সচেতন হও, আবর্জনাকে কাজে লাগাও!

November 26, 2017 ...

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও !

প্রতিদিনই আমাদের বাসায় কিছু না কিছু আবর্জনা জমে যায়। দিনশেষে যেগুলোর ঠিকানা হয় ডাস্টবিনে। হতে পারে সেটা পুরনো কাগজ অথবা পুরনো কোন খেলনা, পুরনো কাপড় বা যেকোনো কিছু। মূলত এমন যেকোনো কিছু যা আমাদের আর কাজে লাগছে না, তা-ই আমরা ওয়েস্ট মনে করে ফেলে দেই।

কিন্তু আসলে সেগুলো যে আমাদের কাজে লাগবে না, তা নয়। বরং, সেগুলো আমরা কাজে লাগাচ্ছি না। এই “ওয়েস্ট” যে কতভাবে আমাদের কাজে লাগতে পারে এবং কত অভিনব পদ্ধতিতে আমরা আসলে এগুলোকে রিসোর্সে পরিণত করতে পারি তা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

১। হয়ে যাও শৈল্পিক

বাসার পুরনো খবরের কাগজ দিয়ে শো-পিস বানানো যায়, তা কি তোমরা জানতে? পুরনো কাগজগুলোর সাথে একটু রঙ, একটু গ্লু আর অনেকখানি ক্রিয়েটিভিটি দিয়ে আজই তৈরি করে ফেলতে পারো উইন্ড চাইম। অথবা কালি শেষ হয়ে যাওয়া কলমগুলো ফেলে না দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারো পেপারওয়েট। পুরনো গ্লাস, জার ফেলে না দিয়ে পুরনো বোতাম, মার্কার, গ্লিটার ব্যবহার করে বানিয়ে ফেলতে পারো দারুন সুন্দর কিছু কলমদানি।

Cards

শুধু এসবই নয়, বাসার চারদিকে একটু চোখ বোলালেই তোমার চোখে আপাতদৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় এমন কিছুই পড়বে, যা তোমার একটু সময় আর মনোযোগেই হয়ে উঠবে দারুণ কাজের কিছু। দরকার শুধু ইচ্ছা আর শৈল্পিক চোখের।

২। পুরনো কাপড়, নতুন রূপে

আমাদের সবারই কোন না কোন জামা থাকে, যা আমরা এখন আর পরি না। কিছু বিছানার চাদর যা এখন আর ব্যবহার করা হয় না। এগুলো ফেলে না রেখে বা ফেলে না দিয়ে এমন কাউকে দিয়ে দিতে পারি, যাদের কাজে আসবে। এমনকি আমরা নিজেরাও কাজে লাগাতে পারি। আমার পরিচিত অনেকেই আছেন যারা পুরনো শাড়ি দিয়ে কাঁথা সেলাই করে থাকেন।

আবার আমার খুব প্রিয় কিছু টি-শার্ট এখন আমাদের ঘর মোছার কাপড়ে পরিণত হয়েছে। বাসার অব্যবহৃত কাপড়গুলোকে “ওয়েস্টের” তালিকায় না ফেলে দিয়ে কীভাবে কাজে লাগানো যায়; ভেবে দেখতে পারো তোমরাও।

৩। রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করা

আমরা সাধারণত যেসব ব্যাটারি ব্যবহার করে থাকি, সেগুলো নানারকম বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা তৈরি। যা এমনিতেই পরিবেশের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। এবং এসব ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে আমরা যখন ফেলে দিচ্ছি, তখন অধিকাংশ সময়ই সেগুলো ঠিকভাবে অন্যান্য বর্জ্য-পদার্থ থেকে আলাদা করা হচ্ছে না। যার ফলে যেকোন ধরণের রিএকশনে পরিবেশের অনেক ক্ষতি হতে পারে।

ফেলে না দিয়ে সেগুলো বারবার ব্যবহার করা উচিত

তাই, এই ব্যাটারিগুলো ফেলে না দিয়ে এমন বেশকিছু ব্যাটারির কোম্পানি রয়েছে যারা পুরনো ব্যাটারি রিসাইকেল করে তাদের দিয়ে দিতে পারি। এবং সবচেয়ে ভাল হয়, যদি আমরা রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করি।

৪। প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারে সচেতন হওয়া

অন্যান্য যেকোন ওয়েস্টের চেয়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের বেশি সচেতন হতে হবে। কেননা, প্লাস্টিক Biodegradable না অর্থাৎ মাটি-পানি-বায়ু কোনকিছুর সাথেই কখনো মিশে যেতে পারে না। আমরা অনেকসময়ই একটা ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেই। এরপর নতুন ব্যাগ কিনি, যেটা করা আমাদের একেবারেই উচিত না। বরং, ফেলে না দিয়ে সেগুলো বারবার ব্যবহার করা উচিত। এতে পরিবেশের ক্ষতিও কম হয় এবং নতুন প্লাস্টিক ব্যাগের চাহিদা তৈরিও কমে যায়।

৫। জৈব সার তৈরি করা

শুনতে খুব কঠিন লাগলেও, বাড়িতে বসেই জৈব সার তৈরি করা আসলে খুব সহজ। আমাদের বাড়ির ছাদ বা বাসার সামনের উঠোনই হতে পারে এই সার তৈরির জন্য চমৎকার জায়গা। ডিমের খোসা থেকে শুরু করে ফলের চামড়া পর্যন্ত Biodegradable যেকোন বর্জ্যই এই সার তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে। এই জৈব সার বিক্রি হতে পারে আয়ের খুব ভাল একটি মাধ্যমও।

উপরের যেকোন একটি পদ্ধতিও যদি আমরা অবলম্বন করি, তাহলেও এই পৃথিবীটা আরেকটু পরিচ্ছন্ন একটি জায়গায় পরিণত হবে। আমরা সবাই যদি আজকে থেকেই একটু একটু করে “ওয়েস্ট” গুলোকে রিসোর্সে রূপ দিতে পারি, তাহলে একদিন সকালে রাস্তায় বেরিয়ে দেখবো, রাস্তার ধারের ডাস্টবিনগুলোয় উপচে পড়া আবর্জনা নেই। ডাস্টবিনের চারদিকে মাছিদের ভনভন শব্দ নেই। এবং তখন এই শহরে নিঃশ্বাস নেয়াটা আমাদের জন্য আরেকটু সহজ হবে। আর তখন আমাদের এই পৃথিবীটা আরেকটু সবুজ হবে।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন