যে কারণে বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ থাকবে সবসময়!

Muhtasim Fahmid is a law student at the University of Dhaka who dreams of writing a fantasy novel someday. He is into comics, rock music and a whole lot of other things.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

সেই গ্রিক সভ্যতার সময় থেকেই বিতর্কের শুরু। ক্লিওন, ডায়োডটাস, সিসেরোর মত ব্যক্তিরা সে যুগে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কার্যক্রমের ভালো-মন্দ বিচার করতেন, সুপারিশ করতেন জনসম্মুখে বিতর্ক করে।

দু’হাজার বছর পরে এসেও, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা – সবাই যুক্ত হয় বিতর্কের সাথে। কেউবা সক্রিয়ভাবে বিতর্ক করে, কেউ বিতর্ক দেখে, আর কেউ দূরে দাঁড়িয়ে বিতার্কিকদের ‘ঝগড়াটে’ উপাধি দিয়ে ব্যঙ্গ করে। তবে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কের নাম শোনে নি, এরকম মানুষ মেলা ভার।

একটা সময়ে যুক্তিপূর্ণ তর্কের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান বা দু’জন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের আলোচনাটা ছিলো স্বাভাবিক। যতই দিন গিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপ্তি বেড়েছে। রাজনৈতিক, নীতিনির্ধারক আর জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাধারণের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতাটাও বেড়েছে।

আজকাল টকশো বা টিভি প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিজের মতামতকে গ্রহণযোগ্যতা প্রদান করার সুযোগও বেড়েছে অনেক।

একই সাথে, স্কুল কলেজ পর্যায়ে এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রম হিসেবে বিতর্কের গুরুত্ব কমতে শুরু করেছে। একটা সময় ছিলো যখন লেখালেখি বা বিতর্ক ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাঠবহির্ভূত কার্যক্রম। সে জায়গাটা হারিয়ে ফেলেছে বিতর্ক, আজকাল কেউই এত বেশি পড়াশুনো বা পরিশ্রম করে বিতর্কে আসতে চায় না।

দুঃখের বিষয় হলো, এর সাথে সাথে আনুপাতিক হারে কমেছে মানুষের যুক্তি দিয়ে কথা বলাটা।

bitorko, debating, logic, Skill Development, speaking skills

সংসদীয় আলোচনা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কমেন্ট সেকশন – সবখানেই এখন চলে এসেছে গায়ের জোরে বা ভাষার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে জাহির করার প্রবণতা। কথায় না পারলে অসংলগ্ন বিষয় টেনে আনা, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা, এমনকি অপর প্রান্তকে অসত্য উপাধি দেয়া (ট্যাগ দেয়া) আজকাল ডালভাত  ব্যাপার।

এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়ে, যখন যুক্তিভিত্তিক কথা বলার চেয়ে মানুষ যেকোন উপায়ে নিজের মতামত দাঁড় করাতেই বেশি আগ্রহী – প্রশ্নটা চলেই আসে, বিতর্ক কি আদৌ গুরুত্ব রাখে এখনো?

বিতর্ক নিয়ে মানুষের চিন্তাটা কী, দেখা যাক আগে –

    • বিতর্ক নিয়ে মানুষের মূল চিন্তাধারাটাই নেগেটিভ। প্রায় অধিকাংশ মানুষ মনে করে, বিতর্ক আসলে ঝগড়া ছাড়া কিছুই না, আর বিতর্ক যারা করে তাঁরা সবকিছুতেই তর্ক করবার একটা সুযোগ খোঁজে। সাধারণ মানুষের মনে এই চিন্তাধারাটার কারণে বিতর্ক কখনোই গান বা আবৃত্তির মত জনপ্রিয় হয় না।

 

  • ইদানীংকালের তরুণদের বিতর্ক নিয়ে একটা মতামত হচ্ছে, জিনিসটা গ্ল্যামারাস নয়। অন্যান্য অনেক কার্যক্রম মানুষকে খ্যাতি এনে দেয়, জনপ্রিয় করে তোলে। ‘ক্লাসি’ হওয়ার শর্টকাট হিসেবে অনেকেই এগুলোতে অংশগ্রহণ করে। সে তুলনায়, বিতর্ক খুব বেশি দর্শকপ্রিয়তা পায় না।

এসব কারণে মানুষ বিতর্কের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। দিনে দিনে কমছে বিতার্কিকের সংখ্যা। কিন্তু, এখনো যে বিতর্কের গুরুত্ব কমে নি, সেটার পেছনে অনেক যুক্তিই আছে, যা প্রায়ই চোখ এড়িয়ে যায়। দেখে আসা যাক সেগুলো কী:

গুছিয়ে কথা বলার দক্ষতা:

পাবলিক স্পিকিং যেকোন মানুষের জন্যেই খুব গুরুত্বপূর্ণ স্কিল। যেকোন জায়গায় নিজেকে এগিয়ে রাখতে এর জুড়ি নেই। কিন্তু পাবলিক স্পিকিং মানেই যে যা ইচ্ছা তাই বলে যাওয়া, তা কিন্তু নয়।

সবার সামনে কথা বলার মূল লক্ষ্যই হলো সবার মনোযোগ আকর্ষণ করা। বিতর্ক একজন মানুষকে বিস্তর জটিল বিষয়াদি নিয়ে কথা বলতে শেখায়, আর কেবল তাই নয় – শেখায় কীভাবে উপস্থিত সবাইকে – বিচারক ও প্রতিপক্ষ সহ – নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝিয়ে দিতে হয়। যেকোন কাজেই এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্কিল।

 

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানা:

বিতর্কের একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তর জ্ঞান থাকা লাগে এই কাজে। একটা বিতর্কে প্রতিপক্ষ আর বিচারকমণ্ডলি সবসময় খেয়াল রাখছে, কখন আপনি একটা ভুল তথ্য বা বানানো তথ্য দিয়ে বসবেন।

এইসব ক্ষেত্রে বিষয়টা নিয়ে পুরোপুরি জানা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। এই বিচিত্র জ্ঞানভান্ডার ক্লাসরুম থেকে জব ইন্টারভিউ – সবখানেই কিছু না কিছু কাজে লাগে। এটিও বিতর্কের অন্যতম ভালো দিক।

অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি জানা ও সম্মান করা:

সম্ভবত এখনকার সময়ে বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক এটি। যে সময়ে মানুষ একে অন্যের মতামতকে সম্মান করতে ভুলে যাচ্ছে, যেকোন উপায়ে নিজের মতামতকে চাপিয়ে দেয়ার কালচার সৃষ্টি হচ্ছে, সে সময়ে এসে বিতার্কিকরা প্রতিপক্ষের যুক্তি শুনছে, চিন্তা করে দেখছে।

লাইফ স্কিল বা জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে বিতর্ক এখনো গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা – যারা ভিন্ন সমাজব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে এসেছে – একই বিষয় নিয়ে বিভিন্নভাবে যুক্তি দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সহনশীলতা বাড়ে, আর বর্তমানে অনলাইন আর অফলাইন – যেকোন জায়গাতেই সহনশীলতা খুবই জরুরি।

বিপক্ষের যুক্তিকে কাজে লাগানো:

অন্যের দৃষ্টিভঙ্গির জানার পাশাপাশি একজন ভালো বিতার্কিকের যে দক্ষতাটি দরকার হয় তা হলো নিজের মতামতকে প্রয়োজনমত পালটে নেয়া।

বিপক্ষ একটা সত্যি কথা বা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে ফেললে সে কথাকে ফেলে দেয়া চলে না বিতার্কিকের। বরং সে কথাকে ঘুরিয়ে নিজের যুক্তিতে এনে ফেলাই বিতার্কিকের কৃতিত্ব। যেকোন তর্কে বা আলোচনায় এই দক্ষতাটি অনেক কাজে দেয়।

চিরকালই বিতর্ককে মানুষ চশমা আঁটা ভালো ছাত্রদের একচেটিয়া অধিকার মনে করে এসেছে, আর সময়ের সাথে সাথে বিতর্কের বিরুদ্ধে অনেক মতামতই তৈরি হয়েছে। কিন্তু লাইফ স্কিল বা জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে বিতর্ক এখনো গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.