সমালোচনাকে হ্যাঁ বলো, গালিগালাজকে নয়

এমন একটা কাজ আছে, যেটা আমরা সবাই পারি, সবাই করি, সেটা যে কারো জন্যে ক্ষতিকর হয়ে যেতে পারে সেটা জানি, জেনেও করি। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছো। কাজটার নাম সমালোচনা। এ এক অদ্ভুত বিষয়। এক সমালোচনা করে কারো উদ্যম বাড়িয়ে তাঁর উদ্দীপনাকে আকাশছোঁয়া করা যায়, আবার সেই সমালোচনাই পারে কাউকে চরম হতাশ করে তুলতে।

অবাক হচ্ছো? ভাবছো, সমালোচনা আবার উদ্যম বাড়ায় কী করে? অবশ্যই বাড়াতে পারে, কিন্তু সেজন্যে সমালোচনার ধরণটা হওয়া দরকার অন্যরকম। তোমার কোন একটা কাজ, তুমি খুব দরদ দিয়ে করেছো। সেখানকার খুঁটিনাটি ভুলগুলো কারো চোখে পড়তেই পারে, আর সেগুলো তোমাকে বুঝিয়ে সমালোচনা করলে অবশ্যই পরের কাজটা আরো ভালো করার জন্যে একরকম জেদ চেপে যাবে তোমার মধ্যে!

download

সমালোচনা দুই ধরণের।

১। গঠনমূলক সমালোচনা বা Constructive Criticism

২। ধ্বংসাত্মক সমালোচনা বা Destructive Criticism

গঠনমূলক সমালোচনার কথাতেই আসা যাক। মনে করো তুমি একটা ভিডিও বানালে। খুব আগ্রহ করে বানিয়েছো ভিডিওটা, মজার মজার অনেক কনটেন্ট সেখানে। তোমার প্রথম ভিডিও, তুমি খুব উত্তেজিত মানুষের রিএকশন নিয়ে। ভেতরে ভেতরে হয়তো একটু টেনশনেও আছো, কী হয় কী হয় টাইপ অবস্থা।এরকম সময়ে তোমার কোন পরিচিত মানুষ কমেন্ট করলো, যে ভিডিও বেশ ভালো লেগেছে, তবে শেষের দিকের কনটেন্টের সাউন্ড মিক্সিং ভালো করা দরকার ছিল। তুমি কিন্তু এই একটা কমেন্ট খুব মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করবে। এবং একটু পর আবিষ্কার করবে, সে তো ঠিক বলেছে! এই আবিষ্কারের পর তুমি শুরু করবে ভাবা, কীভাবে এগোলে পরের ভিডিওটা আরো ভালো হবে, কোন পথে এগোতে হবে। তুমি পাবে উদ্দীপনা। সাথে ওই মানুষটির সাথে সম্পর্ক ভালো হবে তোমার, পরের ভিডিওতেও অপেক্ষা করবে তার আরেকটা সমালোচনার।

এই যে এই সমালোচনার অংশটা? এটাই বলতে গেলে গঠনমূলক সমালোচনা। এই সমালোচনা করতে হলে কাজটা পুরোপুরি দেখতে হয়। তারপরে নিজের মাথা খাটিয়ে সমালোচনা করতে হয়। স্বভাবতই, গঠনমূলক সমালোচকদের সংখ্যা তাই খুব বেশি না।

ধ্বংসাত্মক সমালোচকের ব্যাপারটা আবার পুরোপুরি উল্টো। এই মহামানবদের বিন্দুমাত্র মাথা খাটাতে হয় না, তেনারা একাই একশো। তাঁদের কিছু আলাদা শব্দচয়ন আছে, সেগুলোর কোন কোনটিকে গালি বললেও ভুল হবে না। এই মানুষগুলো হয়তো কাজটা পুরোপুরি দেখেও না, নাম দেখেই উটকো একটা কথা বলে রেখে দেয়।

download

ভিডিওর গল্পে ফিরে যাই। তোমার অনেক সাধনার ভিডিওতে যদি কেউ সুন্দর করে দুই তিন বর্ণের কিছু গালি দিয়ে বলে যে যাচ্ছেতাই ভিডিও হয়েছে, তুমি অনেক জঘন্য ভিডিও বানাও- তাহলে দুইটা বিষয় হবে। ওই সমালোচকদের তো মানুষ খারাপ ভাববেই, তাতে তাঁদের যায় আসার কথা না খুব একটা। কিন্তু তোমার উদ্দীপনায় বড় একটা বাঁধ পড়বে। মনে হবে, আসলেই মনে হয় আমি ভিডিও বানাতে পারি না, কী হবে আমার? হয়তো তুমি আর কখনোই ভিডিও বানাবে না, সে আগ্রহ হারিয়েছে কবেই!

এই যে এই সামান্য কিছু ধ্বংসাত্মক কথা- এগুলো বলে নিজের অজান্তেই Negativity ছড়িয়ে যাচ্ছে সবখানে, সব জায়গায়। এসব থেকে বের হতে হবে। কারণ এই কথাগুলোই হতে পারে কোন একজনের জন্যে হতাশার মূল!

একটা বিষয় সত্যি, যে গঠনমূলক সমালোচনা করতে মাথাটা খাটাতে হয়। একটু বুদ্ধিমান হবার প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে ধ্বংসাত্মক সমালোচনা করা মানুষগুলোর মাথা তো খাটাতে হয়ই না, তারা আদতে কতোটা বুদ্ধি রাখে, এই নিয়ে প্রশ্নটা থেকেই যায়!

এখন তুমিই বলো, গঠনমূলক সমালোচনা করে বুদ্ধিমানের দলে নিজেকে রাখবে, নাকি ভীড়বে নির্বোধ সমালোচকদের মধ্যে?


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.