গল্পে গল্পে গ্রিক পুরাণ: জীবন বদলে দেয়ার মত ৯ টি শিক্ষা

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

গ্রীক পুরাণ! যা হচ্ছে বর্তমানে বহুল প্রচলিত এক পুরাণ। এই পুরাণে গ্রীকদের নিজস্ব ঢঙে জগতের সৃষ্টি থেকে শুরু করে নানান জিনিসের চমকপ্রদ সব গল্প পাওয়া যায়। আমাদের প্রিয় কতশত গল্প যে এর অংশ তা জানতে শুরু করলে অবাক হয়ে যেতে হয়। এমনকি বিভিন্ন রোগ, তা হোক মানসিক বা শারীরিক, তাদের নামের মাঝে যে গ্রীক মিথের কী প্রভাব, তা জানতে পারলেও চমৎকৃত না হয়ে উপায় থাকে না!

এই পুরাণ ছিল গ্রীকদের জীবনযাত্রার অংশ। তাই এখানে প্রচুর শিক্ষামূলক গল্প দেখা যায়। সেই সাথে খুব অনুপ্রেরণাদায়কও বটে। জীবনে চলার পথে খুব কাজে দিবে এসব গল্পের ভঙ্গিতে দেয়া উপদেশ। চল আমরা এমন নয়টি দুর্দান্ত গল্প আর তার মোরালগুলো জেনে নিই।

) হারকিউলিসের দেবত্ব প্রাপ্তি

হেরাকলস, রোমানরা যাকে বলে হারকিউলিস, তার সম্পর্কে প্রচলিত মিথ থেকে শেখার মত প্রচুর প্রচুর উপাদান রয়েছে। টিরিন এবং মাইসীনির রাজা ইউরেস্থিয়াস ঈর্ষার বশে হারকিউলিসকে ১২টি কঠিন দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করে। এই টুয়েলভ লেবারের প্রতিটিই ছিল খুব ভয়ংকর। ইউরেস্থিয়াসের পরিকল্পনা ছিল যেন অভিযানে গিয়ে হারকিউলিস ভয়াবহভাবে মারা পড়ে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

১২টি অভিযান ছিল– ভয়ংকর নিমিয়ান সিংহকে বধ করা, নয় মাথা সমৃদ্ধ নারলিয়ান হাইড্রাকে মারা, দানবীয় সারনিয়ান হরিণকে ধরা, দুধর্ষ শক্তিশালী শূকর ধরা, খুব বাজেভাবে অপরিষ্কার হওয়া অজিয়ান আস্তাবল পরিষ্কার করা যা কিনা কুৎসিত আর হিংস্র জানোয়ারে পূর্ণ, দুধর্ষ স্ট্যামফিলিয়ান পাখির ঝাঁক বধ করা, বিশাল ক্রেটান ষাঁড় ধরা, ডিওমিডিসের মানুষখেকো ঘোড়া ধরা, অ্যামাজনদের রাণী হিপোলিটার মাথার মুকুট চুরি করা, গেরয়নের দানবের পালকে ধরা, হেসপারাডিসের স্বর্ণের আপেল চুরি করা এবং নরকের প্রবেশদ্বাররক্ষী ত্রিমস্তক বিশিষ্ট কুকুর সেরবেরাসকে উপরে নিয়ে এসে আবার ফেরত পাঠানো।

কিন্তু দেবরাজ জিউসপুত্র অনেক অধ্যবসায়ের বলে সবগুলো অসম্ভব অভিযানেই সফলতা অর্জন করে। তার ডেডিকেশন লেভেলটা এখান থেকে আন্দাজ করা যায়। এসব কর্মকাণ্ডেই তার পুরো জীবনটা প্রায় কেটে যায়। সুখ রয়ে যায় অধরা। এমনকি পরিবারের কাছ থেকেও সুখী হতে পারে না হারকিউলিস। তার মৃত্যুও হয় শোচনীয়ভাবে।

এখানেই কি শেষ? অবশ্যই না। তুমি জীবনে প্রচুর পরিশ্রম করলে এর বিপরীতে তোমার ভাগ্য এমন হতে পারে না। মৃত্যুর পর দেবতারা হারকিউলিসকে অমরত্ব দান করে দেবতায় রূপান্তরিত করেন। পরিশ্রম করলে এর ফল একদিন না একদিন পাওয়া যাবেই।

অনেক সময় এমন হয় যে আকাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে আমরা হাল ছেড়ে দিই মনে করি পরিশ্রমটা বৃথা কিন্তু না, যেখানে পরিশ্রম আছে, সেখানে সফলতাও আছে হারকিউলিসের কাহিনী থেকে আমরা তাই বুঝতে পারি Never give up!

)  একিলিস এর গোড়ালি

একিলিস, গ্রীক পুরাণের খুবই সুপরিচিত একটি নাম। ট্রয়ের যুদ্ধে গ্রীকদের পক্ষে অসাধারণ কৌশলী যুদ্ধ দেখানোর পাশাপাশি ট্রয়ের হিরো হেক্টরকে বধ করবার জন্য সে খুব বিখ্যাত। একিলিসের আরেকটা বিষয় মিথলজিতে খুব গুরুত্ব পেয়েছে।

তার অভেদ্য শরীরের জন্য। কোন আঘাতই তার গায়ে লাগত না। এর জন্য তার মা থেটিসকেই সকল ক্রেডিট দিতে হয়। তিনি জন্মের পরেই একিলিসকে গোড়ালি ধরে স্টিক্স নদীতে চুবিয়েছিলেন। স্টিক্স নদীতে ডুব দিতে পারলে যে কেউ অভেদ্য হয়ে পড়তে পারে।

কিন্তু সেই যে গোড়ালি, যেখানে ধরে তাকে চুবানো হয়েছে সেটুকু অভেদ্য হয়নি মোটেও। আর এটাই ছিল তার দুর্বলতা। এই অংশে সামান্য কাটলেও সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। আর ঠিক তাই ঘটেছিল। ট্রয়ের নিষ্কর্মা রাজপুত্র প্যারিসের ছোড়া তীর গোড়ালিতে নিয়ে সে মৃত্যুবরণ করে।

 
মজায় মজায় ইংরেজি শিখ!
 

এখান থেকে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় শেখা যায়। তোমার সবচেয়ে শক্তিশালী যে সেক্টরটা, সেটাই তোমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতাও বটে। তাই নিজে যে জায়গাটায় সবচেয়ে সেইফ বোধ করি বা নিজেকে সেরা মনে করি, সেখানে আমাদের সতর্ক হতে হবে তুলনামূলক বেশি। তাহলেই জয় সুনিশ্চিত।

) হেফাস্টাসের দেবত্ব প্রাপ্তি

হেফাস্টাস হচ্ছেন গ্রীক পুরাণের কামারদেব। তিনি দুর্দান্ত সব আবিষ্কার দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতেন। তবে তার শুরুটা খুব সহজ ছিল না।

হেফাস্টাস হচ্ছেন দেবরাণী হেরার ছেলে। বিভিন্ন উৎসমতে তার কোন বাবা ছিল না। জন্মের পরপরই হেরা আবিষ্কার করলেন যে হেফাস্টাস দেখতে খুবই কুৎসিত। সেই সাথে পা দুটো বেমানান, খোঁড়া। অভিজাত হেরার কদাকার জিনিসে অতিরিক্ত এলার্জি ছিল। তিনি এরপর খুব উদ্ভট একটা কাজ করে বসেন। নাক সিঁটকে দেবালয় অলিম্পাসের জানালা দিয়ে হেফাস্টাসকে ছুঁড়ে ফেললেন পৃথিবীতে।

তিনি সমুদ্রে পতিত হন। একিলিসের মা থেটিস তাকে লালনপালন করেন। হেফাস্টাস কিন্তু থেমে থাকেননি। তিনি খুব দক্ষতার সাথে যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ তৈরি করা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে শুরু করলেন। ক্রমেই তিনি হয়ে উঠলেন দুর্দান্ত সব আবিষ্কারের ধারক। এবং অবশেষে তখন তিনি অলিম্পাসে ফিরে গিয়ে নিজের আসন দখল করলেন। হেফাস্টাসই একমাত্র দেবতা যিনি নির্বাসনের পরেও নিজ যোগ্যতায় নিজ দেবালয়ে ফিরে যেতে পেরেছেন।

আমাদের মানসিক শক্তি হেফাস্টাসের মত হতে হবে। আমাদের উপর যতই চরম অবহেলা বা অন্যায়ই হোক না কেন আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবেই। নিজ যোগ্যতায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে আর দখল করতে হবে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গাটা। এজন্যই কিন্তু বলে, ‘জন্ম হোক যথা, তথা কর্ম হোক ভালো

) ইকারাসের সমুদ্রে পতন

এই গল্পটা আমাদের খুবই পরিচিত। ক্রীটের বিখ্যাত আর দক্ষ আবিষ্কারক ছিলেন ডেডালাস ঘটনাক্রমে ক্রীটের রাজা মিনোসের বিরাগভাজন হয়ে তিনি আটকা পড়েন নিজেরই তৈরি ভয়াবহ এক গোলকধাঁধায়। সাথে অবশ্য বন্দী হয় তার ছেলে ইকারাসও। গোলকধাঁধায় আটকে পড়লেও ডেডালাস তার কর্মদক্ষতা মোটেও হারিয়ে ফেলেননি। মোম দিয়ে পালক আটকে সেটি ডানার মত লাগিয়ে আকাশে উড়বার কল্পনা করেন তিনি। এবং সত্যিই সে কাজটা করেও ফেলেন।

প্রথমে ছেলের পিঠে লাগিয়ে দেন আবিষ্কৃত ডানা। এরপর নিজেও লাগিয়ে নেন নিজের আবিষ্কৃত পাখা। তবে এর আগেই ছেলে ইকারাসকে সাবধান করে দেন যেন সে কোনক্রমেই বেশি উপর দিয়ে উড়তে না যায়। কারণ তাতে সূর্যের তাপে মোম গলে ডানা খসে পড়বার সম্ভাবনা খুব প্রবল। দুজনেই অবশেষে আকাশে উড়াল দিয়ে মুক্তির স্বাদ গ্রহণ করে। উড়ে চলে যেতে থাকে ক্রীট থেকে বহু দূরে।

কিন্তু একবার উড়তে শুরু করলে বোকা ব্যক্তিরা যা করে, আরো বেশি উড়তে চায়। ইকারাসের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হল না। মজা পেয়ে সে বাবার সাবধানবাণী ভুলে ক্রমেই আরো উপরে উঠতে শুরু করল। ফলে যা হবার তাই। তার পালকের সব মোম গলে খসে পড়ল। সে পতিত হল সাগরে।

এরকম অনেক সময়ই হয়, সফলতা আমাদের অন্ধ করে দেয় কোনো একটি কাজে তুমি সফলতা পেয়ে যদি খুব বেশি বিমোহিত হয়ে যাও, পরের কাজটিতে ফোকাস করতে পারবে না এবং এভাবে পরের কাজটিতে তুমি ব্যর্থ হবেতাই, আমাদের উচিত সফলতা অর্জন করে খুব বেশি খুশি না হয়ে, তা থেকে মোটিভেশন নিয়ে পরের কাজে ফোকাস করা Don’t Fly too high!

) নার্সিসাসের মৃত্যু

নার্সিসাস হচ্ছে একজন শিকারি যে কিনা তার সৌন্দর্যের জন্য সুপরিচিত ছিল। নিজের সৌন্দর্যের অহমিকায় যে আশেপাশের কাউকে খুব একটা পাত্তা দিত না। প্রতিশোধের দেবী নেমেসিস ব্যাপারটা খেয়াল করেন। তিনি নার্সিসাসকে একটা জলাশয়ের দিকে আকৃষ্ট করেন। জলাশয়ের পানি ছিল পরিষ্কার টলটলে। তাতে আয়নার মত প্রতিচ্ছবি পড়ত। নার্সিসাস পানিতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে এক লহমায় নিজের প্রেমে পড়ে যায়। তার মুগ্ধতা এতটাই প্রবল ছিল যে সে সেই জায়গা ছেড়ে নড়েইনা। এমনকি বিশ্রাম নেয় না খাওয়াদাওয়ার জন্যও। দিন যায় আর নার্সিসাসের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। অবশেষে শোচনীয়ভাবে মারা যায় সে।

“কথায় আছে, হিংসা, লোভ এবং অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে।”

এই গল্পের শিক্ষা খুব সাধারণ। অতিরিক্ত আত্মপ্রেম বোধ করা কোন কাজের কথা না। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। নিজের বিশেষ কোন দিক নিয়ে অতিরিক্ত আত্মঅহমিকায় ভোগার পরিণতি মোটেও ভাল হয় না। Self obsession is not a great thing!

) সিসিফাসের বুদ্ধি

করিন্থের রাজা সিসিফাসের মনে খুব দুর্ভাবনা। তার রাজ্যে কোন সুপেয় পানির উৎস নেই। সে চিন্তিত মুখে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। এমন সময়ই সে দেখল দেবরাজ জিউস এক রিভার স্পিরিটকে অপহরণ করে নিয়ে উড়ে যাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর রিভার স্পিরিটটার বাবা নদীদেবতা অ্যাসোপাস এসে সিসিফাসকে জিজ্ঞেস করল তার মেয়েকে কোথাও দেখেছে কিনা। সিসিফাস জানাল তিনি যদি তার রাজ্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দেন তবে সে বলবে তার মেয়েকে কোথায় দেখেছে। নদীদেবতা এই ইচ্ছা পূরণ করে মেয়ের খবর জেনে নিলেন  

কিন্তু স্বাভাবিকতই এতে জিউস হয়ে উঠলেন অসন্তুষ্ট। তিনি তার ভাই পাতালদেব এবং মৃত্যুদেব হেডিসকে আদেশ দিলেন সিসিফাসকে শায়েস্তা করতে। সিসিফাস-ও নিজের পরিণতি বুঝতে পেরেছিল।

তাই সে মৃত্যুর আগে তার স্ত্রীকে দ্রুত বলল যেন মৃত্যুর পরে প্রথা অনুসারে তার জিহ্বার নিচে কোন পয়সা না দেয়া হয়। মরার পর হেডিস স্টিক্স নদীর পাশে পাতালের প্রবেশপথে তার সাথে দেখা করতে আসলেন। কারণ তার জিহ্বার নিচে পয়সা নেই। পাতালের ফেরি পার হওয়া তাই তার পক্ষে সম্ভব না। এরপর হেডিস তাকে হালকা ঝাড়ি দিয়ে আবার পৃথিবীতে ফেরত পাঠালেন যেন ঠিকমত আবার পয়সা দেয়া হয় তাকে। কিন্তু একবার জীবিত হয়ে উঠলে সে কি আর চায় মরতে?

সিসিফাস-ও তাই কৌশলে লুকিয়ে রইলো। তার পরিকল্পনাও মূলত তাই ছিল। রাজ্যের মানুষও খুশি রইলো।

সুতরাং বুদ্ধি থাকলে উপায় হয়। যারা নেতৃত্ব দান করতে চায় তাদেরকে প্রায়ই খুব সুচারুভাবে দারুণ বুদ্ধি বের করতে হয়। যা সবার জন্যই মঙ্গলময়।

তবে আবার কেউ এজন্য মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে যেওনা। এটা গল্পেই সম্ভব, বাস্তবে না।

) প্যানডোরার জমানো আশা

গল্পটা প্যানডোরার বাক্স বলে বহুল পরিচিত হলেও মূল কাহিনীতে আসলে কোন বাক্স ছিল না। ছিল একটা জার। বাক্স বা জার যা-ই হোক না কেন এর অন্তর্নিহিত ভাবটা কিন্তু আমাদের খুব দারুণ একটা শিক্ষা দেয়।

প্যান্ডোরার বিয়েতে যৌতুক হিসেবে তাকে একটা জার দেয়া হয় দেবতাদের পক্ষ থেকে। এবং প্যানডোরাকে বারবার সাবধান করে দেয়া হয় যেন সে কোন অবস্থাতেই জারের ঢাকনা না খোলে। কিন্তু তাকে সৃষ্টির সময় তার মাঝে কৌতূহলের মাত্রাটাও উচ্চ করে দেয়া হয়। কৌতূহলের কাছে পরাজিত হয়ে সে স্বাভাবিকতই ঢাকনা খুলে ফেলে।

দুঃখের বিষয় হচ্ছে সেই জারের ভেতরে বন্দী ছিল প্লেগের মত রোগ থেকে শুরু করে খুন, রাহাজানিসহ সকল ধরণের মন্দ বিষয়। যেসব জিনিস পুরা মানবজাতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। সে ঢাকনা খুলবার সাথে সাথেই সেগুলো মুক্ত হয়ে পড়ে পৃথিবীতে। আর এজন্যই পরবর্তীতে মানবজাতির এই অধঃপতন। তবে ঢাকনা খুলবার পর এই দুরবস্থা দেখে দ্রুত সেটা পুনরায় লাগিয়ে দেয় সে। তখন জারে “আশা” বন্দী হয়ে পড়ে।

মূলভাবটা ধরতে পেরেছো? আশা বন্দী থাকায় মানবজাতি এই জিনিসটাকে নিজেদের মাঝে ধারণ করে নিয়েছে। যার ফলে তারা টিকে গিয়েছে বাক্সের বাকি সব জঘন্য উপাদানগুলো থেকে। অর্থাৎ যেকোন বিষয়েই আমাদের ‘আশা’ জিইয়ে রাখতে হবে। আশা এমন একটা জিনিস যা ধারণ করলে খুব অসম্ভব একটা ব্যাপারও কীভাবে যেন সম্ভব হয়ে যায়। কোন কাজ করতে গেলেই আমাদের উচিত আশা শেষ অবধি ধরে রাখা।

) রাজা মিডাসের লোভ

মিডাস ছিলেন ফ্রিজিয়ার রাজা। একদিন তার রক্ষীরা রাজ্যের আঙুরক্ষেতে ঘুমানো এক স্যাটারকে ধরে নিয়ে আসল। স্যাটার হচ্ছে অর্ধ মানব অর্ধ ছাগ সদৃশ প্রাণী। তিনি এক নজর দেখেই বুঝলেন এ হচ্ছে ওয়াইনের দেবতা ডিওনিসাসের ডান হাত সিলেনাস। তিনি দ্রুত মুক্ত করে দিলেন তাকে। এতে ডিওনিসাস খুশি হয়ে তাকে বলল সে যা ইচ্ছা চাইতে পারে। তা ডিওনিসাস পূরণ করবে। তিনি আগপাছ না ভেবেই বললেন যে তিনি এমন বর চান যেন তিনি যা ধরবেন তা-ই স্বর্ণে পরিণত হয়। দেবতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে তিনি নিশ্চিত কিনা।

মিডাস লোভের বশে বললেন, তিনি অবশ্যই নিশ্চিত। তাকে বর দেয়া হল। তিনি যা স্পর্শ করেন তাই স্বর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু বিপত্তি বাধল খেতে গিয়ে। ফল যা হাতে নেন সব সোনা হয়ে যায়। অবশেষে তার মেয়ে তার কাছে আসলে তিনি বারণ করতে যান। কিন্তু তার আগেই স্পর্শ লেগে যায় মেয়ের গায়ে। ফলে যা হবার তাই। তার মেয়েও রূপান্তরিত হয় স্বর্ণে।

এই গল্পের মোরাল আমরা সবাই জানি। অতি লোভে তাঁতী নষ্ট। এই গল্পটা খুব কমন। আমাদের মোটেই লোভ করা উচিত নয়। কথায় আছে, হিংসা, লোভ এবং অহংকার মানুষকে ধ্বংস করে।

) কিউপিডসাইকির প্রেম অবসান!

সাইকি ছিল পরমা সুন্দরী এক রাজকন্যা। তিন বোনের মাঝে সবার ছোট আর সবচেয়ে সুন্দরী। তার সৌন্দর্য সৌন্দর্যের দেবী ভেনাসকেও হার মানিয়ে দিত। ভেনাস হচ্ছে আফ্রোদিতির রোমান নাম। মানুষ আফ্রোদিতিকে রেখে সাইকির পূজা শুরু করে দেয়। ফলে তিনি ক্ষেপে গিয়ে ছেলে কিউপিডকে আদেশ করেন সাইকিকে খুব ভয়াল কোন দানবের প্রেমে পড়তে বাধ্য করতে।

কিউপিডের এই ক্ষমতা ভালভাবেই ছিল। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়ে সে নিজেই সাইকির প্রেমে পড়ে যায়। ঘটনাক্রমে তাকে বিয়েও করে। সাইকির আবাস হয় স্বর্গে। কিন্তু কিউপিড তখন পর্যন্ত সাইকিকে নিজের চেহারা দেখায়নি। সাইকি জানেনা তার পরিচয়। কারণ কিউপিড বারবার অনুরোধ করেছে তার পরিচয় না জানতে এবং সে যেন জানার চেষ্টাও না করে। তাতে অমঙ্গল হবে।

এভাবেই চলছিল।

কিন্তু সাইকির দুই বোনের এটা সহ্য হল না। তারা কুমন্ত্রণা দেয়া শুরু করল সাইকিকে। তাদের কুমন্ত্রণা আর নিজের অদম্য কৌতূহলে এক রাতে সে ঘুমন্ত স্বামীকে প্রদীপ জ্বেলে দেখার চেষ্টা করল। এবং আবিষ্কার করল তার স্বামী আর কেউ নয় স্বয়ং ভালবাসার দেবতা পরম সুদর্শন কিউপিড

হুট করেই এক ফোঁটা মোম পড়ে কিউপিডের ঘুম ভেঙে যায়। আর সে দ্রুত প্রাসাদের জানালা দিয়ে পালায়। আর কখনো ফিরে আসেনা প্রাসাদে।

বিশ্বাস ভালবাসায় খুব বড় বিষয়। বিশ্বাস ভঙ্গ করলে ভালবাসা জানালা দিয়ে পালায়। তা সব রকম ভালবাসাতেই।

গ্রীক পুরাণের এই নয়টি গল্প আমাদের নয়টি ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা দেয় যা আমাদের জীবন বদলে দিতে পারে তবে সেজন্য এই মোরালগুলো জীবনে কাজে লাগাতে হবে, উড়িয়ে দিলে একদমই চলবে না

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মেহের আফরোজ শাওলী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Meher Afroze Shawly
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?