অদ্ভুত কিন্তু কার্যকর কিছু ইউটিউব চ্যানেল

Muhtasim Fahmid is a law student at the University of Dhaka who dreams of writing a fantasy novel someday. He is into comics, rock music and a whole lot of other things.

সোশাল মিডিয়া মাধ্যমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউটিউব। পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে যেকোন জিনিস নিয়ে জানতে, নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে ইউটিউবের জুড়ি কমই আছে। বলা হয়ে থাকে, ডিম ভাজা থেকে শুরু করে বোমা বানানো পর্যন্ত সবকিছুর পদ্ধতিই ইউটিউবে পাওয়া যায়।

হাজার হাজার ইউটিউব চ্যানেল থেকে ফলো করার মতো চ্যানেল খুঁজে নেবার কাজটা বেশ কঠিন। তাই কোন বিষয় জানতে হলে কোন ইউটিউব চ্যানেলে ঢুকতে হবে, তা জানা জরুরি। এর মধ্যে কিছু চ্যানেল রয়েছে, যার কনটেন্ট খুবই অদ্ভুত, কিন্তু ঠিকমত দেখলে শেখার আছে অনেক কিছু। আজ কথা বলবো সেরকমই কিছু অদ্ভুত অথচ কার্যকর ইউটিউব চ্যানেল ো তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে:

 

১। ভেরিটাসিরাম

হ্যারি পটারের ফ্যানদের কাছে ভেরিটাসিরাম শব্দটা খুবই পরিচিত মনে হওয়াটা স্বাভাবিক। ল্যাটিন “ভেরিটাস” শব্দের অর্থ সত্য – আর তাই থেকেই এসেছে ভেরিটাসিরাম। এই চ্যানেলে মূলত পদার্থবিজ্ঞান আর ইঞ্জিনিয়ারিং সংক্রান্ত বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট, আবিষ্কার আর এক্সপার্টদের সাথে ইন্টারভিউ দেখানো হয়। ‘স্লিংকি ফিজিক্স’ ভিডিও দিয়ে বিখ্যাত হওয়া এই চ্যানেলটির ফলোয়ার সংখ্যা ৪.৬ মিলিয়নেরও অধিক।

পদার্থিবিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে আগ্রহী হলে এই ইউটিউব চ্যানেলটি তোমার পছন্দের তালিকায় থাকতে পারে।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

২। ভিসস

ভিসস আরেকটি এক্সপেরিমেন্টাল ইউটিউব চ্যানেল, যারা তোমার কল্পনাশক্তিকে বাড়িয়ে দেবে অনেকগুণ। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই চ্যানেলটির ফলোয়ার সংখ্যা এখন লাখেরও অধিক। এই চ্যানেলটির মূল কাজ হলো বিভিন্ন রকম অবাস্তব জিনিসকে বাস্তবে নিয়ে আসা। বিভিন্ন রকম রেটোরিকাল প্রশ্ন করে এই চ্যানেলটি সেইসব অবাস্তব সিনারিওকে বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করবার চেষ্টা করে। তাদের ভিডিওগুলো দেখলে তোমার মাথায় চিন্তা আসবে – আসলেই তো, এরকম হলে কী হতো? আর এরকম হলে যে আসলেই কী হতো, তা জানতে হলে তোমার থাকতেই হবে ভিসসের সাথে।

৩। সি জি পি গ্রে

এই চ্যানেলটি একটি ডিবাংকিং চ্যানেল, অর্থাৎ, এদের কাজ হলো বিভিন্ন রকম গুজব বা আলোচনাকে গবেষণা করে সত্য নাকি মিথ্যা, তা প্রমাণ করা। এই ইউটিউব চ্যানেলটি কপিরাইট আইন থেকে শুরু করে জ্যোতির্বিদ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন জিনিসের বিশ্লেষণ নিয়ে কাজ করে। এই চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারও লক্ষের উপরে। কোন গুজব বা আলোচনার সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন থাকলে এই ইউটিউব চ্যানেলটি তোমাকে সাহায্য করতে পারে!

৪। মিনিটফিজিক্স

পদার্থবিজ্ঞানের উপর যাদের আগ্রহ আছে, তাঁরা অনেকেই হয়তো মিনিটফিজিক্সের নাম শুনেছো। হেনরি রাইখ তার টাইমল্যাপস ভিডিও পদ্ধতি ব্যবহার করে, এই চ্যানেলে ফিজিক্সের বিভিন্ন দুরূহ সূত্র সহজে মানুষকে বুঝিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। শ্র্যডিঞ্জারের বিড়াল থেকে শুরু করে, হিগস বোসন কণার বৈশিষ্ট্য, সবই পাওয়া যায় মিনিটফিজিক্সে। মিনিটফিজিক্সে অতিথি বক্তা হিসেবে একটি ভিডিওতে জগদ্বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক নীল ডিগ্রেস টাইসন একটি ভিডিওতে “মহাবিশ্বের উদ্দেশ্য” সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন।

৫। স্মার্টার এভরি ডে

এই চ্যানেলটিও বৈশ্বিক জগতের বিভিন্ন দৈনন্দিন ঘটনাকে ফিজিক্সের সাহায্যে বর্ণনা করে। এ চ্যানেলটির প্রতিষ্ঠাতা একজন রকেট বিজ্ঞানী, যিনি তার নাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে গোপন রেখেছেন। এই চ্যানেলের মূল বৈশিষ্ট্য তাদের ব্যবহার করা হাই ডেফিনিশন ক্যামেরা যা ভিডিওগুলোকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। [tmsad_ad type=”video”]

৬। সাই-শো

এটিও একটি বিজ্ঞানভিত্তিক চ্যানেল, যাতে প্রত্যেকটি ভিডিওতে উপস্থাপক হিসেবে একেকটি করে উদ্ভট প্রাণী আসে। ভেবে দেখো, একটা কথা বলা সজারু তোমাকে বিজ্ঞান শেখাচ্ছে! মজার সাথে কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব শিখতে এই ইউটিউব চ্যানেলটি তোমাকে সাহায্য করতে পারে। 

৭। ক্র্যাশ কেস

বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত টিউটোরিয়াল দিতে এই চ্যানেলের জুড়ি নেই। এরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে থাকে। এদের মজার জিনিসটা হলো, এরা নিজেদের বিভিন্ন ভিডিওতে ভিন্ন ভিন্ন ইস্টার এগ আর জোক দিয়ে ভরপুর থাকে। কিছু না শিখতে চাইলে ওদের ভিডিওগুলো মজার জন্যেও দেখতে পারো।

৮। এ এস এ পি সায়েন্স

সম্ভবত বিজ্ঞানবিষয়ক ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় চ্যানেল হলো এটি। এই চ্যানেলটি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত শত ভিডিও বানিয়েছে এ পর্যন্ত এবং তারা নিয়মিত বিরতিতে বানিয়ে চলেছে ভিডিও। বিজ্ঞানের যেকোনো শাখা নিয়েই এদের ভিডিও রয়েছে। এ পর্যন্ত তাদের ভিউ সংখ্যা ১০ মিলিয়নেরও বেশি, আর তাদের এই সাফল্য সায়েন্টিফিক আমেরিকান জার্নালেও ছাপা হয়েছে।

ইংরেজি ভাষা চর্চা করতে আমাদের নতুন গ্রুপ- 10 Minute School English Language Club-এ যোগদান করতে পারো!

৯। লাইফ’স বিগেস্ট কোয়েশ্চেনস

এই চ্যানেলটি বিশ্বের বিভিন্ন অপ্রকাশ্য এবং অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, এছাড়াও এরা অল্টারনেট হিস্ট্রি – বা ইতিহাসে কোনো ঘটনা অন্যরকমভাবে ঘটলে কী হতে পারত, এগুলো নিয়ে আলোচনা করে। যদি তোমার জানতে ইচ্ছে করে – নাৎসিরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জিতলে কী হতে পারতো, অথবা ডাইনোসরেরা এখনও বেঁচে থাকলে কী হতে পারত, তাহলে এই চ্যানেলটিতে একবার ঢুঁ মারতে ভুলো না।

১০। ম্যান অ্যাট আর্মস

এমন একটি চ্যানেল, যারা বিভিন্ন ঐতিহাসিক অস্ত্র, বর্ম বা অন্যান্য প্রাচীন জিনিসপত্র রিক্রিয়েট করে দেখায়। যদি দেখো কিং আর্থারের এক্সক্যালিবার, আলী (রঃ) এর জুলফিকার অথবা সামুরাই তলোয়ার মডার্ণ উপায়ে বানানো হচ্ছে, তাহলে কি মজা লাগবে না তোমার?

 

ঘুরে দেখে এসো এই ইউটিউব চ্যানেলগুলো, হয়তো জ্ঞান অর্জনের সাথে কিছু আনন্দময় স্মৃতি নিয়েও বের হয়ে আসতে পারো!


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?