যে চার উপায়ে Deadline Maintain হবে আরও সহজে!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্ণব পড়াশোনার পাশাপাশি কার্টুন আঁকার প্রতিও বেশ ঝোঁক আছে তার। অনলাইনে বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে কাজ করে আর মানুষের ক্যারিকেচার এঁকে ছাত্র বয়সেই খুব আরামেই পকেট মানিটার যোগান দিয়ে ফেলছে সে।

গত সপ্তাহে তার কলেজে নোটিশ এলো দুই সপ্তাহের মধ্যেই সব একাদশ শ্রেণির সব প্র‍্যাক্টিকাল সাইন করিয়ে নিতে হবে। আর এই দুই সপ্তাহের মধ্যেই তার তিন ক্লায়েন্টকে ক্যারিকেচার ডেলিভারি দেয়ার কথা! আর কিছুক্ষণ আগেই তার বেস্ট ফ্রেন্ড রনি তাকে ফোন দিয়ে বললো, “দোস্ত, ওই যে তোকে বলেছিলাম না ‘ওয়াল ম্যাগাজিন’ কম্পিটিশনের কথা? আমি রেজিস্ট্রেশন এর কাজ শেষ করে ফেলেছি। দুই দিন পরই ফেস্টিভ্যাল, আমি লেখার কাজগুলো করবো আর তুই ডিজাইনের কাজটা সুন্দর ভাবে করে ফেলবি! পারবি না?” বেস্ট ফ্রেন্ডের আবদার অর্ণব ফেলতে পারলো না। না ফেলার কারণে সে পরপর তিনটা ডেডলাইন এর মাঝে পড়ে গেলো!

এমন শুধু অর্ণবই না আমাদের সবাইকেই কোন না কোন সময় এই সমস্যায় পড়তে হয়। দৈনন্দিন কাজের মাঝে ডেডলাইনের চাপে কাবু হয়ে পড়ে অনেকেই। তাই কিভাবে ডেডলাইন মেনে শেষমেশ লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, চলো তা দেখে নেই এখনই।    

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

Deadline কেনো প্রয়োজন?

Deadline হলো এমন একটা তারিখ যা এক ধরণের রিমাইন্ডারের মতন কাজ করে। সারাদিনে তুমি অনেক কাজেই ব্যস্ত থাকো, সেক্ষেত্রে Deadline না থাকলে তুমি অ্যাসাইনমেন্ট কিংবা প্র‍্যাক্টিকাল সাবমিটের কথা ভুলে যেতেই পারো। কিন্তু একটা Deadline মানুষের ব্রেইনে সবসময় মনে করাতে থাকে যে “এত” তারিখের মধ্যে কিন্তু আমাকে কাজটা সাবমিট করতে হবে!

নিজের উপরে একধরণের চাপ তৈরি হয় যা কিনা মানুষকে কাজটা শেষ করার জন্যে বারবার জাগিয়ে তোলে। স্বভাবতই মানুষ সবসময় চায় একটু আরাম করতে কিংবা আস্তে আস্তে কাজ করতে কিন্তু  যদি Deadline বলে কিছু না থাকতো তাহলে এই অভ্যাস অলসতায় পরিণত হতো। পরবর্তিতে দেখা যেত কাজ কাজের মতনই জমা আছে কিন্তু ঠিকই আমরা শুয়ে-বসে সময় পার করে ফেলেছি। তাই চারপাশের অসংখ্য ডেডলাইনের কারণে বিরক্ত হয়ে যেও না।

তুমি কোন ধরণের, যাচাই করে দেখো!

কাজ করার ধরণ বিবেচনা করলে সাধারণত দুই ভাগে মানুষদের ভাগ করা যায়। প্রথমত, কিছু মানুষের অসাধারণ একটি গুণ রয়েছে। তারা অসম্ভব গোছানো ধরণের। ধরে নাও বলা হয়েছে, দশ দিনের মধ্যে এক হাজারটা ইট দিয়ে একটা বড় দেয়াল তৈরি করতে হবে। তারা খুব সুন্দর মতন কাজটা ভাগ করে নিয়েছে। প্রতিদিন একশটা করে ইট গেঁথে দশ দিন শেষে তার এক হাজার ইটের দেয়াল তৈরি হয়ে গেলো। এ রকম গোছানো এবং ধারাবাহিক মানুষের সংখ্যা মনে হয় না অনেক বেশি হবে। কিন্তু তুমি যদি তাদের মধ্যে একজন হয়ে থাকো তাহলে অবশ্যই তোমাকে অভিনন্দন এই সুন্দর গুণের অধিকারী হওয়ার জন্যে।

এসকল মানুষের জন্যে আসলে ডেডলাইন মেনে চলা খুব কষ্টের কোনো কাজ না। তারা এমনিতেই কাজ ভাগ করে নিয়ে দিন শেষে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেয়ে যায়।

দ্বিতীয় যে ধরণের মানুষ আমরা সচরাচর দেখে থাকি তা হলো, দশ দিনে এক হাজার ইটের দেয়াল বানানোর কথা বললে তারা প্রথম চার দিনে হয়তো কোন কাজই করবে না। কিন্তু মাঝে পঞ্চম দিন থেকে আস্তে আস্তে কাজ শুরু করবে। দেখা যাবে সপ্তম দিন পর্যন্ত কেবল তিনশ ইট গেঁথেছে কিন্তু শেষে যেয়ে ঠিকই দশম দিনেই সময় মতন অতিরিক্ত কাজ করে এক হাজার ইটের দেয়াল তৈরি করে ফেলেছে। এই ধরণের মানুষেরা অতিরিক্ত প্রেশার বা চাপ নিতে পছন্দ করে। দেখা যায় শেষের দিকে প্রেশারের কারণে একটা সুন্দর “ফ্লো” তৈরি হয়। আর শেষ পর্যন্ত ফলাফলও ভালো বের হয়ে আসে।

যদি ভালোভাবে চিন্তা করো দেখবে আমাদের চারপাশে দ্বিতীয় ধরণের মানুষজনই বেশি। এটা অবশ্যই দোষের কিছু না। কিন্তু দিন শেষে কাজ শেষ না হওয়ার একটা বড় ঝুঁকি কিন্তু থেকেই যায়। তোমরা যারা প্রথম ধরণের, আগেই বলেছি তোমাদের কোনো চিন্তাই নাই। মূলত দ্বিতীয় ধাঁচের মানুষদের জন্যেই কিছু টিপস চলো দেখে আসা যাক।

 
সুন্দরভাবে কথা বলা সাফল্যের অন্যতম রহস্য!

 

 

সময় সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করতে হবে

একটা গল্প দিয়ে পুরো বিষয়টা বোঝানোর চেষ্টা করি।  বেশি দিন আগের কথা না। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে ক্লাসরুমে অফিশিয়ালি নোটিশ আসলো, “অক্টোবর মাসের ১৫তারিখের মধ্যে সকল শিক্ষার্থীকে সব বিষয়ের ব্যবহারিক খাতা দায়িত্বরত শিক্ষকের কাছ থেকে সাইন করিয়ে নিতে বলা হলো।” এই ধরণের নোটিশ দিয়ে Deadline জানানোর পর অনেকের মধ্যেই এমন একটা রিয়্যাকশন দেখা গেলো, “আরেহ! দেড় মাস সময় আছে। কোনো ‘প্যারা’ নাই। দেখবি সব কিছু হয়েই যাবে ‘Chill’

পরবর্তীতে দেখা যায় তারাই খাতা ধার করা, ছবি, হিসাব আর গ্রাফ কম্পলিট করতে করতে হাঁপিয়ে উঠছে। আর অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় Deadline পার হয়ে গিয়েছে, কাজ এখনও বাকি রয়ে গিয়েছে। আসলে সমস্যাটা কোথায় ছিলো? হাতে সময় থাকা সত্ত্বেও নিজের অবহেলা এবং সময়ের প্রতি সঠিক জ্ঞান না থাকাই  আসল সমস্যা। এক মাস সময় হাতে আছে এটাকে অনেক ভেবে ডেডলাইনকে পাত্তা না দিলে পরবর্তীতে ঝামেলাতে পড়তে হবে তোমাকেই। কাজ যতটুকুই হোক না কেন, এক মাস সময়কে যদি এক বছর সময় এর মতন ব্যবহার করো, তাহলে তো মহা মুশকিল!

তাই যতটুকু সময় তুমি পাচ্ছো তাকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে ফেলো। আর প্রতিদিনই কাজের কিছু অংশ করতে থাকো। আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ কাজটা দেখবে আয়ত্তে চলে এসেছে। সময় মতন কাজ শেষ করে ফেলেই বন্ধুকে বলে দিয়ো, “আরেহ! প্যারা নাই।”

Use the last minute rush

ওই যে বলেছিলাম না, দ্বিতীয় ধরণের মানুষ? তাদের জন্যে এই বিষয়টাই টনিকের মতন কাজ করে। দেখা যায় শেষের কয়দিনে অনেক কাজ জমা পড়ে আছে। প্রচন্ড চাপের মধ্যে থেকেও নিজের শতভাগ দিতে পারলে শেষের দিকেই আরও বেশি কাজ করা যায়। কিন্তু শেষের দিকে ভালো কাজ করতে হলে আগে থেকেই কিছু জিনিস মেনে চলা প্রয়োজন।

প্রথমেই তোমার কাজ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখো। কোন কোন জিনিস তোমাকে করতে হবে সেগুলো জেনে রাখো। অন্যের কাছ থেকে কিছু ধার করতে হলে বা কোন জরুরী নোট প্রয়োজন হলে তা আগে থেকেই ম্যানেজ করে রাখো। আগে থেকে সব কিছু গুছিয়ে রাখলে দিন শেষে তোমার কাজ শেষ করা সহজ হবে। আর যদি সম্ভব হয় অবশ্যই চেষ্টা করো Deadline এর দুই-তিন দিন আগে কোন বড় কাজ না রাখতে। এতে করে তুমি পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারবে। অন্যান্য চিন্তা তোমাকে বাধা দিবে না। প্রথমে তোমার কাজ ভালো না হলেও দেখবে শেষ মূহুর্তের পরিশ্রমে তুমি অনেক ভালো করে কাজ শেষ করে ফেলেছো।   

Procrastination

Procrastination- এত বড় শব্দটার সাথে হয়তো তুমি পরিচিত নও, কিন্তু শব্দের অর্থ যা বোঝায় তার সাথে তুমি ভালোই পরিচিত। ধরে নাও, তুমি এক ঘণ্টার মধ্যে দশটা অংক শেষ করার টার্গেট সেট করেছিলে। কিন্তু দেখা গেলো ছয়টা অংক করেই তোমার মনে হচ্ছে, “নাহ! উঠে পড়ি। অনেকগুলো তো করলামই” বা এমন ধরণের চিন্তা যা তোমাকে টার্গেট পূরণ করতে দেয় না। তুমি ছয়টা করেই রেখে দিলে আবার অনেক্ষণ পরে এসে দুইটা করে রেখে দিলে। পরে কোন এক সময় তুমি টার্গেট পূরণ করলে। এই ধরণের স্বভাবতই আসলে Procrastination ভালো বাংলায় বললে দীর্ঘসূত্রতা বা ধীরতা।

এভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করার পরও বারবার পিছিয়ে পড়ার ফলে তুমি সব থেকে বেশিবার হয়তো Deadline মিস করবে। তাই সবার আগে নিজের মাঝে লুকিয়ে থাকা Procrastinator এর স্বভাবগুলোকে ঝেড়ে ফেলে দেও।

আগে থেকেই কিছু কাজ এগিয়ে রাখো

অনেক সময় এমন হয় না কাজের চাপ একেবারেই নেই, হাতে অনেক ফ্রী সময় আছে। তখন দেখবে কেউ কোন Deadline দিয়ে কাজ ধরিয়ে দিচ্ছে না। আবার হঠাৎ দেখবে এমন একটা সময় এসেছে যে চারপাশ থেকে অসংখ্য কাজ একসাথে জড়ো হয়েছে। সময় এমনিই নেই তার উপর এত এত কাজ! এরকম আসলে আমাদের সাথে প্রায়ই হয়। তাই আগে থেকেই কাজ এগিয়ে রাখার অভ্যাস তৈরি করো। এতে করে শেষ মুহূর্তে এসে তোমার উপর অতিরিক্ত প্রেশার কোন ভাবেই তৈরি হবে না।    

দিনশেষে ডেডলাইনের মাঝে কাজ শেষ করে দিতে কারই না ভালো লাগে। নিজের মনের মাঝেও শান্তি কাজ করে পরেও কোন ঝামেলা থাকে না। তাই তোমার পরের Deadline যেন আর মিস না হয়ে যায়। তোমার জন্যে শুভ কামনা।  


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Mustakim Ahmmad
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?