কলেজ জীবনের দু’টি বছর: কাজে লাগালেই বাজিমাত!

সাবেত শাবিপ্রবির একজন ছাত্র। পড়ালেখা, খেলাধুলা আর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রকম কার্যক্রম নিয়েই যার জীবন। ছুটির দিনগুলোতে ভালোবাসে প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে যেতে। শুধু পড়ালেখার মাঝেই আটকায় না রেখে এই ছোট্ট জীবনে সবকিছুই উপভোগ করার জন্যই যার পথচলা।

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

জীবনের কোন সময় সবচাইতে সুন্দর, আনন্দময়? আমার মতোই চোখ বন্ধ করে এক বাক্যে সবাই বলে দিবে স্কুলজীবন। খুব অবুঝের মতো করেই হয়তো তোমাদের স্কুল জীবনটা শেষ হয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে হয়তো কোন চিন্তা ছিলো না। এদিক-সেদিক দাপিয়ে বেড়ানো, আর স্কুলে বন্ধুদের সাথে মৌজ-মাস্তি, এই ছিলো জীবন। মাথার উপর ছিলো না কোন বোঝা। যা ছিলো সব অভিভাবকদের উপর। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়গুলো পার করে চলে এসেছো। এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্টটাও সবাই হাতে পেয়ে গেছো। ফলাফল সবার আশানুরূপ হবে না এইটাই স্বাভাবিক। হয়তো পছন্দের কলেজটাতেও সবাই ভর্তি হতে পারছো না।

এখানে হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই; ভেঙ্গে পড়ার মতো খুব বড় কিছু হয়ে যায় নি। বরং আগামী দিনগুলোতে ভালো কিছু করার জন্য খারাপ রেজাল্টটাকেই শক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে শেখো। কলেজ জীবনের দুটি বছর হল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বছর। এই দুটি বছর ঠিক করে দিবে তোমার গতিপথ। তোমার শৈশব থেকে লালিত স্বপ্নগুলোর বাস্তবায়ন এই দুটি বছরের উপর নির্ভর করছে।

জীবনটাকে উপলব্ধি করো

শৈশবের সময়টাকে ফেলে এসেছো আগেই, এখনই সময় জীবনটাকে উপলব্ধি করার। জীবনের ভুল-ভ্রান্তিগুলো ঝেড়ে ফেলে দাও। নতুন করে জীবন নিয়ে ভাবতে শেখো, ভাবতে শেখো তোমাকে নিয়ে, তোমার পরিবারকে নিয়ে, তোমার দেশকে নিয়ে। সুন্দর একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখো।

লক্ষ্য অর্জনের দুটি বছর

স্কুল জীবনের দশটি বছর শেষে নতুন কলেজ জীবনের সূচনালগ্নে চলে এসেছো। ছোটকালে আমরা কত স্বপ্ন নিয়েই না খেলা করতাম; বড় হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা পাইলট হবো। কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যাবে ছোটবেলার সেই স্বপ্নটা সবসময় একরকম থাকে না, বাস্তবতা তোমাকে হয়তো ভিন্ন কোন এক স্বপ্নের দিকে ধাবিত করবে।

collegelife, guidelines, study tips

কিন্তু এখনই উপযুক্ত সময় তোমার লক্ষ্য স্থির করার। তুমি তোমাকে দুই বছর পর কোন অবস্থানে দেখতে চাও সেটা এই দুই বছরের তোমার কার্যকলাপের উপর নির্ভর করছে। সুতরাং তোমার লক্ষ্যটাকে স্থির করে ফেলো এবং অটল থাকো লক্ষ্যের উপর।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাহসিকতা

নিজের জন্য যথাসময়ে সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাহসিকতা অর্জন করতে হবে। বাবা-মা হয়তো বর্তমানের পড়ালেখার পদ্ধতির সাথে খুব পরিচিত না। তোমাকেই ঠিক করে নিতে হবে কোথায় পড়লে, কীভাবে পড়লে তোমার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। প্রয়োজনে খুব কাছের বড় ভাইয়া, আপুদের কাছে সাহায্য নাও। কিন্তু সিদ্ধান্ত তোমাকেই নিতে হবে।

কলেজ তোমার ব্যাকগ্রাউন্ড মাত্র, প্রতিফলক তুমি

দেশের সবচেয়ে নামকরা কলেজগুলোতে সবাই ভর্তি হতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক। একটা নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তোমাকে শুধু সঠিক দিক-নির্দেশনাই দিবে, তোমার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিবে না। পড়ালেখাটা সম্পূর্ণ তোমার উপর। খুব ভালো কলেজে পড়তে পারবে না বলে মুষড়ে পড়ার কোন কারণ নেই। জীবনের মাত্র শুরু এখান থেকেই; কিছুই শেষ হয়ে যায় নি। আগামী দুটি বছরকে এমনভাবে ব্যবহার করো যেন কলেজ জীবন শেষে তুমি তোমার কলেজের প্রতিফলক হয়ে উঠতে পারো। লক্ষ্য করলে দেখবে, প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভর্তি পরীক্ষা শেষে যখন মেধা তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের নাম দেয়া হয়, সেখানে অনেক কলেজ আছে যার নামই হয়তবা তুমি শোনোনি কোনদিন কিন্তু সেখানকারই একজন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলোর একটিতে। অতএব, দিন শেষে কিন্তু কলেজ নয় বরং নিজের পরিশ্রমটুকুই সবচেয়ে বড় প্রতিফলক হয় নিজের জীবনে।

আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠো

আত্মবিশ্বাস বলতে আমাদের নিজের সর্ম্পকে এবং নিজের যোগ্যতা সর্ম্পকে ইতিবাচক চিন্তা এবং বাস্তবসম্মত অনুভূতির সংযোগকে বুঝায়। আমাদের কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য যেমন, ইতিবাচক মনোভাব, উৎসাহ, স্বকীয়তা, স্বাধীনচেতা, বিশ্বাস, সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার যোগ্যতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ইত্যাদি আত্মবিশ্বাসের উপর প্রভাব ফেলে।

তোমার সফলতা মানেই তোমার বাবা-মা’র সফলতা

অন্যভাবে এই বৈশিষ্ট্যগুলোই সামগ্রিক ভাবে আমাদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। যখন তুমি নিজের উপর ভরসা করতে পারবে, সকল দুঃশ্চিন্তাকে পাশ কাটিয়ে নিজের অবস্থানে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারবে, তখনই তুমি হয়ে উঠবে আত্মবিশ্বাসী। আত্মবিশ্বাস তোমাকে দুটি বছর শেষে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে সহায়তা করবে।

পা ফসকালেই অথৈ সাগর

গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে তোমার সুন্দর স্বপ্নগুলোকে নষ্ট করে ফেলো না। দুটি বছরের অপব্যয় তোমার জীবনের চলার পথটাকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে, তোমার কৃতকর্মগুলো হয়তো তোমাকে সারা জীবন ভোগ করতে হতে পারে। এইচ এস সি পরীক্ষাতে একটু খারাপ ফলাফল হয়তো তোমার স্বপ্নের ভার্সিটিতে পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা থেকেই বঞ্চিত করবে। ভালো কোন ভার্সিটিতে চান্স পাওয়াও হয়ে উঠতে পারে দুষ্কর।

স্কুল আর ইউনিভার্সিটি জীবনের মাঝে কলেজ জীবনটা বলতে বলতেই চলে যায়। এই জীবনটাতে মজার থেকে পড়ালেখাটা একটু বেশিই করতে হয়। এই দুটি বছর তোমার জীবনের মোড়টাই ঘুরিয়ে দিবে; ঠিক করে দিবে তোমার আগামীর গন্তব্য। সুতরাং, এসএসসি’র রেজাল্ট কী হলো, কোন কলেজে ভর্তি হচ্ছো এইসব নিয়ে হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। দুটি বছর পরে তুমি কোথায় থাকবে সেটাই তোমার অর্জন, তোমার সফলতা। সুতরাং, দুটি বছরকে তোমার জীবনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখো। তোমার সফলতা মানেই তোমার বাবা-মা’র সফলতা, দেশের সফলতা।

collegelife, guidelines, study tips
Via: quotefancy.com

১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.