ক্যারিয়ার

পাসপোর্ট ও অফিসিয়াল ছবি তোলার নিয়মগুলো জেনে নিন

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

প্রায় সময় নানা কাজে আমাদের ছবি তুলতে হয়। অফিসিয়াল ছবি প্রায় সব কাজেই লাগে। হোক সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের -স্কুল -কলেজের আইডি কার্ডে কিংবা বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্টের ছবি। এসব অফিসিয়াল ছবি তোলার সিস্টেম আমাদের গ্রুপ ছবি, পোট্রেট বা সেলফি তোলার মতো না। একটু ব্যতিক্রম। অধিকাংশ সময়ে অজ্ঞতার জন্য আমাদের সবচেয়ে পচা ছবিটা আসে তখন। এমনকি চেহারা বোঝা যাচ্ছে না দেখে ভিসা দেয়া হয়নি এমন অনেকের সাথেই হয়। “কারও আসল চেহারা দেখতে চাইলে তার পাসপোর্ট সাইজ ছবি দেখা উচিত”, নিতান্ত হাসির ছলে এ কথা ফান করে অনেকে বললেও, কথাটা কিন্তু সত্যি।  তা আমরা সবাই কম বেশি দেখেছি। আজ তাই জানাবো কিছু টিপস যা মেনে চললে আপনার পাসপোর্ট ছবিটাও হবে সুন্দর:

পোশাক নির্বাচন ও প্রস্তুতি:

আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন করুন।  খুব বেশী আঁটসাঁট যেন না হয়। আপনার নিয়মিত যে ধরনের পোশাক পরার অভ্যাস তা পরুন। আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হওয়াটা জরুরি। এতে আপনাকে ফ্রেশ লাগবে ছবিতে। কোন ধরনের টুপি, হেড ব্যান্ড অথবা ক্যাপ ব্যবহার করা যাবে না। যারা হিজাব ও স্কার্ফ ব্যবহার করেন, লক্ষ্য রাখবেন যেন আপনার কান দেখা যায় স্পষ্টভাবে। চুল আঁচড়ানোর সময় চুলটা পরিপাটি করে আঁচড়ে নিন। কোন ভাবে যেন মুখের উপর কোন চুল না আসে। অফিসিয়াল ছবিতে চশমা পরা যাবেনা যদি আপনার চশমা ছাড়া খুব বেশি সমস্যা না হয়।

দারুণ সব লেখা পড়তে ও নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে ঘুরে এসো আমাদের ব্লগের নতুন পেইজ থেকে!

মেকআপ ও পরিচ্ছন্নতা:

মেয়েদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। অধিকাংশ মেয়ে মাত্রাতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহার করে ছবি তু্লতে যেয়ে। এতে একদিকে যেমন আসল চেহারা বোঝা যায় না, তেমনি অধিকাংশ সময়ে ভিসা দেয়া হয় না এই চেহারার তারতম্যের কারণে। ইমিগ্রেশনে উটকো ঝামেলাতেও পড়তে পারেন। অবশ্যই দাঁতের ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন যাতে পরিষ্কার থাকে। মেকআপ না ব্যবহার করলে বিশেষ করে ছেলেরা খেয়াল রাখবেন যাতে আপনাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি দেখায়। চুলগুলো আঁটসাঁট করে আঁচড়াবেন অথবা জেল দিয়ে সেট করে নিবেন।

বসা, Camera posing:

এটি গুরুত্বপূর্ণ  ক্যামেরার সামনে সোজা হয়ে বসবেন। এমনভাবে বসবেন যাতে আপনার ঘাড় সোজা থাকে, মেরুদন্ড সোজা থাকে। একদম সোজা বরাবর ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ছবি তুলতে হবে। হাসা যাবেনা। তবে মৃদু হাসতে পারেন, দাঁত না দেখিয়ে। এতে আপনাকে সাবলীল দেখাবে। নিয়মিত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে এই মৃদু হাসার অভ্যাসটা আয়ত্ব করতে পারেন৷ আপনার থুতনি বেশি উঁচু না করাই ভালো। তা না হলে, ডাবল Chin দেখা যাবে যা ছবির সৌন্দর্য নষ্ট করবে ও আপনাকে মোটা লাগবে।

আবিষ্কার করো পাওয়ারপয়েন্ট এর খুঁটিনাটি!
পাওয়ার পয়েন্টকে এখন আমাদের জীবনের অনেকটা অবিচ্ছেদ্য একটা অংশ বলা যায়। ক্লাসের প্রেজেন্টেশান বানানো কী বন্ধুর জন্মদিনের ব্যানার, সবক্ষেত্রেই এর ব্যাপক ব্যবহার।  
 
 

ফটোগ্রাফার ও ছবি তোলার জায়গা নির্বাচন:

আগে থেকে নির্বাচন করুন কবে কোন ফটোগ্রাফারের কাছে ছবি তুলবেন. Back drop এর সাথে মিলিয়ে নিজের পোশাকের রং নির্বাচন করতে পারেন। ফটোগ্রাফার এর নির্দেশনা অনুসরণ করলে, ভালো ছবি পাবেন আশা করা যায়।  বিভিন্ন ছবির বিভিন্ন ধরনের requirement থাকে, তাই আগে থেকেই ফটোগ্রাফারকে জানাবেন আপনি কেমন ছবি চান ও কিসের জন্য ছবি তুলতে চাচ্ছেন। যেমন ভিসার জন্য ২’২ সাইজের ছবি লাগে, তেমনি আপনার আইডি কার্ডে লাগবে পাসপোর্ট সাইজ ছবি

যখনই ছবি তুলবেন তখন মনে করে আরও এক্সট্রা ৫-১০  টা ছবি করিয়ে নিবেন যাতে পরবর্তীতে যে কোন সময় লাগলে তা ব্যবহার করতে পারেন। দরকার হলে নেগেটিভও নিয়ে আসবেন। যাতে জরুরি দরকারে ছবি ওয়াশও করে নিতে পারবেন। ফাইনাল সিলেকশন এর সময় ফটোগ্রাফারকে নিজে বসে থেকে বলে দিবেন, কোন ছবিটি আপনার পছন্দ হয়েছে, কোনটা চান আপনার। কারণ, ফটোগ্রাফার/ক্যামেরাম্যান একসাথে অনেকগুলো ছবি তুলেন। যেটা বেস্ট আসে ঐটাই দেয়া হয় প্রিন্টে।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্র্যাক্টিস:

সুন্দর ছবি তোলার মূলমন্ত্র, আয়নাকে বানাতে হবে বেস্টফ্রেন্ড। নিয়মিত সময় পেলে আয়নার সামনে গিয়ে দেখতে হবে কিভাবে ভালো লাগছে, আপনাকে। ব্যাস একবার নিজেকে বুঝে ফেললে, ছবি না ভালো এসে যাবে কই?  নিজের বিভিন্ন ছবি দেখবেন ও বুঝতে চেষ্টা করবেন আপনাকে কেমন পোশাকে ভাল লাগে ও কেমন পোজে। ঐটাই অভ্যাসের মাধ্যমে রপ্ত করুন আর প্রতিবার এপ্লাই করুন ছবি তুলতে।

লাইটের দিকে এক যোগে তাকানোর অভ্যাস:

অধিকাংশ মানুষের অফিসিয়াল ছবি তুলতে গেলে যে বিষয়টা সমস্যা হয় তা হলো, চোখ বন্ধ হয়ে আসে। আমরা অধিকাংশ মানুষ বেশি আলোর দিকে তাকাতে পারি না।।এটাই সমস্যা। কম্পিউটার অথবা টিভির দিকে একযোগে ২-৩ মিনিট ধরে তাকানোর অভ্যাস করুন মাঝে মাঝে।  এভাবে অভ্যাস করলে ফটোগ্রাফারের ক্যমেরার সামনেও অস্বস্তি লাগবে না আর।

তো জানা হয়ে গেল বেশ কিছু টিপস যা মেনে চললে অফিসিয়াল ছবি/পাসপোর্ট সাইজ ছবিও সুন্দর আসবে। এজন্য দরকার প্রস্তুতি ও অভ্যাস। প্রতিটা টিপস আমি নিজের উপর পরীক্ষা করেছি। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আমার স্মার্ট কার্ডের ছবিটা দেখে আমি নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে তো কয়েকজন বলেছেন, এত সুন্দর ছবি! তো স্মার্ট এ যুগে যখন সব কিছু স্মার্ট, তখন আমরা পিছিয়ে থাকবো কেন? ছবি তোলাটাও স্মার্ট হওয়া চাই এখন থেকে। কী বলুন?


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]