অভিজ্ঞতা হোক চাকরির আগেই!

Shanjidul Alam is an ideapreneur and community activist who is a knowledge & innovation enthusiast. He loves finding problems and solving them by simple innovative ideas.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

‘Two years experience required’ …! ফ্রেশার অর্থাৎ সদ্য পাশ করা একজন চাকরিপ্রার্থীর জন্য এই লাইনটা যেন এক রকমের ভয়ঙ্কর সংবাদ। যারা সদ্য পাশ করেছে, স্বাভাবিকভাবেই তাদের কোন অভিজ্ঞতা থাকে না। যদি অভিজ্ঞতা ছাড়া কেউ চাকরিই না দিবে, তবে অভিজ্ঞতা হবেই বা কিভাবে? এখানে সমাধান দুটো। হয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই আবশ্যিক বিষয়টি শিথিল করবে, অথবা ফ্রেশাররাই চাকরির আগেই অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।
প্রথমটা আমাদের হাতে নেই, কিন্তু দ্বিতীয়টা তো পারব আমরা?
অবাক লাগছে? চাকরির আগে আবার কিসের অভিজ্ঞতা। সে বিষয়েই বলব আজ।

আচ্ছা তার আগে আরেকটা বিষয় বলি। আমরা জানি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মত নয়। এখানে সৃষ্টিশীল চিন্তা বা জীবনে চলার জন্য আসলেই যা প্রয়োজন তা শেখানো হয় না। এখানে শেখানো হয় কিভাবে পুঁথিগত বিদ্যা মুখস্ত করে পাশ করা যায়, কিভাবে বন্ধুর সাথে প্রতিযোগিতা করে তাকে পেছনে ফেলা যায়, কিভাবে জিপিএ ফাইভ আনা যায়। কিন্তু বাস্তব জীবনে যখন জ্ঞানের প্রয়োজন হয়, তখন দেখা যায় এত বছরে অর্জন আসলেই শূন্য।

পুঁথিগত বিদ্যার দিন শেষ হয়ে এল বলে। এখন চাকরি জীবনে হউক বা জীবনে অন্য কিছুতে সফল হওয়ার ব্যাপার, সবচেয়ে মূল্যায়ন বেশি পাচ্ছে সফট স্কিল বা ইমোশনাল ইনটেলিজেন্স। যোগাযোগ স্থাপনে দক্ষতা (Communication skill), সময়ানুবর্তিতা (Puntuality), জটিল চিন্তা (Critical thinking), আত্মবিশ্বাস (self-confidence), গবেষণা (quick research), দ্রুত শেখার দক্ষতা (quick-learning skill), সমস্যা সমাধান দক্ষতা (problem-solving skill), দল-ব্যবস্থাপনা দক্ষতা (team management skill), মানিয়ে নেয়ার দক্ষতা (adaptability), এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক কিছু বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত।

এ দক্ষতাগুলো আমাদের পাঠ্য পুস্তক গলাধঃকরণ করে আসেনা, এগুলো আসে বিভিন্ন ধরণের চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে। যেমন বিতর্ক, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া, সংগঠন করা ইত্যাদি।

এই লেখার মূল বিষয়ে ফিরে আসি। সাধারণত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা চলাকালীন কী করে? হয় পড়াশোনার বাইরে কোন কাজ করেনা, বা টিউশনি করায়। নিঃসন্দেহে টিউশনি খুব ভাল একটি পেশা বিশেষ করে নিজের অবসর সময় কাজে লাগিয়ে নিজের পকেট মানি আয় করার। এমনও দেখা যায়, টিউশনি করিয়ে কেউ কেউ তার বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ পর্যন্ত চালায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, বাস্তব পেশা-জগতে টিউশনিকে পেশা হিসেবে অফিসিয়ালি গণ্য করা হয় না। এ কারণে রিজিউমি (সিভি)-তে টিউশনির বিষয়টা উল্লেখ করে খুব একটা ভেল্যু এডিশন হয় না।

আবার অনেক ক্ষেত্রে টিউশনির মাধ্যমে আত্ম-উন্নয়নও হয় না, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টিউশনিতে সেগুলোই পড়ায় যা কিনা কয়েক বছর আগে তারা পড়ে এসছে। এতে রিপিটিভ টিচিং হয়, নতুন কিছু শেখা হয়না যারা টিউশনি করায় তাদের।

তো কিভাবে পড়াশোনা চলাকালীন অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় তার কিছু সুযোগ নিচে দেয়া হলঃ

১। স্টুডেন্ট ইন্টার্নশিপ:

আমাদের একটা ভুল ধারণা আছে যে ইন্টার্নশিপ শুধু গ্র্যাজুয়েশনের পর করা যায়। প্রায় সব দেশেই ‘স্টুডেন্ট ইন্টার্নশিপ’ বলে একটা সুযোগ থাকে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে মিল আছে এমন বিভিন্ন পদে কাজ করতে পারবে।

এই ইন্টার্নশিপ অনেকটা পার্টটাইম জবের মত, তবে এক্ষেত্রে তারা নির্দিষ্ট প্রজেক্টে কোন টিম লিডার দলে কাজ করে। এতে নির্দিষ্ট ঐ পদের কাজগুলো বিভিন্ন বাস্তবিক কাজের মাধ্যমে শেখানো হয়। এতে যেমন অভিজ্ঞতা অর্জন হয়, তেমনি রিজিউমি (সিভি)-তে কাজের অভিজ্ঞতা হিসেবে যুক্তও করা যায়।

২। দক্ষতা নির্ভর স্বেচ্ছাসেবী কাজ:

একে ইংরেজিতে Skill based voluntary work বলা যায়। আমাদের অনেকের মতে স্বেচ্ছাসেবী কাজ শুধু সমাজের সেবার জন্যই করা হয়, এতে আত্ম-উন্নয়ন বা আত্ম-অর্জন হয়না। কথাটা ভুল। স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে যেমন সফট স্কিল হিসেবে যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব গুণের মত বিষয়গুলো অর্জন করা যায়, তেমনি জব-এক্সপেরিয়েন্সের মতও অর্জন আছে এ কাজে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো অলাভজনক হলেও এখন প্রায় সব সংগঠনই খুব গঠনতান্ত্রিকভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

এতে বিভিন্ন পদে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। যেমন আপনি বিবিএ’র শিক্ষার্থী হলে আপনি কোন সংগঠনে ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং বা এইচআর এর মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে পারেন। সিএসই পড়ুয়া হলে সংগঠনের আইটি কাজগুলো দেখাশোনার জন্য আইটি এক্সিকিউটিভ হতে পারেন। এতে যেমন আপনার নিজের অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানো হবে, তেমনি অভিজ্ঞতাও অর্জন হবে। এবং এ অভিজ্ঞতা আপনি আপনার রিজিউমি (সিভি) তে যুক্ত করতে পারবেন।

তরুণদের কাজ অভিযোগ করা নয়, বরং সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা!

৩। বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব:

অনেকের মতেই এসব ক্লাব এক্সট্রা-কারিকুলার এক্টিভিটিই মাত্র। তা কিন্তু নয়। স্বেচ্ছাসেবী কাজের মত এটিইও আপনাকে অভিজ্ঞ করে তুলতে পারে সাথে আপনার রিজিউমিতে যোগ করার জন্য ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স দিতে পারে। এখন প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবই সুন্দর গঠনতন্ত্র মেনে কাজ করে। একটা কোম্পানি পরিচালনার জন্য যতগুলো ডিপার্টমেন্ট দরকার, এক্ষেত্রেও আলাদা আলাদা ডিপার্টমেন্ট থাকে, থাকে এক্সিকিউটিভ। প্রত্যেকের কাজ থাকে আলাদা আলাদা। ধরুন আপনার রিসার্চে আগ্রহ আছে। আপনি ক্লাবের রিসার্চ ডিপার্টমেনটে যুক্ত হতে পারেন।

আপনি সহ বাকি টিমের লিড দেয়ার জন্য থাকবে Head of Research & Development. আপনি আস্তে আস্তে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে করতে এক সময় আপনিও লিড দেয়ার পর্যায়ে যাবেন। মজার ব্যাপার হল, এসবই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়েই। এবং এই কাজের অভিজ্ঞতাও আপনি আপনার রিজিউমিতে যুক্ত করতে পারবেন।

৪। পার্ট টাইম চাকরি:

বাংলাদেশে এখন অনেক কোম্পানি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পার্ট টাইম চাকরি দেয়। কাজের সময়ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের সময় হিসেব করে। পার্ট টাইম চাকরিতে যেমন অভিজ্ঞতা অর্জন হয়, তেমনি অর্থ উপার্জনও হয়। তবে অন্যান্য সুযোগগুলোর চেয়ে তুলনামূলক পার্ট টাইম চাকরির সুযোগ এখনও এদেশে কম।

৫। স্টার্টাপ জব:

বর্তমানে সৃজনশীল তরুণেরা স্টার্টাপ বিষয়টির সাথে পরিচিত। তরুণেরা উদ্ভাবনী আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিয়ে তা ব্যবসা হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। আর এ আইডিয়া থেকে ব্যবসায় পরিণত হওয়ার যে অবস্থা, তাকে স্টার্টাপ বলে। স্টার্টাপগুলো শুরু হয় আইডিয়া দিয়ে, তারপর গঠিত হয় অধ্যবসায়ী টিম, তারা কাজ করে, তারা সফল হলে আস্তে আস্তে সে স্টার্টাপ অনেক বড় এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। কিন্তু প্রথম দিকে তারা প্রায় অর্থ ছাড়াই শুরু করে, এজন্য বেতন দিয়ে পেশাদার কাউকে চাকরিতে রাখতে পারে না।

এক্ষেত্রে স্টার্টাপের দরকার হয় দক্ষ স্বপ্নবাজ তরুণদের। যারা নিজের দক্ষতা দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায়। এমন স্টার্টাপে যুক্ত হয়ে যেমন একটা নতুন কিছু সৃষ্টিতে অংশগ্রহণ করা যায়, তেমনি অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়, সে অভিজ্ঞতা আবার রিজিউমিতে যুক্ত করা যায়।

এরকম প্রযুক্তি নির্ভর স্টার্টাপে সব থেকে বেশি দরকার হয় গ্রাফিক্স ডিজাইনার, ওয়েব ডিজাইনার, অ্যাপ ডেভেলপার, মার্কেটার। এরকম দক্ষতা অর্জন করার জন্য 10 Minute School-এর রয়েছে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স (লিঙ্ক: http://10minuteschool.com/skill-development/)

৬। ফ্রিল্যান্সিং:

আমাদের অনেকের মতে ফ্রিল্যান্সিং একটা কাজ। তবে ফ্রিল্যান্সিং একটা কাজের ধরন মাত্র। কোন ক্লায়েন্টের সাথে স্থায়ী ভাবে কাজ না করে নির্দিষ্ট প্রজেক্টের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলে তাকে ফ্রিল্যান্সিং বলে। প্রযুক্তির বাইরে সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজ হল মার্কেটিং, সেলস, লিখালিখি, ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি। বাংলাদেশে বসে পৃথিবীর প্রথম সারির দেশগুলোর কোম্পানি/ ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করা যায়। এখানে বসে এমেরিকার কোন রেস্টুরেন্টের ইন্টেরিয়র ডিজাইন করতে পারবেন বা এখানে বসেই কানাডার কোন ব্র্যান্ডের মার্কেটিং ক্যাম্পেইন চালাতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং করতে দক্ষতা লাগে, প্রচুর আপ-টু-ডেট পড়াশোনা করতে হয় নতুন নতুন কিছু শেখার জন্য। আপনি যদি দক্ষ হতে পারেন, কলেজে পড়েও আপনি ইলেক্ট্রনিক সার্কিট ডিজাইন করতে পারবেন এমেরিকার কোন কোম্পানির জন্য, এখানে বসেই। এভাবে যেমন আপনি ফুল টাইম একটা কাজ করতে পারেন, তেমনি রিজিউমিতে যুক্ত করতে পারেন আপনি এমেরিকার কোম্পানির জন্য কাজ করেছেন।

প্রমাণ সাপেক্ষে ঐ ক্লায়েন্ট থেকে Employment certificate নিতে পারেন। তবে এখন সরকার এবং বিভিন্ন মহলের চেষ্টায় ফ্রিল্যান্সিং বেশ সম্মানজনক এবং গ্রহণযোগ্য পেশা। আবার একাডেমিকের বাইরে কোন দক্ষতা অর্জন করে তা নিয়ে কাজ করতে চাইলে টেন মিনিট স্কুলের ফ্রি কোর্স রয়েছে বেশ কয়েকটি।

ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে কি কি ফিল্ডে কাজ করা যায় দেখুন এখানে (লিংক: https://www.freelancer.com/hire/allskillshttps://www.upwork.com/i/freelancer-categories/)

তরুণদের কাজ অভিযোগ করা নয়, বরং সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা। পৃথিবীর এমন অনেক কম দেশই আছে যেখানে জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি তরুণ। তরুণ মানেই সম্পদ, সে সম্পদ হয়েই যদি আমরা সমস্যা নিয়ে অভিযোগই দিয়ে যাই, পরিবর্তন আসলেই সম্ভব নয়।
সমস্যার সমাধান খুঁজব, নিজের সমস্যার সমাধান করব, অন্যকে সমস্যা থেকে বের করে আনব।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.