আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়: রসায়নের যাদুকর যখন দিনবদলের কারিগর

November 1, 2018 ...

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

“প্রেম রসায়নে ওগো সর্বজনপ্রিয়

করিলে বিশ্বের জনে আপন আত্মীয়”

১৯৩২ সালে এক রসায়নের শিক্ষকের জন্মদিনের উপহার হিসেবে কবিগুরু স্বয়ং লিখেছিলেন এই দু’টো লাইন, খোদাই করিয়েছিলেন একটি তাম্রফলকে। কবিগুরুর মতে সবার প্রিয় এই শিক্ষক বাংলার হয়ে পুরো বিশ্বকে আপন করে নিয়েছিলেন রসায়নের হাত ধরে। সত্যিকার অর্থেই এই ছিপছিপে শিক্ষকের হাত ধরে এদেশে হয়েছে প্রায়োগিক বিজ্ঞানচর্চার শুরু। কিন্তু বিধিবাম! আজকালকার তরুণ প্রজন্মের খুব মানুষই জানে তাঁর নাম। হ্যাঁ, বলছি প্রখ্যাত রসায়নবিদ, বিজ্ঞানশিক্ষক, দার্শনিক ও কবি আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের কথা।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিপরীতে থেকে বাংলাদেশকে ও বাঙালি জাতিকে বিশ্বের বুকে আত্মপরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে যে কয়জন মহীয়ান ব্যক্তিত্ব ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম এই আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, বিশ্বব্যাপী যিনি পিসি রায় নামেই বেশি পরিচিত। অনেক গুণে গুণান্বিত এই ব্যক্তি ছিলেন সর্বোপরি একজন জাতীয়তাবাদী স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর অবদানেই শিল্পায়নে বাঙালি জাতি এগিয়ে যেতে শুরু করে তাঁর-ই প্রতিষ্ঠিত “বেঙ্গল কেমিক্যালস”-এর হাত ধরে। বিশ্বে তিনি নিজেকে এবং বাঙালি জাতিকে চিনিয়েছেন একটি সম্পূর্ণ নতুন রাসায়নিক যৌগ “মারকিউরাস নাইট্রাইট” আবিষ্কারের মাধ্যমে। তাই আজ আমাদের বাংলাদেশ জ্ঞান-বিজ্ঞানে যখন আছে অগ্রগতির পথে, তখন এই মানুষটিকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করতেই হয়!

z80BoQanYENchoJaxzs04W5ydbqjDIBelPUuFJCgPs4xaRdAwdWh9C9aFKUgRcfwngLx8VB4PvV6Szmw4ZH3FgArN09B7A1rxcMxMGVzuhlLBIHP UKFFnuv4KHDPPsP9z BYNC3

 আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, Source: wikimedia commons

পিসি রায়ের জন্ম ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট, বর্তমান খুলনা এবং তদানীন্তন যশোর জেলার অন্তর্গত রাড়ুলি গ্রামের এক ভূস্বামী পরিবারে। তাঁর পিতার নাম হরিশ চন্দ্র রায় এবং মাতার নাম ভুবন মোহিনী দেবী। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তাঁর পিতা ছিলেন একজন ছোটখাটো জমিদার। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেধা ছিল তুখোর, উদার দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তিনি সুপরিচিত ছিলেন। গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে প্রফুল্লচন্দ্র ১৮৭২ সালে কলকাতার হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন।  

১৮৭৪ সালে ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ার সময় গুরুতর রক্ত-আমাশয়ে আক্রান্ত হওয়ায় ২ বছর পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এই অবসর সময় তিনি হেলায় হারাননি, বরং করেছিলেন তার মোক্ষম ব্যবহার। এই সময় পিতা হরিশ চন্দ্র রায়ের লাইব্রেরীতে নানান বিষয়ে পড়াশুনা করে পৃথিবীর অগাধ জ্ঞান ভান্ডারের সাথে তিনি নিজেকে পরিচিত করে তোলেন ।

১৮৭৬ সালে কেশব চন্দ্র সেন প্রতিষ্ঠিত ‘আলবার্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং ১৮৭৮ সালে তিনি প্রথম বিভাগে পেয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু তার পরেও শিক্ষকরা নিরাশ হন কারণ তিনি বৃত্তি পাননি। কিন্তু তিনি নিজে কিন্তু নিরাশ হননি। তিনি মনে করতেন, “পরীক্ষার নম্বরই মানুষের জীবনের শেষ কথা নয়, যারা পরীক্ষায় ভালো করেছে তারা অনেকেই পরবর্তী জীবনে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছে। জীবনের ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য স্থির লক্ষ্য ও সুষ্ঠুভাবে অধ্যাবসায়ের সঙ্গে শিক্ষালাভ অনেক বেশী ফলপ্রদ।”

pOuswVeCLu6H 9GeBvL rf7CrVzn2bK9DvbBDtYAb 8mYvXeAF8R7eEEbGzgaS09DSjqL1wiklhHOkPcibPQALa8BZFFuV 8EY1f4cBQ1HezlFLRAJ1Ol4BqbEGHAsB779REmSo9

তরুণ প্রফুল্লচন্দ্র source: khulna.gov.bd

এরপর  তিনি মেট্টোপলিটান ইনস্টিটিউশনে (বর্তমান বিদ্যাসাগর কলেজ) ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৮৮০ সালে এফ.এ পরীক্ষায় পাস করেন। ১৮৮২ সালে তিনি প্রথম বাঙালি হিসেবে গিলক্রিস্ট বৃত্তি নিয়ে লন্ডনে চলে যান এবং এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৮৮৫ সালে বি.এসসি এবং ১৮৮৭ সালে রসায়ন শাস্ত্রে ডক্টর অব সায়েন্স বা ডিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এই ডক্টরেটের জন্য করা তাঁর গবেষণা পত্রটি শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হওয়ায় তাকে ‘হোপ প্রাইজ’ নামক পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়ার পরও তিনি আরও এক বছর তিনি “অন এ্যানালিসিস অফ ডাবল সালফেটস এন্ড দেয়ার কৃস্টাল বিহেভিয়ার” বিষয়ে গবেষনা করেন।

দেশে ফিরে এসে তিনি বেঙ্গল এডুকেশন সার্ভিসে যোগ দেন এবং ১৮৮৯ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়নের অস্থায়ী সহকারী অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। সেসময় বাংলার আরেক নক্ষত্র জগদীশচন্দ্র বসুও ছিলেন ঐ কলেজের শিক্ষক। পরবর্তীতে প্রফুল্লচন্দ্র রায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। প্রেসিডেন্সি কলেজে তিনি শিক্ষকতা চালিয়ে গিয়েছেন ১৯১৬ সাল পর্যন্ত, আর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত। কিন্তু তাঁর শিক্ষকতা জীবন সত্যিকার অর্থে কখনোই শেষ হয়নি। ১৯৩৭ সাল থেকে আমৃত্যু প্রফেসর ইমেরিটাস হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

শিক্ষক হিসেবে তাঁর কিছু নিজস্ব দর্শন ছিল। রসায়ন তিনি এমনভাবে পড়াতেন যেন মনে হতো তিনি সাহিত্যের বিরাট কোনো উপাখ্যান বর্ণনা করছেন। তিনি বলতেন যে একজন শিক্ষক “সর্বত্র জয় অনুসন্ধান করিবে কিন্ত পুত্র ও শিষ্যের নিকট পরাজয় স্বীকার করিয়া সুখী হইবে।” তাঁর আত্মচরিতে তিনি তাঁর শিক্ষকজীবন সম্পর্কে বলেন, “প্রেসিডেন্সি কলেজে আমার ২৭ বছর অধ্যাপনা জীবনে আমি সচেতনভাবে প্রধানত নিচের ক্লাসেই পড়াতাম। কুমোর যেমন কাদার ডেলাকে তার পচ্ছন্দমত আকার দিতে পারে হাই স্কুল থেকে সদ্য কলেজে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের তেমনি সুন্দরভাবে গড়ে তোলা যায়। আমি কখনও কোন নির্বাচিত পাঠ্যবই অনুসরন করে পাঠদান দিতাম না।” পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞানকে তিনি সবসময়ই প্রাধান্য দিতেন।

শিক্ষক পিসি রায়ের অনেক ছাত্ররাই পরবর্তীতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানী হিসেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। সে কারনেই পিসি রায়কে বলা হতো “বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞানী।’’ তার কৃতি ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন ড: মেঘনাথ সাহা, হেমেন্দ্র কুমার সেন, বিমান বিহারী দে, ড: কুদরত-ই-খুদা, প্রিয়দা ভন্জন রায়, জ্ঞানেন্দ্র নাথ রায়, জ্ঞান চন্দ্র ঘোষ, জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, রাজেন্দ্র লাল দে, প্রফুল্ল কুমার বসু, বীরেশ চন্দ্র গুহ, অসীমা চ্যাটার্জী প্রমূখ। প্রেসিডেন্সি কলেজে শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হকও তাঁর ছাত্র ছিলেন।

ZKS vYaYBO1dN fqIHl1efyWk9VeaWCLUliFfmrADi2JL2MqSkavruzw UU RWptJpl7bdhg34GVZ992l4oZwi6EYjjK3GG44JXfXWnkza2YnDY7NFOaDrK1rg4iIEwd bL tpVS

মেঘনাদ সাহা, সত্যেন বোসসহ আরো স্বনামধন্য বিজ্ঞানীদের মাঝে পিসি রায়, source: wikimedia commons

এই শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গবেষণা কাজেও খুব মনোযোগী ছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় তিনি ১২টি যৌগিক লবণ এবং ৫টি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেছিলেন, তবে তাঁকে সবচেয়ে বড় খ্যাতি এনে দেয় মারকিউরাস নাইট্রেটের আবিষ্কার। ১৮৯৬ সালে তিনি পারদ ও নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় এই যৌগ তৈরি করেন যা রসায়ন শাস্ত্রের এক অভিনব সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর গবেষণা পত্রের সংখ্যা ছিল ১৪৫টি। পরবর্তীতে ডাচ একাডেমী এবং লন্ডনের রসায়ন সমিতি তাঁকে অনারারি ফেলো নির্বাচিত করেন।

2 XI331dnDBTwf8Y 9AQAnYBzxIcjzOeACqnA5cuVvohUmCxlcsZFJQxZ KYbVjONd fDK5wZFZzqnBDOtPhHOuKOY v8XDrUUmDk haZq6SUDF0B2T tldWQACjw3hyEQY3rmZC

বিড়লা ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিতে পিসি রায়ের ভাস্কর্য source: wikimedia commons

এরপর ১৯০২ সালে প্রকাশ পায় তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “History of Hindu Chemistry”। সেখানে পি.সি. রায় ১২০০ শতাব্দী এবং তারও পূর্বের ভারতবর্ষের রসায়ন চর্চার ইতিহাস তুলে ধরে প্রমাণ করেন যখন ইউরোপ-আমেরিকার মানুষ গাছের ছাল বা বাকল পরে লজ্জা নিবারণ করতো, তখন ভারতবর্ষের মানুষ পারদের ব্যবহার এবং সাতন পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত ছিলো। এই ভূখণ্ডে বিজ্ঞানকে পুনর্প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছিল তাঁর এই কাজ থেকেই।

তিনি বিশ্বাস করতেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।” বলতেন, “ভারতের দারিদ্র্যের মূল কারণ হচ্ছে কৃষির উপর নির্ভরতা, কৃষিনির্ভর জনসংখ্যা সৃষ্টিই তার সকল সমস্যার মূল সমস্যা, তার অস্তিত্বের সমস্যা।” এই দারিদ্র তাঁকে প্রচন্ড পীড়া দিত। ছাত্রদের বলতেন, “তোমরা প্রতিজ্ঞা করো দেশকে গড়ে তুলবে, তোমাদের সাধনা দিয়ে জাতিকে সমৃদ্ধ করবে।”

এই দেশকে নিয়ে চিন্তা থেকেই তাঁর মাঝে জেগে উঠে এক সফল উদ্যোক্তা এবং সংগঠকের সত্ত্বা। ১৮৯২ সালে মাত্র ৮০০ টাকা মূলধন নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘দি বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস’ যা বাংলার শিল্পায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। বলা যায় বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পায়নেই তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

তাঁর সহজাত সংগঠকের বৈশিষ্ট্য এবং পরোপকারী সত্ত্বার সম্মেলন ভারতীয় উপমহাদেশকে উপহার দিয়েছে অসংখ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা দেশে-বিদেশে এখনো সেবা দিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক,  বেঙ্গল কেমিক্যাল সমবায় সমিতি, বঙ্গবাসী কলেজ কো-অপারেটিভ ষ্টোর এন্ড কেন্টিন, বেঙ্গল কো-অপারেটিভ সোসাইটি ইত্যাদির নাম। এছাড়া বাগেরহাট জেলায় ১৯১৮ সালে তিনি পি, সি কলেজ নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। যা আজ বাংলাদেশের শিক্ষা বিস্তারে বিশাল ভূমিকা রাখছে। উল্লেখ্য যে নিজের নামে কলেজ প্রতিষ্ঠা তিনি করতে চাননি, নামটি দিয়েছিলেন তাঁরই ছাত্র শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।

BoTOoZEqhlNdpOoS2xDjLKB2OUJowmF9furVm vx1KirlU26DmrNmVru2jLSAYb ZmftcoOgkC uFbCuSREBqlfUHJRCSj imaafVpAucD43U1RedWNrGcwHCvil8e5PAx T9p 4

বাগেরহাটের পিসি কলেজ, source: wikimedia commons

রাজনীতিতেও ছিল তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ। স্বদেশী আন্দোলনের সময় পাইকগাছা উপজেলার কাটিপাড়ায় “ভারত সেবাশ্রম” নামে একটা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে নিজ জন্মভূমির এলাকার মানুষকে চরকায় সুতো কাটার মাধ্যমে স্বদেশী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। বিজ্ঞান কলেজের বারান্দায় একটা চরকা স্থাপন করে তিনি নিজেও সুতা কাটতেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের একজন একনিষ্ঠ কর্মী।

আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় বলতেন, “আমি বৈজ্ঞানিকের দলে বৈজ্ঞানিক, ব্যবসায়ী সমাজে ব্যবসায়ী, গ্রামক সেবকদের সাথে গ্রাম সেবক আর অর্থনীতিবিদদের মহলে অর্থনীতিজ্ঞ।” সত্যিকার অর্থেই তিনি ছিলেন তাই। বিজ্ঞানীর রূপ ধরে সমাজে তিনি ছিলেন একজন বিপ্লবী হিসেবেই। যেখানেই গিয়েছেন ছোঁয়া রেখে গিয়েছেন নিজের।

এই অমর বিজ্ঞানী ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নেন। তার মৃত্যুর খবর পেয়েই শের-এ-বাংলা ফজলুল হক, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন, শিক্ষামন্ত্রী নাজিম উদ্দীন খান, সিভিল সাপ্লাই মন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি ও অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা ছুটে যান শেষ বারের জন্য তাঁকে দেখতে।

তাঁর এই কর্মময় জীবনের নানান কীর্তির জন্য তিনি বেশকিছু সম্মাননা পেয়েছিলেন।  ব্রিটিশ সরকার তাঁকে প্রথমে ‘সিআইই (কম্প্যানিয়ন অফ ইন্ডিয়ান এম্পায়ার)’ এবং পরবর্তীতে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন। দেশবিদেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে দিয়েছে সম্মানসূচক ডক্টরেট। আর শিক্ষকতায় অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য আমরা তাঁর নামের সামনে এখন লেখি ‘আচার্য।’

রবীন্দ্রনাথ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় সম্পর্কে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, “বস্তুজগতকে প্রচ্ছন্ন শক্তিতে উদঘাটিত করে বৈজ্ঞানিক, প্রফুল্লচন্দ্র তাঁর চেয়ে গভীরে প্রবেশ করেছেন কত যুবকের মনোলোকে। ব্যক্ত করেছেন তাঁর অনভিব্যক্ত দৃষ্টিশক্তি, বিচারশক্তি ও বোধশক্তি।” কাকতালীয়ভাবে, কবিগুরু আর প্রফুল্লচন্দ্রের জন্মসাল একই। আজ আমরা কবিগুরুকে সবাই মনে রেখেছি। কিন্তু নিজেদের দৃষ্টিশক্তি, বিচারশক্তি আর বোধশক্তিকে ব্যক্ত করতে আমরা ভুলতে বসেছি সবাই-ই। তা করার জন্য যে আমাদের পিসি রায়ের মত মহীয়ানদেরকে মনে রাখা খুব দরকার, খুব দরকার!

তথ্যসূত্র:

    1. আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়: শেখ শাহাদাত হোসেন বাচ্চু।

 

    1. বাংলাপিডিয়া।

 

    1. আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় জীবন ও সাধনা: অধ্যাপক এম কে আলী।

 

    1. বিশ্বনন্দিত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী: নাজমুল হুদা।

 

  1. https://blog.bdnews24.com/meftu/30133
আপনার কমেন্ট লিখুন