যে বাংলা বইগুলো না পড়লেই নয়!

June 1, 2018 ...

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবারে শুনে নাও!

আমাদের যদি গর্ব করার কোন কিছু থাকে তবে সেটি হবে আমাদের বাংলা সাহিত্য। আমাদের বাংলা সাহিত্য এর যে বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে অনেকেই আমরা তা জানি না কিংবা আগ্রহ করে দেখি না। অনেকেই বই পড়ার ক্ষেত্রে পুরনো বইকে প্রাধান্য দেয় কারণ তারা সাহিত্যকে কদর করে। আজকে আমি কয়েকটি সেরা বাংলা উপন্যাস এর কথা তুলে ধরবো যা বাংলা সাহিত্যে যুগ যুগ ধরে অমলিন হয়ে আছে এবং বাঙালি হিসেবে প্রত্যেকেরই উচিত এই বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত উপন্যাস গুলো একবার হলেও পড়া।

বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস সমূহঃ

১। পথের পাঁচালী (১৯২৯)

‘পথের পাঁচালী’ প্রখ্যাত সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর লেখা একটি উপমহাদেশখ্যাত সামাজিক বাংলা উপন্যাস। লেখক স্বচ্ছ-সাবলীল ভাষায় আমাদের সমাজের বাস্তব ও জীবন্ত ছবিরই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন এই উপন্যাস এ। তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থা এবং সেখানে নারীদের অবস্থান সম্পর্কে তিনি নিখুঁতভাবে সমালোচনা করেছেন।

এখানে যেমন তিনি দেখিয়েছেন সমাজের কলঙ্ক বাল্যবিবাহ এবং যৌতুক যা আমরা এই বিংশ শতাব্দীতে এসেও দূর করতে পারিনি, তেমনি দেখিয়েছেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই নারীদের সংগ্রাম। কোন নারী অল্প বয়সে স্বামী মারা যাওয়ার পর সমাজের তাকে আবার বিয়ে করতে না দেয়া, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অন্যের উপর নির্ভর করায় প্রতিটি পদে তার যেই মানসিক নির্যাতন, শেষ বয়সে নারীদের সামাজিক পরিস্থিতি সব কিছুর উত্তর পাওয়া যায় এই উপন্যাসে। মূলত বলা যায় উপন্যাসটি আমাদের সমাজে নারীদের অবস্থান এবং সামাজিক কুসংস্কারেরই প্রতিচ্ছবি।

একই সাথে এই বইয়ে পাওয়া যাবে অপু-দুর্গা নামের দুই কিশোর-কিশোরীর সহজ সরল জীবনের গল্প, অপূর্ব সুন্দর গ্রাম বাংলার নিসর্গের বর্ণনা। মোটকথা, বাংলা সাহিত্য এ এমন একটি অবশ্যপাঠ্য বই বেশ দুর্লভ!

২। পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৩৬)

আধুনিক বাংলা উপন্যাস এর বিশাল আঙ্গিনায় নদীজীবী মানুষদের নিয়ে রচিত প্রথম উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি”। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বহু উপন্যাস লিখলেও এটিই তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সেরা উপন্যাস বলে বিবেচিত। উপন্যাসটিতে জেলেদের জীবনের দু:খ-দুর্দশা, প্রকৃতি ও সমাজের সাথে তাদের নিত্য সংগ্রাম, পরস্পরের সাথে সৌহার্দ্য ও রেষারেষি, জীবন থেকে তাদের প্রত্যাশা সবকিছুকেই যেন ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন লেখক। পাশাপাশি মানুষের আদিম প্রবৃত্তিটাও সমান্তরালে ফুটে উঠেছে উপন্যাসে। তিনি তার বামপন্থার আদর্শ ও তুলে ধরতে চেয়েছেন উপন্যাসের একটি চরিত্রের মাধ্যমে।

৩। জাগরী (১৯৪৫)

সতীনাথ ভাদুরির প্রথম উপন্যাস জাগরী, প্রকাশের পরই তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে দিয়েছিল। চারটি মাত্র চরিত্র, তাদের একরাতের আত্মবিশ্লেষণ নিয়েই উপন্যাসটি। ভারত ছাড় আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা এই গল্পটিতে দেখানো  হয়েছে পরিবারের চার চরিত্রের মনকে অনুসরণ করতে গিয়ে লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তাদের অতীত অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক সম্পর্ক, মানস গঠন, ব্যক্তিত্ব সবকিছুর মিশেলে একটা সামগ্রিক ছবি আমাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দেন।

। হাজার চুরাশির মা (১৯৭৪)

নকশাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লেখা মহাশ্বেতা দেবীর অনন্য সৃষ্টি এই বইটি। কাহিনীটি সুজাতার, যিনি ব্রতী অর্থাৎ মর্গের ১০৮৪ নং মৃতদেহটির মা। ব্রতীর রাজনৈতিক মতবাদ ও ক্রিয়াকলাপের জন্য তাকে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছিল সরকার। আমরা এই মাকে ব্রতীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তার ছেলের স্মৃতিচারণ করতে দেখি ও তার মাধ্যমে বাংলার যুবকদের সেই রক্তাক্ত আন্দোলনের সাথে পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে পড়া মানুষগুলির মুখ খুব কাছ থেকে দেখতে পাই।

৫। হারবারট (১৯৯৪)

নবারুণ ভট্যাচার্যের এই ভিন্নধর্মী উপন্যাস যেন গতানুগতিক রাজনৈতিক ও সামাজিকধর্মী উপন্যাস থেকে একটু স্বস্তি এনে দিয়েছে পাঠকদের। উপন্যাস এর প্রধান চরিত্র মৃত আত্মাদের  সাথে কথা বলতে পারে। সে প্রায়ই তার চিলেকোঠার অন্ধকার ঘরে রবীন্দ্রনাথ, নেহেরু ও অন্য মৃত মানুষদের সাথে কথা বলে। এসব কথা বাইরে কারো সাথে বললে লোকে তাকে পাগল হিসেবে আখ্যা দেয় এবং এভাবেই কাহিনী এগুতে থাকে। অবাস্তব মনে হলেও পড়তে শুরু করলে ওখানেই হারিয়ে যেতে হবে।

আমাদের বাংলা সাহিত্য যে কতটুকু সমৃদ্ধশালী ছিলো তা হয়তো আমরা কখনো উপলব্ধি করতে পারবো না তবে তা বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা তো করতেই পারি।পুরনো সাহিত্যও আমাদের অনেক শিক্ষা দিতে পারে। সেই সময়ের নিয়ম-কানুন, সামাজিক অবস্থা ইত্যাদি। আমাদের সচেতনতাই পারে সেই সব সাহিত্যকে আবার জাগিয়ে তুলতে ।

এই লেখাটির অডিওবুকটি পড়েছে মনিরা আক্তার লাবনী


১০ মিনিট স্কুলের লাইভ এডমিশন কোচিং ক্লাসগুলো অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন