লেখাপড়ার মাঝেও বিনোদন? কি করে সম্ভব?

Sadia is currently a student of finance department, University of Dhaka. This quiet person can prove herself as a big sister or a best friend whenever you're in need.

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

আমাদের ডিপার্টমেন্টের একজন লেকচারারের বন্ধু হচ্ছেন মোটিভেশনাল স্পিকার। তো উনি একবার আমাদের ক্লাসে এসে স্পিচ দেয়ার সময় তার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকজন লেকচারার বন্ধুর কথা বলেছিলেন যিনি পরীক্ষার খাতা চেক করার সময় ১০ টা খাতা পরপর একটা করে চকলেট রাখেন। এতে করে তাঁর কাছে খাতা চেক করাটা আর একঘেয়ে লাগে না। এরকম করেই লেখাপড়া থেকেও কিভাবে একঘেয়েমি ভাবটা দূর করা যায় তার কিছু উপায় বলব আজকে।

১। লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে নিজেকে পুরষ্কৃত করো

যেই গল্পটা মাত্র বললাম, সেটাও কিন্তু এই পয়েন্টের আওতাতেই পড়ে। লেখাপড়া যে কত কষ্টের একটা কাজ সেটা আমি এবং আমার মত কিছু ফাঁকিবাজের চেয়ে ভাল কেউ জানে না। তাই, এত কষ্টের একটা কাজের জন্য অবশ্যই আমরা কিছু পুরষ্কার ডিজার্ভ করি! আর যেহেতু এই পুরষ্কার অন্য কেউ আমাদের দিতে আসবে না তাই এর ব্যবস্থা আমাদের নিজেদেরই করতে হবে। উপরের মতই, বইয়ের কয়েক পাতা পরপর চকলেট কিংবা কমিক বুক রেখে কিংবা “এতটুকু পড়া শেষ করলে ঐ মুভিটা দেখব” এমন প্ল্যান করে এগোনো যায়।

এভাবে নিজের সাথে সংকল্প করে নিজের পুরষ্কারের ব্যবস্থাও যেভাবে করা যায় সেভাবে এটা লেখাপড়ার পেছনে মোটিভেশনের কাজও করে। তবে আমি ফেসবুককে এর আওতামুক্ত রাখতে বলব কেননা, আমি জানি যে, ফেসবুকে একবার ঢুকলে বের হবো হবো করে আর বের হওয়া যায় না এবং এতে করে পড়ার যে একটা ফ্লো থাকে, ঐটা নষ্ট হয়ে যায়।

২। কি-ওয়ার্ড মনে রাখো

একটা বইয়ের প্রত্যেক অধ্যায়েই কিছু শব্দ এমন থাকে যেগুলোর একটা মনে করলেই পুরা লাইনটা মনে পড়ে যায়। যেমন ধরুন, ইতিহাস বইয়ে, কিছু মানুষের নাম, কিছু ব্যবস্থার নাম মনে রাখতে পারলেই কিন্তু পুরো কাহিনীটা মনে থাকে। এভাবে পড়লে শুধু শুধু সময় নষ্টও হবে না আবার এত এত জিনিস মুখস্থ করে নিজের দাঁতে কুড়ালও মারতে হবে না (এই উক্তিটাও আমাদের একজন লেকচারারের)। আরো সুবিধার জন্য প্রত্যেক অধ্যায়ের উপরে কি-ওয়ার্ড গুলো সিরিয়াল অনুসারে লিখে রাখা যেতে পারে।

৩। গ্রুপ স্টাডি!

গ্রুপ স্টাডিতে অনেক রকমের পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়, তো আমার এক বন্ধুর উদ্ভাবিত একটা পদ্ধতির কথা বলি। এই পদ্ধতিতে বইয়ের যেই কয়টা অধ্যায় পড়া হবে সেই কয়জন মানুষ মিলে প্রত্যেকে একটা একটা করে অধ্যায় পড়বে। পরের দিন, যে যেই অধ্যায় পড়েছে সে সেই অধ্যায়ের উপর ব্রিফিং দিবে এবং বাকিরা তা শুনবে, দরকার হলে নোট করে নিবে। এই পদ্ধতিটা বিশেষ করে, পরীক্ষার আগ মুহুর্তের জন্য বেশি উপযোগী। আর যদি ব্যাক টু ব্যাক পরীক্ষা হয়, তবে আমার মতে এই পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।

group study

 

৪। MNEMONIC!

এটা আমার অনেক পছন্দের একটা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিটা, বিশেষ করে ভোকাবুলারি এবং ইতিহাস পড়ার জন্য অনেক বেশি ব্যবহৃত হয়। নেমোনিক মানে হচ্ছে, একটা জিনিষকে ঐ সম্পর্কিত অন্য জিনিষ দিয়ে মনে রাখা। যেমন ধরুন, কোনো তারিখ এবং সালকে আপনার পরিচিত কারো জন্মদিন দিয়ে মনে রাখা।

৫। পছন্দের বিষয় অন্যান্য বিষয়ের ফাঁকে ফাঁকে পড়া

যতই ফাঁকিবাজ হই না কেন, আমাদের সবারই একটা না একটা পছন্দের বিষয় থাকে যেটা পড়তে কক্ষনো খারাপ লাগে না। যেমন কলেজে থাকতে আমার ব্যবস্থাপনা পড়তে ভাল লাগতো অনেক। তাই অন্য কোনো বিষয় পড়ার সময় যখন একঘেয়ে লাগে তখন যদি ঐ বিষয়টা পড়া হয় তাহলে আমার মতে আর খারাপ লাগবে না।

সম্ভব হলে বইয়ের লাইনগুলোকে ছন্দে মিলিয়ে পড়বে

৬। স্টিকি নোট

বাসায় সারাক্ষণ কিন্তু বই হাতে নিয়ে ঘোরা সম্ভব নয়। তাই নিজের রুমে, ফ্রিজে, বিভিন্ন জায়গায় যদি স্টিকি নোটে বইয়ের কি-ওয়ার্ড কিংবা কোনো সংজ্ঞা লিখে লাগিয়ে রাখা যায়, তাহলে হাঁটা চলা এবং যেকোনো কাজ করার সময় তাতে চোখ পড়বে। তখন নিজে থেকেই ঐ কিওয়ার্ড কিংবা সংজ্ঞা সম্পর্কে বইয়ে যা লেখা ছিল সব মনে পড়ে যাবে আর জিনিষগুলোও সহজে মনেও থাকবে।

৭। পড়ার সময় কোনো ভাবেই পরীক্ষা কিংবা নম্বরের চিন্তা না করা

“পরীক্ষা না, আমি জানার জন্য পড়ছি” এই চিন্তাটা মাথায় রাখলে পড়ালেখাকে অতটা কঠিন মনে হবে না। আর লেখার জন্য না পড়ে অন্যকে বোঝানোর জন্য পড়লে পড়াটা বেশি ইফেক্টিভ হয়।

৮। পড়ার বিষয় সম্পর্কিত চলচ্চিত্র দেখা

পড়ালেখাকে শুধুমাত্র বইয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে পড়ার পাশাপাশি ঐ বিষয়ের উপর নির্মিত চলচ্চিত্র গুলো দেখলে পড়া বুঝতে এবং মনে রাখতে সুবিধা হয়।

৯। রেকর্ডিং মেথড

পড়ার সময় ফোনে রেকর্ডার অন রেখে নিজের পড়াটাই পরে কয়েকবার মনোযোগ দিয়ে শুনলে সেই পড়া মনে রাখার জন্য আর বেশি কষ্ট করতে হবে না।

recording method gif
১০। ছন্দ বানিয়ে পড়া

এই পদ্ধতিটা আসলে সবাই অনুসরণ করতে পারে না। তারপরও, সম্ভব হলে বইয়ের লাইনগুলোকে ছন্দে মিলিয়ে পড়বে তাহলে তা মনে থাকবে কারণ মানুষের মস্তিষ্ক সাধারণ কথার থেকে ছন্দে মেলানো কথা বেশি মনে রাখতে পারে যার কারণে আমরা নার্সারিতে পড়ে আসা ছড়াগুলো এখনো ভুলিনি আবার একই কারণে পরীক্ষার হলে আমাদের প্রশ্নের উত্তরের বদলে গানের লাইন মাথায় ঘুরতে থাকে।

তো এই ছিল লেখাপড়ার মত কাঠখোট্টা ব্যাপারকে সরল করার কিছু পদ্ধতি। আশা করা যায় যে, এই বিষয়গুলো মনে রাখলে আপনার পঠিত বিষয় আরো বেশি মনে থাকবে এবং তার জন্য খুব একটা ব্রেইনস্টর্মিং এর দরকার পড়বে না। হ্যাপি লার্নিং!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.