প্রাণীদের যে গুণগুলো তোমার মাঝেও থাকা চাই!


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

তোমরা কি জানো? জীববিজ্ঞানীগণ এ পর্যন্ত পনেরো লক্ষেরও বেশি প্রাণী-প্রজাতি শনাক্ত করেছেন। আর এসব প্রজাতির মধ্যেও রয়েছে নানা ধরণের ভিন্নতা। আর এত লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণীদের মধ্যে আমরা মানুষ, যারা কিনা সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষ যে সৃষ্টির সেরা জীব তাতে কারো কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সৃষ্টির সেরা জীব বলেই যে আমরা সকল গুণে পরিপূর্ণ এমন কিন্তু না। আর সৃষ্টির সেরা জীব বলেই অন্য প্রাণীদের কাছ থেকে কিছু শেখা যাবে না, এমনটাও কিন্তু না।

প্রকৃতিতে অবস্থান করে এমন অনেক প্রাণী রয়েছে যারা আমাদের অনেক বড় বড় শিক্ষা দেই এবং তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখে নিজেকে আরও ভালো মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব। তাই আর কথা না বাড়িয়ে চলো এমন কিছু অসাধারনসাধারণ প্রাণীর গুণ সম্পর্কে জেনে আসি যা তোমার জীবনে অসাধারণ মাত্রার সৃষ্টি করবে।

পিঁপড়া

আকৃতিতে মাত্র ৬-১২ মিলিমিটার হলেও পিঁপড়াকেই বলা হয় প্রাণীজগতের সবথেকে পরিশ্রমী প্রাণী। সব থেকে মজার বিষয় হলো পিঁপড়াও মানুষের মতন বিবেকসম্পন্ন সামাজিক প্রাণী। আর এই পিঁপড়াকে ছোট বলে এড়িয়ে না যেয়ে যদি ভালোমতো পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলে দেখতে পাবে পিঁপড়া তোমাকে জীবন বদলে দেয়ার মতন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিচ্ছে।

প্রথমতই তুমি খেয়াল করলে পিঁপড়ার দলগতভাবে কাজ করার শৈল্পিকতা দেখতে পাবে। বাসায় কিংবা গাছের গুঁড়িতে নিশ্চয়ই পিঁপড়াকে দল বেঁধে খাবার নিয়ে চলাচল করতে দেখেছো। এত ক্ষুদ্র পিঁপড়া তাদের থেকে আকারে বড় খাদ্য দানাকে নিয়ে সঠিকভাবে বাসস্থানে পৌঁছাতে পারে একমাত্র টিমওয়ার্কের কারণে। একটা পিঁপড়া কখনোই অন্য আরেকটা পিঁপড়ার উপর বড় খাদ্যবস্তু চাপিয়ে চলে যায় না। নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছানো পর্যন্ত তারা পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য এবং সম্পূর্ণ কাজকে সফল করে তোলে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

পিঁপড়ার কাছ থেকে যদি তুমি দশটা শিক্ষা নাও, তাহলে তার মধ্যে সবথেকে অসাধারণ লেসন হলো সঞ্চয় করার মন-মানসিকতা। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করেই অযথা অনেক টাকা খরচ করে ফেলি কিন্তু পিঁপড়ার ক্ষেত্রে বিষয়টা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ওই যে বললাম, দল বেঁধে খাবার বহন করে চলাচল করে। এর কারণ হচ্ছে তারা তাদের বাসস্থানে খাবার জমিয়ে রাখে বৃষ্টির দিনের জন্যে। তাই কখনোই দেখা যায়না পিঁপড়ার দল খাবার খেয়ে চলে যাচ্ছে, তারা সাথে করে বড় অংশ নিয়ে বাসস্থানে ফিরে যায় তাদের খারাপ দিনের কথা চিন্তা করে।

সঞ্চয় করার চমৎকার কৌশল দেখে নেও এখানে [ http://testhome.10minuteschool.com/blog/save-money-easily/ ]

উট

ছোটবেলা থেকেই হয়তো শুনে এসেছো উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়। কিন্তু কেনো উটকে মরুভুমির জাহাজ বলা হয়, জানা আছে কি?

উটকে মরুভুমির জাহাজ বলা হয় তার “Power of Survival”-এর কারণে। উট শত কঠিন পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে বেঁচে থাকতে পারে। তুমি শুনে অবাক হবে, কয়েক সপ্তাহ খাবার এবং পানি ছাড়া উটের বেঁচে থাকতে খুব বেশি একটা সমস্যা হয় না! তার উপরে মরুভূমির প্রচণ্ড তাপের কথা ভুলে যাওয়া যাবে না কোনো মতেই। বালির মাঝে প্রচন্ড তাপে মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পিঠে নিয়ে হেটে যাওয়ার সামর্থ্য তার আছে। দেহের পশমের হালকা বর্ণ এবং চওড়া পায়ের পাতা তাদেরকে এক্ষেত্রে সাহায্য করে থাকে।

এখন তোমাকে মরুভূমিতে ভয়াবহ তাপের মাঝে খাবার পানি ছাড়া হাঁটাহাঁটি করার পরামর্শ আমি দিচ্ছি না। কারণ, এভাবে বেঁচে থাকা মানুষের জন্যে আসলেই অনেক কষ্টকর। তাহলে আমরা উটদের কাছ থেকে কী শিখতে পারি?

মানুষের জীবনেও উটের মতন অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। একটা প্রতিকূলতার উদাহরণ দেই। ধরো, তোমার কিছু বইয়ের প্রয়োজন এবং এক মাস পরে তোমার পরীক্ষা। হাতে বই কেনার মতন টাকা নেই। বাসা থেকে যে টাকা পেয়েছিলে তা দিয়ে এখন অতিরিক্ত বই কেনা যাচ্ছে না অথবা পরিবারে আর্থিক সমস্যার জন্যে বই কেনা যাচ্ছে না। তুমি এক্ষেত্রে ধরে নাও বই কেনার জন্য যে কোন কারণেই হোক টাকাটা তোমার কাছে এখন নেই। তাহলে এমন একটা মুহূর্তে তুমি কী করবে?

কঠিন মুহূর্তে হাল না ছেড়ে দিয়ে সারভাইভ করাই উট আমাদের শেখায়। সেখান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তুমি হার মেনে নিও না। বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করেই হোক কিংবা লাইব্রেরিতে এক্সট্রা সময় দিয়েই হোক, হাতের কাছে থাকা জিনিসগুলোকেই কাজে লাগিয়ে টিকে থাকতে হবে শেষ পর্যন্ত।

মাকড়সা

স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসের কথা মনে আছে কি? সেই ছোটবেলা থেকে ইংরেজি পরীক্ষাতে “Story Writing”-এ যার গল্প আমরা প্রায় সবাই লিখেছি বারবার। একটা মাকড়সার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি স্বাধীন করেছিলেন গোটা স্কটল্যান্ডকে! তাই মাকড়সার কাছ থেকে আমাদের শেখার অন্যতম বিষয় হলো “Never Give Up Mentality”। আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত আমরা ব্যর্থতার সম্মুখীন হই। কিন্তু যদি থেমে যাই তাহলেই হেরে যাবো এই চিন্তা করতে শেখায় মাকড়সা।

আরও চমৎকার কিছু বিষয় হলো মাকড়সার চিন্তা ভাবনা। একটি মাকড়সা যখন জাল বোনে তখন সে সব থেকে ভালো স্থানকে নিয়ে চিন্তা করে না। সে চিন্তা করে করে বড় করে জাল বোনার কথা। একবার জাল বোনা শুরু করলে আর না থেমে বড় আকারে জাল বুনতে থাকে সে। প্রতিদিন সে অনেক সময় ব্যয় করে তার জালবোনার পিছনে এবং ততক্ষণ থামে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে একটা মাস্টারপিস তৈরি করছে।

নিজের স্বপ্নকে বড় ভাবার এবং তার জন্য পরিশ্রম করে যাওয়ার এমন দৃষ্টান্ত মাকড়সা আমাদেরকে শেখায়।

 
মজায় মজায় ইংরেজি শিখ!

ঈগল

ঈগলকে বলা হয় পাখিদের রাজা! এমনি এমনিতো আর কাউকে রাজা বলা যায় না, তাই না? ঈগলের মাঝে আছে অসাধারণ সব গুণ এবং তাদের বেঁচে থাকার জন্য রয়েছে অসাধারণ কিছু নীতিমালা।

তুমি কোন দিন একটা ঈগলকে কবুতর কিংবা কাকের সাথে উড়তে দেখবে না। ঈগল এতটাই উড়ার সময় এতটাই উঁচুতে অবস্থান করে যে, অন্যান্য পাখিরা তার ধারের কাছেও ভিড়তে পারে না। আরও গুণাবলীর মধ্যে আছে ঈগলের দৃষ্টি। ঈগল ওড়ার সময় পাচঁ কিলোমিটার পর্যন্ত স্পষ্ট দেখতে পায় এবং তারা যখন কোন শিকারের উপর নজর দেয় শত বাধা থাকা সত্ত্বেও শিকারকে হাতে পাওয়া পর্যন্ত নজর সরিয়ে নেয় না।

তুমি যদি একটু এই গুণগুলোকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করো, তাহলেই বুঝতে পারবে এখানে শেখার আছে কোন বিষয়টি। নিজেকে প্রমাণ করার জন্যে দুর্বলদের সাথে প্রতিযোগিতা করাতে কোন গৌরব নেই বরং তার থেকে শক্তিশালীদের সাথে প্রতিযোগিতায় হেরে গেলেও অনেক লাভ। কারণ, সেখান থেকে তুমি নতুন কিছু শিখতে পারবে, নিজের দক্ষতাকে বাড়িয়ে নিতে পারবে অনেক গুণে। আরও একটি শেখার বিষয় হলো নিজের লক্ষ্যকে মূল্য দেয়া। অন্য সবকিছু থেকে আলাদা করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে পাওয়ার জন্যে মনস্থির করে ফেলা এবং লক্ষ্য অর্জনের আগ পর্যন্ত হাল না ছাড়া।

ঈগলের নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসো [ http://testhome.10minuteschool.com/blog/7-lessons-to-learn-from-the-eagle/ ]

কচ্ছপ

আরও একটা বিখ্যাত গল্প যা কিনা “Slow and Steady Wins the Race”-নামে ইংরেজি পরীক্ষার খাতাতে আমরা লিখেছি। মনে আছে সেই গভীর জঙ্গলের খরগোশ এবং কচ্ছপের কথা? আশা করি, এই গল্প কেউ ভুলে যাওনি। সেই গল্পের আলোকে কচ্ছপের দু’টি অসাধারণ গুণের কথা বলা যায়।

প্রথমত, ছোট পদক্ষেপ নিতে শেখা। খরগোশ যত চালাকই কিংবা গতিশীলই হোক না কেনো কচ্ছপ, কিন্তু বড় লক্ষ্য দেখে থেমে যায়নি। সে শুরু করেছিলো ছোট পায়ে ধীর গতিতে এবং শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছিলো তারই। আমাদের সবসময় মনে রাখা উচিত পৃথিবীর যত মহৎ মানুষ কিংবা নামকরা প্রতিষ্ঠান কোন কিছুই এক দিনে হয়নি। রাতারাতি নামকরা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আসলে হাতেগোনা কয়েকটা। সবার শুরুটা একই, ছোট থেকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের মাথায় যত আইডিয়া কিংবা প্ল্যান আছে সেগুলোর শুরুটাই হয়ে ওঠে না। কিন্তু আমরাও যদি সাহস করে ছোট পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে চলা শুরু করি, তাহলে আমরাও মহাসাগর সমান লক্ষ্যকে জয় করার সামর্থ্য রাখি ঠিক কচ্ছপের মতনই।

দ্বিতীয়ত, আমরা যে অমূল্য শিক্ষা লাভ করি, তা হলো নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা না করা। একবার চিন্তা করে দেখো যদি কচ্ছপ নিজের সাথে খরগোশের গতির তুলনা করতো তাহলে সে আজ বিজয়ী হতে পারতো না। নিজের উপর বিশ্বাস রেখে ধীরেসুস্থে এগিয়ে চলাই ছিলো, তার সাফল্যের মূলমন্ত্র। নিজের জীবনে যদি তুমি নিজেকে প্রতিনিয়ত অন্যের সাথে তুলনা করে ছোট করো, তাহলে তোমার আত্মবিশ্বাস বলে কিছুই থাকবে না। নিজেকে ছোট না করে, ভালো কিছু শেখার উদ্দেশ্যে তুলনা করো। তাছাড়া সব সময় তুলনা করার মন মানসিকতা তোমার আত্মবিশ্বাসকে দমিয়ে দেবে পুরোপুরি।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Mustakim Ahmmad
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?