লাইফ হ্যাকস, জীবনযাত্রা

New Year Resolutions: Set করবে যেভাবে


পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও।

প্রত্যেকবার নতুন বছর যত কাছে চলে আসে, ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো খুব দ্রুত ঝরে পড়তে থাকে। বছর শেষে আমাদের বছরটা কেমন কাটলো, আমরা সেটা ভেবে দেখি৷ এই বছরে আমরা কী কী অর্জন করলাম, কী কী হারালাম, লাভ- লোকসানের পরিমাণ কত হলো, তা মেলানোর জন্য হিসাবের খাতাটা খুলি। প্রতি বছরের শুরুতে আমরা চেষ্টা করি, কীভাবে আমরা নতুন বছরে নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন করতে পারি। আর এগুলোকে বলা হয় ‘New Year Resolutions’।

New Year Resolutions সেট করা একটা বেশ ভালো প্রোডাক্টিভ কাজ, নতুন কিছু শেখা বা কোনো বাজে অভ্যাস ত্যাগ করার জন্য। হ্যাঁ, এইটা ঠিক যে নিয়ম তৈরিই করা হয় ভেঙ্গে ফেলার জন্য। কিন্তু তবুও বছর শেষে তুমি কতটা সফল হলে, তা কিন্তু বোঝা যাবে তুমি এই চ্যালেঞ্জগুলোর কতটুকু শেষ করতে পেরেছো।  

বছরের এই সময়টাতে আমি আমার ডায়েরিটা হাতে নিই। পৃষ্ঠাগুলোতে চোখ বুলাতে থাকি এবং কোন কোন লক্ষ্যে আমি পৌঁছাতে পারলাম, সেটায় টিক দিতে থাকি৷ এই কাজটা করতে আমার খুব ভালো লাগে, নিজেকে নিয়ে খুব প্রাউড ফিল করি যে, “যাক! কাজগুলো অন্তত শেষ করতে পারলাম!”

আমার গতবছরের resolutionগুলোর মধ্যে ছিল মার্চ থেকে মে পর্যন্ত ১০০টা বই পড়া, কোথাও লিখালিখি করা, ইলাস্ট্রেশনের কাজ শেখা, নিজের হাতখরচ নিজেই জোগানো ইত্যাদি৷ দুই- তিনটা বাদে সবগুলোর পাশেই টিক চিহ্ন পড়েছে।

কিন্তু আসল সমস্যাটা হচ্ছে, আমাদের ধৈর্যশক্তির বড়ই অভাব। এর কারণে আমরা আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সাথে টিকে থাকতে পারি না, এর শেষ ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষাও করতে পারি না। কিন্তু ওই যে, ‘সবুরে মেওয়া ফলে’। আরে, তুমি যদি সবুর করার আগেই মেওয়া খেতে চাও, তাহলে কি চলবে? New Year Resolution -গুলো হয় আমাদের শপিং লিস্টের মতন লম্বা।

        ‘Change is hard. We are creatures of habit. ‘

                         June Colubec

 
এবার বাংলা শেখা হবে আনন্দের!
আমাদের প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলা ভাষা চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম!

তাঁর মতে, যদি না তুমি খুব বেশি মোটিভেটেড হও, তোমার আশেপাশের মানুষজন তোমাকে এবং তোমার কাজকে সমর্থন করে ও সঠিক পরিবেশ- এই কয়টি ছাড়া তুমি কখনোই তোমার লক্ষ্যে অটল থাকতে পারবে না৷ কারণ আমরা যখন একটা কাজ ধরি, বেশির ভাগ সময়েই শুরুর দিকে যেই পরিমাণ উদ্যম আমাদের মাঝে ছিল, শেষের দিকে সেই উদ্যমটা হারিয়ে যায়। অনেকটা তীরে এসে তরী ডোবানোর মতন।

কিন্তু তাই বলে কি আমরা New Year Resolutions ঠিক করবো না? আলবাত করবো! চলো তাহলে কীভাবে আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সাথে আমরা টিকে থাকতে পারি, সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

ছোট ছোট Resolutions সেট করে নাও:

অনেকসময় এমন হয় যে, আমরা ভাবি দিনে ১০ ঘণ্টা পড়াশুনা করবো, এরপর আমার রেজাল্ট খুব ফাটাফাটি লেভেলের হবে। তাহলে বাবা আমাকে একটা কম্পিউটার কিনে দিবে! হ্যাঁ, এইটা খুব ভালো একটা পদক্ষেপ। কিন্তু এই বড় বড় পদক্ষেপগুলো অনেকসময় তোমার ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। দুম করে টানা ১০ ঘণ্টা পড়াশুনা করলে তা তোমার শরীরের উপর তো চাপ ফেলবেই, সেই সাথে পড়ার প্রতি তোমার আকর্ষণটাও হারিয়ে যাবে।

লক্ষ্য অর্জনের চাবিকাঠি হচ্ছে একবারে একটা করে পদক্ষেপ নিয়ে সম্পন্ন করা, একের অধিক নয়৷ এরপর চটজলদি করে একটা রিয়েলিটি চেক দিয়ে নাও, এতে করে তোমার ওই পদক্ষেপটার জন্য সফলতার গ্রাফটা কেমন হলো, তা বোঝা যাবে। তোমার নেওয়া ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই তোমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিবে।

আচ্ছা, মনে করো তুমি চকলেট খাওয়া বাদ দিয়ে দিতে চাও। যার ফলে তুমি আজকে থেকেই চকলেট খাওয়া এক্কেবারে বাদ দিয়ে দিলে। কিন্তু এটা কি সম্ভব? তোমার সামনে কেউ চেটে চেটে চকলেট খেলে তোমার বুক কষ্টে হাহাকার করবে না? তাই একদম বন্ধ না করে একটা গোল সেট করতে পারো। যেমন: সপ্তাহে শুধু দুই দিন তুমি একটা চকলেট বারের দুই টুকরো চকলেট খেতে পারবে। এভাবে ধীরে ধীরে তোমার চকলেট খাওয়ার মাত্রাটাও কমে যাবে।       

নির্দিষ্টভাবে Resolution ঠিক করো :

‘টাকা বাঁচানো’ একটি ভালো অভ্যাস৷ কিন্তু কী পরিমাণ টাকা তুমি বাঁচাবে? বা কোন জায়গা থেকে টাকা খরচ করা কমাবে? সঠিক উত্তর না পেলে তুমি বেশিদিন অর্থ সঞ্চয় করতে পারবে না৷ যত পারো নিজের সাথেই নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করো। যেমন, আমি প্রতিদিন ২০ টাকা করে সপ্তাহে টিফিনের টাকা থেকে ১০০ টাকা সঞ্চয় করবো। এভাবে পুরো মাসে আমার ৪০০ টাকা বাঁচবে৷ এইভাবে টাকা সঞ্চয় করলে তা নিজের কাছে সহজও মনে হয়, লক্ষ্যের দিকে ফোকাসড থাকা যায়, আবার কষ্টও করতে হয় না৷ ছোট ছোট ডিটেইলড লক্ষ্য সেট করলে, সেইসব লক্ষ্যের দিকে খুব দ্রুতই পৌঁছানো যায়৷

অভ্যাস বদলাও একবারে একটিই:

সকলের রেজুলেশনগুলোর মধ্যে যেই জিনিসটা সবচেয়ে কমন, তাহলো বদঅভ্যাস ত্যাগ করা। কিন্তু ভুলেও কখনো একটার বেশি অভ্যাস ত্যাগ করতে যেও না৷ এতে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে! সাধারণত আমাদের বদ অভ্যাসগুলো আমাদের প্রিয় জিনিস হয়ে থাকে৷ তাই হঠাৎ করে একের বেশি প্রিয় জিনিসের ত্যাগে আমরা ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে যেতে পারি৷ তাই একবারে একটা অভ্যাস ত্যাগ করা শ্রেয়।

 
এবার বাংলা শেখা হবে আনন্দের!
আমাদের প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাংলা ভাষা চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম!

 

Resolution-গুলো  লিখে রাখো:

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা তাদের resolution -গুলো আগে থেকেই কোথাও লিখে রাখে, তারা খুব দ্রুতই তাদের resolution -গুলো শেষ করতে পারে৷ মানুষ হিসেবে আমরা বেশ ভুলোমনা। দরকারি অনেক জিনিসই আমরা ভুলে যাই। তাই এই ভুলে যাওয়া এড়াতে resolution -গুলো লিখে রাখার বিকল্প কিন্তু আর কোনো কিছুই হয় না৷ একটা কাগজে বা স্টিকি নোটে নিজের resolution -গুলো লিখে রেফ্রিজারেটর বা আলমারির গায়ে আটকে দিতে পারো৷ যাতে যেতে আসতে সেগুলো তোমার চোখে পড়ে৷ কিংবা সহজে মোছা যায় এমন কালির মার্কার দিয়ে ওয়াশরুমের আয়নায় resolutionগুলো লিখে ফেলতে পারো।

তবে আমার মতো, ডায়েরিতে এগুলো টুকে রাখলে সবচেয়ে ভালো হয়৷ আমিও আমার resolution -গুলো ডায়েরি বা জার্নালে টুকে রাখি৷ এরপর কোন কোনো resolution কম্পলিট করলাম, কীভাবে কম্পলিট করলাম, কত তারিখে করলাম; সবকিছু এর পাশে লিখে ফেলি৷ নিজের প্রগ্রেস কতটুকু হলো, তা সেগুলোর দিকে চোখ বুলালেই চট করে বুঝে নেওয়া যায়।      

সবাইকে জানাও তোমার resolutions:

আমরা সবসময় আমাদের সফলতার গল্পগুলো অন্যের কাছে তুলে ধরতে চাই। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে যদি তুমি তা অন্যদের সাথে শেয়ার করো? কথায় আছে, বন্দুকের গুলি একবার ছোঁড়ার পর যেমন তা আর ফেরত আসে না, ঠিক তেমনি একবার কোনো কথা বলে ফেললে সেটা আর ফেরত নেওয়া যায় না৷ অন্যদের সাথে নিজের resolution শেয়ার করলে সেইটা শেষ করার জন্যও হলেও আমাদের খাটাখাটুনি করা লাগবে। আয়নায় বা জার্নালে resolution নিয়ে লিখলে তা তো অন্যকে জানানো হবে না। নিজের resolution কী কী হবে তা তোমার কাছের বন্ধুকে জানাো৷ এবং সেই সাথে তোমার প্রগ্রেস সম্পর্কে তাকে আপডেট দিতে থাকো। এতে করে তুমি ট্র‍্যাকে থাকবে।

 শুরু থেকে শেষ- হোক যেন একই:

Resolution সেট করার পর আমাদের সমস্যাটা হচ্ছে আমরা তা শেষ করতে পারি না৷ To Do List এ ফেলে রাখার জন্য resolution সেট করা হয় না। তাই চেষ্টা করতে হবে কাজের ফ্লো-টা যেন একই থাকে সব ক্ষেত্রেই।

চেক করো নিয়মিত:

সপ্তাহান্তে ও মাসের শেষে চেক করো তুমি তোমার resolution এর কোন জায়গায় পৌঁছেছো। অনেকটা পরীক্ষা শেষে খাতা রিভাইজ করার মতন। এতে তুমি একটা আপডেট পাবে তোমার কাজ সম্পর্কে।

ব্যর্থতাকে স্বীকার করো  :

ব্যর্থতা আমাদের জীবনেরই একটা ক্ষুদ্র অংশ। সে আমাদের বেস্ট ফ্রেন্ডের মতন, তার থেকে দূরে যেতে চাইলেও সে কাছে চলে আসে (!) তাই তাকে গ্রহণ করো এবং তার থেকে শিক্ষা নাও যাতে একই ভুল আর না করো।

ছোট ছোট অর্জনগুলো সেলিব্রেট করুন :

অনেকসময় ছোট ছোট মুহূর্তগুলো আমাদের ঠোঁটে হাসির রেখা তৈরি করে। বিভিন্ন উপলক্ষে তো বন্ধুদের অহরহ ট্রিট দেওয়া হয়। কিন্তু, কখনো কি নিজেকে কোনো উপলক্ষে ট্রিট দিয়েছো? যদি না দিয়ে থাকো, তাহলে এটাই তো ভালো সুযোগ! নিজের ছোট ছোট অর্জনগুলো উদযাপন করো কোনো ভালো বই কিনে কিংবা কোথাও ঘুরতে যেয়ে। এতে করে তুমি সেল্ফ মোটিভেটেড হওয়ার পাশাপাশি তোমার টাইট শিডিউলের ফাঁকে নিজের জন্যেও কিছু আলাদা সময় বের কর‍তে পারবে!        

পা ফসকে গেলেও সমস্যা নেই, তবে দ্রুত ট্র‍্যাকে ফেরো:

চলতি পথে হোঁচট খাওয়া কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা না। তবে হোঁচট খেয়ে ধুপ করে পড়ে যেয়ে বসে পড়লেই চলবে না৷ পিছিয়ে পড়া পদক্ষেপগুলো দ্রুত পার করে দ্বিগুণ বেগে সামনে এগোতে হবে! আমাদের ঠিক করা resolution -গুলোর মধ্যে ৭৫%ই দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে খেই হারিয়ে ফেলে৷ তাই খেই হারিয়ে ফেললেও দ্রুত লাগাম টেনে ধরতে হবে।

নিজেই হও নিজের চিয়ারলিডার:

কোথাও আটকে গেলে অন্যের কাছে অবশ্যই সাহায্য চাওয়া যাবে৷ তবে সবসময় যদি অন্যের কাছ থেকে উৎসাহ পাওয়ার জন্য কাজ ফেলে রাখো, তাহলে তো ফলাফল শূন্য! সবসময় তোমাকে চিয়ার করার মতন কাউকে তোমার আশেপাশে নাও পেতে পারো। তাই ‘’যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।”

বিশ্বাস রাখো নিজের উপর:

যত যাই করো না কেন, নিজের উপর বিশ্বাস না রাখলে তুমি কিছুই করতে পারবে না। আমরা সবাই শুধু New Year Resolutions বানিয়ে বসে থাকি৷ কিন্তু খুব কম মানুষই বিশ্বাস করি যে, এই লক্ষ্যগুলো আমরা অর্জন করতে পারবো৷ তাই আগে নিজের উপর বিশ্বাসটা আনো আর resolution সেট করো!  

তাহলে নতুন বছরের আগমন ঘটার আগেই খাতা-কলম নিয়ে বসে যাও আর সেট করে ফেলো তোমার NEW YEAR RESOLUTIONS!  

সূত্র:  

https://www.self.com/story/new-year-resolution-handbook


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]