যে ৫টি ভুল কেস সলভ করার সময় কখনোই করবে না

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের হাজারো কম্পিটিশনের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় এবং দরকারিগুলোর একটি হচ্ছে কেস সলভিং কম্পিটিশন। অনেক বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তো এই কম্পিটিশন থেকেই অনেক সময় তাদের এমপ্লয়ি নির্বাচন করে ফেলে! চাকুরির বাজারে নিজেকে প্রমাণ করার, নিজের নামটাকে পরিচিত করার খুব জনপ্রিয় একটা মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই কেস কম্পিটিশনগুলো।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো যে, কেস সলভিং কম্পিটিশনগুলো যে শুধু বিবিএ-এর শিক্ষার্থীদের মধ্যেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তা কিন্তু নয়। সোশ্যাল সায়েন্স থেকে শুরু করে আর্টস ফ্যাকাল্টির মানুষেরাও এসবে আগ্রহ নিয়ে প্রতিযোগ করছে, অনেকে তো প্রাইজও পেয়ে যাচ্ছে! তুমুল জনপ্রিয় এই কেস সলভিং কম্পিটিশনে যারা প্রথম আসে, তারা প্রায়ই খুব ছোট কিন্তু ক্ষতিকর ভুল করে ফেলে। এরকম ৫টা ভুল নিয়েই লিখছি এখানে।

ভুল নম্বর ১

কেস সলভ করার জন্যে আমরা অনেকেই অনেক ধরণের Tool ব্যবহার করি। SWOT, PASTEL, PORTER’S বা এই জাতীয় টুল ব্যবহার করলে কেস সলভিং-এর বিষয়টা আরো অনেক সহজ হয়ে যায়। সমস্যা হচ্ছে যে, কোন ধরণের কেসে কোন টুল ব্যবহার করতে হয়, সেটা না জানলে পুরো কেসেই বিশাল রকম একটা গড়বড় হয়ে যাবে!

ধরো যেখানে SWOT দরকার নেই, সেখানে তুমি সেটার একটা উদ্ভট ব্যবহার করে ফেললে। তাতে হয়তো তোমার মনে হচ্ছে তোমার সমাধানটা ঠিক, কিন্তু আসলে হয়ত তুমি বড় রকম একটা ভুল করে ফেলেছ সেখানে!

ভুল নম্বর ২

কেস সলভ করছো, এখানে তোমার সব সমাধানগুলোকে হতে হবে তোমার নিজের আইডিয়া থেকে দেয়া। এক্ষেত্রে বাইরের কোন তথ্য বা ডাটা যা তোমার কেসে দেয়া ছিল না, কিংবা এমন কোন কথা যেটা অন্য কোথাও দেয়া ছিল, কেসে ছিল না- এগুলো ব্যবহার করা একেবারেই নিষিদ্ধ। খুব ছোট্ট একটা বিষয়, কিন্তু এইরকম ছোট একটা ভুলের জন্যে তোমার পুরো কেস সলভিং বৃথা হয়ে যেতে পারে!

download

ধরো, তোমাকে দেয়া হয়েছে আইফোনের একটা কেস। কেসটা ২০০৭ সালের। এখন তুমি যদি সেখানে ২০১৭ সালে আইফোনের যে পরিবর্তনগুলো হয়েছে সেগুলো সমাধান হিসেবে দাও, অর্থাৎ বাইরের তথ্য ব্যবহার করো, সেক্ষেত্রে বিষয়টা পুরোপুরি ভুল হবে। তাই খুব ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে কী কী তথ্য দেয়া আছে এবং তুমি তার মধ্যেই কেস সলভ করতে পারছো কিনা। 

ভুল নম্বর ৩

যখনই কোন একটা কেস দেয়া হয়, সবাইকে আমি দেখি হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায় কেসের সমস্যা বের করতে। এই সমস্যা বের করতে গিয়ে দেখা যায় যে একেকজন তিন চারটা করে সমস্যা বের করে নিয়ে এসেছে, ইস্যু এনেছে। অথচ সমস্যা কিন্তু থাকে একটা। বাকিগুলো হচ্ছে ওই সমস্যার কারণে যে বিপদ হয়, সেটা। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না অনেকে, তাই ঠিকভাবে আসল সমস্যাটাও আর তাঁদের খোঁজা হয়ে ওঠে না।

ধরো, তোমার টাইফয়েড হয়েছে। এখন এই টাইফয়েডের কারণে তোমার আরো বেশ কিছু সমস্যা হতেই পারে, যেমন মাথা ধরা, পেট খারাপ এবং অন্যান্য। এগুলো কিন্তু টাইফয়েডের কারণেই হয়েছে, এর এক একটা লক্ষণ এগুলো। এখন তুমি যদি এই লক্ষণগুলোর পেছনে পড়ে থাকো, তাহলে আসল টাইফয়েডের নিরাময় করতে অনেক সময় লেগে যাবে। অন্যদিকে, কেবল টাইফয়েডের ওষুধ খেয়ে নিলে কিন্তু সব সমস্যার সমাধান!

ভুল নম্বর ৪

কেস সলভিং করার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে তোমাদের অনেকেই হুট করে একটা সমাধানে চলে আসো। এটা করা যাবে না। এটা করা যাবে না ঠিক এই কারণেই, কারণ তোমার সমাধানটা যৌক্তিক না-ও হতে পারে।

download 3

তুমি এক্ষেত্রে যেটা করতে পারো, সেটা হলো যে কেসটার যত রকম সমাধান থাকতে পারে, অল্টারনেটিভ হিসেবে সবগুলোই তুমি লিখে ফেলো। পাশাপাশি সবশেষে নিজের সমাধানটাও লেখো। সেক্ষেত্রে সমাধানটা আরো বেশি শক্তিশালী দেখাবে।

ভুল নম্বর ৫

তুমি রিকমেন্ডেশন দিয়ে দিলে, ব্যস কাজ খতম! এটা যদি মনে করে থাকো, তাহলে তুমি নিশ্চিত করেই ৫ নম্বর ভুলটা করে বসছো। চেষ্টা করবে এই ভুলটি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে। 

রিকমেন্ডেশনের পাশাপাশি তোমার সমাধানের লং টার্ম চিন্তাধারা কী, শর্ট টার্মে কীভাবে এগোবে, এবং এটা ছাড়াও এর কোন ব্যাকআপ প্ল্যান আছে কিনা- সবকিছু দিয়ে তবেই শেষ করবে। তাহলেই কেসটা আরো বেশি জমাটি হবে।

এই ৫টা কমন ভুল যদি এড়িয়ে চলতে পারো, কেস সলভিং কম্পিটিশনে তোমার সাফল্য রোখে কে?


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.