বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের করবার মতো কিছু ইন্টার‍্যাক্টিভ কাজ

August 25, 2018 ...

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের শিক্ষাজীবন অত্যন্ত কঠিন আর বিরক্তিকর হয়ে উঠতে পারে। ক্লাসরুমে বোরিং লেকচার আর সিটি-কুইজের ভিড়ে মাঝে মাঝেই জীবনে নতুন কিছু দরকার হয়ে উঠতে পারে। তাই কিছু কিছু সময়ে ক্লাস্রুম অ্যাকটিভিটির পাশাপাশি অন্যান্য কিছু অ্যাক্টিভিটিও দরকার হয় জীবনে।

আমাদের দেশে ইন্টার‍্যাক্টিভ ক্লাস সিস্টেম বলতে যেসব বিষয় বোঝানো হয়ে থাকে – তা হলো টিম এক্সারসাইজ, অ্যাসাইনমেন্ট অথবা ক্লাস প্রজেক্ট ইত্যাদি। যে জিনিসটা আমরা কেউই ভেবে দেখি না, তা হলো এইসব প্রক্রিয়া আমরা সবাই স্কুল কলেজ জীবন থেকে করে এসেছি, তাই এগুলো আর আমাদের মধ্যে উৎসাহ জাগাতে পারে না। তাই আমাদের এই সময়ে এসে দরকার নতুন ধরনের কিছু কার্যক্রম, যা আসলেই আমাদের মনে আগ্রহ জাগাবে। এরকমই কিছু অ্যাকটিভিটি দেখে নিই আজকেঃ

১। ওপেন-এন্ড প্রশ্ন

এমন অনেক প্রশ্ন করা যায় – যেকোন টপিকের উপরেই, যা কিনা একাধিক গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সক্ষম আমাদের। এধরনের প্রশ্নগুলোই হলো ওপেন-এন্ড প্রশ্ন। কোনো লেকচারে ওপেন এন্ড প্রশ্ন করবার মতো অনেক জায়গা থাকে। যেমন – কোর্সের কোন অংশটা বেশি কঠিন, কী কী জিনিস নিয়ে উন্নতি করা যেতে পারে, এইসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন ওপেন এন্ড প্রশ্ন থেকে একাধিক আলোচনা শুরু হতে পারে। আর যেকোনো আলোচনাই ইন্টার‍্যাক্টিভ ভাবে শেখার জন্যে ভালো

thumb 1

২। ভুল বের করা

লেকচারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন অ্যানালিসিস করা হয়, বিভিন্নভাবে উদাহরণ দেওয়া হয়। বিভিন্ন অ্যানালিসিসের বিভিন্ন মানে থাকতে পারে, আর সবগুলো মানে যে সঠিক হবে এরকম কোনো কথা নেই। কাজেই কোনো শিক্ষার্থীর অ্যানালিসিস ভুল হলে বা ভুল উদাহরণ দিলে, সেই উদাহরণকে ঠিক করে দেওয়া আর সঠিক উদাহরণ কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করাও হতে পারে খুবই আকর্ষণীয় একটি কাজ। এই কাজে সবাই অংশ নিতে পারে, কারণ সবসময় একজনের অ্যানালিসিস ঠিক হবে এরকম কোনো কথা নেই। একেকজন একেকটি ত্রুটি ধরিয়ে দিলে শেখার কাজ হবে আনন্দময় আর ক্লাস হবে 

৩। সবাইকে কথা বলবার সুযোগ করে দেওয়া

লেকচার সবার কাছে সমান আকর্ষণীয় না হবার একটাই কারণ থাকতে পারে – তা হচ্ছে সবাই ক্লাসে সমান মাপের অংশগ্রহণ করতে পারে না। আর ক্লাসে যারা অংশ নেয়, তারাই কেবল সত্যিকার অর্থে কিছু শিখতে পারে। সবাইকে কোনো বিষয়ে মতামত শেয়ার করবার সুযোগ করে দিলে তা হতে পারে ক্লাসরুমে ছাত্রদের জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার‍্যাক্টিভ কাজগুলোর একটি। সবার কাছেই একটি নিজস্ব মতামত থাকে, আর নিজস্ব মতামতটি কখনোই সবার সাথে মিলবে না। নিজের মতামতটি প্রকাশ করবার সুযোগ যদি সবাইকে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ক্লাসে অনেকগুলো নতুন ডাইমেনশন আসতে পারে, যা সাধারণ ক্লাসে আসা সম্ভব নয়। আর এই জিনিসটি পালটে দিতে পারে যেকোনো লেকচারের গতিবিধি।samne enari blog 170101 1

সবাইকে কথা বলবার সুযোগ করে দেওয়াটা আমাদের পরিপ্রেক্ষিতে একটু কঠিন মনে হলেও চেষ্টা করলেই সম্ভব এটি করা। শুধু যদি ‘কথা বলে মাইক পাস করো’ এরকম একটি ইন্সট্রাকশন দেওয়া হয়ে থাকে, আর সব ছাত্র ৫ মিনিট করে সময় পায়, তাহলেই দেখা যাবে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ মতামত বেরিয়ে আসছে। প্রতি পাঁচটি লেকচার ক্লাসে যদি একটিতে এই জিনিসটি চালু করা হয়, তাহলেই ক্লাসের গতি অনেক বাড়বে, আর শেখার পরিধিটা অনেক বড় হবে, ক্লাস হবে ইন্টার‍্যাক্টিভ।

৪। ক্লাসে প্রযুক্তির ব্যবহার

আমাদের দেশে অন্যতম ট্রেন্ডগুলোর একটি হলো ক্লাসে কাউকে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে না দেওয়া। যদিও স্কুল কলেজ পর্যায়ের জন্যে ব্যাপারটি ভুল নয়, আর ক্লাসে বসে ফেসবুক চালানোটাও খুবই অনুচিত একটি জিনিস, তবে প্রতিটি ক্লাসে সবার কাছে ইন্টারনেট আর গুগলে কোনো কিছু খুঁজে নেবার অধিকার থাকাটা উচিত। কেননা, যেকোনো লেকচারের বিভিন্ন দিক দ্রুতগতিতে নেটে খুঁজে নেওয়া, ছোটোখাটো কনফিউশন ক্লিয়ার করে নিয়ে সেটা নিয়ে কথা বলা বা প্রশ্ন তোলা ইত্যাদি হতে পারে খুব গুরুত্বপূর্ণ দিক – যেকোনো লেকচারকেইন্টার‍্যাক্টিভ করে তুলতে পারে এটি।

ক্লাসরুমে প্রযুক্তির ব্যবহারের আরেকটি দারুণ উপায় হতে পারে,  ইউটিউবের ব্যবহার। ইউটিউবের মতো ভিজ্যুয়াল শিক্ষাটি অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষকের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ইউটিউবের ব্যবহারটা ভিন্নতা তো আনবেই, শিক্ষার্থীদের বোঝার ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।

আমাদের অনেকের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই সঠিকভাবে শিখতে না পারবার কারণে শিক্ষাজীবন ও পরবর্তীতে সমস্যা হয়। তাই এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্লাস যদি আকর্ষণীয় ও ইন্টার‍্যাক্টিভ করা যায়, তাতে খারাপ কি!


১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: write@10minuteschool.com

আপনার কমেন্ট লিখুন