বর্ষবরণ: একেক দেশে একেক সাজে

December 19, 2018 ...
NBQEpGO10peWcFVgYNvh71R2SEmo5IV1q8sfySSIiYC6cEdRcAyPUB0w ajW1DBwQvEdSNSkr16byPMTbikWgX8g9YJadsvP97ePPSR deqQqwW6be znWJgCu dkGF57W6GuQqy

বছর ঘুরে আবার আসে নতুন বছর, সেই সাথে বিদায় জানাতে হয় বিগত বছরটিকে। গ্লোবটাকে যতই ঘুরানো হোক না কেন, বর্ষবরণ উৎসব হয় সব দেশে তাদের নিজস্ব রীতি অনুসারে বছরে একবারই। তাই এই উৎসব ঘিরে থাকে তাদের নিজস্ব কিছু অনুষ্ঠান, নিজস্ব সংস্কৃতি। বাঙালিরা যেমন পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খেয়ে, লাল-সাদা শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়; ঠিক তেমনি পৃথিবীর বাকি দেশগুলোও নিজেদের মতন করে দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলে। বর্ষবরণ মানে শুধু আকাশে আতশবাজির মেলা না, কেউ কেউ এই দিন ১২টা আঙ্গুর খেয়ে উদযাপন করেন, কেউ বা বন্ধুর বাসার সামনে ভাঙ্গা প্লেট জড়ো করে রাখেন! এমনই নানান অদ্ভুত ও মজাদার বর্ষবরণ রীতির প্রচলন আছে বিভিন্ন দেশে। চলুন তাহলে সেগুলো একটু জেনে নেওয়া যাক!       

 স্কটল্যান্ড:

dqQx9AecIEudWC 32K2InkbIPtPDz9VGyl9Qf8PM by1flERn65WFSw1JgGyLHB wS7nGjCROdvTh7ihchYWqsuiywSFNrjT e 2V Iie3Q4ZRbvDXzqbEGzv2rRY0RKv4Ns0KZH

স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবার্গে তিন দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন করা হয়। ৩০ ডিসেম্বর রাত থেকে শুরু হয় তাদের উদযাপন। সেদিন ৮০০০ জন বাসিন্দা টর্চলাইট হাতে নিয়ে রাস্তায় ‘River of Fire’ বা ‘আগুনে নদী’ তৈরি করেন। এই আগুনে নদী নিয়ে তারা ওল্ড টাউন স্ট্রিট থেকে পার্লামেন্ট স্কয়ার, সেখান থেকে কাল্টন হিলে ঘুরে যান৷ শোভাযাত্রার একদম শুরুতে থাকে লম্বা কালো চুলের এক মানুষ। সেই শোভাযাত্রার তালে তালে চলতে থাকে ড্রাম ও বংশীবাদকের দল।

জানুয়ারির ১ তারিখে তারা একটি পারিবারিক মিলনমেলার আয়োজন করে থাকেন, যেখানে তাদের আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধবরা অংশ নেন৷ নিজেদের তৈরি একধরণের সুরা পান করার মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শুরু করা হয়৷ সেই সাথে চলতে থাকে স্কটিশ মিউজিক ও ট্র‍্যাডিশনাল নাচ এবং গল্প বলা। এই অনুষ্ঠানকে বলা হয় ‘Ceilidh’। সবাই তাদের বন্ধুবান্ধবদের বাসায় লবণ, কয়লা, পাউরুটি, হুইস্কি ইত্যাদি উপহার হিসেবে নিয়ে যান।

স্কটিশরা সাধারণত প্রচুর হইহুল্লোড় করতে পছন্দ করেন, তাই তাদের অনুষ্ঠানগুলোতে কান ঝালাপালা করে দেওয়ার মতন বাজনা বাজানো হয়৷ তারা আলকাতরা দিয়ে তৈরি পাইপের মধ্যে আগুন জ্বেলে রাস্তায় বিছিয়ে দেন, পুরোনো বছরের সবকিছু মুছে ফেলার জন্য। যারা একটু সাহসী ধরণের, তারা চলে যান লুনি ডুকে৷ শহরের বাইরের এই জায়গায় গিয়ে তারা বরফের নিচে ঝাঁপ দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন৷    

স্পেন :

নতুন বছরের শুরুটা যদি হয় স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে, তাহলে কিন্তু ব্যাপারটা মন্দ হয় না! স্প্যানিশরা তাদের বছর শুরু করেন ১২টি আঙ্গুর খাওয়ার মাধ্যমে। মধ্যরাত থেকে শুরু হয় তাদের খাওয়া, এভাবে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে আঙ্গুর খাওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় তাদের নতুন বছর৷ রাতে এভাবে জেগে থাকার জন্য তারা বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই রাতজাগার প্র‍্যাকটিস শুরু করে দেন। এজন্য তাদের একটু কষ্ট হয় ঠিকই, কিন্তু তাদের মতে এরকম করলে নতুন বছর তাদের জন্য উন্নতি ও সৌভাগ্য বয়ে আনবে। এই কাজটি তারা মাদ্রিদের পুয়ের্তো দেন সল নামক এক জায়গায় জড়ো হয়ে করে থাকেন। এক হাতে ১২টি আঙ্গুর এবং অন্য হাতে এক গ্লাস কাভা নিয়ে তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে যান। এভাবে বর্ষবরণের উৎসবকে তারা বলেন ‘Nochevieja’। 

ডেনমার্ক:

তুমি যদি বছরের প্রথম দিনই কারো বাসার দরজায় প্লেট ছুড়ে মারো, এইটা হয়তো তোমার জন্য বেশ অশুভ একটা শুরু হবে। মজার ব্যাপার হলো, ডেনমার্কের বাসিন্দারা এভাবেই তাদের নিউ ইয়ার সেলিব্রেট করেন! তারা পুরো বছরজুড়ে তাদের ভাঙ্গা বা বাতিল প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি কাচের জিনিস জমিয়ে রাখেন এবং বছরের প্রথম দিন সেগুলো নিয়ে তাদের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের দরজার সামনে আঘাত করেন৷ যার দরজার সামনে যতবেশি কাচের টুকরো জমা হবে, সে ততবেশি জনপ্রিয় বলে গণ্য হবে! এছাড়াও তারা চেয়ারের ওপর থেকে লাফ দিয়ে সৌভাগ্য আনার চেষ্টা করেন (!)

ব্রাজিল:

ব্রাজিলে এই সময়টায় বেশ শীত পড়ে। তাই ডিসেম্বরের শেষের দিকে এবং জানুয়ারির শুরুর দিকে বেশিরভাগ জায়গাতেই শীতকালীন ছুটি শুরু হয়ে যায়। আর ব্রাজিলিয়ানদের শীতের ছুটি কাটানোর জন্য সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হলো রিও ডি জেনেরিওর কোপাকাবানা বীচ। এখানে সবচেয়ে বড় বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয়৷ এইদিন ব্রাজিলিয়ানরা সাদা রঙের পোশাক পরে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে সমুদ্রের দিকে ছুঁড়ে ফেলে দেন। সাদা রঙ হলো শান্তির প্রতীক। শুধু তাই নয়, ঢেউয়ের তালে তালে সাতবার লাফও দিতে হবে৷ তাদের মতে এমনটি করলে নতুন বছর তাদের জন্য আরো উন্নতি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।

এস্তোনিয়া:

খাদ্য রসিক মানুষদের জন্য এস্তোনিয়ানদের বর্ষবরণ পদ্ধতিটা তাদের ও তাদের বপুর জন্য একদম পারফেক্ট! কেননা, এস্তোনিয়ার বর্ষবরণ উৎসবের মূল আকর্ষণটাই তো হচ্ছে ‘খাবার’! এইদিন তাদেরকে কেউই খাবার খেতে মানা করবে না। বরং তাদেরকে বলা হবে, “যে যত পারো তত খাও! আজকে তো তোমাদেরই দিন!”

শুধু একবার-দুবার নয়, তুমি চাইলেই দুই বা ততোধিক বার খাবার নিতে পারবে। তবে সাত, নয় এবং বারো বার খাওয়াকে বলা হয় তাদের সৌভাগ্যের প্রতীক৷ প্লেটে থাকা সবটুকু খাবারই যে খেতে হবে, তা কিন্তু না৷ তুমি অল্প একটু খাবার প্লেটে রেখে উঠে যেতে পারো, এমনটা করলে নাকি মৃত আত্মীয়দের আত্মা শান্তি পায়!  

জাপান:

QPKDtnKjTN31gn835r0 dey08GpH3ZF2R6rDg90EHv ec9837rNsIbXaxJBTKkM6kkTI0NUBgVxdrOlVXR2fWKutbcRcLxux7ju wcMPqrNPDnn5kGANBmystNa8xY5pth2W rZW

‘Omisoka’ হলো জাপানি বর্ষবরণ উৎসব। এইদিনে জাপানিরা বুদ্ধ মন্দিরে যেয়ে ১০৮ বার ঘণ্টা বাজান। তাদের মতে, প্রতিবার ঘণ্টা বাজানোর ফলে তাদের যত মনস্কামনা আছে, তা পূর্ণ হবে এবং এই ঘণ্টার আওয়াজ তাদেরকে অশুভ শক্তির থেকে দূরে রাখবে। তবে এই অনুষ্ঠান সবচেয়ে জাঁকজমকভাবে পালন করা হয় টোকিওর যোজজি মন্দিরে। বাচ্চারা নতুন বছরে পরে নতুন কাপড়, কেননা নতুন পোশাক তাদের জীবনে বয়ে আনে সুস্বাস্থ্য ও সৌভাগ্য। শিশুরা তাদের বালিশের নিচে ৭টি পরীর ছবি রেখে দেয়৷ এই পরীগুলো হলো তাদের আনন্দের প্রতীক। তাদের সান্তা ক্লজ হলো ‘সেগাতসু- সান- লর্ড’।

বাহামা:

‘Junkanoo’ হচ্ছে একধরণের বাহামিয়ান উৎসব। যা তাদের বক্সিং ডে  এবং নিউ ইয়ার, দুই সময়েই উদযাপিত হয়। অন্যান্য দেশে ঠিক বারোটা বাজার সাথে সাথে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেলেও, বাহামাতে পার্টি শুরু হয় রাত দুইটার পরপর। তখন থেকেই রাস্তায় রাস্তায় দেখা যায় বিশাল শোভাযাত্রা। মানুষজন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে সেই শোভাযাত্রায় অংশ নেন৷ বাদকের দল ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি একধরণের বিশেষ ড্রাম ও গরুর শিংয়ের তৈরি বাঁশি বাজাতে থাকেন। আর বাজনার তালে তালে নাচতে থাকেন বাহামিয়ানরা।      

রাশিয়া:

রাশিয়ানরা একটু কাঠখোট্টা জাতি হিসেবে পরিচিত। অত হইচই করে নতুন বছর বরণ না করলেও, একটু অদ্ভুতভাবে বরণ করেন। প্রথমে তারা তাদের নিউ ইয়ার উইশটা একটা কাগজের টুকরোয় লিখে নেন। এরপর রাত বারোটার আগেই নিজেদের শ্যাম্পেইনের গ্লাসের মধ্যে কাগজের টুকরোটাকে চুবিয়ে পান করে ফেলেন!  

থাইল্যান্ড:

আজকাল মানুষজন নিউ ইয়ার সেলিব্রেট করতে থাইল্যান্ডের দিকে উড়াল দেয়। তার মানে থাইল্যান্ড অবশ্যই একটি চমৎকার নিউ ইয়ার ডেস্টিনেশন! তারা তাদের বর্ষবরণ উৎসবকে বলে ‘সংক্রান’। সংক্রানের দিন তারা একে অন্যের গায়ে পানি ছুঁড়ে ফেলেন। এইদিনে থাইল্যান্ডের রাস্তায় বের হলেই দেখা যাবে যে, সবার হাতেই একটা করে পানি ভর্তি বালতি! মন্দিরে যাওয়া এবং আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা করাও এই দিনের একটি অবশ্যকরণীয় কাজ।  

ইংল্যান্ড:

Z8hLdG0wafEb6s1d2p3kVAZDyIc8dphjPU3W97Y6wVIDVWymLLwcG TIhu pXtP4xis JlOLQviy2l3bvt fqB8jgr k8ZwDVA4izSeNWE3E7vC3xNNQpd4WdHeK0nu cmVw00oP

যেকোনো উৎসবেই মূল আনন্দ করে শিশুরাই। ব্রিটিশ শিশুরা এই দিনে কোনো বিখ্যাত রূপকথার উপর তৈরি মঞ্চনাটকে অভিনয় করে৷ এইদিনে রাস্তায় বের হয় এক মজাদার কার্নিভাল। নানান কার্টুন ও কমিক ক্যারেক্টার এই শোভাযাত্রায় অংশ নেয়৷ রাস্তার ধারের দোকানপাটগুলোয় বিক্রি হয় খেলনা, বাঁশি, পুতুল, মুখোশ, বেলুন ইত্যাদি। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবেরা একে অন্যের কাছে গ্রিটিং কার্ড পাঠিয়ে থাকেন৷ ১৮৪৩ সালে এই ইংল্যান্ডেই প্রথম গ্রিটিং কার্ড আবিষ্কৃত হয়।        

ইতালি:

zF2eDnw8u2Uq 4HYk4qPtm1BnKkwsVxql1mtRu7FEO11QvB50dj5O5A5xwV3KgW8zLIQ nfrd7mWpQDk3oBtBY 4Ri0MEjSLOVw3zFYKlQGelxLOCucck28 uUGB0K5clpALi Z4

ইতালিয়ানদের সান্তা ক্লস হচ্ছেন ‘বাবো নাতালে’। দেখতে হাল্কা-পাতলা হলেও চেহারায় বেশ রাজকীয় একটা ভাব আছে। তারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে, নতুন বছরে পুরোনো কিছু থাকা উচিত না৷ তাই তারা নিজেদের যত বাতিল পুরাতন জিনিস আছে, যেমন: চেয়ার, টেবিল, ইস্ত্রি- সব জানালা দিয়ে ফেলে দেন। তাদের মতে, পুরাতন জিনিসগুলোর জায়গা খুব দ্রুতই নতুন জিনিস দখল করে নিবে।

সুইডেন:

tswDLrSnVoypDUfIUX8Zc2SinFiBoFJzxRLdX7MY3m 8uKIr12bztmjhvb3Px2 f8F6FKbV QgewsthJ p8EXJduqai hknvoPeBvh5nIuk6CNrNGv9VBLcGKEV7E ByIjyJNw63

সুইডিশ বাচ্চারা তাদের ‘কুইন অব লাইট লুসিয়া’ কে সাদা রঙের জামা পরিয়ে, মাথায় মোমবাতির মুকুট দিয়ে সাজিয়ে তোলে৷ কেননা তাদের মনে হয় রাণী লুসিয়া তাদের জন্য উপহার নিয়ে আসবেন। শুধু তাই নয়, তিনি নাকি পোষা প্রাণীদের জন্যেও সুস্বাদু সব খাবার নিয়ে আসেন। যেমন: বিড়ালদের জন্য ক্রিম, কুকুরদের জন্য মিষ্টি হাড্ডি এবং গাধার জন্য গাজর। এই রাতে তারা একবারের জন্যেও নিজেদের ঘরের বাতি বন্ধ করেন না। তাই পুরো দেশটা একদম আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে৷  

কলম্বিয়া:

PgMwtwkEcOw0VYRVDjuUosbAd5ATF4BNdzttkPz46GvMtdgMWxdQVwULXeBm8O6Xr1JY8bLSzOQK2ITgAZ nuArlKMZKTLMk1QHgZHLx U

কলম্বিয়ার বর্ষবরণ উৎসবের মূল আকর্ষণ হচ্ছে পুরোনো বছর! ‘পাপা পাস্কুলে’ হলেন কলম্বিয়ার সান্তা ক্লজ। তিনি ভীড়ের মধ্যে যেয়ে বাচ্চাদেরকে মজার মজার গল্প শোনান।কলম্বিয়ানরা পুরোটা দিন স্যুটকেস হাতে নিয়ে ঘুরতে থাকেন।  এর মাধ্যমে তারা প্রার্থনা করেন, তারা যেন পুরো বছর সারাবিশ্বে ঘুরতে পারেন।

ফ্রান্স:

ফ্রেঞ্চদের সান্তা ক্লজ হলেন ‘পার নুয়েল’। বাচ্চাদের টাঙানো জুতোয় তিনি উপহার রেখে যান। যেই শিশু গিফট হিসেবে ‘বব বেকড’ (নিউ ইয়ার পাই) পায়, সে ‘বিং কিং’য়ের খেতাব পায়। এবং মজার ব্যাপার কী জানো? পুরো উৎসবের রাত জুড়ে সব্বাইকে তার কথা মেনে চলতে হবে!

ফিনল্যান্ড:

huidU7QW3nRu9B2a992pIKIYa3qBbKLdXMcjKFXxKQ2Z8BZc9DOD2BiHhSJarWyDB EZ4vpVtJI2INAdY7FNLqjOBUyNdCa6d cR1QmnCrOZG2uw5tsEgbKwGCwvnH0hvG5hN5e6

ফিনল্যান্ডকে বলা হয় ‘সান্তা ক্লজদের আস্তানা’। ২৫শে ডিসেম্বর থেকেই তাদের উৎসব শুরু হয়ে যায়। ল্যাপল্যান্ড থেকে সান্তা ক্লজরা এসে বাচ্চাদের জন্য উপহার নিয়ে আসেন৷ এইদিন ফিনল্যান্ডবাসীরা খাবার টেবিলে বসে পরিবারের সবার সাথে পুরোনো স্মৃতিরোমন্থন করেন।

জার্মানি: 

WbqGtzWg4fZQi2P IIPP3sY40 G6hy1eqAin26ubJRXYizDIw4tCOuGh0EqeiR98 tXNFYqxmt9lxEfWjdwNdg0 N1 AWiKvqiv2V51i4D8vdgPmqgRJmFpiBarylbyGHRX

জার্মানদের মতে, সান্তা ক্লজ গাধার পিঠে চড়ে তাদের কাছে আসে৷ বাচ্চারা ঘুমাতে যাওয়ার আগে খাওয়ার টেবিলে একটা করে খাবারে ভরা প্লেট করে যায়। যাতে সান্তা ক্লজ যখন তাদেরকে উপহার দিতে আসবেন, তখন তিনি যেন প্লেটে রাখা খাবারটা খেতে পারেন।

কিউবা: 

GDw9JTY3ErkvZ0PPDlaLMBw8cC8TGdZr7iJQPEVtsY5RJM8AI3rXaqAu2tPYAVhHacITjTAl8ZowD741MFAr9S4QncHJRgoNIAr6EsD6bwfWYyYlWJm1tEPRFGUtlH4TdSBjCbek

এইদিন কিউবার রাজা হয় তাদের বাচ্চারাই! আর হবে নাই বা কেন? উৎসব যখন শিশুদের, এর রাজাও তো হবে তারাই! বালতাসার, গ্র‍্যাসপার, মেলচোর- এই তিনজনকে বলা হয় ‘কিং অব উইজার্ড’। তারাই বাচ্চাদের জন্য নানারকম উপহার নিয়ে আসেন। বাচ্চারা তাদেরকে নিজেদের স্বপ্ন, চাওয়া-পাওয়া নিয়ে চিঠি লিখে। কিউবিয়ানরা তাদের বাসার সব পাত্র পানি ভরে রেখে ঠিক রাত বারোটায় সব পানি জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। এমনটি করলে বিগত বছরের সব কষ্ট ধুয়ে-মুছে যাবে এবং পরিষ্কারভাবে নতুন বছর শুরু করা যাবে বলে তাদের বিশ্বাস।

হাঙ্গেরি:

yBBvdbI2blfQcbT7wOPNWKX1C6aIi2JSF XxbqkXsvlslLVPSo9LQuGl8v1fZcUAZwdOGl xC CxVHxOV irFwCt2SPweG981o143CoRZmlck pv9ClNfpCTM PZJUnA1aA0Uzwp

হাঙ্গেরিয়ানরা নতুন বছরকে বরণ করে নেন বাঁশি, পাইপ ও হর্ণ বাজিয়ে৷ এগুলোর শব্দে অশুভ আত্মারা নাকি লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায় এবং ঘরে আসে শুভ দিন, সেই সাথে আনন্দ ও ফূর্তি! এইদিন তারা বিশেষ ধরণের খাবারের আয়োজন করেন। সেই খাবারের মধ্যে থাকে শিম ও মটরশুঁটি, যা আত্মার ও দেহের শক্তি বৃদ্ধি করে; আপেল, যা সৌন্দর্য ও ভালোবাসা বয়ে আনে; বাদাম, যা আঘাত থেকে রক্ষা করে; আদা, যা সবরকম অসুখ থেকে তাদের বাঁচিয়ে রাখে এবং মধু, যা জীবনের মিষ্টতা বাড়ায়৷  

চেক রিপাব্লিকান ও স্লোভাকিয়া:

RbhAhq7p2CuyA9o7FiXfd3iYo8 RfiA4qsS54 OS47AwrK4lq4b fiaVmXMQeV SUTs3 fWD3RMlWbD UUXFABgWEyfDnD 1flRtZDML 7fLZbYugUllsXJCDklx97czHPQ 0sH

একজন উৎফুল্ল, ছোটখাটো গড়নের মানুষ, যে কিনা একটি রঙচঙে কোট পরিধান করে থাকেন এবং তার মাথায় থাকে একটা বড় টুপি এবং হাতে থাকে একটা বিশাল বাক্স। তার নাম হলো ‘মিকুল্যাশ’৷ যেসব বাচ্চারা ভালোমতো পড়াশুনা করে, তিনি তাদের জন্য সবসময় উপহার নিয়ে আসেন৷  

হল্যান্ড:

ebi9LhKwTWJDSod04Od3I JmKT037WKW4x 8YRb6LB9bGjfHAGUWAKl64VYM5vNz11cS5yfIzJhE4Y1qfynPzYM0GyhoDMzfvplPZmoqJ R6KQFF71QHKJ7vDgmNnjOruo6HI U0

ফাদার ফ্রস্ট নাকি জাহাজে করে হল্যান্ডে যান৷ সেখানে যেয়ে তিনি বাচ্চাদের সাথে দেখা করেন, তাদেরকে কৌতুক শোনান, উপহার হিসেবে দেন মারপিজিয়ান ফ্রুট, খেলনা, ক্যান্ডি, ফুল ইত্যাদি।

চীন: 

9kNhCc1BKzwtVSjnqRH7tVz z2B3dmBawLwGxj0XmmCjkjdIje64ZKb C56OHYbYcppihGCvnYj77qNX6RdTngVcc8V5OtLe4tiN6Uy73B5to SZ99SrgRJLsnkk X wzW0fF l

চীনের বর্ষবরণ উৎসব হচ্ছে একদম দেখার মতন একটা উৎসব, যেখানে থাকে রঙের ছড়াছড়ি ও আনন্দের ফুলঝুরি! তারা বাড়ির সামনের দরজায় লাল রঙ করে রাখেন। বড়রা লাল খামে টাকা ভরে তাদের অনুজদের দেন। আকাশে দেখা যায় নানান ধরণের আতশবাজির ছটা। তাদের মতে আতশবাজির শব্দ অশুভ আত্মাকে দূরে ঠেলে দেয়৷

বুলগেরিয়া:

OyoV6y1Ep3j39xD0FgZaASzGJywmlxuREBy07lRth2yBXEFgGeTo9tZZhfAFpXS2y66DuDcx9l8JnCF aBFZIEEj mOcMhj69cmLXJd52CetF 6u5PIBU2nL9LYGOSs3P66DUT0B

সুইডিশরা যেখানে নিজেদের বাসার একটা বাতিও এদিন বন্ধ করে না, সেখানে বুলগেরিয়ানরা তিন মিনিটের জন্য পুরো বাসার সব বাতি বন্ধ করে রেখে দেন। একে বলা হয় ‘Minutes of New Year’s Kisses’। আত্মীয়স্বজন, মেহমানরা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে সবাই একসাথে একই টেবিলে বসে রাতের খাবার খান।  

ফিলিপাইন:

ফিলিপাইনদের বর্ষবরণ উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, “It’s all about CASH!” ফিলিপাইনবাসীর সৌভাগ্যের প্রতীক হলো বৃত্ত। আর বৃত্তের সবচেয়ে চমৎকার উদাহরণ হচ্ছে কয়েন বা পয়সা। তাই তারা কয়েন বিলানোর মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেন। এছাড়াও পোলকা ডট কাপড় পরিধান করেন অর্থ বৃদ্ধির জন্য।

সুইজারল্যান্ড:

সুইজারল্যান্ডের অধিবাসীরা কোনোকিছু খাওয়ার মাধ্যমে না, বরং আইস্ক্রিম মেঝেতে ফেলে দিয়ে নিউ ইয়ার সেলিব্রেট করে! এইটা পড়ে কী বুঝলে? আরে, ওরা এর মাধ্যমে বোঝাতে চায়, আমাদের এত অর্থ আছে যে আমরা আইস্ক্রিম নষ্টও করতে পারি(!) Richness in the coming year!

চিলি:

চিলির বাসিন্দাদের মতন অদ্ভুতভাবে মনে হয় না আর কেউ নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। মৃত আত্মীয়দের সমাধিস্থলের কাছে বসে তারা আত্মাদের সাথে ‘হ্যাং আউট’এ যান! পুরো রাত তাদের সাথে চিল করে সময় কাটান চিলির বাসিন্দারা।    

ভিয়েতনাম:

ভিয়েতনামের অধিবাসীরা নতুন জামা পরে বর্ষবরণ করেন। আমস্টারডামে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব উদযাপিত হয়। রাস্তার ধারের রেঁস্তোরা থেকে ‘অলিবলেন’ নামের একধরণের খাবার কিনে খান। এগুলো খেলে নাকি তারা অশুভ জিনিস থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতে পারবেন৷

zPpE Yr09KvLctF9QXoqwvRac89hRatTsuRqUXEKXDfLg0QEF6CcJy WMOHFa3QLgWvdJ0QkjRa2LDtgwQv9VzMW47vozdcEBfhHl1eoki JKwLuJlUg3InD7Nd1QDf5dyQLVD2T

এছাড়াও, পুয়ের্তো রিকো‘র সকলে অশুভ আত্মা ও খারাপ জুজুকে বের করার জন্য জানালা দিয়ে নিচে পানি ফেলে দেন। তারা তাদের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট  সবকিছু পরিষ্কার করে রাখেন। বেলজিয়াম এর কৃষকেরা তাদের গরুকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে নতুন বছর শুরু করেন। বলিভিয়া‘র বাসিন্দারা মিষ্টি ও কেকের মধ্যে কয়েন লুকিয়ে রাখেন। যে সেই কয়েনটা খুঁজে পাবে, পুরো বছরটা তার জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে। কয়েন নদীতে ফেলে নতুন বছর উদযাপন করেন রোমানিয়ান‘রা।
অশুভ আত্মাকে দূর করার জন্য আয়ারল্যান্ড এর অধিবাসীরা দেয়ালে পাউরুটি ছুঁড়ে মারেন! 
আর যারা সাউথ আফ্রিকা’য় থাকেন, তারা ঘরের বাইরে পুরাতন  আসবাবপত্র ছুঁড়ে  ফেলেন।

RB6VrXbewDTcdSRl5uK8rAEjRHPFW lIl4NVtSGLwebYWp4Ror1ftfUZy7ZVTk4Ryorho0WI7yJkZLrR8EVxVkuBxGkwwrh76JdINL7eIb0WQApyRkFUiNG


সাইবেরিয়ানরা গাছের গুঁড়ি নিয়ে ফ্রোজেন লেকে ঝাঁপ দেন। 
আর পানামা’র অধিবাসীরা নিজেদের বা বিখ্যাত কারো পুত্তলিকা  তৈরি করে সেটাতে আগুন ধরিয়ে দেন সৌভাগ্য আনার জন্য!

তাই আপনি যদি চান এবারের নিউ ইয়ার একটু অন্যভাবে সেলিব্রেট করতে, তাহলে উপরের যেকোনো একটা দেশের রীতি অনুসরণ করে ফেলুন। আর করে কেমন লাগলো, তা জানাতে কিন্তু ভুলবেন না!  

সূত্র:

  1. https://www.businessinsider.com/new-years-eve-in-around-the-world-2016-12?r=UK&IR=T
  2.  https://kabar.kg/eng/news/how-the-new-year-is-celebrated-in-different-countries-of-the-world/
  3. https://timesofindia.indiatimes.com/travel/destinations/new-year-traditions-in-different-countries/as61734950.cms
আপনার কমেন্ট লিখুন