হাইজেনবার্গের গল্প: নিষ্পাপ ফাঁসির আসামী

১৯৮৪ সালে আমেরিকার ম্যারিল্যান্ডে ৯ বছর বয়সী এক মেয়ের লাশ পাওয়া যায়। তাকে হত্যা করার আগে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে পোস্টমর্টেমের রিপোর্টে বলা হয়। মেয়েটিকে শেষ বারের মত একজন ৬ ফুট লম্বা-শুকনা সাদা লোকের সাথে দেখা গিয়েছে বলে ৫ জন সাক্ষী দেয়। সাক্ষীদের ভাষ্যমতে স্কেচ একে তা টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই ধরা পড়ে ক্রিক নোবেল ব্লাডস্ওর্থ।

ধরা পরার পর থেকেই ব্লাডস্ওরথ বারবার নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন। আদালতে ৫ সাক্ষীর ৩ জনই তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। ক্রাইমসিনের পাশে যে জুতার ছাপ পাওয়া গেছে তা ব্লাডস্ওরথের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এই হত্যা মামলায় তাকে ১৯৮৫ সালে মৃতুদন্ড দেয়া হয়। যদিও ব্লাডস্ওরথ বারবার নিজেকে নির্দোষ বলে দাবী করছিলো।

 
পাবলিক স্পিকিং এখন তোমার হাতের মুঠোয়!
 

দুবছর পর এক বিচারক এই মামলা রিভিউ করে উপযুক্ত প্রমাণের অভাব থাকায় তার সাজা কমিয়ে দুটি যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। ১৯৯৪ সালে জেলের ভেতর এক পত্রিকা পড়ে ব্লাডস্ওরথ জানতে পারেন ফরেনসিক ডিএনএ টেস্ট এর কথা। একে যেকোন বিচারে শ্রেষ্ঠ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই, ব্লাডস্ওরথ তার বিচারকের কাছে ডিএনএ টেস্ট দাবী করেন। সেটা বিবেচনাও করা হয়।

১৯৯৪ সালে সেই মেয়ের অন্তর্বাসে লেগে থাকা ধর্ষকের স্পার্ম ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হয় ব্লাডসওরথের সাথে। রেজাল্ট নেগেটিভ। সোজা প্রমাণ হয়: তিনি বিগত ৯ বছর ধরে বিনা দোষে জেল খেটে যাচ্ছেন যার মধ্যে প্রায় ২ বছর তিনি ছিলেন মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী!

১৯৯৪ সালে ব্লাডসওরথ মুক্তি পান। কিন্তু আসল খুনীর পরিচয় তখনো অজানা। ২০০৩ সালে আমেরিকায় ক্রিমিনাল ডিএনএ ডাটাবেস বানানো হয়। সেই ডাটাবেস সার্চ করে দেখা যায় সেই সিমেন ডিএনএধারী ব্যক্তি ইতোমধ্যে হাজতেই আছেন। নিয়তির সবচেয়ে নির্মম পরিহাস হচ্ছে, আসল খুনী ভিন্ন একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ব্লাডস্ওরথের ঠিক নিচের সেলে থাকতেন।

সব প্রমাণ হওয়ার পর ব্লাডস্ওরথকে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। সেটা কাজে লাগিয়ে তিনি খুলে ফেললেন: দ্য ইনোসেন্স প্রজেক্ট নামক এক সংগঠন। এ সংগঠনের কাজ সাজাপ্রাপ্ত নির্দোষ ব্যক্তির সাহায্য করা। এই প্রজেক্টের অধীনে একজন ২৭ বছর জেলে থাকার পর মুক্তি পেয়েছে।

An Arrested man is Innocent until proven otherwise.

Author
Shamir Montazid
এই লেখকের অন্যান্য লেখাগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন
What are you thinking?