবার অনেক সময় দেখা যেত ফারাও জীবিত অবস্থাতেই তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচন করে গিয়েছেন। তখন তার উপস্থিতিতেই নতুন ফারাও-এর অভিষেক অনুষ্ঠিত হতো।

অভিষেক অনুষ্ঠান কেবল একটি অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকত না।  কয়েক মাস এমনকি বছরজুড়েও চলত। তাই রাজার কোন সালে অভিষেক হয়েছে, সেটি দিয়ে তিনি কত বছর শাসন করেছেন তা হিসাব করা হত।

রাজা হিসেবে ফারাওকে প্রশাসনিক ও ধর্মীয় উভয় দায়িত্বই পালন করতে হতাে। তিনি জনগণের কাছে দেবতা হােরাস ও সূর্য দেবতা রা-এর পুত্র হিসেবে জানতো । তারা বিশ্বাস করত যে, ফারাও যে কাউকে ঈশ্বরের নিকট উৎসর্গ করতে পারতেন। কেবলমাত্র ফারাও-ই মন্দিরের প্রধান পুরােহিত নিয়ােগ করতে পারতেন।

জনগণ বিশ্বাস করতেন ফারাও মারা যাওয়ার পর দেবতা ওসিরিসের রাজ্যে জেগে উঠবেন এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনেও প্রজাদের শাসন করবেন। ফারাও সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন এবং দুই ভূমির প্রধান বিচারক ছিলেন ।

ফারাওদের কবর

সিংহাসনে বসার পর থেকেই ফারাও তাঁদের কবর তৈরির কাজ শুরু করে দিতেন। সময়ের সাথে সাথে কবরের ধরনও পরিবর্তিত হতে থাকে। মৃতদেহকে সাজিয়ে গুছিয়ে, মৃত্যু পরবর্তী জীবনে রাজ্য শাসনের জন্য প্রস্তুত করে কবর দেওয়া হতো।

প্রথম দিকের ফারাওদের কবর হলাে মাসতাবা কবর, সেগুলাে মাটির ইট দিয়ে তৈরি ছিল । গবেষকগণ এই পুরনাে কবরস্থানের সন্ধান পেয়েছেন প্রাচীন রাজধানীগুলােতে । অধিকাংশ প্রাচীন মিশরীয় কবরস্থানগুলােই নীল নদের পশ্চিমে, যা মৃতদের শহর হিসেবে পরিচিত ।


মাসতাবা কবর

মাসতাবার পরবর্তী সংস্করণ হলাে পিরামিড, যা পাথর দিয়ে তৈরি। ফারাও জোসের প্রথম সিঁড়ির মত উঁচু-নিচু ধাপ সম্পন্ন পিরামিড তৈরি করেন। এর স্থপতি ছিলেন ইমহােতেপ।

স্থপতিরা পিরামিডের পাশাপাশি একটি মৃতদের মন্দির ও এর সাথে অন্যান্য রাজবংশের সদস্যদের কবরের জন্য কমপ্লেক্স তৈরি করেন । ফারাও খুফুর দ্য গ্রেট পিরামিড অব গিজা-এর অন্যতম উদাহরণ ।


দ্য গ্রেট পিরামিড অব গিজা

পরবর্তীকালের ফারাওরা দেখলেন যে, কবর চোরের দল পিরামিডের ভেতরের মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে । তাই তারা তারা পাথরের তৈরি পাহাড় কেটে সেখানে তাঁদের কবর তৈরি করতে লাগলেন । এই ধরনের কবরস্থান এখন ভ্যালি অব দ্য কিংস নামে পরিচিত।


ভ্যালি অব দ্য কিংস

ভ্যালি অব দ্য কিংস মূলত ইজিপ্টের একটি উপত্যকা। এই উপত্যকাটি নীল নদের পশ্চিম তীরে থিবসে অবস্থিত। এই পর্বতময় অঞ্চলটিতে দুটি উপত্যকা রয়েছে। যার একটি হলাে পূর্ব ভ্যালি, যেখানে অধিকাংশ কবর অবস্থিত ও অপরটি পশ্চিম ভ্যালি, যেখানে রয়েছে অল্প কিছুসংখ্যক কবর । এই ভ্যালিতে বিভিন্ন আকৃতির অন্তত একশ বিশটিটি চেম্বার এবং তেষট্টিটি কবর রয়েছে ।

অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে ফারাওদের কবর দেওয়া হতাে এবং সেই সাথে নানা ধরনের মূল্যবান জিনিসপত্রও দেওয়া হতাে। প্রথম দিকে ফারাও-এর মৃত্যুর পর মৃতদেহের সাথে কাপড়, আসবাবপত্র, গহনা, সোনাদানা ইত্যাদিসহ কবর দেওয়া হত।

উনিশতম রাজবংশের ফারাওদের মৃত্যুর পর তাদের সাথে ’ক্লে অব শাবতি’ বা মাটির তৈরি উপহারসহ কবর দেওয়া হত। পুরােহিতরা কবর দেওয়ার সময় খাবার, তেল ইত্যাদি দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্রও কবর দিত ।


ক্লে অব শাবতি

প্রাচীন মিশরের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী

মেমফিস

প্রাচীন মিশরের নীল নদের মুখে অবস্থিত মেমফিস শহর ছিল রাজধানী। এটি ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল । ’গ্রেট পিরামিড অব গিজা’ এই শহরেই ছিল ।


মেমফিস

অভিনব উপায়ে ইংরেজি শিখো!

 

থিবস

প্রাচীন মিশরের মধ্যযুগ ও নতুন রাজত্বের আমলে রাজধানী ছিল থিবস । তখন থিবস ছিল লুক্সর ও কারনাকের প্রধান ধর্মীয় কেন্দ্র। থেবেস-এর নেক্রোপােলিসে ছিল মৃতদের মন্দির এবং ভ্যালি অব দ্য কিংস।

থিবস

আমারনা

ফারাও ইখনাটনের আমলে আমারনা-তে রাজধানী স্থাপন করা হয়, যা ইখনাটনের নামে নতুনভাবে নামকরণ করা হয়। ফারাও ইখনাটনের মৃত্যুর পর এখান থেকে রাজধানী সরিয়ে নেওয়া হয়।


আমারনা

পাই রামসেস 

ফারাও দ্বিতীয় রামসেস-এর আমলে এখানে রাজধানী স্থাপন করা হয় । ইজিপ্টের উত্তরাঞ্চলে প্রায় সাত বর্গমাইল এলাকাজুড়ে ছিল দ্বিতীয় রামসেস-এর রাজধানী, যেখানে তখন ত্রিশ লাখ অধিবাসী ছিল । নীল নদ বিভক্ত হয়ে নতুন শাখা নদী তৈরি করলে অধিবাসীরা সেই শাখা নদীর পাশে বসতি স্থাপন করতে থাকে এবং কালের পরিক্রমায় পাই রামসেস পরিত্যক্ত শহরে পরিণত হয় ।


পাই রামসেস

আলেকজান্দ্রিয়া

টলেমি আমলে মিশরের রাজধানী ছিল আলেকজান্দ্রিয়া। আলেকজান্দ্রিয়াতে রাজধানী স্থাপন করেন আলেকজেন্ডার দ্য গ্রেট । এই সময়ই প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্য আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর নির্মিত হয়।


আলেকজান্দ্রিয়া

মিশরের প্রায় সব ফারাও-ই প্রভাবশালী হলেও এর মধ্যে কয়েকজন পরবর্তীতে বেশ জনপ্রিয় হয়েছেন। এমনকি এখনও প্রাচীন মিশরের ইতিহাস বলতে গেলেই তাদের প্রসঙ্গে কথা বলতেই হয়। এমনকি পাঁচজন ইতিহাস বিখ্যাত ফারাও-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরছি-

 

১. তুতেনখামেন

ফারাও ইখনাটনের মৃত্যুর পর পরবর্তী ফারাও হন তাঁর পুত্র তুতেনখামেন । মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র উনিশ বছর। তাঁকে মিশরের রহস্যবালক বলা হয়। দীর্ঘ পনের বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে গবেষক কার্টার ও তার দল  তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কার করেন। ফারাও ষষ্ঠ রামসেসের সমাধির ঠিক কাছেই ছিল তুতেনখামেনের সমাধি।


তুতেনখামেনের ডেথ মাস্ক

তুতেনখামেনের সমাধিক্ষেত্রে একটি মাত্র সমাধির সন্ধান পাওয়া গেলেও অনেক গবেষক মনে করেন, ওই সমাধিক্ষেত্রে আসলে দুটি সমাধি ছিল, সেখানে তুতেনখামেনের সাথে একজন রানীর সমাধি ছিল।

২. ইখনাটন

মিশরের অষ্টাদশ রাজবংশের ফারাও ছিলেন আমেনহোতেপ। ঐতিহাসিক মতে, তিনিই প্রথম একেশ্বরবাদের প্রবর্তক। তার একেশ্বরবাদের উপাসনার দেবতা ছিলেন আটেন বা এটন অর্থাৎ সূর্যের উপাসক হিসেবে। তাই তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে ইখনাটন রাখেন। তিনি মন্দির থেকে অন্যান্য দেব দেবীর মূর্তি সরিয়ে ফেলেন এবং সারা দেশে এটনের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।


ইখনাটন

তিনি সতের বছর ধরে রাজ্য শাসন করেছেন এবং আনুমানিক ১৩৩৪ বা ১৩৩৬ খ্রিষ্টপূর্বে মারা যান।

৩. ফারাও খুফু

ফারাও খুফু চতুর্থ রাজবংশের দ্বিতীয় ফারাও। তিনি ২৫৮৯ থেকে ২৫৬৬ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তাঁর আমলেই তৈরি হয় ’দ্যা গ্রেট পিরামিড অব গিজা’। এই পিরামিডটি খুফুর পিরামিড নামেও পরিচিত। এখানে মোট তিনটি সমাধি কক্ষে সম্রাট খুফু, তার স্ত্রী এবং এই দুইটি কক্ষের তলদেশে গ্র্যান্ড গ্যালারী রয়েছে।


ফারাও খুফু

৪. ফারাও জোসের 

প্রাচীন মিশরের তৃতীয় রাজবংশের ফারাও ছিলেন ফারাও জোসের। আগেই বলেছি, মাতসাবা কবরের পরবর্তী সংস্করণ হলো পিরামিড। ফারাও জোসেরই মিশরে প্রথম পিরামিড নির্মাণ করেছিলেন। জোসেরের পিরামিড ছিলো পাথরের তৈরি, সিঁড়ির মতো ধাপবিশিষ্ট। যা স্টেপ পিরামিড নামে পরিচিত।

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো! English Language Club!


রাজা জোসের

ফারাও জোসেরের পিরামিড ও অন্যান্য সৌধের গায়ে অলঙ্করণ ও প্রতিলিপি নির্মাণের ক্ষেত্রে বিস্ময়কর সূক্ষতা চোখে পড়ে। তবে এই সময়কালের এই অভূতপূর্ব পরিবর্তনের পেছনে মহান স্থপতি, চিকিৎসক ইমহোটেপের অবদান অনস্বীকার্য।

৫. সপ্তম ক্লিওপেট্রা

খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩ সালে আলেকজান্ডার  দি গ্রেট মারা গেলে তার অন্যতম সেনাপতি টলেমি মিশরে স্বাধীন রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। কিওপেট্রা এই বংশেরই শেষ শাসক।

ক্লিওপেট্রা জন্মগ্রহণ করেন খ্রিষ্টপূর্ব ৬৯ সালে। তিনি টলেমি দ্বাদশের তৃতীয় কন্যা। জুলিয়াস সিজারের প্রেমিকা ও মার্ক অ্যান্টনির স্ত্রী হিসেবেই তিনি বেশি খ্যাত।

ক্লিওপেট্রা মোট নয়টি ভাষা জানতেন।ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি চাষাবাদের সুবিধার জন্য নীল নদ থেকে আলেকজান্দ্রিয়ার ভেতর পর্যন্ত খাল কেটে নিয়ে গিয়েছিলেন।

পিতার মৃত্যুর পর তিনি ভাই ত্রয়োদশ  টলেমির সাথে যৌথভাবে মিশরের শাসক হন। সে কালে রক্তের শুদ্ধতা বজায় রাখতে মিশরে ভাই-বোন বিয়ে প্রচলিত ছিল। তাই ক্লিওপেট্রা একাধারে ছিলেন সম্রাটের বোন ও স্ত্রী।


ক্লিওপেট্রা

তবে এই দু’জনের মধ্যকার সুসম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। ক্লিওপেট্রা মুদ্রায় তার নিজের নাম ও ছবি যোগ করেন।  সরকারি দলিলপত্র থেকে ভাইয়ের নাম মুছে ফেলতে থাকেন।

এরপর পরই তাকে ক্ষমতা ছেড়ে সরে দাঁড়াতে হয়। ধারণা করা হয় তিনি  এই সময়ে সিরিয়ায় চলে যান।

রোমের অধিপতি জুলিয়াস সিজার ক্লিওপেট্রার সুনজরে পড়েন। তিনি দেখলেন সিজার শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য।

সিজার বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে মিশরে পৌঁছলেন। মিশর-সম্রাট টলেমি তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও সফল হতে পারেননি।

সিজারের আকস্মিক মৃত্যুতে ক্লিওপেট্রার ক্ষমতা লাভের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কারণ সিজার ক্লিওপেট্রা কিংবা সিজারিয়ান অর্থাৎ ক্লিওপেট্রা-জুলিয়াস সিজার পুত্রকে তার উত্তরসূরি মনোনীত করে যেতে পারেননি।

এরপর বহু ঘটনা পরে  অক্টাভিয়ান রোমের সম্রাট হন, অতঃপর প্রেমিক মার্ক এ্যান্টনির মৃত্যু, বিভিন্ন কারণে ক্লিওপেট্রা নিজের সম্মানহানির ভয় পেতে শুরু করেন।

ক্লিওপেট্রার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মিশরে প্রায় তিনশ বছরের মেসিডোনিয়ান শাসনের অবসান ঘটে।

প্রাচীন মিশরের ফারাওরা শুধুমাত্র পিরামিড বা মমির জন্য নন, মিশরে সভ্যতা গড়ে ওঠার পেছনে ও পতনের সঙ্গেও ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত।

তথ্যসূত্র:

  1. https://www.britannica.com/topic/pharaoh
  2. https://en.wikipedia.org/wiki/Pharaoh
  3. https://www.britannica.com/biography/Djoser
  4. https://www.ancient.eu/Memphis_(Ancient_Egypt)/
  5. https://www.britannica.com/biography/Tutankhamun
  6. https://www.britannica.com/place/Thebes-ancient-Egypt
  7. প্রাচীন মিশরের নারী ফারাও- আশরাফ উল ময়ে

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

 

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.