Sunk Cost-কে ‘না’ বলো, সাফল্যের পথে এগিয়ে চলো!

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

 

আমি যখন অনেক ছোট ছিলাম, তখন আমার খুব প্রিয় একটা কাজ ছিল হরলিক্সের বয়াম থেকে হরলিক্স চুরি করে খাওয়া। খুব মজা লাগতো খাবারটা, আর আম্মু খালি খালি হরলিক্স খেতে দিতেন না। তো একদিন হলো কি, গোপনে হরলিক্স চুরি করতে গিয়ে আম্মুর কাছে ধরা খেয়ে গেলাম। আম্মু বেশ ক্ষেপে গেলেন।

না, ক্ষেপে গিয়ে আম্মু অনেকগুলো ঝাড়ি দেন নি। তিনি যেটা করলেন, সেটা আরো আশ্চর্য। তিনি পুরো বয়ামটা আমার সামনে এনে বললেন, “খা এবার। পুরো বয়ামটা আমার সামনে শেষ করবি তুই”। রাগের মাথায় তিনি যেটা করলেন, এটার একটা নাম আছে। তার আগে আরেকটা কাহিনী বলি। এটা আমার ভাইয়ের ছোটবেলার গল্প।

আমার ছোটভাই, সাদমান যখন ছোট ছিল, তখন ওর কোকাকোলা খুব প্রিয় ছিল। তো একদিন হলো কি, বাসায় কোকের বোতলে অল্প একটু কোক ছিল। আমরা দুই ভাই দুটো গ্লাসে ভাগ করে নিলাম কোকাকোলা। আমার গ্লাসে ওর থেকে সামান্য একটু বেশি ছিল, সেটা দেখে হুট করেই ও খুব রেগে গেল, বললো “তুমিই সব কোক খাও, যাও!” বলে সে তার গ্লাসের কোকটাও আমার গ্লাসে ঢেলে দিয়ে চলে গেল। আমার লাভই হলো আখেরে, বেশি কোক পেয়ে গেলাম!

এই দুটো গল্পের মধ্যে একটা মিল আছে। মিলটা হলো, আমার মা এবং সাদমান- দুজনেই Sunk Cost-এর মুখোমুখি হয়েছে। এর বাংলা করলে সম্ভবত ‘ডুবে যাওয়া খরচ’ হবে। এটার মানে হচ্ছে যে খরচটা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, এবং যার রিটার্ন পাবার কোন সম্ভাবনাই আর নেই।

ধরো, তুমি ব্যুফে খেতে গিয়েছো। সেখানে ৪০০ টাকা দিয়েছো। যেহেতু সেখানে টাকা দিয়েছো, সেই টাকা ফেরত পাবার কোন সম্ভাবনা নেই, সেহেতু ওই টাকাটা তোমার Sunk Cost। এখন বিষয় হলো, টাকা দিয়েছো, সেজন্যে তুমি পেটপুরে সাধ্যের বাইরে খাবে, খেয়ে নিজের শরীরের ক্ষতি করবে, বিষয়টা এমন হলে কি চলে? চলে না।

Sunk cost-এর থিওরিটাই এরকম। তুমি কোনকিছুতে অনেক বেশি পরিশ্রম করছো, নিজের শ্রমের অনেকটা দিচ্ছো সেখানে। যা দিয়েছো, সেটা কিন্তু অলরেডি সেই ডুবে যাওয়া খরচ, সেটা আর ফিরে আসবে না। কিন্তু এতে যদি তুমি কোন লাভ খুঁজে না পাও, তাহলে আর সেই পরিশ্রমের জন্যে থেকে যাবার কোন দরকার নেই!

ডুবে যাওয়া এই যে খরচ, একে আসলে খুব বেশি পাত্তা দেবার কিছু নেই

প্রথম গল্পে আমি যে চুরি করে আম্মুর হরলিক্স খেতাম, এটা আমার আম্মুর জন্যে Sunk Cost। কিন্তু আম্মু সেই খরচের কারণে রাগ করে যে আমাকে পুরো বয়ামটাই দিয়ে দিলো, তাতে কি লাভ হলো কোন? হলো না। আখেরে সেই খরচটাই বেড়ে গেলো আবার।

দ্বিতীয় গল্পে সাদমানও একই ভুল করে বসলো। এখানে আমার যে সামান্য একটু কোক বেশি ছিল, সেটাই ছিল ওর ডুবে যাওয়া খরচ। এই খরচটুকুর জন্যে ছেলেটা তার পুরো কোকই আমাকে রাগ করে দিয়ে দিলো। এতে লাভটা কার হলো? আমার নিজেরই। সাদমানের এই সিদ্ধান্তটা তাই ভুল ছিলো, বলতেই হয়।

এতকিছু বলার একটাই উদ্দেশ্য, Sunk Cost-কে নিয়ে যাতে আমরা না ভাবি। অনেককেই আমি দেখেছি, একই চাকরিতে বা অর্গানাইজেশনে পড়ে আছে শুধু কয়েক বছর ধরে সে সেখানে আছে, এই কারণে। এই অনেকদিন ধরে থাকাটাও এক ধরণের Sunk Cost, আর এই খরচের জন্যেই অনেকের আটকে যায় ভবিষ্যৎ!

ডুবে যাওয়া এই যে খরচ, একে আসলে খুব বেশি পাত্তা দেবার কিছু নেই। এমন খরচ থাকবেই, আর তাই এই খরচকে এক পাশে রেখে নিজের যেটা ভালো, সেইদিকে লক্ষ্য রাখলে তবেই না সাফল্য আসবে!

এই লেখাটি নেয়া হয়েছে লেখকের ‘নেভার স্টপ লার্নিং‘ বইটি থেকে। পুরো বইটি কিনতে চাইলে ঘুরে এসো এই লিংক থেকে!

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে তাহমিনা ইসলাম তামিমা


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.