বিদায় জানাও অযুহাত, তবেই হবে বাজিমাত!!!

ভালবাসি বই পড়তে আর টুকটাক লিখতে পছন্দ করি।

বলা হয়ে থাকে, বাঙালির তিনটি হাত। ডান হাত, বাম হাত এবং অযুহাত। আর তাই অযুহাত দিতে আমরা প্রায় সবাই কম-বেশি মুন্সিয়ানার পরিচয় দেই। ক্লাস থেকে শুরু করে বাসা, সব জায়গায় অযুহাতের উত্তম প্রয়োগ করতে আমাদের ভুল হয় না। কিন্তু অযুহাতের আড়াল আমরা মূলত নিজেদের ত্রুটিগুলো লুকিয়ে রাখি, যা আখেরে আমাদের সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

অযুহাত কেন দেই?

১. ভয়:

অজানা কে জানার ভয়, নতুন কিছু আবিষ্কার করার ভয়, পরাজয়ের ভয় ইত্যাদি আমাদের নিজেদের মধ্যে একটি কমফোর্ট জোন তৈরি করে। আমরা এই জায়গা থেকে সহজে বের হতে চাই না। তাই বিভিন্ন ধরনের অযুহাত দেই, আমি পারব না”, “আমাকে দিয়ে হবে না” ইত্যাদি।

২. অনিশ্চয়তার ভয়:

ভবিষ্যতে কী হবে? যদি নিজের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন না হয়? যদি ব্যর্থ হই? এমন নানান কথা ভেবে আমরা সব সময় নিজেকে গুটিয়ে রাখি। জীবনে চলার পথে প্রতিনিয়ত সামনে আসা ঝুঁকি এবং ঝামেলাপূর্ণ কাজগুলোকে এড়িয়ে যাই। যার কারণে সফলতা নামক জিনিসটি আমাদের কাছে সোনার হরিণ বলে মনে হয়। কথায় আছে , “No risk , No gain”. অযুহাত দিয়ে সব ঝুঁকির কাজগুলোকে দূরে ঠেলে দিলে সাফল্যও এক সময় দূরে চলে যাবে।

৩. অন্যের সাথে তুলনা করা:

আমরা প্রায়শই নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করি। তুলনা করতে গিয়ে অনেক সময় ভেবে বসি যে, আমার তো ওর মতো মেধা নেই, আমি কীভাবে পারবো? না পারার ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখি। প্রতিযোগিতায় শামিল না হয়ে বরং অযুহাত দাঁড় করাই।

৪. আত্মরক্ষা :

স্বভাবগতভাবেই মানুষ নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে। আমরা তাই সবসময় নিজেকে নিরাপদ স্থানে রাখতে চাই। ফলে যে কোন সমস্যার সম্মুখীন হলে নানা অযুহাতে নিজেকে রক্ষা করতে চাই।

৫. স্থির লক্ষ্যের অভাব:

জীবনে সফলতা অর্জন করতে হলে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা অতীব জরুরি। আমরা কোথায় যেতে চাই, কী করতে চাই এই লক্ষ্য না থাকলে কোন কাজেই আগ্রহ আসবে না। অথচ অনেক সময়ই আমরা র্নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক না করে অযুহাত দেই যে, এ কাজ আমাকে ‍দিয়ে হবে না, আমি করতে চাই না। কিন্তু আসলে কী করতে চাই তাও ঠিকমত জানি না। সিদ্ধান্তহীনতার মাঝে আমরা অযুহাত দিয়ে নিজেকে সান্তনা দেই এবং ব্যর্থ হলে নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করি।

অযুহাতকে কেন না বলব?

 

১. নিজেকে বিকশিত করা:

অযুহাত মানুষের মনে চেষ্টার প্রতি অনীহার সৃষ্টি করে। নিজের মেধার প্রতি অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। নিজের মেধাকে বিকশিত করতে হলে অবশ্যই অযুহাতকে না বলতে হবে।

২. নতুন কিছু শুরু করা:

অযুহাত জীবনকে সীমাবদ্ধ করে তোলে। ফলে নতুন যে কোন কিছু শুরু করতে গিয়ে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়। তাই নতুন কিছু শুরু করতে হলে অযুহাতকে না বলা আবশ্যক।

৩. অনুতাপ না  করা:

সময়ের কাজগুলো বিভিন্ন অযুহাতে অবহেলা করলে, পরবর্তীতে সেই কাজগুলোর জন্যই অনুতাপ করতে হয়। তাই অযুহাত না দিয়ে সময়ের কাজ সময়ে করা উচিত।

৪. নিজেকে চ্যালেঞ্জ করা:

সাফল্য অর্জনের জন্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা আবশ্যক। কিন্তু অযুহাতের কারণে অনেকেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে ভয় পায় ।

অযুহাতকে না বলব কীভাবে?

 

১. অন্যের সাথে তুলনা না করা:

আমাদের অন্যতম অভিযোগ হল অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করা এবং নিজেকে ছোট মনে করা। কিন্তু আমরা একটিবারও ভেবে দেখি না, যে বিষয়ে তুলনা করছি সে বিষয়ে হয়ত আমি তার চেয়ে কম জানি; কিন্ত অন্য একটি বিষয়ে আমি তার চেয়ে ঢের বেশি জানতে পারি। তাই অন্যের সাথে তুলনা করে অযথা অযুহাত না দিয়ে নিজেকে আবিষ্কার কর এবং নিজের সেরা গুণটি খুঁজে বের কর।

২. নিজের ভুলের জন্য অন্যকে দোষারোপ না করা:

নিজের ভুলগুলো মেনে তা শুধরানোর চেষ্টা করতে হবে। নিজের ভুলগুলোর জন্য অন্যকে দোষ দেওয়া নিছক অযুহাত মাত্র।

৩. ছোট ছোট দায়িত্ব গ্রহণ করা:

কোন কাজ এড়িয়ে না গিয়ে নিজে থেকে দায়িত্ব নাও। এতে করে নিজের মধ্যে কাজ করার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়বে। তখন আমি পারব না”, “আমাকে দিয়ে হবে না এসকল অযুহাত মাথায় আসবে না।

Source: qoutefancy

৪.  লক্ষ্য নির্ধারণ করা:

লক্ষ্য নির্ধারণ কর এবং সে অনুযায়ী এগিয়ে যাও। যেমন আজকে ক্লাসের সব পড়া শেষ করব এমন একটি লক্ষ্য ঠিক কর। এখন বলতো, ক্লাসে গিয়ে পড়া হয়নি কেন-এ অযুহাত দেয়ার প্রয়োজন আছে?

৫. ভুল থেকে শেখা:

নিজের ভুলগুলো থেকে শেখার চেষ্টা কর। একই অযুহাতে ভুলগুলোর যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখ।

৬. নিজের ত্রুটিগুলোকে বড় করে না দেখা:

কেউই নিষ্পাপ, নির্ভুল নয়। সবারই কিছু না কিছু ত্রুটি থাকে। তাই বলে সেটাকে নিজের দুর্বলতা মনে করা ঠিক নয়।

৭. নিজের সাফল্যগুলো খুঁজে বের করা:

রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে দেখলে একটি ছোট্ট বাচ্চা কান্না করছে তুমি তাকে একটি বেলুন কিনে দিলে বাচ্চাটি খুব খুশি হয়ে গেল। এভাবে তুমি একটি বাচ্চার মুখে হাসি ফোটালে এটিই তোমার সাফল্য। এরকম ছোট ছোট সাফল্যের মাঝে নিজের আনন্দ খুঁজে নাও, দেখবে অযুহাত ও তোমার জীবন থেকে ছুটি নেবে। পাশাপাশি ছোট ছোট সাফল্যের হিসাব কর, এতে আনন্দ পাওয়া যায়।

৮. নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা:

নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে শিখে নাও চমৎকার কিছু জিনিস। যেমন, মাইক্রসফট্ ওয়ার্ড , পাওয়ারপয়েন্ট ইত্যাদি। যাতে  আমার তো কোন দক্ষতা নেই”-এ অযুহাতটিকে না বল।

৯. মনোভাব পরিবর্তন করা:

সবকিছুতে অযুহাত দেয়ার মানসিকতা পরিবর্তন কর। এমন একটি দিনের সূচনা কর যেদিনটি হবে অযুহাতবিহীন একটি দিন। একটু চেষ্টা করে দেখ সাফল্য তোমারই হবে।

১০. ভুলের  উর্ধ্বে কেউ নয়:

প্রত্যেক মানুষই কোন না কোনভাবে ভুল করে বসে। কিন্তু সেই ভুলের অযুহাত ধরে পিছনে পড়ে থাকা ঠিক নয়। তাই ভুলগুলোই হোক আমাদের সফলতার সঙ্গী।

অযুহাত শুধুই আমাদের হতাশ, নিরাশ এবং ব্যর্থ করে তোলে। চল, অযুহাতকে বিদায় দিয়ে আমরা আমাদের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলি।

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.