দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেরা ৫

March 23, 2019 ...
পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

এমন কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনা রয়েছে, যা আমাদের পৃথিবীর মানচিত্রকে বদলে দেয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এদের মধ্যে কোনটি বিশ্বকে দিয়েছে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর কাছে মাথা নত করার দুর্ভাগ্য, আবার কোনটি দিয়েছে শান্তিপূর্ণ এক পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা। ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল- এই ৬ বছরে ঘটে যাওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের করুণ পরিণতি থেকে বের হয়ে আসার পেছনে কোন কোন ঘটনার হাত ছিল? কোন ঘটনাগুলো বিশ্বযুদ্ধকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক- উভয়ভাবেই প্রভাবিত করেছে? উত্তর জানতে পড়ে নিতে পারো এই ৫টি ঘটনা-

ব্লিট্‌জরিগ:

ব্লিট্‌জরিগ এর কাহিনী অনেকেই শুনে থাকতে পারো। বিশ্বযুদ্ধে জার্মান বাহিনীর বড়রকমের প্রথম আক্রমণ হলো এই ব্লিট্‌জরিগ, বাংলা ভাষায় যার অর্থ হঠাৎ আক্রমণ বা ঝটিকা অভিযান, ইংরেজিতে বলা হয় লাইটনিং ওয়ার। এই অভিযানের মাধ্যমেই বিশ্ববাসী খুব ভালোভাবেই টের পেয়েছিলো হিটলারের আসল ক্ষমতা সম্পর্কে।

        স্পেন ও পোল্যান্ডে ছয় বছরের যুদ্ধ প্রশিক্ষণ জার্মান আর্মিকে করে তোলে অত্যন্ত শক্তিশালী। ব্লিট্‌জরিগ ছিল জার্মান নাৎসি বাহিনীর এমন একটি যুদ্ধকৌশল, যা মূলত শত্রুপক্ষকে দ্রুত আক্রমণ করে ছন্নছাড়া করে দেয়ার এক কৌশল। সেপ্টেম্বর ১, ১৯৩৯ সালে কোনো ধরণের সতর্কবার্তা প্রেরণ না করেই জার্মানি আক্রমণ করে বসে ইউরোপের বিখ্যাত দেশ পোল্যান্ডকে। তখনকার ভৌগলিক অবস্থা বিবেচনা করলে পোল্যান্ড সত্যিকার অর্থেই ইউরোপের একটু দুর্বল স্থানে অবস্থান করছিলো। জার্মানি ঠিক এই সুযোগটিই নিয়েছিলো। পোল্যান্ড সম্ভবত জার্মানিকে আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো আর ঠিক তখনই শত শত জার্মান ট্যাংক পোল্যান্ডের প্রস্তুতিতে পানি ঢেলে দেয়। বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স আক্রমণের পূর্বে পোল্যান্ড দখল করা ছিল জার্মান বাহিনীর জন্য বিরাট এক মাইলস্টোন। ব্লিট্‌জরিগের শুরুতে জার্মান বাহিনী পোলিশ বাহিনীর ছদ্দবেশে পোল্যান্ডের সীমান্ত অতিক্রম করে। এই অভিযানে জার্মান সামরিক বাহিনীর ৫৩টি ডিভিশন অংশ নেয়। ট্যাংকের সমন্বয়ে গড়া জার্মানির প্যানজার ডিভিশন পোলিশ বাহিনীর ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্স ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়। আকাশ পথ থেকে বোমাবর্ষণ করে ধ্বংস করে দেয়া হয় পোল্যান্ডের সকল রেল ও সড়ক পথ। ৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ সরকার জার্মানিকে সেনা তুলে নেয়ার জন্য ১৪ ঘন্টা সময় দেয় এবং জার্মানি সাথে সাথে তা নাকচ করে। ব্লিট্‌জরিগের মাত্র ২দিন পরই জার্মানির বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। ২৭ সেপ্টেম্বর নাগাদ জার্মান বাহিনী পুরো পোল্যান্ডকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেয়। হিটলার জানতেন যে ব্লিট্‌জরিগ সফল হবেই, তাই তিনি এই অভিযান শেষ হওয়ার অনেক আগেই ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে ধূলিসাৎ করে দেয়ার ছক আঁকতে থাকেন।

JPr5k9t 992mOFxwEBtvzWmhvw6 QJGOhx5Z2cR22yfVREll

        জার্মানির ঠিক পাশেই অবস্থান করছিলো পোল্যান্ড। পোল্যান্ড দখলের পর নাৎসি বাহিনী তাদের এক পা দিয়ে রেখেছিলো রাশিয়া দখলের উদ্দেশ্যে, অন্য পা দিয়ে রেখেছিলো ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের দিকে। হাজারো ট্যাংক আর পদাতিক বাহিনীর সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই বিশাল আক্রমণ পৃথিবীবাসীকে চমকে দেয়।

এনিগমা:

g2fnE2cpT8WyWSZEIFfUxZJBYcGXb2Gp 35jHPU9xp TgzEa4RwkPr7uzQgNatXCWGgSUsXEYb5SxIjdOEYXSu37SUpHJ1Y9TL644fqnte4khX

এটি কোনো নির্দিষ্ট যুদ্ধের ঘটনা নয়, বরং এনিগমা হলো একটি মেশিনের নাম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে এনিগমাকে পৃথিবীর সবচেয়ে অত্যাধুনিক মেশিন, যা সাংকেতিক ভাষার সাহায্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বার্তা প্রেরণে সক্ষম। এনিগমা মেশিনের আবিষ্কারক ছিলেন জার্মান ইঞ্জিনিয়ার আর্থার সারবিয়াস। তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষের দিকে এই যন্ত্র তৈরি করেছিলেন। তাঁর এই যন্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য কোনোভাবেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত ছিল না। কিন্তু জার্মান বাহিনী ঠিক এনিগমাকেই বেছে নিয়েছিলো তাদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। কিছুটা উন্নত করার পর এনিগমা দিয়ে জার্মানি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা নাৎসি বাহিনীকে যুদ্ধ সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিতো। এনিগমা মেশিন আর ১০টি সাংকেতিক যোগাযোগ করার মত মেশিন ছিলো না। চমকপ্রদ একটি দিক হলো, নাৎসি বাহিনী প্রতিদিন হাজারো তথ্য প্রেরণ করে মাঝরাতে তারা এনিগমার সেটিংস বদলে দিতো। এর ফলে একদিনের সাংকেতিক তথ্যের ধরণ অন্যদিনের ধরণের চেয়ে ভিন্ন হতো। তাই কেউ যদি এনিগমার সাংকেতিক তথ্য আজ জেনেও যায়, কালই হয়তো পুরো বার্তা পুনরুদ্ধার করতে আবার কাজে লেগে পড়তে হবে তার। নতুন মেশিনারি সেটিংস এ যাওয়ার পূর্বে প্রতিদিন মাত্র ১৮ ঘন্টা সময় হাতে থাকতো এনিগমার সাংকেতিক বিন্যাস খুঁজে বের করার জন্য। পাঁচটি রোটরের সাথে ১০টি প্লাগবোর্ড ক্যাবলের সমন্বয়ে তৈরি এনিগমার একদিন কত ধরণের বিন্যাসে তথ্য প্রেরণ সম্ভব জানো? ১৫৯ মিলিয়ন মিলিয়ন মিলিয়ন, যা ১০জন ব্যাক্তি প্রতি মিনিটে একটি বিন্যাস বের করলে ২০ মিলিয়ন বছর সময় লাগবে !

        ব্রিটেনের তখনকার সেরা গণিতবিদ অ্যালান টুরিং এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পেরেছিলেন। তাঁর তৈরিকরা “টুরিং মেশিন” শেষ পর্যন্ত এনিগমার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পেরেছিলো। টুরিং এর এই আবিষ্কার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ২বছর সংক্ষিপ্ত করেছিলো, বেঁচে গিয়েছিলো ১ কোটি ৪০ লাখের মত প্রাণ। টুরিং এর সেই মেশিনের আধুনিক রূপই হলো আজকের কম্পিউটার !

পার্ল হারবোর:

বিশ্বযুদ্ধটা শুরু হয়েছিলো ইউরোপকে ঘিরে। কিন্তু বিশ্বের সর্বশক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র কেন বিশ্বযুদ্ধের মঞ্চে পা বাড়ায়? কারণটা হলো- পার্ল হারবোর ।

iD4E05Jzsv6zJFdN7Ed5HAWFbweE1F8sQq2HSd9EWIdu67xH217PXgLkgt6DIrbsPfr4E EeU8ZMDbWmimqcGC51WEuhC7 85v2DdpPm9quzSc1HFJuqld2rrgjlCYcDs2WHTqo

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে জাপানের তেল বাণিজ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য কয়েকটি দেশ। জাপান অন্য পথে ইন্দোনেশিয়া-মায়ানমারের মত ডাচইন্ডিজ অধীনের দেশগুলোর কাছ থেকে তেল বাণিজ্য অব্যাহত রাখে। ডাচইন্ডিজ দেশগুলোতে যাওয়ার পথের কাঁটা ছিল ফিলিপাইন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল নৌঘাটি ছিলো। তাছাড়া জাপানের উপর নজরদারিও বজায় রেখেছিলো আমেরিকা। জাপান জানতো, দীর্ঘ সময়ের জন্য জাপান কখনই যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হতে পারবেনা। তাই জাপান দ্রুতই অতর্কিত হামলা করে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত পার্ল হারবোরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাটিতে। পার্ল হারবোরে আক্রমণের জন্য জাপানের ২টি উদ্দেশ্য ছিল-

১. যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা

২. ৬ মাসের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে আমেরিকার উপস্থিতি থমকে দেয়া।

জাপানের জন্য দুর্ভাগ্যই বটে, আমেরিকার ৩টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজই তখন পার্ল হারবোরে অনুপস্থিত ছিলো। প্রায় ১০ মাসের প্রশিক্ষণের পর ৭ই ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে ৩টি ডিভিশনের যুদ্ধজাহাজ বহর, ৩৫০ টি যুদ্ধবিমান, ৫টি সাবমেরিন নিয়ে জাপান আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নৌঘাঁটি পার্ল হারবোর। জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সর্বমোট ৪টি যুদ্ধজাহাজ পুরোপুরি ধ্বংস করে, সঙ্গে ১৮৮টি যুদ্ধবিমান। এই আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে আমেরিকা কংগ্রেসে যুদ্ধে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিতে নিতেই ১১ই ডিসেম্বর এডলফ হিটলার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

ডানকার্ক:

        দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্রান্স-বেলজিয়াম সীমান্তের ডানকার্ক প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকা একটি চিত্র। অন্য সব যুদ্ধের গল্প থেকে এই গল্পের অমিল কোথায় জানো? ডানকার্কের গল্পটা কোনো যুদ্ধজয়ের গল্প নয়, বরং এটি একটি জীবনজয়ের গল্প।

e4Tmq0IP0PkBKPSjHZy2V0LP dAsCRVExu OUsKxpMjrpqQsmoqbvAr

        ডানকার্ক হলো ফ্রান্সের সমুদ্রতীরবর্তী এক স্থান। ব্যাটল অফ ডানকার্ক ছিলো ফ্রান্সের বিশ্বযুদ্ধেরই একটা অংশ। ১৯৪০ সালের ২৬শে মে থেকে ৪ই জুন পর্যন্ত এক স্নায়ুযুদ্ধ হয়েছে ব্রিটিশ ও অন্যান্য মিত্র বাহিনীর সাথে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর। খুব দ্রুতই জার্মান আগ্রাসনের কাছে ব্রিটিশ ও ফ্রেঞ্চ বাহিনী নতি শিকার করে এবং এক পর্যায়ে তারা পিছু হটে ডানকার্কের সীমান্তে অবস্থান নেয়। পেছনে হিটলার বাহিনীর রাইফেলের বিকট চিৎকার আর সামনে বিশাল সমুদ্রের হাহাকার- এমন এক অবস্থায় ডানকার্কে ৪ লাখ সৈন্য অপেক্ষা করছিলো একটা মিরাকলের জন্য। পদাতিক সৈন্য ও আকাশপথ দিয়ে নাৎসি বাহিনীর লাগাতার আক্রমণ ডানকার্কে গড়ে তুলেছিলো মৃত্যুর মিছিল। এমনকি সৈন্যদের উদ্ধারে আসা একের পর এক জাহাজও নিমিষেই নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে শত্রুপক্ষ। প্রায় ৬৯ হাজার ব্রিটিশ সৈন্য নিহত হয় সাগরপারে, ৩৫ হাজারের বেশি ফরাসী সৈন্যদের আটক করে জার্মানি এবং ১ হাজার নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়। শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষেরা এগিয়ে আসে সাগরপারের অসহায় আত্মাগুলোর পানে। ফিশিং ভেসেল থেকে শুরু করে সেইলবোটের মত নৌকায় ভর করে প্রাণে বেঁচে যায় প্রায় ৪ লক্ষাধিক প্রাণ। ২২ই জুন ফ্রান্স সরকার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ডানকার্কের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

স্ট্যালিনগ্রাড:

        স্ট্যালিনগ্রাডের যুদ্ধ ও জার্মান বাহিনীর আত্মসমর্পণ ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে বড় বাঁক নেয়া ঘটনা। স্ট্যালিনগ্রাডের এই ঘটনার পর থেকে পুরো বিশ্বযুদ্ধের চিত্র বদলে যেতে শুরু করে। যেখানে জার্মানির একচ্ছত্র আধিপত্য ছিলো, স্ট্যালিনগ্রাডের যুদ্ধ পুরো ফলাফল পাল্টে দেয়।

uhz6O1YDiXFOU0PZlseOYlMBRqnbKm

        ব্যাটেল অফ স্ট্যালিনগ্রাড নামে পরিচিত এই যুদ্ধ ছিল হিটলার বাহিনীর সবচেয়ে বড় পরাজয়। এই যুদ্ধের স্থায়িত্বকাল ২৩ আগস্ট ১৯৪২ থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৩ পর্যন্ত। রাশিয়ার স্ট্যালিনগ্রাডে নাৎসি বাহিনী ধীরে ধীরে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছিলো। সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসে স্ট্যালিন ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে একজন। সভাবতই স্ট্যালিনগ্রাড এজন্য অনেক বেশি অর্থবহ ছিলো সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য কেননা স্ট্যালিন এর নামেই নামকরণ করা হয়েছিলো শহরটিকে। রাশিয়া অনেক আগে থেকেই জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধের সরঞ্জাম তৈরি করে রেখেছিলো, টি-৩৪ এর মত অত্যাধুনিক ট্যাংকগুলো তারই উদাহরণসরূপ। এমনকি রাশিয়ার সাধারণ মানুষেরাও যুদ্ধ প্রশিক্ষণের অপেক্ষা না করে হাতে বন্দুক তুলে নেয়। পুরো রাশিয়া যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ জার্মানির প্রথম বহর রাশিয়ার গ্রামাঞ্চল হামলা করতে গেলে রাশিয়ান সৈন্যরা কঠোর ভাবে মুখোমুখি বন্দুকযুদ্ধে নাস্তানাবুদ করে ফেলে নাৎসি বাহিনীদের। সোভিয়েত জেনারেল চুইকভ বলেছিলেন,

“আমরা এই শহরের জন্য যুদ্ধ করবো অথবা অন্তত চেষ্টা করার পর মৃত্যুবরণ করবো।”

স্ট্যালিনগ্রাডের যুদ্ধে সোভিয়েতরাও বড় একটা মূল্য পরিশোধ করেছিলো হাজারো রাশিয়ান সৈন্যের জীবনের বিনিময়ে। স্ট্যালিনগ্রাডের রক্ষনের জন্য জুলাই ২৭, ১৯৪২ সালে স্ট্যালিন সোভিয়েত ইউনিয়নজুড়ে ২২৭ নম্বর অধ্যাদেশ জারি করেন, “এক পা ও পিছুটান নয়” নামে যা পরিচিত। তখনকার রাশিয়ার সৈন্যরা সম্ভবপর সব জায়গা থেকে রক্ষণযুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে, এমনকি ড্রেনেজ পাইপের মধ্য দিয়েও তাড়া আচমকা প্রতি আক্রমণ করেছিলো। ভাসিলি জাইতসেভ নামক এক সৈন্য একাই স্নাইপার দিয়ে ঘায়েল করেন ২২৫টি নিশ্চিত নাৎসি মৃত্যু। তবুও মধ্য অক্টোবরের দিকে স্ট্যালিনগ্রাড জয়ের কাছাকাছি এসে পড়েছিলো জার্মানি। কিন্তু কিছুদিন পর মতৈক্য না হওয়ায় হিটলার তার কাছের কয়েকজন জেনারেলকে পদচ্যুত করেন। এই সুযোগের কাজে লাগিয়ে রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিআক্রমণের নিদর্শন দেখিয়ে জার্মান নাৎসিকে পিছু হটতে বাধ্য করে।


Vasily Zaytsev

স্ট্যালিনগ্রাডের পরাজয়ের পর জার্মান বাহিনী আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি।

ঠিক এভাবেই বিশ্ব একদিন যুদ্ধের পরিণতি থেকে হাফ ছেড়ে বেরোনোর পথ খুঁজে পায়।


ছবি ও তথ্য সংগ্রহ:

https://en.wikipedia.org/wiki/Attack_on_Pearl_Harbor

http://www.bbc.co.uk/history/worldwars/wwtwo/ww2_summary_01.shtml

আপনার কমেন্ট লিখুন