বিবিধ

Wall Street: বিশ্ব অর্থনীতির ব্যারোমিটার

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

সোর্সঃhttp://bit.ly/2CYnWid

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের (USA) নিউইয়র্ক শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের নাম ‘ওয়ালস্ট্রিট’ যার অর্থ হচ্ছে ‘প্রাচীর সড়ক’’। সপ্তদশ শতাব্দীতে এ অঞ্চলে উপনিবেশ স্থাপনকারী ওলন্দাজরা ব্রিটিশ ও আদিবাসীদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য ১৬৫৩  সালে এ সড়কটির পার্শ্বে মাটির প্রাচীর তৈরি করেছিল। আর এ কারণেই সড়কটির এমন নামকরণ হয়েছিল। নিউইয়র্ক শহরের বিশ্ব বিখ্যাত বাণিজ্যকেন্দ্র ম্যানহাটনের দক্ষিণে এবং হাডসন নদীর নিকটে স্ট্রিটের অবস্থান। কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয় বরং সমগ্র বিশ্বজুড়েই এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।

নিউইয়র্কের এই সড়কটিতে আছে এমন কিছু স্থাপনা যাদের কার্যক্রমের দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি দারুণভাবে প্রভাবিত হয়। এখানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং সিস্টেমের অংশ ‘ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব নিউইয়র্ক’। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মূলধন বাজার বা শেয়ার বাজার ‘নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (NYSE)’ এর অবস্থানও এ সড়কেই।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে! The 10-Minute Blog!

আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সাথে এই সড়কে আছে পৃথিবী বিখ্যাত অর্থনীতি বিষয়ক দৈনিক পত্রিকা ‘দ্যা ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল’ এর সদর দপ্তর। অর্থনৈতিক বিচারে ‘ওয়াল স্ট্রিট’ যেন আজকের বিশ্ব অর্থনীতির ব্যারোমিটার।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে ‘ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব নিউইয়র্ক’ এর প্রভাব

বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সকল ব্যাংকই নোট ইস্যু করতো বলে জানা যায়। ফলে দেশটিতে মুদ্রার যোগান অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে এবং মুদ্রা ব্যবহারে এক বিশৃংখল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য ১৯১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর ‘ফেডারেল রিজার্ভ অ্যাক্ট’ এর আওতায় ১২টি আঞ্চলিক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক এর সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং সিস্টেম ‘ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম প্রতিষ্ঠিত হয়’। আর এটিই হলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ব্যাংকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হচ্ছে ‘ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব নিউইয়র্ক’ যার অবস্থান ঐতিহাসিক ভাবে বিখ্যাত, ওয়াল স্ট্রিটে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির কার্যকরী প্রভাব বিদ্যমান। আর সেই যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক প্রতিদানগুলোর নিয়ন্ত্রণ,  মুদ্রা প্রচলন, নোট ইস্যু, বাজারে অর্থের যোগান নিয়ন্ত্রণ, মুদ্রানীতি প্রণয়ন, বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ এবং আরও বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে সরকারের ব্যাংক হিসাবে ‘ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব নিউইয়র্ক’ তার ভূমিকা পালন করছে।

অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিই এই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘিরে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এ ব্যাংকের গৃহীত কার্যক্রম ও অনুসৃত নীতির দ্বারা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য প্রভাবিত হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে বহির্বিশ্বের অন্যান্য দেশের অর্থনীতিতেও।

এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকার ও অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর নীতি অনুসরণ করে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশীয় মুদ্রার মান স্থিতিশীল রেখে বিদেশী মুদ্রা সাথে দেশীয় মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ করে রপ্তানি বাণিজ্যে সহায়তা করছে।

দেশের মুদ্রাস্ফীতি রোধ করার জন্য কেন্দ্রীয় এ ব্যাংকটি ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজারে অর্থের যোগান কাম্যস্তরে রাখে। গুগোল ও দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ অর্থের ঘাটতি জনিত সমস্যা বা তারল্য সংকট নিরসনে ‘Lender of last resort’ হিসাবে কাজ করে এই ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেনদেনের ভারসাম্য অনুকূলে  রাখার জন্য এ ব্যাংকটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ করে। সাথে সাথে দেশের অভ্যন্তরে বৈদেশিক মুদ্রার আগমন ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করে। বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত রিজার্ভ সংরক্ষণ করে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল করছে।

এখন জীবন হবে আরও সুন্দর!

বাজারে দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যস্তর স্থিতিশীল রেখে উৎপাদন, সঞ্চয়, বিনিয়োগ তথা সামগ্রিক অর্থনীতিতে সচল রাখছে। এ ব্যাংকটি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের স্বার্থে বিদেশী ব্যাংক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে ও সমন্বয় সাধন করে।

এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বহির্বাণিজ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির ভূমিকা দ্বারা বিশ্ব বাণিজ্য তথা বিশ্ব অর্থনীতিও প্রভাবিত হচ্ছে।

 

ওয়াল স্ট্রিটে অবস্থিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ মূলধন বাজার বা শেয়ার বাজার ‘নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ’ এর অর্থনৈতিক প্রভাব

পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত মূলধন বাজার বা পুঁজিবাজার (Capital Market) এর নাম ‘ নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ (NYSE), যা ওয়ালস্ট্রিটকে বিশ্ববাসীর নিকট নতুন মাত্রায় পরিচিতি এনে দিয়েছে। এ মূলধন বাজারে পৃথিবীর নামিদামি কোম্পানির শেয়ার ও ঋণপত্রের এবং সরকারি বন্ডের ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। এটি এমন একটি আর্থিক বাজার যেখানে তহবিল সংগ্রহকারী ও জোগানদাতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী একজনের উদ্বৃত্ত অর্থ অন্যের ঘাটতি পূরণে ব্যবহারের জন্য মিলিত হয়।

এ আর্থিক বাজারটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে রক্ত সঞ্চালনের ভূমিকা পালন করছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই বাজারে ভূমিকা অনস্বীকার্য দেশের বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে এবং জীবনমানের উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই নয় বিশ্বের অন্যান্য দেশের বহু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, ঋণপত্র ইত্যাদি মূলধনী সম্পদের ক্রয় বিক্রয় হয় এই বাজারে। ফলে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতিতে রয়েছে এই বাজারের প্রভাব। এই বাজার অনেক সংবেদনশীল। কেননা অনেক কোম্পানি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অসৎ লেনদেনের কারণে এ বাজার অস্থিতিশীল হতে পারে যা এ বাজারের  সকল পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর।

এতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে। যা প্রকারান্তরে দেশের রাজনীতিকে নাড়া দিতে পারে। এ কারণে এ বাজার সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা কাজ করে। ‘নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ’ এর প্রভাবে তাই ওয়াল স্ট্রীট আমাদের নিকট আজ এতটাই পরিচিত।

 

‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এর প্রধান অফিসও ওয়াল স্ট্রিটেই

অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসহ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত মূলত অর্থনীতি বিষয়ক বিশ্বখ্যাত দৈনিক পত্রিকা ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এর সদর দপ্তর রয়েছে ওয়াল স্ট্রীটেই। ‘ডাও জোন্স অ্যান্ড কোম্পানি’ এর মালিক। পত্রিকাটির এশিয়ান ও ইউরোপিয়ান সংস্করণও রয়েছে।

প্রচার সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এটির স্থান এক নম্বরে। ১৯৮৯ সালের ৮ জুলাই পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ পায়। জন্মলগ্ন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদ পরিবেশন করে আসছে পত্রিকাটি। বাজার, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, তত্ত্ব ও সংবাদ পরিবেশনে এর জুড়ি মেলা ভার। সমগ্র বিশ্বে এটি তাই অত্যন্ত জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও অর্থনীতি বিষয়ক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম। প্রত্যেকেরই তার অবদানের জন্য এ পর্যন্ত তেত্রিশ বার পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে।

 

শেষ কথা

ওয়াল স্ট্রীট আর যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়নের গল্প যেন একই সুতোয় গাঁথা।

অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিচারের নিউইয়র্ক শহরের কেন্দ্র, ম্যানহাটনে অবস্থিত এ রাস্তাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বিভাগ নামে অভিহিত করা হয়। এটি এখন বিশ্বের অর্থনৈতিক রাজধানীতে পরিণত হয়েছে।

সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক এই ওয়ালস্ট্রিট। আর এ কারণেই এটির এমন ঐতিহাসিক পরিচিতি। এর স্বীকৃতি মেলে আমেরিকার বহু স্বনামধন্য নাট্যকার ও চিত্রপরিচালক কর্তৃক ‘ওয়ালস্ট্রিট’ কে ঘিরে তৈরি বহু বিখ্যাত নাটক, চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রে। এই তালিকায় রয়েছে,

  • ইনসাইড জব,
  • ওয়াল স্ট্রীট,
  • বয়লার রুম,
  • আমেরিকান সাইকো,
  • মানি নেভার স্লিপ’স,
  • দ্য উলফ অফ ওয়াল স্ট্রিট ইত্যাদির মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্য চিত্রসমূহ।

তথ্যসূত্রঃ

১.http://bit.ly/2Ty9PW3

২.http://bit.ly/2Ty0w8D

৩.http://bit.ly/2CXHUtc

৪.http://bit.ly/2CX7fn3

৫.https://en.m.wikipedia.org/wiki/Wall_Street


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]