ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে

Adeeba is a forever confused person and also an Economics student at University of Dhaka who loves to eat, travel, write and meet new people.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

আমার এডমিশন সিজন শুরু হয়েছিল একটা কনফিউশনের ভেতর দিয়ে। আমার ছোটবেলা থেকে শখ ছিল আমি ইঞ্জিনিয়ার হবো। এই শখের পিছনে অবদান আমার মামার, উনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও  প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করে এখন দেশ বিদেশে বড় বড় চাকরি করে বেড়াচ্ছেন। বেশি বেশি টাকা-পয়সা আর বিলাসবহুল জীবনই আমার কাছে সাফল্য মনে হত।

আরেকটু বড় হতেই আমার কাছে সাফল্যের সংজ্ঞাটা বদলে গেলো। আমি এমন কিছু করতে চাইলাম যেটা আমার পেটের দায় মিটানোর সাথে সাথে মানুষের কাছে একটা পরিচিতি এনে দেবে। বয়সটাই অমন! সবারই বিখ্যাত হতে, সেলেব্রিটি হতে মন চায়। আমি তখন মনে মনে অনেকগুলো অপশন ভেবে ফেললাম। আমি কবি হবো, লেখক হবো, বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী হবো। এতকিছু ভাবতে ভাবতে আমি দেখলাম আমার এডমিশনের সময় চলে এসেছে।

সায়েন্সের স্টুডেন্ট হিসাবে আমার সামনে অপশন ছিল হয় ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং এ ভর্তি হওয়া, নয় মেডিকেল কোচিং এ, নয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিং এ। ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছাটা তখনো একটু আধটু ছিল। সুতরাং আমি ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্যে বিখ্যাত একটা কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে গেলাম। এর পিছনে আরো দুইটা কারণ ছিল, তা হল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোচিং করলে ভার্সিটির জন্যে প্রিপারেশন কিছুটা কভার হয়, আর আমার আব্বুর ইচ্ছা ছিল আমি বুয়েটে পড়ি।

যখন ভর্তি হলাম তখন সবাই বলল যেকোন একটা কোচিং করো, দুই নৌকায় একবারে পা দিতে নেই। এই পর্যায়ে এসে আমি সবার কথা না শুনে স্বেচ্ছাচারীর মত একটা কাজ করে ফেললাম। আম্মুকে ম্যানেজ করে ঘ ইউনিটের কোচিং এর জন্যে আরেকটা কোচিং এ ভর্তি হয়ে গেলাম! এইটা কেন করেছিলাম আমি জানিনা। হয়তো ইন্টারের ফিজিক্স কেমিস্ট্রি ম্যাথ আমার ইঞ্জিনিয়ার হবার ইচ্ছাটাকে একটু দুর্বল করে দিয়েছিল।

যথারীতি কোচিং ক্লাস শুরু হলো। তোমরা অনেকেই হয়তো শামীর মোন্তাজিদ ভাইয়া কে চিনে থাকবে। ওরিয়েন্টেশনের দিন তিনি বললেন, জীবনের লক্ষ্য ঠিক করার সময় সবসময় এইটা ভাববে, কোন কাজটা তুমি টাকা না দিলেও করতে রাজি আছো, ওটাই তোমার প্যাশন।

আমি ভাবলাম। সিরিয়াসলি ভাবলাম। কোন কাজটা আমি টাকা ছাড়াও করতে রাজি আছি। কবি হবো? লেখক হবো? না, আম্মু আব্বু এমনটা হয়তো চাইবেন না। তাহলে বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী, গবেষক? গবেষক হই?

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে যেমন গবেষক হওয়া যায়,  তেমনি ডাক্তার হয়েও গবেষণা করা যায়, অন্যান্য বিষয়ে পড়েও বিশেষজ্ঞ গবেষক হওয়া যায়। ঠিক ঐ মুহূর্তে আমার কাছে গবেষক হওয়াটাই সবচেয়ে এপ্রোপ্রিয়েট মনে হল। কোনো একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় নিয়ে রিসার্চ আমি টাকা ছাড়াও করতে রাজি আছি।

এই ব্যাপারটা মাথায় রেখে আমি কোচিং-এ ক্লাস করতে থাকলাম। ইঞ্জিনিয়ারিং আর ঘ ইউনিট দুটোই। কিছুদিন যেতে না যেতেই আমি হঠাৎ টের পেলাম আমি পারছি না, ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং এর এত প্রেশার নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

আমার ম্যাথ বরাবরই কিছুটা অপ্রিয় ছিল, তার মধ্যে আবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং এর কঠিন কঠিন ম্যাথ– উইকলি পরীক্ষাগুলোতে খারাপ পারফরমেন্স– আমার আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে দিল। আমি মেনে নিলাম যে আমি পারব না। তখন মনে হয়েছিল হয়তো মেডিকেলের জন্য কোচিং করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত হত। আমি হয়তো মেডিকেল কোচিং এ ভর্তি হতামও, কিন্তু আগের বছর প্রশ্ন ফাঁসের বিশ্রি ঘটনাটা ঘটার পর আমি আর মেডিকেলকে টার্গেট হিসাবে রাখার সাহস পাইনি।

ইঞ্জিনিয়ারিং পারছি না- এই কথা বাসায় কাউকে বলার সাহস ছিলনা। আবার মেডিকেলেরও প্রিপারেশন নাই। আম্মু-আব্বু অনেক আশা নিয়ে বড় মেয়েকে সায়েন্স পড়িয়েছিলেন, মেয়ে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার কিছু একটা হবে ভেবে! তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলার সাহস ছিলো না যে আমি পারছি না।

ওদিকে ঘ ইউনিটের কোচিংটা করে যাচ্ছিলাম। সাধারণ জ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি ক্লাস বেশ ইন্টারেস্টিং লাগতো। যখন দেখলাম ইঞ্জিনিয়ারিং আমাকে দিয়ে হচ্ছেনা, তখন এই দিকটায় আরো বেশি জোর দিলাম। কিছু একটা তো পারতে হবে!

বাসায় ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং থেকে মেসেজ আসতো আম্মু-আব্বুর ফোনে, আমি উইকলিতে কত খারাপ করেছি তা দেখে আম্মু-আব্বু হতাশ হয়ে পড়তেন। অন্য কোচিং এর মেসেজগুলো কেউ খুলেই দেখতো না। আমি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশ্নব্যাংকের ভিতর লুকিয়ে সাধারণ জ্ঞানের শীট পড়তাম। ঘ ইউনিটের উপর দিকের কিছু বিষয় পড়ে আমি গবেষক হতে পারবো, এ ব্যাপারটা মাথায় রাখতাম।admission experience, admission test, Inspirational

অক্টোবরের ৭ তারিখ আমার প্রথম ভর্তি পরীক্ষা ছিল, মেডিকেলের। বায়োলজি ভালো লাগে- নিজেকে শুধুমাত্র এই সান্ত্বনা দিয়েই পরীক্ষা দিতে গেলাম ময়মনসিংহ। যেহেতু আমি প্রিপারেশন তেমন একটা নেই নি সেহেতু প্রশ্ন সোজা হয়েছিল নাকি কঠিন হয়েছিল বলতে পারবো না।

পরীক্ষা ভালো হয়েছে নাকি খারাপ হয়েছে তাও বুঝতে পারিনি। রেজাল্ট হওয়ার পরে আমি দেখলাম, আমার মেরিট পজিশন দিয়ে সরকারী কোনো মেডিকেল অসম্ভব। এমনটাই হওয়ার কথা ছিল কিন্তু সেদিন আমি খুব কেঁদেছিলাম। এডমিশন জিনিসটাকে যত সোজা ভাবছি তত সোজা যে নয় সেটা বুঝতে পেরেছিলাম।

এইভাবে দুই তিনদিন মোটামুটি জাহান্নামে কাটাবার পর শুনলাম আজকে ঘ ইউনিটের রেজাল্ট দেবে

আর্মড ফোর্সেস মেডিকেলেও চান্স হলনা। মেডিকেলের পরে পরপর দুইদিন দুটো পরীক্ষা ছিল বিইউপি-তে (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস)। একটা হলো পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন আর অন্যটা ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস। এই দুটো পরীক্ষার সিলেবাস ঘ ইউনিটের মতই।

মজার ব্যাপার হচ্ছে আম্মু আব্বু এই দুটো পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ করতে দিতে চাননি, আমি অনেকটা জোর করে করেছি। পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন পরীক্ষাটা দিয়ে আমি খুবই সন্তুষ্ট হলাম। ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস পরীক্ষা দিয়ে অতটা না হলেও মোটামুটি সন্তুষ্ট হলাম। কয়েকদিন পরে এক রাতে পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন এর রেজাল্ট আসলো। আমি হতভম্ব হয়ে আবিষ্কার করলাম- আমার হয়নি।

ঐ রাতটা আমার জন্যে খুবই খারাপ একটা রাত ছিল। পরপর অনেকগুলি “আমার হয়নি” হয়ে যাওয়ায় আমার মনোবল পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছিল। বিইউপি’র পরীক্ষা দুটোর জন্যে আমার প্রিপারেশন ছিল, ভালো প্রিপারেশন ছিল। আমি ঐ রাতে ধরেই নিয়েছিলাম, আমার ঘ ইউনিটেও হবেনা।

[tmsad_ad type=”video”]

যাই হোক, পরেরদিন সকালে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসেরও রেজাল্ট দিয়ে দিল। আমি জানতাম “আমার হয়নি”,  তাও শিওর হবার জন্যে আমি রেজাল্ট টা দেখলাম। এবং আমি অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম,  এই প্রথমবার, “আমার হয়েছে।”

আম্মু হাসলেন, বললেন “গুড, এবার ক ইউনিট আর বুয়েটের জন্যে একটু কয়েকটা দিন পড়ো।” আব্বু বললেন “পড়ো, বুয়েটের আর বেশিদিন বাকি নেই।”

যে যাই বলুক, এই রেজাল্টটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও ফিরে পেলাম। ঘ ইউনিটের প্রিপারেশন আগের চেয়েও আরো ভালো করে নেয়া শুরু করলাম। ঘ ইউনিটের আগে আরো তিনটা পরীক্ষা ছিল আমার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক ইউনিট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক ইউনিট আর বুয়েট। ঘ ইউনিটের প্রিপারেশন নিতে গিয়ে আমি সায়েন্সের বিষয়গুলো পড়া ছেড়েই দিয়েছিলাম বলতে গেলে। সুতরাং এই পরীক্ষাগুলোও আমি অনেকটা “দিতেই হবে তাই” দিলাম।

বুয়েটের পরীক্ষার দিন প্রশ্নটা দেখে আমার খুব আফসোস হয়েছিল। কোচিং এর উইকলি পরীক্ষার প্রশ্ন দেখে যা ভেবেছিলাম, বুয়েটের প্রশ্নটা তেমন ছিল না। আমি যদি তখন ভয় না পেয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং প্রিপারেশনটা ধরে রাখতাম তাহলে হয়তো পরীক্ষাটা আরো অনেক বেশি ভালো হতো।

জগন্নাথ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক ইউনিট রেজাল্ট দিয়ে দিল। আমি সেই যে পেছনে মেরিট পজিশন, পেছনেই থেকে গেলাম। আম্মু আব্বুর স্বপ্নগুলো আমি এভাবেই একটা একটা করে ভেঙেছিলাম। সুতরাং তখন ব্যাপারটা এমন দাঁড়ালো যে আমার ঘ ইউনিটে চান্স পাওয়া ছাড়া আর কোনো গতি নেই।

এর মধ্যে বিইউপি’র ভাইভা দিয়ে আসলাম। বিইউপি আমার বাসা থেকে অনেক দূর। মা তার মেয়েকে নিজের কাছে রেখে পড়াবেন বলে বিইউপি’র আইডিয়াটা তার তেমন ভালো লাগছিল না। সুতরাং আমি কয়েকদিন নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে সাধারণ জ্ঞান আর বাংলা ইংরেজি পড়লাম, প্রশ্ন সলভ করলাম।admission experience, admission test, Inspirational

২৮শে অক্টোবর আমি ঘ ইউনিটের পরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষা মোটামুটি হলো, খুব ভালোও না আবার খুব খারাপও না। তাও মোটামুটি সন্তুষ্ট ছিলাম। পরীক্ষা দিয়ে বের হয়েই মানুষজনকে বলতে শুনলাম– “প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।”

আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। এই একটা শেষ আশা ছিল আমার জন্যে। এটাও কি শেষ হয়ে যাবে?

বাসায় ফিরে আমি যে কাজটা জীবনে কোনোদিনও করি না সেটাই করলাম। প্রশ্ন বের করে উত্তর মিলাতে বসে গেলাম। বারবার চেক করতে থাকলাম কয়টা ভুল হয়েছে কয়টা কারেক্ট হয়েছে। তিন-চারটা অনুমাননির্ভর উত্তর  গুগল করলাম, ঠিক হয়েছে কিনা দেখলাম।

আম্মু আব্বু সহানুভূতির সুরে বললেন, “ঠিক আছে সামনে এমআইএসটি’র পরীক্ষা আছে, বিইউপি আই.সি.টি আছে, এগ্রি ভার্সিটির পরীক্ষা আছে, সেগুলো ভালো করে দাও। কোথাও না কোথাও হয়েই যাবে।”

আমি তাদের কীভাবে বুঝাই যে এ কয়দিন সাধারণ জ্ঞান পড়তে পড়তে আমার সায়েন্সের কোনো বিষয়েরই কোনো প্রিপারেশন নেই, আর তিন চারদিনের ভেতর নেয়া সম্ভবও না।

আমি আম্মু আব্বুর চেহারার দিকে তাকাতে পারছিলাম না। নিজেকে খুবই ব্যর্থ মনে হচ্ছিল। আমার ভবিষ্যতে কী আছে, তা আমি ভাবতেও পারছিলাম না। আব্বু এসে আমার মাথায় হাত রেখে বললেন, “মা, প্রাইভেট মেডিকেলে পড়বা?”

আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এই আব্বু সেই আব্বু কিনা যিনি বলেছিলেন, “আমার কলিজা কেটে বিক্রি করে দিলেও প্রাইভেটে পড়ানোর মত এত টাকা আমি দিতে পারবোনা।” আমার আম্মু যিনি বলেছিলেন “আমার আরো দুইটা বাচ্চা আছে, তোমাকে প্রাইভেটে পড়িয়ে সব টাকা শেষ করে ফেললে ওদের পড়ার খরচ চলবে কীভাবে?” তিনিও আব্বুর কাছে জানতে চাইলেন “কোন প্রাইভেট মেডিকেলটা ভালো হবে?”

যে আমি আগে তর্ক করতাম প্রাইভেটে পড়লে কী দোষ, সেই আমি প্রাইভেটে পড়বার প্রস্তাব শুনে নিঃশব্দে কাঁদতে লাগলাম। বিইউপি’র ভাইভার রেজাল্ট তখনো দেয়নি, তাই বিইউপিতে হয়েছে কিনা শিওর ছিলাম না।

আমি আরেকবার ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ বই খুলে বসলাম। জোর করে পড়ার, মনে করার চেষ্টা করতে লাগলাম। কিন্তু মনোযোগ আসলো না। ঘ ইউনিটে পরীক্ষা দেয়া আমার পরিচিত মানুষেরা হা-হুতাশ করা শুরু করল। এইভাবে দুই তিনদিন মোটামুটি জাহান্নামে কাটাবার পর শুনলাম আজকে ঘ ইউনিটের রেজাল্ট দেবে।

একটা ক্ষীণ আশা নিয়ে দুপুর ১২টা থেকে বারবার আমি ঢাবি ওয়েবসাইটে ঢুকে চেক করতে লাগলাম রেজাল্ট দিয়েছে নাকি। দুপুর একটার দিকে দেখলাম রেজাল্ট পাবলিশ করা হয়েছে। তখন একেকটা পেজ লোড হতে মনে হচ্ছিল এক শতাব্দী করে লাগছে।

অবশেষে ওয়েবসাইটে আমার ড্যাশবোর্ড থেকে আমি আমার রেজাল্ট দেখতে পেলাম। সেই বহুল প্রতীক্ষিত রেজাল্ট, “তানজিয়া তাসনীম আদীবা, বিজ্ঞান বিভাগ, মেধাক্রম ১৮৪, মেধাস্কোর ১৫৬.২০।” হ্যাঁ, আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল।

বুক থেকে একটা ভারি বোঝা নেমে গেলো। আমি “আম্মু” বলে চিৎকার দিয়ে আম্মুর রুমের দিকে দৌড়ে গেলাম।

আজকে, আলহামদুলিল্লাহ, আমি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতে পারি। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে হয়তো একদিন আমি একজন অর্থনীতি গবেষক হয়েও যেতে পারি। তোমাদের প্রতি আমার ছোট্ট উপদেশ থাকবে, সময়মত সিদ্ধান্ত নিতে কখনো ভুল করো না, আর একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে সেটাকে সঠিক করে না তোলা পর্যন্ত ভয় পেয়ে পিছু হটো না।

ধৈর্য ধরো, যারা শেষ পর্যন্ত ধৈর্য রাখে, ভাঙ্গে অথচ মচকায় না, তারাই দিন শেষে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। দুনিয়া কী বলল সেটা এখন না ভাবলেও চলবে, এখন কেবল ভাবো, কোন কাজটা তুমি টাকা ছাড়াও করতে রাজি আছো।

*** বিইউপি’র ভাইভার রেজাল্ট দিয়েছিল পরে। ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে ১৩তম হয়েছিলাম। ঢাবিতেও ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনস পড়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সাধারন জ্ঞানের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে যথেষ্ট নম্বর না পাওয়ায় ইকোনোমিকস নিয়েছিলাম। এবং না, সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয় নিয়ে পড়তে আমার মোটেও আত্মসম্মানে বাঁধছে না, যেমনটা আজকাল অনেকেরই বেঁধে থাকে।


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?