ছাত্রজীবনের বহুল প্রচলিত ৫টি সমস্যা এবং সমাধান!

Tashfikal Sami is a diehard wrestling & horror movie fan. Passionately loves bodybuilding, writing, drawing cartoons & a wannabe horror film director. He's currently studying at the Institute of Business Administration (IBA), University of Dhaka.

পুরোটা পড়ার সময় নেই ? ব্লগটি একবার শুনে নাও ।

ছাত্রজীবনের এই সময়টুকু বেশ বিচিত্র, নানা রকম প্রশ্ন থাকে সেগুলোর উত্তর দেওয়ার কেউ নেই, অনেক কিছু করতে ইচ্ছা করে, সেগুলো কিভাবে করা যায় সেটির উত্তর জানা নেই। অনেক রকম স্বপ্ন এবং বিভ্রান্তি এসে জড়ো হয় মনে, জীবনের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এই সময়টির মতো অননুমেয় আর কিছু হয় না!

অনিশ্চয়তা আর বিভ্রান্তির অলিগলিতে অনেক প্রিয় মানুষকে হারিয়ে যেতে দেখেছি। শুধুমাত্র সঠিক নির্দেশনার অভাবে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যেতে দেখার চেয়ে কষ্টকর আর কিছু নেই। তাই সবচেয়ে প্রচলিত কিছু সমস্যা এবং সেগুলোর ব্যাপারে কী করণীয় সেটি নিয়ে সবার জানা প্রয়োজন, সেসব নিয়েই আজকের লেখাটি।

পছন্দের সাবজেক্টটিতে চান্স পাইনি, এখন যেখানে পড়ছি সেখানে একদম আগ্রহ পাইনা, সব স্বপ্ন একদম মরে গেছে!

যেই ছেলেটি ছোটবেলায় ফুটবলার হতে চাইতো সে যে বড় হয়ে ফুটবলার হতে পারবে তার কিন্তু কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই বলে কি তার জীবনটা থেমে আছে? না, জীবন কোন কিছুর জন্য থেমে থাকে না। আজ হয়তো তুমি বুয়েট, মেডিকেল বা আইবিএ তে টিকতে পারোনি সেজন্য মন খারাপ। তোমার আগেও বহু মানুষকে এই হতাশার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে এবং আমি বাজি ধরে বলতে পারি দশ বছর পর তোমার এই দুঃখটি একটুও থাকবে না!

একটি মজার ব্যাপার কি জানো, সারাজীবন ভালো জায়গায় চান্স পাওয়ার জন্য তোমাকে দেশের সবচেয়ে মেধাবী মানুষগুলোর সাথে হাড্ডা-হাড্ডি প্রতিযোগিতা করে আসতে হয়েছে, এখন হঠাৎ তুমি এমন একটি জায়গায় এসে পড়েছ যেখানে প্রতিযোগিতা বলতে তেমন কিছু নেই, ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার এর চেয়ে চমৎকার সুযোগ আর হয়না!

যেকোন সাবজেক্ট মানুষের চোখে যতটা তুচ্ছই মনে হোক না কেন, সেই সাবজেক্টের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের কিন্তু কোনখানে আটকে থাকতে হয়না, তাদের চমৎকার একটি গতি হয়ে যায়! দেশে হাজার হাজার
ইঞ্জিনিয়ার, হাজার হাজার ডাক্তার দিয়ে ভরে গেছে, তারা কাজ পাচ্ছে না, কিন্তু তোমার সাবজেক্টে তুমি দেশের সেরা, তখন তোমার কিন্তু কাজের অভাব হবে না কোনদিন!

পড়ালেখার অবস্থা খুব খারাপ, বই নিয়ে বসে থাকি পড়া আগায় না একদম!

আমাদের অবচেতন মনের একটি মজার বিষয় রয়েছে; সে কখনো তোমার কষ্ট সহ্য করতে পারে না! তোমার পরীক্ষা সামনে ভোরবেলা উঠে পড়াশুনা করা দরকার, তোমার অবচেতন মন ভাবছে “আহা! বেচারার কত না কষ্ট হচ্ছে এই সাত-সকালে উঠতে! থাক্‌! আরেকটু ঘুমাক বেচারা!” তোমার দু’চোখ ঘুমে জড়িয়ে এসেছে তুমি একবার উঠে একটা হাঁই তুলে আবার ঘুমিয়ে গেলে!  

এই একই ট্রিক অবচেতন মন খাটায় যখন তুমি পড়তে বসো। সত্যি কথাটি হচ্ছে এই- যে বিষয়টি তুমি পড়তে বসেছ সেটিতে তোমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই, কেবল পরীক্ষায় পাশ করতে হবে সেজন্য কিছু পড়া প্রয়োজন তাই তুমি জোর করে বইটি নিয়ে বসেছ! অবচেতন মন পরীক্ষায় পাশ করা বিষয়ক জটিলতার ভেতর দিয়ে যায়না তার হিসেব খুব সহজ- “আহা! বেচারার কষ্ট হচ্ছে, থাক্‌, কিছু পড়া লাগবে না!” তখন সে বিদ্রোহ করে বসে! তুমি বইটি সামনে নিয়ে বসে রইলে অনেকক্ষণ হঠাৎ খেয়াল করলে দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে দুই পাতাও পড়া আগায়নি!

এখন জীবন হবে আরও সুন্দর!

জীবনে শুধু পড়াশুনা করলেই হয় না। এর সাথে প্রয়োজন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি। আর তার সাথে যদি থাকে কিছু মোটিভেশনাল কথা, তাহলে জীবনে চলার পথ হয়ে ওঠে আরও সুন্দর।

তাই যতক্ষণ না তুমি সত্যিই মন থেকে আগ্রহ নিয়ে বিষয়টি শিখতে চাইবে ততক্ষণ পড়া আগানোর আসলে তেমন সুযোগ নেই। এখন তো ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনেক আনন্দের সাথে পড়ালেখা করার সুযোগ রয়েছে (10 Minute School যেমন পড়ালেখার জন্য চমৎকার একটি প্ল্যাটফর্ম!), তুমি যখন সেগুলো ব্যবহার করা শুরু করবে দেখবে অবসাদটা একটু একটু করে কেটে যাচ্ছে এবং পড়ালেখা সত্যিই আগাচ্ছে!

মানুষের সামনে কথা বলতে পারি না, মিশতে পারি না, বাসায় মেহমান আসলে দরজা বন্ধ করে বসে থাকি

পৃথিবীর সব মানুষ একরকম হবে না। কেউ চুপচাপ এক কোণায় বসে থাকবে, কেউ আবার বকবক করে মাথা ধরিয়ে দেবে; এমন বৈচিত্র্যের জন্যই পৃথিবী এত বর্ণিল! কিন্তু স্বভাবে অন্তর্মুখী হলেই যে চুপচাপ থাকবে কারো সাথে মিশতে পারবে না এটি তো কোনো কথা হলো না। তুমি কি জানো বিল গেটস, মার্ক জাকারবার্গ এরা সবাই স্বভাবে অন্তর্মুখী কিন্তু সেটি কিন্তু তাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি। সভা, বক্তৃতায় প্রতিদিন তাঁরা দুনিয়া কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সুতরাং, যেখানে তোমার কথা বলা, যোগাযোগ করা প্রয়োজন সেখানে অবশ্যই কথা বলবে, বলতে হবে।

তাই ব্যস্ত রাখো নিজেকে, গড়ে তোলো নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে!

আমাদের অনেকের মনে একটি গোপন ভয় থাকে “আমি দেখতে সুন্দর নই”, “আমার কণ্ঠস্বর খুব বিচ্ছিরি” ইত্যাদি ইত্যাদি। বিশ্বাস করো এই ভয়গুলো একদম ভিত্তিহীন! একবার সাহস করে মেশা শুরু করো, বিয়েতে বা কোনো অনুষ্ঠানে নিজেই গিয়ে কথা বলো মানুষজনের সাথে- দেখবে একটু একটু করে আড়ষ্টতাটুকু উধাও হয়ে যাবে!

আমার জীবনে খুব দুঃখের কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সেগুলো ভাবলে আমার বেঁচে থাকার ইচ্ছাটি একদম মরে যায়

ইংরেজিতে চমৎকার একটি কথা রয়েছে- “Life is ten percent what happens to you and ninety percent how you respond to it.”

দুঃখের অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের সবার জীবনেই রয়েছে। কিন্তু তুমি অবাক হয়ে যাবে দেখে- একটি দুঃখের ঘটনা ভেবে তোমার দম বন্ধ হয়ে আসছে গভীর বেদনায়, আরেকজনের সাথে সেই একই ঘটনা ঘটেছে কিন্তু তার মুখ দেখে সেটি বোঝার কোন উপায় নেই! জীবনটা আসলে এত ছোট যে দুঃখ-বেদনা নিয়ে ভেবে একটি মিনিটও নষ্ট করার কোন মানে হয় না! একটি মজার ব্যাপার কি জানো? পৃথিবীর কোন দুঃখই কিন্তু চিরস্থায়ী নয়, ছোটবেলায় বাবার বকুনি খেয়ে তোমার মনে হচ্ছিল অভিমানে মরে যাই; এখন কিন্তু সেটি ভেবে তোমার হাসি পেয়ে যাবে!
আমার যখন কোন বিষয়ে প্রচণ্ড মন খারাপ হয় তখন আমি ভাবি আমার জীবনটা কী অসম্ভব সুন্দর! আমার মাথার উপর একটি ছাদ আছে, আমি তিন বেলা খেতে পাচ্ছি, পড়ালেখা করার সুযোগ পাচ্ছি। তোমার জীবনটা নিয়ে তুমি ভীষণ হতাশ? তুমি কি জানো এই মুহূর্তে ঢাকার রাস্তায় প্রায় দশ লাখ পথশিশু রয়েছে যাদের কাছে তোমার জীবনটি একদম স্বপ্নের মতো?

আমার কিছুদিন আগে ব্রেক আপ হয়েছে, সেই মানুষটির কথা সারাক্ষণ মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, পড়ালেখা করতে পারছি না, মূল্যবান সময়গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে

ইন্টারনেট জিনিসটা খুব সহজলভ্য হয়ে যাওয়ার একটি অন্ধকার দিক রয়েছে- মানুষের আবেগ অনুভূতির বিষয়টি কেমন যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছে, সম্পর্ক ভাঙনের ব্যাপারটি একরকম মহামারী আকারে রূপ নিয়েছে। আমার খুব ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধুর সম্প্রতি ব্রেক আপ হয়েছে এবং সে ধাক্কাটি সহ্য করতে না পেরে একরকম হতচ্ছাড়া হয়ে গিয়েছে, সেমিস্টার ফাইনালে ফেল করে অসম্ভব মেধাবী সেই বন্ধুটি আমাদের চোখের সামনে ঝরে গেছে ভার্সিটি থেকে।

আমি জানি বন্ধুটি ঠিকই একদিন ঘুরে দাঁড়াবে, কিন্তু তার যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল সেটি কোনদিন ভুলবার নয়। আমাদের কিন্তু একটি মাত্র জীবন, তোমাকে পৃথিবীর সব রত্ন এনে দিলেও ফেলে আসা একটি দিন ফিরে পাবে না কখনো। এই অসম্ভব মূল্যবান জীবনের একটি ঘণ্টাও আমি অন্য কারও জন্য নিজেকে দুঃখী অনুভব করে নষ্ট করতে চাইনা, পৃথিবীর কারো এতটা অধিকার নেই তোমার জীবনটাকে তছনছ করে দেওয়ার।!

একটু ভেবে দেখো তো, তুমি যখন রাস্তায় দৌঁড়াচ্ছো হন্তদন্ত হয়ে বাসে উঠার জন্য অথবা পরীক্ষার সময় পাঁচ মিনিট বাকি তুমি খাতায় লেখার তুফান ছুটাচ্ছো- তখন কি সেই মানুষটার কথা তোমার মাথায় একবারও আসে? না! তুমি যখন কাজে ব্যস্ত থাকো তখন এই দুঃখময় অনুভূতিগুলো একটুও ঘিরে ধরতে পারে না তোমাকে!

তাই ব্যস্ত রাখো নিজেকে, গড়ে তোলো নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সাথে। “The greatest revenge is massive success.”।  তুমি কি একটি ঘটনায় হতাশায় ভেঙ্গে পড়বে নাকি সেটি থেকে উদ্দীপনা নেবে বুকের ভেতরের বারুদটাকে জ্বালিয়ে দিতে, এগিয়ে যেতে নতুন উদ্যমে- সেটি কিন্তু তোমার উপরই নির্ভর করছে।          


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.