শূন্য থেকে শীর্ষে: ৫টি বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানির শুরুর গল্প!

Tashfikal Sami is a diehard wrestling & horror movie fan. Passionately loves bodybuilding, writing, drawing cartoons & a wannabe horror film director. He's currently studying at the Institute of Business Administration (IBA), University of Dhaka.

পুরোটা পড়ার সময় নেই? ব্লগটি একবার শুনে নাও

কথায় আছে, একটি ভাল আইডিয়া বদলে দিতে পারে সবকিছু!

আমাদের সবার মাথায়ই হরেক রকম আইডিয়া আসে হঠাৎ হঠাৎ, কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করি কয়জন?  

শুনলে অবাক লাগে, কিন্তু পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর জন্ম যেই মানুষগুলোর হাত ধরে, তাঁরাও কিন্তু ছিলেন আমাদের মতোই নিতান্ত সাধারণ মানুষ। পার্থক্য কেবল একটি – তাঁদের একমাত্র সম্বল ছিল একটি ভাল আইডিয়া, এবং সেটিকে বাস্তবায়ন করার জন্য তাঁরা উঠে পড়ে লেগেছিলেন!

এমনই পাঁচটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড এবং সেগুলো তৈরির পেছনের গল্প জেনে নাও লেখাটি পড়ে। কে জানে, হয়তো তোমার মাথায়ও চলে আসবে যুগান্তকারী কোন আইডিয়া যেটি বদলে দেবে গোটা পৃথিবীকে!

১। ইউটিউব

ইউটিউবের সাথে বাংলাদেশের অত্যন্ত গর্বের একটি ইতিহাস রয়েছে। ইউটিউবের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন আমাদের বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত! শুধু তাই নয়, ইউটিউবের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ভিডিওটি তিনিই আপলোড করেন।

Steve Chen, Chad Hurley and Jawed Karim

২০০৫ সালের কথা। Paypal  এ কাজ করতে গিয়ে চ্যাড হার্লি, স্টিভ চ্যান, এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিমের মাঝে গড়ে উঠলো দারুণ বন্ধুত্ব। সবাই তখন সবে তারুণ্যে পা দিয়েছেন। একবার তিন বন্ধু মিলে একটি পার্টির আয়োজন দিলেন, কিন্তু একটি কাজে আটকা পড়ে যাওয়ায় জাওয়েদ উপস্থিত হতে পারলেন না বন্ধুদের আয়োজনে।

তখন তার মাথায় একটি মজার আইডিয়া আসলো – সামনাসামনি নাই বা দেখা হলো, ভিডিও করে ভার্চুয়ালি বন্ধুদের সাথে দেখা করলে কেমন হয়! কিন্তু কাজে নেমে দেখলেন এরকম ভিডিও শেয়ারিং এর প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল আর বিরক্তিকর।

সেখান থেকেই তার মাথায় আসলো একটি সহজ ভিডিও শেয়ারিং এর ব্যবস্থা করা, জন্ম হলো ইউটিউবের। যার ট্যাগলাইনই হচ্ছে- Broadcast Yourself! বর্তমানে ইউটিউবের ব্যবহারকারীর সংখ্যা একশো কোটি ছাড়িয়ে গেছে, এবং প্রতি মিনিটে বিশ্বজুড়ে প্রায় তিনশ’ ঘণ্টার ভিডিও আপলোড হয় ইউটিউবে!

২। ইন্সটাগ্রাম

কেভিন সিস্ট্রোম ছিলেন ছবিপাগল কিসিমের মানুষ, তাঁর দিন-রাত কেটে যেত ফটোগ্রাফি নিয়ে। তিনি যখন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়েন, তাঁর মাথায় ঝোঁক চাপলো এ নিয়ে একটি স্টার্টাপ খোলার।

আইডিয়াটি আরো জেঁকে বসলো ফটোগ্রাফির উপর পড়াশোনা করতে যখন ফ্লোরেন্সে পাড়ি জমালেন তিনি। সেখানে তাঁকে একটি ১৯৮২ হোলগা ক্যামেরা দেওয়া হলো, সেটি দিয়ে কেবল বর্গাকৃতির পুরোন ধাঁচের ছবি উঠতো।

ব্যাপারটি দেখে কেভিন বেশ মজা পেলেন। সাধারণ ক্যামেরায় ছবি তোলার পর বেশ ঘষামাজা করতে হয় এডিটিং করে, কিন্তু এই হোলগা ক্যামেরার বৈশিষ্ট্যই এমন- ছবি তুললে কোন এডিটিং ছাড়াই বেশ জেল্লা এসে পড়ে!

এই আইডিয়াকে পুঁজি করেই তিনি চালু করলেন একটি অভিনব অ্যাপ ‘ইন্সটাগ্রাম’। ২০১০ সালে প্লে স্টোরে আগমন করেই সাড়া ফেললো পৃথিবীজুড়ে, ‘মোবাইল ফটোগ্রাফি’কে একরকম বিদায় জানিয়ে রাজত্ব হলো ‘ইন্সটাগ্রাফি’র! ২০১২ সালে ইন্সটাগ্রামকে ১বিলিয়ন ডলারে কিনে নেয় ফেসবুক।

৩। উবার

বাংলাদেশীদের কাছে সমস্যাটি নতুন নয়- রাস্তায় ট্যাক্সি তো নেই, সিএনজি যা আছে সেগুলোতে চড়তে গেলেও মিটারের সাথে উপরি ভাড়া মেটাতে পকেট ফাঁকা হবার জোগাড়!

২০০৮ সালে প্যারিসে ঘুরতে গিয়ে ঠিক এই বিড়ম্বনায় পড়েছিলেন ট্র্যাভিস ক্যালানিক এবং গ্যারেট ক্যাম্প। প্যারিসে কোথাও সুলভে ট্যাক্সি পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ক্যালানিক আর ক্যাম্প বিরক্ত হয়ে ঠিক করলেন এভাবে আর নয়, একটা সমাধান দরকার।

দুজনই ছিলেন দক্ষ প্রোগ্রামার, তাই ঠিক করলেন প্রযুক্তির সাহায্যেই আনবেন পরিবর্তন। সেবছরেই স্যান ফ্র্যান্সিসকোতে তারা চালু করলেন উবার ক্যাব। হলিউডের তারকারাও তাঁদের সমর্থন জোগালেন। সফল হলো তাঁদের পরীক্ষামূলক প্রকল্প। ব্যস, আর কী লাগে! তর তর করে ছড়িয়ে পড়লো উবারের জয়গান। বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে এক নাম্বার ট্যাক্সি সার্ভিস উবার।

 

৪। নাইকি

পৃথিবীর সেরা যত অ্যাথলিট- তাদের অনেকেই নাইকির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। প্রায়ই রোনালদো, নেইমার, রজার ফেদেরার, টাইগার উডস এদের দেখতে পাবে নাইকির জুতো হাতে পোজ দিয়ে ছবি তুলতে!

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় এই ব্র্যান্ডটির সূচনার গল্পটিও বেশ ইন্টারেস্টিং। স্নিকার জুতো আমেরিকায় বরাবরই বেশ ব্যয়বহুল, মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরেই থেকে যায় এই জুতো। সুলভমূল্যে আমেরিকানদের কাছে স্নিকার পৌঁছে দিতে তাই একটি পরিকল্পনা করলেন ফিল নাইট।

আমেরিকায় শ্রমিক খরচ বেশ চড়া, কেমন হয় যদি এশিয়া থেকে জুতো বানিয়ে আমেরিকায় বিক্রি করা হয়? (এশিয়ার এ অঞ্চলগুলো- চীন, ভারত, বাংলাদেশ ইত্যাদি দেশে শ্রমিক খরচ অত্যন্ত কম)। ১৯৬৫ সালে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামলেন তিনি, কোম্পানির নাম দিলেন ‘বিজয়ের দেবী’-র নামে ‘নাইকি’। খুব শীঘ্রই আমেরিকার জুতোর বাজারে প্রায় ৫০% অংশ একাই দখল করে নেয় নাইকি!

Phil Knight

১৯৮৪ সালে কিংবদন্তি বাস্কেটবল খেলোয়াড় মাইকেল জর্ডানের সাথে চুক্তি করে নাইকি, তিনি প্রতিটি খেলার সময় তাঁর জন্য বিশেষভাবে বানানো ‘এয়ার জর্ডান’ পরে খেলতে নামতেন।

মনের জোর হারিয়ে ফেললে ইউটিউবে এই বিজ্ঞাপনগুলো দেখলে একদম টনিকের মতো কাজ করে

কিন্তু এটি নিয়ম বহির্ভূত হওয়ায় প্রতি ম্যাচে তাঁকে জরিমানা দিতে হতো ৫ হাজার ডলার, বছর শেষে সেটি পাঁচ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যেতো! এত টাকা গচ্চা দিয়েও সেটি নাইকির জন্য হয়েছিল শাপে বর, কারণ মাইকেল জর্ডানের জনপ্রিয়তার কারণে নাইকির নাম ছড়িয়ে যায় প্রতিটি ঘরে ঘরে! বর্তমানে বিশ্বের এক নম্বর স্পোর্টস ব্র্যান্ড নাইকি।

(নাইকি আমার ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ একটি কারণে- তাদের বিজ্ঞাপন! নাইকির বিজ্ঞাপনগুলো এতো অপূর্ব যে চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয় না। অনুপ্রেরণা যোগাতে এই বিজ্ঞাপনগুলোর কোন তুলনা নেই।

কখনো মন খারাপ থাকলে কিংবা মনের জোর হারিয়ে ফেললে ইউটিউবে এই বিজ্ঞাপনগুলো দেখলে একদম টনিকের মতো কাজ করে! ইউটিউবে গিয়ে “Nike commercial” “Nike Rise & Shine” “Nike Unlimited You” ইত্যাদি লিখে সার্চ করলেই অনেকগুলো অসাধারণ বিজ্ঞাপন পেয়ে যাবে।)

৫। IKEA

সুইডেনের এক দরিদ্র পরিবারের কিশোর, নাম তার ইংভার ক্যাম্পার্ড।

মূলত ক্রিসমাস কার্ড, মাশরুম আর ফলমূল বিক্রি করেই জীবিকা চলতো তার। কিন্তু ১৭ তম জন্মদিনে উপহার দেখতে গিয়ে তার মাথায় দারুণ এক আইডিয়া এলো- কেমন হয় যদি আসবাবপত্র এমনভাবে বানানো হয়, যেখানে ছোট ছোট টুকরো জোড়া দিয়ে আস্ত একটি আসবাব বানিয়ে ফেলা যায় আবার ইচ্ছেমতো সেগুলোকে খুলে রাখা যায়?

ব্যাপারটা অনেকটা পাজলের মতো, যেখানে বুদ্ধির ব্যায়াম হয়, সৃজনশীলতার চর্চা হয়, আবার জায়গার সাশ্রয়ও হয়।

নিজের নামের আদ্যক্ষর থেকে ‘IK’ এবং আপন গ্রামের নাম থেকে ‘EA’ নিয়ে ক্যাম্পার্ড তাঁর কোম্পানির নাম দিলেন IKEA। খুব দ্রুতই দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠলো তাঁর এই অভিনব উদ্যোগ। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০০টি IKEA স্টোর রয়েছে।

সেগুলো যেন দোকান নয়, এক একটি বিনোদন পার্ক! শুধু আসবাবপত্রই নয়, একদম বাড়িঘর পর্যন্ত সেখানে কিনতে পাওয়া যায়, পাজলের মতো ছোট ছোট হাজারো অংশে বিভক্ত!


১০ মিনিট স্কুলের  অনুসরণ করতে সরাসরি চলে যেতে পারো এই লিঙ্কে: www.10minuteschool.com/admissions/live/

১০ মিনিট স্কুলের ব্লগের জন্য কোনো লেখা পাঠাতে চাইলে, সরাসরি তোমার লেখাটি ই-মেইল কর এই ঠিকানায়: [email protected]

লেখাটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
What are you thinking?

GET IN TOUCH

10 Minute School is the largest online educational platform in Bangladesh. Through our website, app and social media, more than 1.5 million students are accessing quality education each day to accelerate their learning.