একজন আলোর ফেরিওয়ালা: পলান সরকার

March 3, 2019 ...

প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাঁধে ঝোলাভর্তি বই নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন একজন মানুষ। মাইলের পর মাইল হেঁটে একেকদিন একেক গ্রামে যেতেন। বাড়ি বাড়ি কড়া নেড়ে আগের সপ্তাহের বই ফেরত নিয়ে নতুন বই পড়তে দিতেন। রাজশাহীর প্রায় ২০টি গ্রামজুড়ে যিনি ছড়িয়েছিল বইয়ের আলো। ম্যাক্সিম গোর্কি বলেছিলেন, “আমার মধ্যে যদি উত্তম বলে কিছু থাকে তার জন্য আমি বইয়ের কাছে ঋণী।” এই উত্তম মানুষ গড়ার একজন কারিগর ছিলেন পলান সরকার। সাদা মনের এই মানুষটি নিজের টাকায় বই কিনে পড়তে দিতেন পিছিয়ে পড়া গ্রামের মানুষকে। শিক্ষার এক অভিনব আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন পলান সরকার নামের এই আলোর দিশারি। তাঁকে নিয়েই জানবো আমরা।

HlyS6wtQOpVFl7wxJ FFLDRj0gZzj71U4 IHVbOY cN73G veAKS kOgHY54pHqVjSqOcr6M7tullowR0bDmc s23PqbqwSA77Y6lcRATcXze6mWRTOq qneA qSbF5bonHvAeHN

আলোর দিশারিঃ

সকালে ঘুম থেকে উঠে কাঁধে ঝোলা নিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে যাওয়া৷ উদ্দেশ্য? আলো ফেরি করা। আলো আবার ফেরি করা যায় নাকি? যায়, জ্ঞানের আলো। প্রায় শতবর্ষী এক মানুষ। তাঁর ঝোলাভর্তি বই৷ সকালে ঘুম ভেঙেই গ্রামের মানুষ তাদের আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতো এই সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষটাকে৷ সবাই আপন করে নিয়েছিল এই মানুষটাকে। ঝোলাভর্তি আর দুই হাত ভর্তি বই। এ বই নিয়ে পলান সরকার যেতেন  গ্রামের ঘরে ঘরে। কারও পছন্দ রবীন্দ্রনাথ, আবার কারো নজরুল কিংবা শরৎচন্দ্র। সব বয়সের সব পাঠকের হাতেই তিনি তুলে দিতেন প্রিয় বইটি। নিজের গ্রাম থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে আশেপাশের ১০-১২ টি গ্রামে শুরু করেছিলেন তাঁর জ্ঞানের আলো ফেরির কাজ। পাঠক ছিলেন গ্রামের যুবক-যুবতী, কিশোর, বৃদ্ধ এমনকি গৃহবধূরা। “বইওয়ালা দুলাভাই” নামে যাকে গ্রামের মানুষরা চিনতেন। যেখানে বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে আগে ঠিকমতো শিক্ষার আলোই পৌঁছাতো না৷ পলান সরকার রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২০টি গ্রামজুড়ে  গড়ে তুলেছিলেন বই পড়ার এক অভিনব আন্দোলন। রাজশাহীর বাউসা ইউনিয়নের বেণুপুর, হরিপুর, দীঘা, হাটপাড়া, পূর্বপাড়া, সরকারপাড়া, মাঠপাড়া, ঠাকুরপাড়াসহ ১২টি গ্রামে তিনি পরিচিত এবং সবার প্রিয় মানুষ ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনঃ

পলান সরকার ১৯২১ সালে নাটোরের বাগাতিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম হারেজউদ্দিন সরকার । মা ডাকতেন পলান। সেই থেকে পরিচিত হন পলান সরকার নামে। জন্মের মাত্র ৫ মাস পর পিতা মারা যান। চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর অর্থনৈতিক সংকটে লেখাপড়া বন্ধ করে দেন। এরপর  নানা পলান সরকারকে রাজশাহীর বাঘার থানার বাউসা গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে তিনি একটি স্কুলে ভর্তি হন। যেখানে ষষ্ঠ শ্রেণীর পর লেখাপড়ার সুযোগ ছিল না। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়েই যাকে লেখাপড়ার ইতি টানতে হয় তিনিই সারাজীবন ছড়িয়েছেন জ্ঞানের আলো। ওইটুকু বয়সেই তার বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠে। সেই অভ্যাসের বশেই তিনি যেখানে যে বই পেতেন, সংগ্রহ করতেন, নিজে পড়তেন এবং অন্যকেও বই পড়তে উৎসাহিত করতেন। নিজে পড়ালেখা না চালাতে পারলেও নিজের ছেলেমেয়ে এবং গ্রামের অন্য মানুষদের মাঝে ছড়িয়েছেন শিক্ষার আলো। পরিবারের সবাইকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন, কারণ জ্ঞানকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন।
নানা ময়েন উদ্দিন সরকার ছিলেন স্থানীয় ছোট জমিদার। যৌবনে পলান সরকার নানার জমিদারির খাজনা আদায় করতেন এবং দেশ বিভাগের পর জমিদারি ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলে কর আদায়কারীর চাকরি পান। বেতনের টাকা দিয়ে নিজে বই কিনতেন এবং মানুষকেও ধার দিতেন। নানার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে তিনি ৪০ বিঘা সম্পত্তির মালিক হন। সে সম্পত্তিও তিনি মানবকল্যাণে উৎসর্গ করেন। ব্রিটিশ আমলেই তিনি যাত্রাদলে যোগ দিয়েছিলেন। ভাঁড়ের চরিত্রে অভিনয় করতেন। তিনিই আবার যাত্রার পাণ্ডুলিপি হাতে লিখে কপি করতেন। সে সময় গ্রামাঞ্চলে যাঁরা যাত্রা-নাটকে অভিনয় করতেন তাঁদের অনেকেই পড়ালেখা জানতেন না। পলান সরকার লেখাপড়া জানতেন। তখন না ছিল ফটোকপিয়ার, না সাইক্লোস্টাইল মেশিন। তাই যাত্রার পাণ্ডুলিপি কপি করতে হতো হাতে লিখে।  যাত্রার পাণ্ডুলিপি লেখার কাজটা অনেক সময় করতে হতো তাঁকেই। অন্যদিকে মঞ্চের পেছন থেকে অভিনেতা- অভিনেত্রীদের সংলাপ বলে দিতেন। এভাবেই বই পড়ার নেশাটা আরো জাগ্রত হয়। দীর্ঘদিন ধরে বাউসা হারুন অর রসিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

cr coJIWblT BJP0Obp5tpxK4t7EtcW3827lgqNazuKrj CrgkHpuuJxFxFAmxJm9xNwXHPhmL1Te8cdpmAL4mbgljdCvErwJ2JHsj6jwXLIaDYGe5

যেভাবে হলো শুরুঃ

তিনি বই পড়াকে খুব গুরুত্ব দিতেন। নিজের ভালোলাগা থেকে কাজটি শুরু করেন। এর পেছনে একটি গল্প আছে। গল্পটা এরকম যে  ১৯৯০ সাল থেকে বাউসা হারুন অর রসিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিবছর যারা মেধাতালিকায় প্রথম দশটি স্থান অর্জন করত তাদের বই উপহার দিতেন পলান সরকার। যেহেতু তিনি নিজেও ভালোবাসেন বই পড়তে। উল্লেখ্য যে দীর্ঘদিন ধরে বাউসা হারুন অর রসিদ শাহ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় ৫২ শতাংশ জমি দান করার পর পলান সরকার চেয়ারম্যান পদে আসীন হন। সেটা স্থানীয়দের অনুরোধেই। এরপর অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও তাঁর কাছে বইয়ের আবদার করে। তারাও চায় বই পড়তে। কিন্তু সবাইকে তো আর বই দেয়া যায় না।  তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি তাদেরও বই দিবেন তবে তা ফেরত দিতে হবে। শুরু হলো বই দেয়া-নেয়া। এভাবেই শুরু হয় বই পড়া আন্দোলনের ভিত। আস্তে আস্তে তার এই অভিনব বইয়ের গল্প ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে। একসময় গ্রামের মানুষও তাঁর কাছে বই চাইতে শুরু করে। তিনিও সবাইকে খুশি মনে বই দিতেন। পলান সরকার যে আসে তার হাতেই বই তুলে দেন। বইয়ের কোনো ক্ষতি না করে সময়মতো ফেরত দিলেই তিনি খুশি। গ্রামের মানুষও এই সুযোগে বই পড়তো। টাকা দিতে হতো না। এভাবেই তাঁর নিজের গ্রামের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে তাঁর বই বিলি করার খবর।
এরপর শুরু হয় আরেক গল্পের। ১৯৯২ সালে ডায়াবেটিকসে আক্রান্ত হওয়ায় ডাক্তারের কড়া নির্দেশ প্রতিদিন তাঁকে কমপক্ষে তিন কিলোমিটার হাঁটতে হবে। তাই পলান সরকারকে হাঁটার অভ্যাস করতে হয়। তখনই তাঁর মাথায় আরেক অভিনব চিন্তা আসে। তিনি স্কুলকেন্দ্রিক বই বিতরণের প্রথা ভেঙে বাড়ি বাড়ি বই পৌঁছে দেয়া এবং ফেরত নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বলেন যে তিনি নিজেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসবেন বই। আবার তা ফেরত আনবেন। গ্রামের মেঠোপথ ধরে মাইলের পর মাইল হেঁটে চলতেন এক ব্যক্তি। সাথে নিয়ে কিছু বই।

বই আর বইঃ

বই মানুষকে ভালো মানুষ করে। যারা বই পড়তে উৎসাহিত করেন তারা আলোর দিকে নিয়ে যান আমাদের। আলোর পথ দেখান। বই হলো শ্রেষ্ঠ উপহার৷ পলান সরকার ছিলেন আলোর পথপ্রদর্শক। কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে অন্যান্য জিনিসের পাশাপাশি তিনি উপহার দিতেন বই।  এছাড়া তাঁর নিজের চালকলে প্রতিবার হালখাতার সময় যাঁরা টাকা শোধ করতেন তিনি তাঁদের একটি করে বই উপহার দিতেন। বিয়েসহ যাবতীয় অনুষ্ঠানে তিনি বই উপহার দিতেন। পাঠকেরা যে বই আবদার করেন তিনি সে বই-ই জোগাড় করে দিতেন। তাঁর কর্মকাণ্ড সমাজে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। এলাকার চায়ের দোকানী পর্যন্ত হয়ে ওঠে বই পাগল। প্রতি বিকালে তার দোকানে বসে বই পড়ার আসর। ২০০৯ সালে রাজশাহী জেলা পরিষদ তাঁর বাড়ির আঙিনায় একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করে। গ্রামের মানুষজন হাটবাজারে যেতো দরকারি জিনিসপত্র কিনতে। হাটে যেতেন পলান সরকারও। তবে কিছু কিনতে নয়, মানুষকে বই বিলি করতে। হাটে রাজ্যের মানুষ আসতেন। আর পলান সরকারের পাঠক খুঁজে পেতে সুবিধা হতো। কয়েক বছর থেকে তিনি বই বিতরণের জন্য এলাকাভিত্তিক পাঁচটি বিকল্প বই বিতরণ কেন্দ্র তৈরি করেন। এ জন্য কোনো বাজারের বইপ্রেমী কোনো দোকানিকে তিনি বেছে নিতেন। দোকানমালিক তার দোকানে মালামালের পাশাপাশি পলান সরকারের বইও রাখতো।  সেখান থেকে স্থানীয় লোকজন বই নিয়ে যেতো । পড়া বই তাঁরা নিজেরাই আবার ফেরত দিয়ে নতুন বই নিয়ে যেতো। মাসে এক-দুবার করে পলান সরকার দূরবর্তী এই কেন্দ্রগুলোতে ছেলের সঙ্গে মোটরসাইকেলে চেপে গিয়ে নতুন বই দিয়ে পুরোনো বই নিয়ে আসতেন। একইভাবে অন্য কেন্দ্রে গিয়ে বইগুলো বদলে নিয়ে আসতেন। ওষুধের দোকান, হোমিও চিকিৎসালয়, বাজারের কফি হাউস, মুদির দোকান হয়ে উঠেছিল তাঁর বই রাখার কেন্দ্র।

u7KJqXr8wWGkPIdu9hMdDDdN9XgkWmFl0ULNL0J80ag4AID3ISjt qEjqzz s84NTCA5NRxeB6V5UyJYWWJu0EbJlXp DZhhEupjlqgeBbRKIep1A5I F

সম্মাননাঃ

২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রচারিত ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে আলোকিত মানুষ হিসেবে তুলে ধরা হয় বইপ্রেমী পলান সরকারকে। ইত্যাদি অত্যন্ত জনপ্রিয় এক অনুষ্ঠান। প্রথমে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষই জানতো পলান সরকারের এই অসামান্য শিক্ষা আন্দোলনের গল্প। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রথম সারির দৈনিক প্রথম আলোর ‘ছুটিরদিনে’ সাময়িকীতে তাকে নিয়ে প্রচ্ছদ প্রতিবেদন ছাপা হয় যার নাম ছিলো ‘বিনি পয়সায় বই বিলাই’। এরপর থেকে তিনি সারাদেশে পরিচিতি পান। ২০১১ সালে সামাজসেবায় অবদানের জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক লাভ করেন। ২০১৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘ইমপ্যাক্ট জার্নালিজম ডে’ উপলক্ষে বিশ্বের ভিন্ন ভাষার প্রধান প্রধান দৈনিকে একযোগে পলান সরকারের বই পড়ার এই আন্দোলনের গল্প ছাপা হয়। সারা পৃথিবীর ৪০টি প্রধান দৈনিকে লেখাটি ছাপা হয়। নিজের গ্রাম, এরপর আশেপাশের গ্রাম, পরিশেষে বিশ্বের মাঝে পরিচিত হন আমাদের ‘’আলোর ফেরিওয়ালা’’। তাঁকে নিয়ে ‘সায়াহ্নে সূর্যোদয়’ নামে শিমুল সরকার একটি নাটক নির্মাণ করেছেন। চ্যানেল আই তা প্রচার করেছিল। বিনামূল্যে বই বিতরণ করে সকলের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টির করার জন্য ইউনিলিভার বাংলাদেশ পলান সরকারকে ‘সাদা মনের মানুষ’ খেতাবে ভূষিত করে।

মৃত্যুঃ

২০১৯ সালে ১ মার্চ বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয় এই আলোর ফেরিওয়ালার। তিনি আর কোনদিন তাঁর বইয়ের ঝোলা নিয়ে জ্ঞানের আলো ফেরি করবেন না। কিন্তু তিনি যেই আন্দোলন শুরু করেছিলেন, মানুষের মাঝে বইয়ের আলো জ্বালিয়েছিলে সেজন্য মানুষ আজীবন তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবেন।      

পলান সরকার সমাজকে বদলে দেওয়ার জন্য ভিন্নরকম এক আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন সবাই বই পড়বে। এবং তিনি সফল। গ্রামের মানুষদের মাঝে শিক্ষার আলো বিতরণ করেছিলেন এই সাদা মনের সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষটি। যাদের বই পড়ার অভ্যাস ছিল না তাঁরাও বই পড়তে আগ্রহী হয়েছিলেন। তাঁকে একজন ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীও বলা যায় বটে। তাঁর মেয়ে রোকেয়া খাতুন দৈনিক প্রথম আলোতে তাঁর বাবাকে নিয়ে লিখেছিলেন, “আমার বাবা খুব সাধারণ মানুষ। তাঁর নামের আগে কোনো ডিগ্রি নেই। পদবি নেই। এই বাবাকে নিয়েই আমি গর্বিত। আমি মনে করি, আমার বাবার নামটাই একটা বিশেষণ হয়ে গেছে। রাজশাহীতে এক যুবক তাঁর একটি ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের নাম রেখেছে ‘পলান সরকার পাঠাগার’। পাঠাগারের নামকরণই হয়েছে আমার বাবার নামে। ভাবলেই ভালো লাগে।” প্রথম আলোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কী ভাবনা থেকে তিনি বই বিতরণের কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর উত্তর ছিল, “এক কথায় কই, ‘পড়িলে বই আলোকিত হই, আর না পড়িলে বই অন্ধকারেই রই।’ বই পড়া যত বেশি হবে, সবাই তত আলোকিত হবে, আনন্দিত হবে। জীবন সুখী হবে। আমি সবাইকে বই পড়তে দিয়েছি কারণ আমার মতে, পৃথিবীতে যত কাজ আছে তার মধ্যে সব থেকে মূল্যবান কাজ হলো জ্ঞানদান। আর জ্ঞানের আধার হলো এই বই। বই যে যত বেশি পড়বে, সে তত বেশি জ্ঞানবান হবে। কিন্তু আমার টাকাপয়সা ছিল না, বিদ্যা-বুদ্ধি ছিল না। শুরুতে এক লাইব্রেরির সঙ্গে যোগাযোগ করে নগদে, বাকিতে বই নিতাম। রাজশাহী অঞ্চলের ২০-২২টা গ্রামে হেঁটে হেঁটে গিয়ে আমি বই পড়তে দিই। আরেক দিন ফেরত আনি। এভাবেই চলছে ৩০ বছর। হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে আমি বই পড়তে দিয়েছি। আমার দেশের বেশিরভাগ মানুষ অশিক্ষিত। বই পড়ার প্রতি, পড়ালেখার প্রতি কারও আগ্রহ নেই। তারপরেও কিছু লোক আসে, বইপত্র পড়ে। আর আমার আসল কাজ, পথে পথে বই বিতরণ চলছেই।”

এই মানুষটি আর গ্রামের পথ ধরে বই নিয়ে হেঁটে যাবেন না। তবে তিনি যে মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়েছিলেন তার জন্য তিনি চিরকাল মানুষের হৃদয়ে “আলোর ফেরিওয়ালা” হয়ে থাকবেন।  

তথ্যসূত্রঃ আলোর ফেরিওয়ালা- আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ ( দৈনিক প্রথম আলো)

আমার বাবা পলান সরকার- রোকেয়া খাতুন (দৈনিক প্রথম আলো)

কালকের বাংলাদেশ সুন্দর হবেই- দৈনিক প্রথম আলো     


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

 

আপনার কমেন্ট লিখুন