সফলদের স্বপ্নগাঁথাঃ সত্য নাদেলা যেভাবে মাইক্রোসফটের CEO হলেন

Tashfikal Sami is a diehard wrestling & horror movie fan. Passionately loves bodybuilding, writing, drawing cartoons & a wannabe horror film director. He's currently studying at the Institute of Business Administration (IBA), University of Dhaka.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

Career, CEO, Inspirational, inspire, microsoft, satya nadella

শুরুতেই একটি চমকপ্রদ তথ্য দেই- মাইক্রোসফটের চল্লিশ বছরের ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র তিনজন সিইও এসেছেন, প্রথম বিল গেটস, দ্বিতীয় স্টিভ বলমার, তৃতীয়জন আমাদের উপমহাদেশের সত্য নাদেলা!

নাদেলার সুদীর্ঘ বাইশ বছরের ক্যারিয়ারের উত্থানপতনের মাধ্যমে সিইওর পদে আসীন হওয়ার চমকপ্রদ গল্প জেনে নাও লেখাটি থেকে।

শুরুর গল্প

সত্য নাদেলার জন্ম ১৯৬৭ সালের ১৯ আগস্ট, ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের হায়দ্রাবাদে ব্রাহ্মণ পরিবারে। বাবা ছিলেন ভারতের সরকারী প্রশাসনিক (IAS) কর্মকর্তা, এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের একজন সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

নাদেলা হায়দ্রাবাদ পাবলিক স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। তারপর ১৯৮৪ সালে ভর্তি হন ভারতের খ্যাতনামা প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়- মনিপাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। সেখানে তড়িৎ প্রকৌশল নিয়ে পড়েন তিনি, কিন্তু মনের মাঝে স্বপ্ন বুনতে থাকেন কম্পিউটার প্রকৌশলে উচ্চতর শিক্ষালাভের।  

মার্কিন মুলুকে যাত্রা

স্নাতক শেষ করে নাদেলা ১৯৮৮ সালে স্বপ্নের পথে একধাপে অনেকদূর এগিয়ে গেলেন- উচ্চশিক্ষার্থে পাড়ি জমালেন যুক্তরাষ্ট্রে। মেধাবী নাদেলা সুযোগ পেলেন উইসকনসিন-মিলওয়াকি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কোন বিষয়ে? তাঁর সেই স্বপ্নের কম্পিউটার প্রকৌশলে!

সেখান থেকে পড়া শেষ করলেন ১৯৯০ সালে। তাঁর সহপাঠীরা তখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লোভনীয় বেতনে চাকরি শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু নাদেলার লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী। তিনি জানতেন ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করবে। তিনি সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করলেন।

কঠোর পরিশ্রম আর বুদ্ধিমত্তাকে পুঁজি করে এগিয়ে গেলেন- সুযোগ পেলেন প্রসিদ্ধ বুথ স্কুল অব বিজনেস থেকে এমবিএ করার। প্রযুক্তি এবং ব্যবসা -দুই বিষয়েই দক্ষতা অর্জন সম্পন্ন হয়েছে, এবার সময় এসেছে ক্যারিয়ার গড়ে তোলায় মন দেওয়ার।

লক্ষ্য যখন মাইক্রোসফট

চাকরির জন্য নাদেলাকে তেমন অপেক্ষা করতে হয়নি। বিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সান-মাইক্রোসিস্টেমে কাজ শুরু করলেন তিনি। কিন্তু সেখানে বেশি দিন মন টিকলো না তাঁর, কারণ- ঐ যে! সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য!

তিনি বুঝতে পেরেছিলেন সিলিকন ভ্যালি হতে যাচ্ছে প্রযুক্তি জগতের পরবর্তী মক্কা। তাই প্রথম সুযোগেই সান-মাইক্রোসিস্টেমের চাকরি ছেড়ে পাড়ি জমালেন সিলিকন ভ্যালিতে ১৯৯২ সালে। কোন প্রতিষ্ঠানে? মাইক্রোসফট!

নাদেলা সবসময়ই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার জন্য পরিচিত

শুরুতে তিনি কিছু ব্যবসা প্রধান প্রজেক্টে কাজ করেন। সহজাত দক্ষতায় দ্রুতই অগ্রগতি হয় ক্যারিয়ারের। একটি বড় সুযোগ পেয়ে যান ১৯৯৯ সালে- ‘বি-সেন্ট্রাল স্মল বিজনেস সার্ভিস’ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন নাদেলা। দুই বছরের মাথায় আরেকটি সাফল্যের মুকুট- মাইক্রোসফট বিজনেস সল্যুশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হন তিনি।

উন্নতির ধারা অব্যাহত রেখে ২০০৭ সালে মাইক্রোসফটের অনলাইন সার্ভিসের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হন তিনি। ২০১১ সালে মাইক্রোসফটের সার্ভার ও টুল বিজনেস বিভাগের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি যে যথার্থই এ গুরুদায়িত্বপূর্ণ পদের যোগ্য, তা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে থাকেন। নাদেলার দুই বছরের দায়িত্বকালে তাঁর বিভাগ গড়ে প্রতিবছর ১৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করে, মাইক্রোসফটের সবচেয়ে বেশি রাজস্বদায়ী খাত হিসেবে পরিণত হয় তাঁর বিভাগ।

 

ক্লাউড কম্পিউটিংসিরিজ

নাদেলা সবসময়ই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার জন্য পরিচিত। যতো উচ্চপদে আসীন হলেন তিনি, নিজের পরিকল্পনাকে স্বাধীনভাবে বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা ততোই নিয়ন্ত্রণে চলে আসলো। নাদেলা মাইক্রোসফটের ক্লাউড কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন এবং এই পদে তিনি অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।

বলতে গেলে অনেকটা একা হাতে মাইক্রোসফট অনলাইন সার্ভিসের ক্লাউড ওএস স্ট্র্যাটেজি গড়ে তুলেন তিনি।

বিং, এক্সবক্স লাইভ, স্কাইড্রাইভ, উইন্ডোজ সার্ভার, অফিস থ্রি-সিক্সটি ফাইভ, ব্রডব্যান্ড গেমিং নেটওয়ার্ক, ভিজুয়াল স্টুডিও- ক্লাউডে মাইক্রোসফটের বিভিন্ন সেবার অবকাঠামো বাস্তবায়নের রূপকার তিনি।

সাফল্যের শিখরে আরোহণ

নাদেলার সুদীর্ঘ বাইশ বছরের কর্মযজ্ঞ মাইক্রোসফটের কর্তাব্যক্তিদের চোখ এড়িয়ে যায়নি। শীর্ষস্থানীয় নীতি নির্ধারকেরা সবাই নাদেলার অগ্রগতিতে দারুণভাবে সন্তুষ্ট ছিলেন। প্রায় দুই যুগের কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মাইক্রোসফটের সিইও মনোনীত হলেন নাদেলা।

Career, CEO, Inspirational, inspire, microsoft, satya nadella

বিল গেটস তাঁর কাজে এতোটাই সন্তুষ্ট ছিলেন, যে অবসর ভেঙে সাময়িক সময়ের জন্য মাইক্রোসফটে ফিরেছিলেন কেবল নাদেলার পরামর্শদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে।

অবশ্য তাতে নাদেলার কাজ একেবারে সহজ হয়ে যায়নি! শীর্ষপদের গুরুভার কাঁধে নিতে না নিতেই তাঁর সামনে এসে পড়ে কঠিন এক দায়িত্বের ভার। মাইক্রোসফট নোকিয়া কর্পোরেশনের মোবাইল ফোন ব্যবসা কার্যক্রম নিজের মালিকানায় নিয়ে নেয় ৭ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে।

 এ পুরো প্রকল্প পরিচালনার ভার ছিলো নাদেলার কাঁধে!  এরপর ২০১৬ সালে মাইক্রোসফট কর্তৃক লিংকডইনের অধিগ্রহণও দেখভাল করেছেন তিনি।

মাইক্রোসফটের সিইও হিসেবে আয় কতো?

মাইক্রোসফটের সিইও হিসেবে প্রথম বছরে তিনি আয় করেন ৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৭০ কোটি বাংলাদেশি টাকা! তার বর্তমান বাৎসরিক আয় দুইশ মিলিয়ন ডলার, বা প্রায় ১৬০ কোটি টাকা! বর্তমানে তার সর্বমোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৬৭০ কোটি টাকা)।

পরিশেষ

মাইক্রোসফটে জীবনের প্রায় অর্ধেক সময়ই কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায়। এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গ্রেগ শ ও জিল ট্র্যাসি নিকোলসের সাথে ২০১৭ সালে তিনি “Hit Refresh: The Quest to Rediscover Microsoft’s Soul and Imagine a Better Future for Everyone” নামে একটি বই লিখেন।

ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও প্রতিনিয়ত শেখার, নিজেকে আরো পরিণত করার প্রবল ক্ষুধা তাঁর। নাদেলা মাইক্রোসফটকে আরো বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.