বিবিধ, বিজ্ঞান

হাইজেনবার্গের গল্প: জঙ্গীবাদের পেছনে আছে DNA

DNA নামক একটি অণু আমাদের সকল বৈশিষ্ট‍্য প্রকাশের জন‍্য দায়ী। বিগত বেশ কিছু বছর ধরে আমরা জঙ্গিবাদ সহ নানা রকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের শিকার হয়েছি। স্বভাবতই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে শুরু করেছে, জঙ্গী হওয়ার পেছনে কি DNA এর কোন ভূমিকা আছে?

এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে গল্পে-গল্পে কিছুটা জেনেটিক্স পড়ানো হবে। জীবনে বায়োলজি না পড়লেও এটা বুঝতে পারবেন:

DNA আমাদের সকল বৈশিষ্ট‍্য ধারণ করে। কিন্তু, ইনফর্মেশন ধারণ করা আর প্রকাশ করার মধ‍্যে পার্থক‍্য রয়েছে। ধরুন, আপনার পেন ড্রাইভে কিছু গান রয়েছে। কিন্তু, পেনড্রাইভটি কম্পিউটারে লাগালেই কি গান বাজতে শুরু করে?

উত্তর হলো “না!”

পেনড্রাইভের গান শুনতে হলে আপনাকে ক্লিক করে তাকে শুরু করার সিগনাল দিতে হবে। ON সিগনাল না পাওয়া পর্যন্ত ইনফর্মেশন প্রকাশিত হবে না। সুতরাং, পেন ড্রাইভকে আদেশ না করা পর্যন্ত সে তার গানকে বাজানো শুরু করতে পারে না।

একই ভাবে চিন্তা করুন, DNA হলো আপনার সকল বৈশিষ্ট‍্য ধারণকারী একটি পেনড্রাইভ। কিন্তু, ON সিগনাল না পাওয়া পর্যন্ত সে কোন বৈশিষ্ট‍্যই প্রকাশ করতে পারে না। তো আমরা কি বুঝলাম? 

 
ফিজিক্সের অলিগলিতে ভ্রমণ!
 

DNA তে ধারনকৃত বৈশিষ্ট‍্য প্রকাশ করার জন‍্য পারিপার্শ্বিক সিগনাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

এবার আসা যাক আমাদের প্রশ্নের মূল উত্তরে। দেখা গেছে, ছোটবেলায় যেসকল শিশু-কিশোর খুবই উদ্বিগ্ন ও ভীত থাকে তারাই ভবিষ‍্যতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বেশি জড়িয়ে পরে। শিশুদের এই উদ্বিগ্ন অথবা শান্ত থাকাটা নির্ভর করে DNA-তে অবস্থিত GR নামক একটি জিনের উপর। এই জিনটি ON হলে শিশুরা শান্ত থাকে। এই জিনটি OFF থাকলে সেই বাচ্চা সহজেই উদ্বিগ্ন ও ভীত হয়ে উঠে। এই একাকী-উদ্বিগ্ন শিশুদের ভবিষ‍্যতে বিপথে গমনের সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি।

এ পর্যায়ে সবাই নিশ্চয়ই চিন্তা করতে শুরু করেছেন যে, এই GR জিন ON করার উপায় কি? এই জিন অন হলেই তো সমস‍্যার সমাধান হয়ে যাবে।

GR জিনটি ON হওয়ার পদ্ধতি বিজ্ঞানীরা ২০০৪ সালে নেচার পত্রিকায় প্রকাশ করে। এক্সপেরিমেন্টটি চালানো হয় ইদুরের উপর। কারণ, ইদুরের সাথে মানুষের DNA প্রায় ৯৫% মিল!

দুই দল ইদুর নেয়া হলো। একদলকে জন্মের সাথে সাথেই মা-র কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হলো। অন‍্যদলটিকে মা-র কাছেই রাখা হলো। মা-ইদুর প্রতিদিন জিহবা দিয়ে চেঁটে তার বাচ্চাদের আদর করতো। পরিবারের আদরে এই দলটি বড় হলো। অন‍্য দলটি বড় হলো অনাদর ও একাকিত্বে। ফলাফলটা অনুমান করুন তো?

DNA নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেলো, মাতৃত্বের আদরে বড় হওয়া ইদুর গুলোর দেহে GR জিনটি ON অবস্থায় পাওয়া গেলো। অন‍্যদিকে, একাকিত্বের রাজত্বে বেড়ে উঠা ইদুরগুলোতে সেই জিনটি দেখা গেলো OFF অবস্থায়। অর্থাৎ, পরিবারের আদর স্নেহ বাচ্চাদের DNA-কে প্রভাবিত করতে পারে!

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বন্ধ করে চান?

আজই অফিস থেকে বাসায় গিয়ে নিজের শিশু/কিশোর সন্তানটিকে কিছুটা ভালোবাসা দিন, তার সাথে গল্প করুন। শিশু সন্তানটির সাথে পোকেমনের গল্প জুড়ে দিন। কিশোরী মেয়েটির প্রথম ক্রাশের গল্প শুনুন। এতে করে তার DNA-তে GR জিনগুলো ON হবে। সে বড় হবে সুশীল মানুষ হিসেবে। ভবিষ‍্যতে সে কখনোই জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী আগ্রাসনে শামিল হবে না।

No matter what, love always wins.