পড়াতে গিয়ে নিজেই শিখে ফেলতে পারো যে ৫টি গুণ!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে তোমার ধারণা কতটুকু স্পষ্ট, তা যত না বুঝতে পারবে বারবার পড়ার মাধ্যমে, তার চেয়েও বেশি বুঝতে পারবে, যখন ঠিক ঐ বিষয়টি তুমি আরেকজনকে পড়াতে যাবে। পড়াতে গিয়ে দেখবে, যে টপিক গুলো তুমি সবচেয়ে ভালো পারো বলে মনে করতে, আসলে সেগুলো সম্পর্কে তোমার জানা আরো বাকি! কাউকে কিছু শেখানোর ফলে শুধু সেই ব্যক্তিই লাভবান হয় না, বরং, যে শেখায় তারও জ্ঞানচর্চা হয়।    

চলো দেখে নেই, অন্যকে শেখানোর মধ্য দিয়ে কীভাবে তুমি নিজে লাভবান হবে:

১। যেকোন বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা অর্জন:

ধরো, তুমি মানবদেহে হৃদপিণ্ডের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বেশ ভালো করে পড়েছো। পরের দিন তোমার এক বন্ধু বিষয়টি বুঝতে ইচ্ছা প্রকাশ করলো এবং তুমি তাকে পুরো প্রক্রিয়াটি ছবি এঁকে বর্ণনা করে বুঝিয়ে দিলে। বুঝানোর সময়ে লক্ষ্য করলে, প্রবাহের দিকগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, কিংবা স্পষ্টভাবে মনে পড়ছে না। তখন তুমি সেটি আবার পড়ে তাকে বর্ণনা করলে। এতে পুরো রক্ত সঞ্চালনের প্রক্রিয়াটি তোমার মনে স্পষ্টভাবে গেঁথে গেলো!

গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশান ইত্যাদি স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য 10 Minute School Skill Development Lab নামে ১০ মিনিট স্কুলের রয়েছে একটি ফেইসবুক গ্রুপ।

এভাবেই যেকোনো বিষয় কাউকে শেখালে যেমন তুমি নিজের দুর্বলতাগুলোকে খুঁজে পাবে, তেমনি ঐ বিষয়ে পারদর্শী হয়ে উঠবে।  

jiboner chorcha, jiboner golpo, life hacks, life tips, teaching

ঘুরে আসুন: বুদ্ধি বাড়ানোর সেরা ৪টি খেলা!   

২। সাবলীল বক্তা হিসেবে দক্ষতা অর্জন: 

আমার মত অনেকেই আছো, যাদের জনসম্মুখে গুছিয়ে কথা বলতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়!   

কিছু শেখানোর মাধ্যমে একজন সাবলীল বক্তার দুটি অসাধারণ গুণ অর্জন করা যায়।

সিভি তৈরির কৌশল জেনে নাও ঘরে বসেই!

পাওয়ারপয়েন্ট ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলতে পারেন আপনি!

তাই, আর দেরি না করে ১০ মিনিট স্কুলের এক্সক্লুসিভ এই প্লে-লিস্টটি থেকে ঘুরে আসুন, এক্ষুনি!

১০ মিনিট স্কুলের পাওয়ার পয়েন্ট সিরিজ

প্রথমত, জনসম্মুখে কথা বলার সাহস লাভ করা যায়। অনেক মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময়ে যে অস্থিরতা কাজ করে, তাকে জয় করা সম্ভব পড়ানোর মাধ্যমে।

কোনো বিষয় মুখস্থ করার চেয়ে আত্মস্থ করা শ্রেয়

দ্বিতীয়ত, গুছিয়ে কথা বলার দক্ষতা অর্জন করা যায়। সামনের মানুষটির মনোযোগ কীভাবে ধরে রাখা যায় কিংবা শব্দচয়নে কতটা সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার- ইত্যাদি বিষয়েও পারদর্শী হওয়া সম্ভব।

৩। আত্মবিশ্বাস অর্জন:

পড়ানোর মাধ্যমে যেমন উপস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি পায় তেমনি আত্মবিশ্বাসও গড়ে ওঠে। ঠিক কোনভাবে একটি বিষয় উপস্থাপন করলে শ্রোতা বক্তার কথা বুঝতে পারবেন এবং বিষয়টি শ্রোতার কাছে আকর্ষণীয় হবে, তা পড়াতে গিয়ে উপলব্ধি করা যায়।

একজন ভালো উপস্থাপকের অন্যতম গুণ হলো শারীরিক অঙ্গভঙ্গির যথাযথ ব্যবহার, যা পড়ানোর মাধ্যমে শেখা সম্ভব। এসকল দক্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়েই একজন ব্যক্তি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।       

৪। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি:

পড়াতে হলে অবশ্যই আগে নিজের পড়তে হবে। পড়ার পাশাপাশি একই জিনিস বারবার কাউকে বুঝানোর সময় তা সহজেই স্মৃতিতে গেঁথে যায়। কোনো গণিতের সূত্র হয়ত তোমার সহজে মনে থাকে না, তবে এক কাজ করো। সেই সূত্রটি অন্য কাউকে শেখাও। দেখবে সূত্রটি মনে রাখতে আর বিন্দুমাত্র কষ্ট হচ্ছে না! সুতরাং, তুমি নিজে পড়ার পাশাপাশি অন্যকে পড়ালে বা শেখালে স্মৃতিশক্তি হবে আরো প্রখর।   

ঘুরে আসুন: সঠিক দিকে ফোকাস করলে, বিনোদনেও শিক্ষা মেলে

 

৫। ভিন্ন আঙ্গিকে চিন্তা করতে শেখা:  

তোমার স্বপ্নের পথে পা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তোমার ইংরেজির জ্ঞান কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে! তাই আর দেরি না করে, আজই ঘুরে এস ১০ মিনিট স্কুলের এই এক্সক্লুসিভ প্লে-লিস্টটি থেকে!

যেকোন বিষয়ে পড়াতে হলে তার গভীরে গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। কেননা, নিজের কাছে কোনো ধারণা স্পষ্ট না হলে তা অন্যকে স্পষ্টভাবে বুঝানো কোনোমতেই সম্ভব না! গভীরভাবে পড়তে যেয়ে যেমন চিন্তাশক্তি আলোড়িত হয়, তেমনি গতানুগতিক ধারার বাইরে ভিন্ন আঙ্গিকে চিন্তা করতে শেখা যায়।

তাছাড়া, পড়ানোর সময়ে প্রচুর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, যার উত্তর খুঁজতে গিয়েও তুমি ওই বিষয় সম্পর্কে নতুন কিছু জানতে বা উদ্ভাবন করতে পারো।  

কোনো বিষয় মুখস্থ করার চেয়ে আত্মস্থ করা শ্রেয়। বারবার পড়ার মাধ্যমে যেমন মুখস্থ করা যায়, তেমনি আত্মস্থ করা যায় অন্য কাউকে শেখানোর মাধ্যমেই!


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
Author
Rifah Tamanna Borna
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?