যে গুণগুলো বলে দেবে আপনি ভবিষ্যতে সফল হবেন কি না!

March 22, 2018 ...
পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

সফল মানুষদের মূল বৈশিষ্ট্য হলো, তাঁরা আর দশজনের থেকে আলাদা হন। তাঁদের নিষ্ঠা, একাগ্রতা আর চমৎকার সব আইডিয়াই তাঁদের করে তোলে অন্যদের থেকে ভিন্ন। এই মানুষদের জীবনবিধি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, সবার মধ্যেই রয়েছে বিশেষ কিছু গুণ। এই গুণগুলোই তাঁদের স্বপ্নকে সত্যি করতে সাহায্য করেছে। দেখে আসা যাক, কী সেই গুণগুলি, যা মানুষকে তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে দেয়।

‘প্যাশন’ – একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস

সোজা ভাষায়, যে জিনিসে আপনার আগ্রহ প্রচুর, যা আপনি মনের আনন্দে করেন, তাই আপনার প্যাশন। যে বিষয় নিয়ে আপনি কাজ করবার স্বপ্ন দেখেন, তাই আপনার প্যাশন। সফল ব্যক্তিরা সফল, কারণ তাঁরা জীবনে নিজেদের লক্ষ্য খুঁজে পেয়েছেন। নিজেদের প্যাশন নিয়ে কাজ করতে পেরেছেন বলেই তাঁরা চলে এসেছেন সর্বোচ্চ স্থানে।

কিছু কিছু মানুষ জীবনের শুরুতেই বুঝে যায়, তার প্যাশন কোথায়। কিন্তু, এরকম মানুষ সংখ্যায় খুব একটা বেশি নয়। বাকিদের সবারই জীবনে নিজের সত্যিকার জায়গাটা নিজেরই খুঁজে বের করতে হয়।

আপনি যে বিষয় ভালো পারেন, তাই যে আপনার প্যাশন হবে, এরকম কোন কথা নেই। যে বিষয় আপনাকে সত্যিকার অর্থে টানে, সেটাই আপনার প্যাশন। নিজের বিভিন্ন আগ্রহের দিকে কাজ করে তবেই খুঁজে পাবেন নিজের প্যাশনকে।

আপনি তখনই বুঝবেন আপনার কোন বিষয়ে প্যাশন আছে, যখন আপনি বিনে পয়সায় সে বিষয় নিয়ে লেগে থাকতে রাজি থাকবেন, প্রস্তুত থাকবেন যেকোন কষ্ট স্বীকার করতে। নিজের প্যাশন নিয়ে একনিষ্ঠভাবে কাজ করাই সফলতার চাবিকাঠি

‘কমফোর্ট জোন’ থেকে বেরিয়ে আসা

পৃথিবীতে অনেক মানুষই নিজের সত্যিকার জায়গাটা খুঁজে পায় না, কারণ তারা গৎবাঁধা নিয়মের মধ্যে নিজেকে ফেলে দিয়ে নিরাপত্তা খোঁজে। এই জন্যেই বলা হয়ে থাকে, ‘তুমি যদি নিজের পছন্দের কাজটা পেয়ে থাকো, তোমার কখনই কর্মক্ষেত্রে অসহ্য লাগবে না।’

1 10

সফল মানুষেরা নিজের লক্ষ্যের পেছনে সারা দিন, সারা সপ্তাহ, সারা জীবন লাগিয়ে দিতে পারেন। এই কাজটা তাঁরা সম্ভবপর করে তোলেন একটা পদ্ধতিতেই – নিজের কাজকে আনন্দময় বানিয়ে।

নিজের কাজে যদি আপনার আগ্রহ না থাকে, তাহলে আপনার একটা পর্যায়ে গিয়ে বিরক্ত লাগতে বাধ্য। নিজের পছন্দের কাজে যে শ্রম আপনি খুশি মনে দেবেন, তা আপনি সাধারণ চাকরিতে কখনোই দিতে পারবেন না। তাই নিরাপত্তার খোঁজে নিজেকে নয়টা – পাঁচটা চাকরির বেড়াজালে বেঁধে ফেলবেন না। গৎবাঁধা জীবন সাফল্যের সবচেয়ে বড় শত্রু।

নিজের পছন্দের কাজে সময় দেয়া

আপনি যদি নিজের পছন্দের কাজে প্রচুর সময় দিতে পারেন, আর তাতে যদি আপনার একঘেয়ে বা অসহ্য না লাগে – অভিনন্দন আপনাকে! আপনি সঠিক রাস্তাতেই রয়েছেন।

সাফল্যের জন্যে অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। শুধু নিজের প্যাশন খুঁজে পেলেই চলবে না, সেই প্যাশনকে সফল করতে হলে দিতে হবে কঠোর শ্রম। নিজের কাজে যদি মনোযোগী আর একাগ্র হতে পারেন, তবেই সাফল্য ধরা দেবে আপনার হাতে।

সফল মানুষেরা সবাই নিখুঁতভাবে ফোকাস করতে পারেন একটা পয়েন্টে – আর তারপর একাগ্র মনে কাজ করে যেতে পারেন শেষ না হওয়া পর্যন্ত।

 

নতুন নতুন আইডিয়া

সাফল্যের মূল সূত্র হলো, নতুন নতুন উদ্ভাবন দিয়ে নিজের কাজকে অন্যদের থেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সফল মানুষেরা প্রায় সময় নিজের আইডিয়া নিয়েই কাজ করেন, আর তাই তাঁরা আর দশজনের থেকে এগিয়ে থাকেন।

নিজের দুর্বলতাগুলোকে গ্রহণ করে নিতে শিখুন

আপনার মাথায় যদি ক্রমাগত নতুন নতুন আইডিয়া আসতে থাকে, আর আপনি যদি সেই আইডিয়াগুলো দিয়ে মানুষের জীবনকে সুন্দর করে তোলার প্রচেষ্টায় থাকেন সব সময়, তাহলে আপনার মধ্যেই রয়েছে সফল হবার মূল উপাদান।

2 1

চ্যালেঞ্জ নিতে জানা

জানা কথা, যে কাজেই আপনি হাত দেন না কেন, বাধা আসবেই। এই সব বাধা অতিক্রম করে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হলে, চাই অদম্য মনোভাব। সফল মানুষদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তাঁরা কখনোই নিজের উন্নতি ঘটাতে থেমে  থাকেন না। সবসময়ই চেষ্টা করতে থাকেন নিজের দুর্বল দিকগুলোকে চর্চা করে ঠিক করে তোলার।

ব্যর্থতা দেখে পিছিয়ে আসলে সাফল্য ধরা দেবে না। যেকোন আইডিয়া বা প্রজেক্টকে সফল করে তুলতেই মুখোমুখি হতে হবে অনেক বাধার। অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। এই বাধাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়াই সফল মানুষের লক্ষণ।

সত্যি কথা বলতে কী, যদি আপনি বেশি বাধার সম্মুখীন না হন, তবে আপনি হয়তো বেশি এফোর্টই দিচ্ছেন না কাজে।

আপনার নিজের সফলতা নির্ভর করবে আপনার নিজের ওপরই। নিজেকে জানুন, নিজের দুর্বলতাগুলোকে গ্রহণ করে নিতে শিখুন। চর্চার মাধ্যমে নিজেকে উন্নত করতে শিখুন। নিজের বর্তমান অবস্থাকে মেনে না নিয়ে উপরে তাকাতে থাকুন। তবেই আপনার মধ্যে আসবে সফল হবার জেদ, স্বপ্ন ছোঁয়ার তাগিদ।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন