চাপ সামলাও!

Muhtasim Fahmid is a law student at the University of Dhaka who dreams of writing a fantasy novel someday. He is into comics, rock music and a whole lot of other things.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

২০০৯ সালে এয়ার ফ্রান্সের একটি ফ্লাইট যাত্রীসহ ক্র্যাশ করে সকল যাত্রীর প্রাণহানি ঘটেছিল। আঘাতের আগে আগে পাইলটরা প্লেনের অবস্থানের ভুল তথ্য নিয়ে প্লেনটাকে সঠিক পথে নিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এই কনফিউশনের মধ্যে তাঁরা প্লেনটিকে ভুল দিকে চালিয়ে দেন, আর তা শেষ পর্যন্ত আকাশ থেকে ধ্বসে পড়ে।

এই ঘটনার পেছনে মূল দোষ কীসের? প্রথমত, দোষ অবশ্যই যান্ত্রিক গোলযোগের, যে কারণে ভুল তথ্য আসছিল। আর দ্বিতীয় দোষটি ছিল, পাইলটদের বাজে সিদ্ধান্ত।

প্রচন্ড চাপের মাথায় ভুল সিদ্ধান্ত নেয়াটা অবাক হবার মত কিছুই না। মানুষ যখনই কোন বিষয়ে খুব টেনশনে থাকে, সে সমগ্র বিষয়টি নিয়ে চিন্তা না করে কেবল ক্ষুদ্র কোন বিষয়ের ওপর ফোকাস করে থাকে যেটা খুবই স্বাভাবিক এবং প্রায়ই হয়ে থাকে। একে বলা হয় কগনিটিভ টানেলিং। এই ফেনোমেনার কারণেই মানুষ চাপের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না অনেক সময়।

কগনিটিভ টানেলিং কী?

কগনিটিভ টানেলিং হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা, যে সময় আপনার মস্তিষ্ক আপনার কাছাকাছি জিনিসগুলোর ওপরে ফোকাস করে বসে, অথচ সমগ্র অবস্থাটা চিন্তা করতে অস্বীকার করে বসে। কগনিটিভ টানেলিং-এর সুবিধা হলো, এটা আমাদের ফোকাস করতে এবং অদরকারি ইনফরমেশনকে অগ্রাহ্য করতে সহায়তা করে। এটা কোন অসুখ নয়, পুরোপুরি স্বাভাবিক একটি জিনিস।

কগনিটিভ টানেলিং তখনই খারাপ হয়ে দাঁড়ায়, যখন আমাদের আশেপাশের সব তথ্য জানা খুবই জরুরি। যখন পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর আমাদের সিদ্ধান্তগুলো অনেক খানি নির্ভর করে, তখন কগনিটিভ টানেলিং উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে।

উপরের উদাহরণটাই ধরা যাক। প্লেনের পাইলটরা যদি একটু সময় নিয়ে তাদের পারিপার্শ্বিকের কথা চিন্তা করতেন, আর সে অনুযায়ী কাজ করতেন, তাহলে তাঁরা হয়তো নিরাপদ ল্যান্ডিং করতে পারতেন সহজেই। কিন্তু তাঁরা প্লেনের ভুল তথ্যের ওপর এতটা বেশি মনোযোগ দিয়ে ফেলেছিলেন যে, তাদের আর পুরো ঘটনার ওপর মনোযোগ দেবার উপায় ছিল না। ফলে ঘটে বসে এক ভয়ংকর দুর্ঘটনা।

কীভাবে বাঁচা যাবে এরকম ঘটনা থেকে

কগনিটিভ টানেলিং এর বাজে দিকগুলোকে কাটিয়ে ওঠার রয়েছে বেশ কিছু পদ্ধতি। এর মূল লক্ষ্য হলো, নিজের ওপর অসহনীয় চাপ কখনোই না নেয়া।

প্রথমত, চেষ্টা করতে হবে নিজের ওপর সমস্ত চাপ না নিয়ে নেবার। আমাদের চারপাশেই রয়েছে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, প্রিয়জনেরা। তাদের কাছে নিজের চাপ, ফ্রাস্ট্রেশন শেয়ার করা যেতে পারে। তারাই আমাদের ভালো চান, তাই এগিয়ে আসবেন তাঁরা। একইসাথে, নিজের সমস্যাগুলো তাদের জানালে তাদের কাছে উপদেশও পাওয়া যাবে।

দ্বিতীয়ত, সমস্যাকে দেখতে হবে বাস্তবিকভাবে। যেকোন সময় জীবনে যেকোন খারাপ কিছু হয়ে যেতেই পারে। এটা মেনে নিয়ে এগোতে হবে। যেকোন ক্ষেত্রে রেডি রাখতে হবে ব্যাক আপ প্ল্যান। ব্যাক আপ প্ল্যান হাতে থাকলে হঠাৎ চাপে পড়বার সম্ভাবনা কম থাকে।

তৃতীয়ত, নিজের ইন্সটিংক্ট এর উপর ভরসা রাখা উচিত। অনেক ক্ষেত্রেই বড় কোন সমস্যা এসে পড়লে একজন মানুষ সব বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে কাজ করতে চায়, কিন্তু তার সুযোগ পায় না। এসব বিষয়ে নিজের মনের কথা শুনে কাজ করলে অনেক সময়ই ফল পাওয়া যায়। মনে রাখতে হবে, ইন্সটিংক্ট বা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কিন্তু কোন বিজ্ঞানসম্মত জিনিস নয়। কাজেই এর ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখাটাও ঠিক নয়। কিন্তু মাঝে মাঝে যুক্তির থেকে ভালো কাজ করতে পারে ইন্সটিংক্ট।

মানুষের জীবনে চাপ খুব সাধারণ একটা জিনিস। সবারই মোকাবেলা করতে হয় চাপকে, কিন্তু চাপের মুখে একেকজন মানুষের চিন্তাভাবনাই পার্থক্য করে দেয় আমাদের মাঝে। চাপকে ভয় না পেয়ে মেনে নিতে শিখতে হবে, তাহলেই কেবল চাপের মধ্যে থেকেও নিজের কাজ করে যাওয়া সম্ভব হবে।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে ফাবিহা বুশরা


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.